প্রোডাক্ট ব্রান্ডিংয়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার করে নিজের ব্রান্ড গড়ে তুলুন ( দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব )

টিউন করেছেন Nasrin Akter | April 11, 2015 09:56 | পোস্টটি 1,172 বার দেখা হয়েছে

যারা অনলাইন মার্কেটিংয়ের কাজ করেন কিংবা ভবিষ্যতে করার স্বপ্ন দেখেন তাঁরা বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার দিক এ গুরুত্ব দেন সর্ব সময় । বর্তমানে মার্কেট প্লেসে কাজ করতেও সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রয়োগ । আপনার মধ্যে থাকতে হবে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানুসিকতা । আপনি সোশ্যাল  মিডিয়া যথাযত ব্যাবহার করে জানলে পারবেন টপ লেভেলর একজন ওয়কার । আমি নিজেই সকল কাজেই সোশ্যাল মিডিয়ার দিক বেশি নজর দেই । অনলাইনে অন্য কাজের চেয়ে যেকোন প্রোডাক্টকে ব্রান্ডিংয়ের জন্য সবচাইতে বেশি জোর দিয়ে থাকি আমি । যখন ব্রান্ডিং করার স্বপ্ন দেখবেন, তখন আপনাকে হতে হবে অনেক দু:সাহসী, অনেক ক্রিয়েটিভ, অনেক বিচক্ষণ। আর এজন্যই এজন্যই মূলত ব্রান্ডিং করাতেই বেশি মজা পাই । কারণ এ ক্ষেত্রে কোন সফলতা পেলে সেখানে পৈশাচিক আনন্দ পাওয়া যায় । বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যাবহার করে অনলাইন মার্কেটিংয়ের রানী হবার স্বপ্ন আমার ।

সময় এখন সামাজিক মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ! আপনি যদি এই সম্পর্ক ঘনীভূত সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করতে জানেন কিভাবে কি করতে হবে তা পারেন একদিন আপনার দ্বারাই তৈরি হবে এক একটি বড় বড় ব্র্যান্ড ।

যারা প্রথম পর্বটি এখনও পড়েনি তারা সম্পূর্ণ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝার জন্য আগে প্রথম পর্বটি পড়ে নিন

http://genesisblogs.com/tutorial-2/16726

টিউটোরিয়ালটি কি কি নিয়ে সাজানো হয়েছে তা এক নজরে দেখে নিন :

  • প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে পরিচিতি বৃদ্ধি ও যোগাযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখুন –

  • সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর প্রতি আপনার বিশেষ মনযোগী হওয়া উচিৎ -

  • প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ সোশ্যাল মিডিয়া তে যে ভুল গুলো করা একে বারেই উচিত নয় –

  • সোশ্যাল মিডিয়া তে একই কন্টেন্ট অনেক বেশি শেয়ারিং করা থেকে বিরত থাকুন -

  • প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয় ভাইরাল প্রমোশনে নজর দিন সঙ্গে পণ্য অথবা সেবা বিক্রি করুন  -

Branding for social media (9)

প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে পরিচিতি বৃদ্ধি ও যোগাযোগের প্রতি লক্ষ্য রাখুন -

যে কোন মার্কেটিং ক্যম্পেইন এর একটি মূল উদ্যেশ্য হচ্ছে কোন পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি করা। নতুন নতুন অফারগুলোকে প্রচার করা। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্র থেকে ক্রেতা খুজে বের করা। আপনার ব্যবসা ছোট হোক অথবা বড়, ব্যবসার সফলতা অনেকটা নির্ভর করবে আপনি কতটা পরিচিত। আপনি যত বেশী পরিচিত, আপনার ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশী। আর আপনি যদি পরিচিতি পেতে চান আপনাকে সেখানেই একটিভ থাকতে হবে যেখানে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতার উপস্থিতি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টিভি, রেডিও এবং পত্রিকার পর সোস্যাল মিডিয়া বেশী জনপ্রিয়, এবং এর জনপ্রিয়তা যেভাবে বাড়ছে খুব দ্রুত এটা অন্য সবগুলাকে ছাড়িয়ে যাবে অথবা আরো বেশী জনপ্রিয় হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

