ইউটিউব থেকে আয় করুন খুব সহজেই (পর্ব – ০২)

Bns Bahar

Online Marketing Executive Manager at Civin Tech
লেখালেখি করতে ভালো লাগে তাছাড়াও লেখালেখি টাকে খুব উপভোগ করি ।সবার সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার করার চেষ্টা করি।
টিউন করেছেন Bns Bahar | March 10, 2016 11:32 | পোস্টটি 1,915 বার দেখা হয়েছে

প্রথম পর্বে ইউটিউব কি তা নিয়ে হালকা আলোচনা করেছিলাম । অনেকেরই প্রশ্ন থাকে ইউটিউব দিয়ে কতভাবে ইনকাম করা য়ায়? আজকের পর্ব সাজানো হয়েছে ইউটিউব থেকে আরনিং এর উপায়সমূহ কি কি তা নিয়ে ।

ইউটিউব থেকে কত ভাবে ইনকাম করা যায়? 

 

১.ইউটিউব খেকে আয় করুন অ্যাডসেন্স দিয়ে

গুগল এডসেন্স হল গুগল দ্বারা বিজ্ঞাপন প্রদানের ব্যবস্থা। এ প্রোগ্রামটি ওয়েবসাইট পাবলিশারদের জন্য তৈরি হয়েছে যাতে তারা তাদের ওয়েবসাইট বা ভিডিওর মাধ্যমে কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে এবং আয় করতে পারে। ইউটিউব থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় মাধ্যম হচ্ছে অ্যাডসেন্স দিয়ে আয় করা। ইউটিউব হচ্ছে গুগল এর একটি সেবা।  গুগল অ্যাডসেন্স ও গুগলের। তাই ইউটিউব এর ব্যাপারে গুগলের প্রাধান্য অনেক। এমনকি আপনি মাত্র কয়েকটা ছোট ছোট ভিডিও দিয়েই একটি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ করানো যায় । যেমন আমি যদি আমার ভিডিওতে আডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করি আর এসব বিজ্ঞাপনে যদি ক্লায়েন্ট ক্লিক করে তাহলে পার ক্লিকের জন্য ওয়েব বা ভিডিওর মালিক টাকা পাবে গুগল থেকে। এসব বিজ্ঞাপন গুগল মেনেজ এবং কন্ট্রোল করে।

google-adsense

 গুগল অ্যাডসেন্সে আবেদনের যোগ্যতাঃ

ক) যদি ভিডিওতে গুগল আডসেন্সের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চাই তাহলে প্রথমে গুগলএ অ্যাকাউন্ট করতে হবে। এ অ্যাকাউন্ট করতে সম্পূর্ণ ফ্রী।

খ) অ্যাকাউন্ট করার পর আডসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। এ আবেদনের জন্য ইউটিউব পার্টনার হতে হবে। ইউটিউব থেকে পার্টনারশিপের যে মেইলটি পাঠান হয়, আবেদন করার সময় সে লিঙ্কটা অ্যাড করে দিতে হয়।

গ) ইউটিউব অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক দিয়ে আডসেন্স অ্যাকাউন্ট সাবমিট করা হয়।

ভিডিও আপলোড করার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে , ভিডিওতে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে যেন তা আলাদা উইন্ডো তে ওপেন হয়, তা না হলে সেটা ক্লায়েন্টের বিরক্তি ঘটায়।

আডসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে জিমেইল , নাম ও এড্রেস ইত্যাদি ঠিক আছে কি না দেখে নিতে হবে।  আডসেন্স অনুমোদন হয়ে গেলে যখন আডসেন্স অ্যাকাউন্ট এ যখন ১০০ ডলারের বেশী হবে তখন গুগল তা পে করে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে অ্যাডসেন্স এপ্রুভাল পাওয়ার জন্য ইউটিউব হচ্ছে অন্যতম সহজ একটি পদ্ধতি। সেরা আর্নাররা শুধুমাত্র ইউটিউব অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে মাসে কয়েক লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।

 

২ .ইউটিউব এর পার্টনার হোন

ইউটিউব পার্টনারশিপ মানে ইউটিউব পরিবারের সদস্য হওয়া। পার্টনার হওয়ার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার আবেদন আসতে থাকে তাদের কাছে। বর্তমানে পৃথিবী ব্যাপী প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ইউটিউব পার্টনার আছেন। পার্টনাররা ভাড়ার ভিত্তিতে ভিডিও অভারলেয় করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এবং আয় ইউটিউব এর সাথে ভাগাভাগি করে নেয়। তাদেরদে অনেক সময় ব্রান্ডদের এন্টারটেইনার বা ভিডিও মার্কেটার হিসেবে হায়ার করাও হয়ে থাকে। অনেক সময় একটা ব্রান্ডের জন্য বিশেষ ভিডিও তৈরি করেও এরা অনেক টাকা উপার্জন করে।

