ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইনে ফেসবুক পিক্সেল ব্যবহার করে রিমার্কেটিং করার বিস্তারিত গাইডলাইন

টিউন করেছেন shovon | January 23, 2016 15:16 | পোস্টটি 1,614 বার দেখা হয়েছে

ফেসবুক পেইড ক্যাম্পেইনে সবচাইতে বেশি সফলতার  গোপন রহস্য হল Facebook Ad Pixel এর সর্বোত্তম ব্যবহার। আপনি যদি ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার ব্যবসার প্রসার করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ফেসবুক পিক্সেল সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে । এটার ব্যবহার ছাড়া ফেসবুক অ্যাডের সর্বত্তম ব্যবহার কোন অবস্থায়ই সম্ভব নয় ।

ফেসবুক পিক্সেলের ব্যবহার ভাল মত বুঝতে পারলে অনলাইন বিজনেসে আপনি সফল হবেনই । তবে অনেকেই এই বিষয়টা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন ।

fb-advertising1

আমি এখানে খুব সহজ ভাবে ফেসবুক পিক্সেলের ব্যবহার দেখানোর চেষ্টা করেছি । আমার বিশ্বাস আপনিও আজ থেকে এটি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন ।  বিষয়টি ভালভাবে শিখতে পারার জন্য সকল ক্রেডিট দিচ্ছি, সিভিনটেকের চেয়ারম্যান, মো: ইকরাম ভাইকে।

আমি এখানে নিচের বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি –

  • দুই ধরনের ফেসবুক পিক্সেলের পার্থক্য
  • এগুলো কোথায় স্থাপন করতে হবে এবং কিভাবে ভেরিফাই করবেন
  • আরও কার্যকর ভাবে কিভাবে পিক্সেল ব্যবহার করে কনভার্সন বেশি পাবেন

শুরু করার আগে বলে রাখা দরকার ফেসবুক এই মুহূর্তে পিক্সেল নিয়ে কাজ করছে এটাকে আরও কার্যকর করার জন্য । এটা শেষ করতে ২০১৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগবে বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ।

পিক্সেল দুই ধরণের হয়

ফেসবুক পিক্সেলের যে বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে ভালভাবে বুঝতে হবে তাহলো এর ধরন । দুই রকমের পিক্সেলের ব্যবহারও দুই ধরণের।

এই পিক্সেল গুলোর কাজে যেমন ভিন্নতা আছে তেমনি ফেসবুক ক্যাম্পেইনে এগুলোর ব্যবহারও সম্পূর্ণ আলাদা।

১) কনভার্সন ট্র্যাকিং পিক্সেল

প্রথম কথা হল কনভার্সন বলতে আমরা কী বুঝি ? যখন কোন ভিজিটর আপনার ল্যান্ডিং পেজে আসে এবং তার ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে এবং কিছু ক্রয় করে তখন এটাকেই বলা হয় কনভার্সন ।

Conversion Tracking Pixel হল একটি ছোট JAVA Script Code যা ফেসবুক অ্যাড ক্যাম্পেইন থেকে আপনি কী পরিমাণ কনভার্সন পেলেন তা ট্র্যাক করে । এটা শুধু ফেসবুকেই ব্যবহার করা যায় । Google Analyticsএর মত যেকোনো সাইটের তথ্য সংগ্রহ সম্ভব নয়।

আপনি যা ইনভেস্ট করলেন তার কতটুকু ফেরত পেলেন তা জানানোয় Facebook Conversion Tracking Pixelএর কাজ।

একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে-

p-1.1

 

এখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ফেসবুক অ্যাড কাম্পেইনে রিচ হয়েছে ৭৯ হাজার ৮১৬ এবং কনভার্সন অর্থাৎ সেল হয়েছে ৬৬২ টি । প্রতিটি সেলের জন্য ২.২১ $ খরচ হয়েছে।

এক্ষেত্রে মানুষ একটা জায়গায় ভুল করে। আপনি যদি কনভার্সন ট্র্যাক করতে চান তাহলে আপনার পিক্সেল ল্যান্ডিং পেজে বসালে আপনি সঠিক তথ্য পাবেন না। এটা বসাতে হবে Thank You পেজে । মানে কেনাকাটা শেষ করার পর যে পেজটি আসে সেটি।

p-2

 