Branding__2

ফেসবুকের জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য আপনি নিচে প্রদত্ত ডাটা গুলো দেখে নিতে পারেন । ২০১০ সালে ফেসবুকের নিবন্ধিত ব্যাবহার কারি ছিলেন ৩৫০ মিলিয়ন । ২০১১ সালে তা বেড়ে দারায় ৭৫০ মিলিয়ন । এ থেকেই ধারনা করা যায় মানুষ সোস্যাল মিডিয়ার উপরকি পরিমান আসক্ত হচ্ছে । তাই সোস্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে আপনি খুব দ্রুতই আপনার পণ্য অথবা ব্যাবসার পরিচিতি বৃদ্ধি করতে পারেন ।

আপনি অনেক পরিচিতি পেলেন, কিছু ক্রেতাও পেলেন, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনার কাজ শেষ বা আপনি সফল হয়ে গেলেন । কাজের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলেও সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আপনাকে এখনই করতে হবে ।  আর তা হচ্ছে ক্রেতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা। তারা আপনার পণ্য বা সেবাতে সন্তুষ্ট কিনা এর উত্তর বের করা ।  তাদের কোন অভিযোগ অথবা পরামর্শ আছে কিনা তা জানতে চাওয়া ।  অথবা আপনার পণ্য এবং সেবা সংক্রান্ত যেকোন ব্যাপারে তারা কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কিনা এবং হয়ে থাকলে সেটা কি ধরনের । এই উত্তর গুলো যদি আপনি বের করতে না পারেন এবং বের করার পর যদি এর সমাধান বের করতে না পারেন তাহলে আপনি যতই প্রচারনা চালান, আপনার ব্যবসা বেশীদিন টিকে থাকবে না ।  আর এই উত্তর গুলো পাওয়ার সব চাইতে সহজ উপায় হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়া ।  কারন মানুষ ফোনে অথবা সামনা সামনি অভিযোগ দেয়ার চাইতে লিখতে বেশী সাচ্ছন্দ বোধ করেন । একই ঘটনা ঘটবে প্রশংশা করার বেলায় । আবার সোস্যাল মিডিয়াতে লিখার সময় মানুষ পর্যাপ্ত সময় নিতে পারে, যা অন্য মাধ্যমগুলাতে সম্ভব নয় । তাই সোস্যাল মিডীয়াকে শুধু মাত্র প্রচারনার জন্য ব্যাবহার করা হলে তা ভুল হবে । সোস্যাল মিডিয়াকে ক্রেতা অথবা সম্ভাব্য ক্রেতার সাথে যোগাযোগ এর মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করতে হবে ।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর প্রতি আপনার বিশেষ মনযোগী হওয়া উচিৎ -

একজন দক্ষ এবং সচেতন মার্কেটার জানে, তার প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে যেতে হলে তাকে প্রতিটি কাস্টমারদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা বের করে আনতে হবে । যদি তাই হয় তাহলে আপনার কি এখনই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে মনযোগী হওয়া উচিৎ নয় ? অবশ্যই উচিত ।এ নিয়ে অনলাইন মার্কেটিং এ বতমান জনক রানি হায়দার একটি গবেষণা চালান । সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর পিছনে বাড়তি মনোযোগ দিবেন কিনা এ ধরনের একটি প্রশ্নের বিপরীতে তারা জানিয়েছেন, অবশ্যই করা উচিৎ তবে সেটা সঠিকমাত্রায় এবং রক্ষণশীলভাবে । ২০% মনে করছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সত্যি কার্যকরী ও আশাপ্রদ এবং আরও কিছুদিন এটার পিছনে ইনভেস্ট করা যায় । ১০% জানিয়েছেন যদি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ফ্রিতে চালিয়ে যাওয়া যায় তবে তারা সেটা চালিয়ে যাবেন । সর্বশেষ ৬% মনে করছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সত্যিকার ভাবে তাদের রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট এ তেমন কোন প্রভাব ফেলছে না । আরও চালিয়ে যাবেন কিনা এধরণের প্রশ্নে তারা মত দিয়েছেন, প্রশ্নই উঠে না । গবেষণা রিপোর্টি দেখে বুঝা যাচ্ছে ৬৪% CMO (Chief Marketing Office) সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কার্যকারিতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত । যেখানে ৯৪% CMO সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ফলাফল সম্পর্কে পজিটিভ ধারণা পোষণ করে ।