যদিও ইউটিউব পার্টনারশিপের আবেদন জন্য সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই তার পরও কিছু কিছু দিক বিবেচনা করে এ আবেদন গ্রহন করা হয়। যেমন,

ক) ভিডিওটি সম্পূর্ণ, মানে ১০০% নিজের তৈরি হতে হবে। দেখতে, শুনতে, বা এর কনট্যাঁনট কোনকিছুই কপি করা যাবেনা অর্থাৎ গান, সুর, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গ্রাফিক্স, ইমেজ কোন কিছুইনা। ইউনিক ভিডিও আপলোড করতে হবে।

খ) একটি ভিডিও আপলোড করে বসে থাকলে চলবেনা,নিয়মিত আপলোড করতে হবে।অনেক বেশী দর্শক থাকতে হবে। যদি কারো ভিডিও বাণিজ্যিক ভাবে সফল হয়, অনেক জনপ্রিয়তা থাকে সেক্ষেত্রে ইউটিউব নিজেই আমন্ত্রন করে তাদের পার্টনার হওয়ার জন্য।maxresdefault

গ) গুগল অ্যাডসেন্স এ অ্যাকাউন্ট থাকলে, পার্টনারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে তা অনেক বড় ভুমিকা পালন করে।

ইউটিউব পার্টনার হলে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে যা বেশি আয়ের জন্য সাহায্য করবে। কোন ভিডিওটি কপি হওয়ার কোন ভয় থাকেনা কারন ভিডিওটির আলাদা আইডি থাকে এবং তা ট্র্যাক করা হয়। কনট্যাঁনট সাইজ লিমিট করে দেয়া হয়না ভিডিও আপলোড এর ক্ষেত্রে। পার্টনার হলে সরাসরি ভিডিওটি ভাড়া দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্টকে প্রথমে পেমেন্ট করতে তারপর ভিডিওটি চালাতে পারে। পার্টনার হওয়ার সব থেকে বড় সুবিধা হল ভিডিওটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রমট করা হয়। ক্লায়েন্ট কে অনেক ভাল মানের ভিডিও উপহার দেওয়া যায়।

 

৩ . এফিলিয়েট প্রোডাক্ট এর রিভিউ করে

অনলাইন মার্কেটপ্লেসের কোনো প্রোডাক্ট আপনি প্রোমোট করবেন, বিক্রি হলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন। এটাই এফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট প্রোডাক্ট এর রিভিউ ব্যবহারের জন্য আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। এই ক্ষেত্রে মানুষ আমাজন বা অন্য কোন এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর পণ্যের এফিলিয়েশন করে থাকে।

product-review-marketing1-1

 

সাধারনত নিজের এফিলিয়েট  ওয়েবসাইটের  লিঙ্ক ভিডিও এর ডেসক্রিপশনে দিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিডিও তে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিও প্রদান করা হয়। সেই ভিডিও থাকাকালীন কেউ যদি ঐ লিঙ্কের মাধ্যমে গিয়ে কোন পণ্য ক্রয় করে থাকে তবে এফিলিয়েটর কমিশন পায়। এইভাবে এফিলিয়েশন করলে খুবই কম খরচে বা বিনা খরচে আপনি সহজেই মাস গেলে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

 

৪ . নিজের পণ্য বিক্রি করে

আপনার যদি একটি ফ্যাশন হাউজ থাকে তাহলে আপনি যদি নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডজ সম্পর্কে কিছু ভিডিও তৈরি করেন এবং সাথে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছুটা রিভিও যুক্ত করে আপলোড করেন তবে ইউটিউব হতে পারে আপনার নিজের পণ্য মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

sell-bitcoins-nowইউটিউব থেকে অনেক ভিজিটর পাওয়া যেতে পারে। যেকোনো বিষয়ের উপর ভিডিও গুলোর ভিউ থেকে আপনি সহজেই তা বুঝা যায়। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে ওয়েব সার্চ এর তাবৎ ক্রয়যোগ্য (অর্থাৎ যে কীওয়ার্ড গুলো দিয়ে মানুষ কোন প্রোডাক্ট কিনার জন্যই সার্চ করে) সার্চের বেশিরভাগটাই ইউটিউবে হয়। মানে কেউ কোন পণ্য কিনার জন্য মন স্থির করলে সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওই দেখে থাকে।নিজের পণ্য বিক্রি করার জন্য ইউটিউব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে।

আজ এপর্যন্তই । পরবর্তী পর্বে নিয়ে আসব নিশ থেকে শুরু করে কোন বিষয়ের উপর ভিডিও বানাবেন সেই বিষয় কিভাবে খুঁজে বের করব

ফেইসবুকে আমি …..

  • Akib Khan

    vai, onek information pelam, a lot of thanks

  • Rubel

    ভাই বাংলাদেশ থেকায় কি ইউটিউব অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্ট আপ্প্রভেদ হয় । প্লিজ টেল মি। উত্তর দিলে অনেক হেল্প হয় ।