এবং পেজে কোড বসানোর অর্থ হল এটাকে পেজের head ট্যাগে বসাতে হবে।

অর্থাৎ <head> java script code <head/>এখানে বসাতে হবে। টেনশনের কিছু নেই। আপনি নিজে না পারলে যাকে দিয়ে ল্যান্ডিং পেজটি বানিয়েছেন সে খুব ভাল ভাবেই এই কাজটি করতে পারবে।

ফেসবুক নিজে থেকেই আপনাকে এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়ে দেয়। এখানে দেখুনঃ

p-3

ভুলে যাবেননা, প্রতিটি কাম্পেইনের কনভার্সন ট্র্যাক করার জন্য আপনাকে নতুন করে পিক্সেল ক্রিয়েট করতে হবে।

যেভাবে পিক্সেল ভেরিফাই করবেন

আপনি আপনার পেজে যে পিক্সেল বসিয়েছেন তা ঠিকমত কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখাকেই বলে পিক্সেল ভেরিফিকেশন।

ফেসবুক এই ব্যাপারটা খুব সহজ করে দিয়েছে। এটা করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা’হল, যেখানে পিক্সেল কোডটি বসিয়েছেন সেখানে যাবেন এবং ফিরে এসে ফেসবুকের পিক্সেল সেকশনে চেক করবেন। “Verified” লেখাটির পাশে সবুজ “Dot” থাকলেই বুঝবেন সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে।

 

কয়েকটি উপায়ে আপনি পিক্সেল ভেরিফাই করতে পারেন-

  • পেজে কোডটি বসিয়ে Save  করার পর পেজটি ব্রাউজারে রিলোড করতে হবে।
  • Power Editor ব্যবহার করলে বিষয়টি আরও সহজ। শুধু আপনার ব্রাউজার ট্যাবটি রিফ্রেশ করলেই হবে।
  • Chrome  ব্যবহারকারীরাFacebook Pixel Helper  এক্সটেনশনটিডাউনলোডকরেসহজেইকাজটিকরতেপারেন।

কনভার্সনের জন্য VALUE সেট করে দিন

মনে করুন, আপনার প্রোডাক্টের মুল্য $97.এই মূল্যটা আপনি পিক্সেল কোডে বসিয়ে দিতে পারেন। এতে করে প্রতিটা কনভার্সনের বিপরীতে আপনার কত খরচ হল ফেসবুক আপনাকে জানিয়ে দেবে। মজার না !

যেখানে 0.00দেখবেন সেখানে আপনার মূল্যটা বসিয়ে দিলেই হবে।

এটা এভাবে করতে পারেন-

 

p-9

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে আপনি আপনার লাভক্ষতি পরিমাপ করবেন। খুব সহজেই এটা করতে পারবেন আপনি।

  • First, click on Reports in the left column of your Ads Manager or View Report in your campaign.
  • Click Customize Columns
  • Select Websites in the left column
  • Select the corresponding conversion value (will likely be Checkouts Conversion Value [conversion pixel])

 

p-4

 

কাস্টম অডিয়েন্স পিক্সেল[ Retargeting ]

আপনাদের অভিজ্ঞতা থেকে এটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে আপনি যখন ফেসবুক ব্রাউজ করেন তখন অনেক অ্যাড আপনার সামনে আসে। এগুলোর সব গুলোই কিন্তু অডিয়েন্স সেট আপের কারনেই আসে।

মনে করুন, আপনি কোন এক সময় অ্যামাজনের ওয়েবসাইট ভিজিট করেছিলেন। এর পর থেকে আপনি যখনই ফেসবুকে আসছেন তখনই অ্যামাজনের অ্যাড দেখতে পাচ্ছেন। এটা কিন্তু কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়। এটা হল রিটারগেটিং। অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে ফেসবুকের ট্র্যাকিং কোডটি বসানো আছে। এটার মাধ্যমেই ফেসবুক আপনাকে ট্র্যাক করতে পারে।

আপনি অ্যামাজনে যখন ভিজিট করেছিলেন তখন হয়ত কোন পন্য ক্রয় করেননি, কিন্তু ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ফেসবুক অ্যামাজনের পন্য গুলোকে আপনার সামনে বারবার নিয়ে আসে। এতে করে অ্যামাজনের পন্য বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক গুন বেড়ে যায়। কারন ঐ সময় আপনার পন্যটি পছন্দ না হলেও পরবর্তীতে আপনার ভালো লাগতেই পারে।