এতদিন ধরে ইন্টারনেট, জার্নাল, ব্লগ, বই পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে পর্যালোচনা করার পর আমার মনে হয়েছে অনন্ত ৪টি কারনে হলেও আপনার উচিৎ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর প্রতি মনোযোগ দেওয়া ।

Branding for social media (7)

ব্র্যান্ড মনিটর : আমার মতে সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় ককটেল পার্টি এর মত । যেখানে বিভিন্ন মতের মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে জড়ো হয় যোগাযোগের জন্য অথবা কোন কিছু শেয়ার করার উদ্দেশ্যে । এসব কথোপকথনের কিছু হয়ত আপনাকে নিয়ে হতে পারে, কিছু হয়ত আপনার ব্যাবসা নিয়ে হতে পারে আবার কিছু হয়ত ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হতে পারে । যেসব জানাটা আপনার জন্য দরকার। এসবের কিছু হতে পারে এমন কিছু মানুষ যারা আপনার পণ্যটি খুঁজছে কিংবা আপনার ভুল গুলো ধরিয়ে দিচ্ছে । আপনি যদি এগুলো নাও শুনতে চান তাও এসব কথাবার্তা চলবেই । আপনি যদি এগুলো না শোনার চেষ্টা না করেন এসব কোনদিনই জানবেন না । বুঝা গেল বিষয় টি । মূল কথা সোশ্যাল মিডিয়া কে আপনি সবসময় মনিটরিং করুন । অনেক কিছু শিখবেন জানবেন এতে আপনার  জ্ঞানের পরিধি বাড়বে ।

কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা : কোম্পানির অফিশিয়াল spokesman অর্থাৎ মুখপাত্র হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করতে পারেন । আপনার নতুন অফার কি, কাস্টমার সার্ভিস সেবা প্রদান, কোন সমস্যা সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিক জানানো/ ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এসব করতে পারবেন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে ।

কোম্পানির নিজস্ব জনবলের মধ্যে সম্পর্ক/যোগাযোগ উন্নয়ন :  সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মানে যে শুধু facebook পেইজ খুলে নিজের গুণ-মন্ত্রণা প্রচার করবেন । ব্যাপারটা এমন ভাবলে চলবে না । এর কার্যকারিতা পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বিসৃত এবং সেটা নানা ভাবে ব্যাবহার করতে পারবেন । অনলাইন ফোরামে কিংবা facebook গ্রুপে কোম্পানির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যোগাযোগ মাধ্যম তৈরি করে দেওয়া কিংবা তাদের সঠিক নির্দেশনা প্রদান, যথাযথ motivation দেওয়ার কাজটিও করা যেতে পারে ।

নতুন রিক্রুটদের খুজে বের করার কাজে : আজকাল অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করে এই কাজটি করছে । ভার্সিটির ফ্রেশ গ্রাজুয়েটদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে তাদের মধ্যে থেকে বেস্ট রিক্রুটদের খুজে বের করে আনতে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার সুযোগ নিচ্ছেন । এই পদ্ধতি দিয়ে পুরনো কর্মচারীদের ফিরিয়ে আনার কাজটিও করা যেতে পারে ।

