গেস্ট ব্লগিং কি? কেন করবেন? কিভাবে করবেন? বিস্তারিত গাইড লাইন (১ম পর্ব)

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। লার্নিংএন্ড আর্নিং প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেরপ্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বরত। জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | May 22, 2015 05:35 | পোস্টটি 1,692 বার দেখা হয়েছে

গেস্ট ব্লগিং কি :-  ব্লগটি অন্যের। কিন্তু চাইলে যে কেউ সেখানে নিজের পরিচয়েই লিখতে পারে, সেরকম ব্লগকেই গেস্ট ব্লগ সাইট বলে। এ ধরনের গেস্ট ব্লগে নিজের পরিচিতি তৈরি করার সুযোগটা খুব সহজ হয়। কারন সে ব্লগে অনেক পরিচিতি ব্লগার থাকে, আবার সেই সব ব্লগারদের লেখার নিজস্ব পাঠকও থাকে অনেক। সেই সব পাঠকদের কাছেও নিজেকে কিংবা নিজের ওয়েবসাইটকে চিনানো সহজ হয়। ওয়েবসাইটের গুগলে র‌্যাংকিং, টার্গেটেড ট্রাফিককে নিজের ওয়েবসাইটে নিয়ে আসার জন্য, যে কোন কিছুর ব্রান্ডিংয়ের জন্য গেস্ট ব্লগিং করা হয়। শুধু করা হয় বললে ভুল হবে। সবচাইতে বেশি সফল হওয়া যায়।

বাংলাতে সেরা গেস্ট ব্লগিং সাইটের নাম: টেকটিউনস,  সামহোয়্যার ইন ব্লগ, জেনেসিসব্লগস, প্রিয় ইত্যাদি।

ইংরেজিতে সেরা গেস্ট ব্লগিং সাইটের লিস্টের  লিংক:  http://linksearching.com/40-best-approved-guest-blogging-site-list/guest

গেস্ট ব্লগিং সম্পর্কে কয়েকটি ভুল ধারণা

ভুল ধারণা-১: কোয়ালিটির চাইতে কত বেশি গেস্ট ব্লগিং সাইটে কতটি পোস্ট করা গেছে।

অনেকেই এসইও নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে গেস্ট ব্লগিংকে শুধুমাত্র ব্যাকলিংক তৈরির জন্য ব্যবহার করেন।তারা মনে করে যত বেশি ব্লগে, যতবেশি গেস্ট পোস্ট করা যাবে, ততই তাদের ওয়েবসাইটের জন্য ভাল হবে। যেহেতু অনেক বেশি পোস্ট দেওয়ার প্রতি তাদের মনোযোগ, সেজন্য কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট তখন সম্ভব হয়না। একদিনে যদি ৫-১০ টি নতুন পোস্ট করার প্রতি মনোযোগই হয় কেউ তাহলেতো ভাল পোস্ট আশা করা ১০০% অসম্ভব।

সঠিকঃ প্রচুর সংখ্যক পোস্টের চাইতে ভালমানের পোস্ট দেওয়ার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। ১ দিনে ৫ টি পোস্ট লেখার চাইতে ৭ দিনে একটি ভাল পোস্ট এসইওর কাজে অনেক ভাল ফলাফল দেখায়।

ভুল ধারণা-২: এসইওর কাজে গেস্ট ব্লগিংয়ে এত সময় ব্যয় করা বোকামী

এসইও কাজ করেন এরকম অনেকেই বলেন, বড় বড় আর্টিকেল এবং কোয়ালিটি আর্টিকেল রাইটিং করার মাধ্যমে ব্যাকলিংক তৈরি করার চাইতে অন্য অনেক পদ্ধতিতে আরো কম সময়ে ব্যকলিংক তৈরি করার উপায় রয়েছে। সেটি অনুসরণ করলেইতো হবে।

সঠিকঃ অন্য পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে হয়ত সাময়িক ফলাফল আসা করা যাবে। কিন্তু যদি লং টাইম বেনিফিটেড হতে চান, তাহলে গেস্ট ব্লগিংয়ের বিকল্প কখনও নাই। সেজন্য সবাইকেই এ দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

ভুল ধারণা-৩: গেস্ট ব্লগিং শূধুমাত্র এসইওর কাজের জন্য করতে হয়

অনেকে মনে করেন, আমারতো কোন ওয়েবসাইট নাই কিংবা আমি এসইওর কাজ করিনা। আমার জন্য গেস্ট ব্লগিং করার কোন দরকার নাই। আমি কেন শুধু শুধু লিখব।

সঠিক: গেস্ট ব্লগিংয়ের মাধ্যমে যেকোন কিছুকে খুব সহজে ব্রান্ডিং করা যায়। প্রোডাক্ট ব্রান্ডিংয়ের পাশাপাশি নিজের যোগ্যতার ব্রান্ডিংয়ের জন্য গেস্ট ব্লগিং করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। গ্রাফিক ডিজাইনার ডিজাইন টিপস নিয়ে যদি নিয়মিত গেস্ট ব্লগিং করেন, তাহলে ডিজাইনার হিসেবে তার একটি পরিচিতি তৈরি হয়ে যাবে। আর সেজন্য তখন মার্কেটপ্লেস ছাড়াও কাজ যোগাড় করা সহজ হয়ে যাবে।

guesttt

 

 কীওয়ার্ড সম্পর্কিত গেস্টব্লগিং সাইট খুজে বের করার উপায়ঃ

প্রথমে প্রয়োজনীয় গেস্ট ব্লগিং সাইট খুজে বের করে সবগুলোকে এক্সসেল ফাইলে লিস্ট আকারে সেভ করুন। ক্যাটাগরি অনুযায়ি লিস্টটি তৈরি করতে হবে। রিলেটেড সাইট খুজে বের করার কয়েকটি টিপস নিচে দিলাম।

  • [insert your relevant keyword here] + “guest post”
  • [insert your relevant keyword here] + “guest blog”
  • [insert your relevant keyword here] + “guest blogging”
  • [insert your relevant keyword here] + “guest posting”

 

 কিভাবে একজন ভাল গেস্ট ব্লগার হবেন?