 

কেন ফেসবুক রিটারগেটিং গুরুত্বপুর্ন

আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই অনেক পরিশ্রম করছেন আপনার সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তখন আপনার আর কিছুই করার থাকে না যখন ওরা আপনার সাইটে এসে কোন পন্য না কিনেই চলে যায় অথবা ইমেইল সাবস্ক্রিপশনও করে না।

ফেসবুক রিটারগেটিং এর মাধ্যমে এই ভিজিটর গুলোকে আপনার সাইটে নিয়ে পুনরায় নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

আপনি আপনার অডিয়েন্সকে কয়েক ভাবে কাস্টমাইজ করতে পারবেন-

  • যারা আপনার সাইটে এর আগেও এসেছে।
  • যারা আপনার Opt Inপেজে এসেছে কিন্তু Opt Inকরেনি।
  • যারা আপনার Sales পেজে এসেছে কিন্তু কিছু ক্রয় করেনি।
  • যারা আপনার সম্ভাব্য কাস্টমার হতে পারে।

যেখানে Custom Audience Pixel বসাবেন

আগের মতই Custom Audience Pixelএর কোডটি Head Tag এর মধ্যে বসাতে হবে। আপনি যে যে পেজের অডিয়েন্স ট্র্যাক করতে চান, সবখানেই কোডটি বসিয়ে দিলেই আপনার কাজ শেষ।

যেভাবে Custom Audience সেট করবেন-

  • প্রথমে Ad Managerএর বামদিকের কলামে Audiences বা Custom Audience Pixelএর উপর ক্লিক করুন।
  • এরপর উপরে ডানদিকে Create Audienceবাটনে ক্লিক করুন এবংCustom Audience নির্বাচন করুন।
  • আপনার Landing Page / Websiteটি নির্বাচন করুন।
  • আপনি আপনার পছন্দ ও চাহিদা অনুসারে অডিয়েন্স বাছাই করুন।

p-5

p-6

  • আপনি কত আগের অডিয়েন্সকে টার্গেট করতে চাচ্ছেন তা ঠিক করে দিন। ডিফল্ট হিসেবে এটা ৩০ দিন করা থাকে। তবে আপনি ১৮০ দিন পর্যন্ত অডিয়েন্স টার্গেট করতে পারবেন।
  • অতঃপর আপনি আপনার অ্যাড Create করুন এবং টার্গেট Audience তৈরি করুন।

 

চমৎকার ও আকর্ষণীয় অ্যাড বেশি কনভার্সন নিয়ে আসে

ভালো কনভার্সনের জন্য আকর্ষণীয় অ্যাডের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। কারন খুব স্বাভাবিক ভাবেই, কোন কিছু দেখে ভালো লাগলে কেবল তখনই আপনি সেটা কিনতে বা ছুঁয়ে দেখতে পছন্দ করেন।

কিন্তু আমরা অনেকেই ভালো ডিজাইন করতে পারিনা। তবে এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আপনি ডিজাইন ভালো না জানলেও চলবে। চমৎকার অ্যাড ক্রিয়েট করার জন্য আপনাকে ছবিতে অতিরিক্ত গ্রাফিক্স প্রয়োগ করতে হবে, ব্যাপারটি এমন না। এমন হতে পারে আপনি শুধু আপনার একটা Imageব্যবহার করলেন, সেই সাথে Textগুলোকে বোল্ড করে দিলেন, ব্যস শেষ। আবার আপনি আপনার প্রোডাক্টের ভালো একটা ছবি ব্যবহার করেও কাজটি করতে পারেন।

নিচে দুইটা উদাহরণ দিলাম-

p-7

p-8

 

আজ এ পর্যন্তই । সর্বোপরি এ লেখাটি যদি আপনাদের এতটুকুও উপকারে আসে তবেই এর সার্থকতা। এই লেখাটির সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমাদের সবার প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন জনাব মোঃ ইকরাম স্যারের । সত্য কথা বলতে কি উনার অনুপ্রেরণায়ই লেখাটি সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাই খুব ভালো থাকবেন।

  • http://hrlimon.com Habibur Rahman

    ধারুন লিখেছেন ভাই ! ধন্যবাদ আপনাকে :)