শুধু পোস্ট করলেই ভাল ব্লগার হওয়া যায়না। কিছু ছোটখাটো বিষয় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সবসময় খেয়াল করতে হবে।

১। ব্লগটি ভালভাবে রিসার্চ করুনঃ যে ব্লগে লিখবেন, সেই ব্লগটিকে আগে ভালভাবে পযবেক্ষণ করুন। এমন উপযুক্ত একটি ব্লগ আগে খুজে বের করুন। তারপর সেখানে নিয়মিত পোস্ট শুরু করুন।

সেই ব্লগ সম্পর্কে যে যে বিষয় সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।

-   ব্লগের পাঠক কারা?

-   ব্লগাররা সেখানে কোন স্টাইলে লিখেন?

-   কোন টাইপ পোস্টে বেশি কমেন্ট পড়ে?

-   ব্লগটির লিখিত এবং অলিখিত নিয়ম কি?

ব্লগটি ভালভাবে রিসার্চ করে একটি রিপোর্ট বের করলে এবং সেই অনুযায়ি লেখার চেষ্টা করলেই সেটা সেই ব্লগের নির্দিষ্ট পাঠক, ব্লগ এবং নিজেরও সকল চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

২। লেখার নিজস্ব একটি স্টাইল তৈরি করুনঃ যে ব্লগে লিখবেন, সেই ব্লগের এতদিনের তৈরি করা লেখার স্টাইলকে সম্মান দেখিয়ে নিজের স্বতন্ত্র একটি স্টাইল তৈরি করা দরকার। নিজস্ব একটি স্টাইল অন্য সকল লেখা থেকে কিংবা লেখার লেখকের কাছ থেকে আপনাকে আলাদাভাবে পরিচিত করবে। এটা একজন নিয়মিত  এবং সফল ব্লগারের জন্য খুবই জরুরী। এটা করতে পারলেই আপনার লেখার নির্দিষ্ট পাঠক তৈরি হয়ে যাবে।

৩। ব্লগে কোন ধরনের পোস্টের অভাব খুজে বের করুনঃ একই লিখা অন্যরা লিখলে আবার সেই লিখার কাছাকাছি যদি আপনি লেখেন, সেটি পাঠককে আকর্ষণ করতে পারবেনা। সেজন্য ব্লগে কোন ধরণের পোস্টের অভাব রয়েছে, সেটি খুজে বের করুন। তারপর সে ধরনের লেখাগুলো পোস্ট করুন, তাহলে আপনার লেখার একটি চাহিদা তৈরি হবে।

৪। নিজেকে বিক্রি করুনঃ সকল গেস্ট ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের কাজ কিংবা নিজের অন্য লেখার লিংক যেকোন ভাবেই ন্যাচারালভাবে শেয়ার করে আসা দরকার। লেখক পরিচিতিতে (Author Bio) তে আপনার সম্পর্কে ভালভাবে, আপনার পরিচিতি ব্যবহার করার মা্ধ্যমে নিজেকে এসইও করুন। পোস্টের শেষে নিজের কোন ব্লগ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটি থাকলে সেটির লিংক দিয়ে আসতে পারেন। আপনার নিজের পরিচয় কিংবা কাজ যদি দেখিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে লিখে খুব বেশি সফলতা নাই। তবে এটি করতে গিয়ে বিজ্ঞাপন যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

৫। সবার আস্থার আসনে অবস্থান নিনঃ প্রতি সপ্তাহে অবশ্যই একটি লেখা যাতে পোস্ট করা যায়, সেদিকে নজর দিন।যদি সম্ভব হয়, প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনেই যাতে পোস্ট হয়। যদি সিরিজ পোস্ট করেন, তাহলে একটি পোস্ট দিয়ে পরের পোস্টের জন্য খুব বেশি যাতে মানুষকে অপেক্ষা করতে না হয়, সেদিকে নজর দিন। এতে আপনার জনপ্রিয়তাতে ধস নামবে।

 

নিজেকে ভাল গেস্ট ব্লগার তৈরির টিপসতো পেলেন সবাই। এবার লিখব কিভাবে ইউনিক কনটেন্ট এবং মানুষকে আকর্ষণ করার মত কনটেন্ট লিখবেন। তবে সেজন্য আপনাদেরকে পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।  আপনার গেস্ট ব্লগের পোস্টে  কিভাবে বেশি মানুষের কাছে প্রচার করবেন সেই বিষয়গুলোও থাকছে পরের পর্বে।

লেখাগুলো অন্যের সাথেও শেয়ার করুন। যাতে আরও অনেকেই শিখতে পারে।  আমার কাছ থেকে নিয়মিত টিপস পেতে আমার পেজে লাইক দিন।

 

  • Rezaul Tipu

    A nice presentation by Honorable Ekram regarding guest
    blogging. In this article he focuses how to make a site or oneself as a brand
    through guest blogging. Guest blogging is an essential part to get a good
    result in online business. Beginners can get a rich resource from this article
    and thanks to the author for his contribution to the readers.