প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ সোশ্যাল মিডিয়া তে যে ভুল গুলো করা একে বারেই উচিত নয় –

বর্তমানে অনেকে ভুল মার্কেটিং পথ বেছে নিছে যা দ্বারা কখনই সুফল বয়ে আনবে না । অযথা আপনাদের সময় ই নষ্ট হবে । যে ভুল গুলো একেবারেই উচিত নয় তা আমার বেশিরভাগই ফেসবুক এ করে থাকি । অনেকে ফেসবুক এ লিঙ্ক শেয়ারে অনেক প্রদ্ধতি অবলম্বন করে তবে তা এক বারেই ঠিক নয় । যথাত সঠিক উপায় এ মার্কেটিং করতে হবে তাদ্বারাই কেবল আপনি সফল হবেন । যে বিষয় গুলো মার্কেটিং করতে একবারে উচিত নয় তার মধ্যে অন্যের পোস্টের ভিতর কমেন্টে নিজের বিজ্ঞাপন লিংক দেওয়া মটেও উচিত নয় । প্রায় সময়ই বিভি্ন্ন পোস্টের ভিতরে এসে  অনেকেই কমেন্ট করে নিজের লিংক মার্কেটিং করে আসতেছে । অনেক সময় দেখেছি , আমি নিজের কোন  পার্সোনাল পোস্ট করেছি, সেখানে এসে কোন ১টা ট্রেনিং সেন্টার তাদের এসইও কোর্সের মার্কেটিং লিংক কমেন্ট করে গিয়েছে, অথবা অন্য কোন প্রোডাক্ট এর লিঙ্ক কমেন্ট করছে । এটাতে কি আসলেই মার্কেটিং হচ্ছে ? মার্কেটিং করা হয়, শুধু মানুষের চোখে পড়ার জন্য না । মানুষ যাতে আপনার পোস্টটা দেখে খুশি হয়, সেটিও দেখা দরকার । আর তখনই বিক্রি বৃদ্ধি সম্ভব । যখন কারও পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করেন, সেটাতে আপনি নিজে হলে খুশি হবেন, নাকি গালি মারবেন, সেটি নিজেই ভেবে দেখুন । অন্যরা বিষয়গুলো না জেনে থাকতে পারে । কিন্তু এসইও কোর্স করাবে, তারাই এরকম গালি মারলে তাদের কাছে আর জীবনে কেউ এসইও কোর্স না করার সিদ্ধান্ত নেয়াটা স্বাভাবিক । কাছের কেউ যদি জিজ্ঞেস করে তাদের ব্যাপারে, তাহলে সে তার সামনেও প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিরক্ত প্রকাশ করে গালিও দিবে ।

 

Brandind__3

ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে ফেক আইডি দিন দিন বেরেই চলেছে । এমন কি বর্তমানে  মার্কেটিং করার সময় ফেক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মার্কেটিং করেন অনেকেই। এবং সেই চুরি যদি মানুষ ধরার সুযোগ থাকে, তাহলে শুরু থেকেই সেই কোম্পানীকে চোর হিসেবে মানুষের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হবে । চোরদের কাছ থেকে কেউ টাকা দিয়ে সার্ভিস নেওয়ার চিন্তা অবশ্যই কেউ করবে না । আপনি নিজে হলে চোরের কাছ থেকে কিছু কিনতেন কিনা, সেটা ভেবে দেখবেন । ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি না থাকলে কিংবা অদ্ভুত নাম হলে খুব কম মানুষই আপনাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে । সেইটুকু জ্ঞান নিজের মধ্যে আসার পরই কোন কিছু্র মার্কেটিং শুরু করা দরকার । তার আগে নয় । যতটি পারুন এগুলো এভোড করুন । নয়ত  অসফল হতে বেশি দিন লাগবে না ।

অনেকের ধারণা শুধুমাত্র ফেসবুকে লিংক শেয়ার করা মানেই হচ্ছে এসএমএম বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং । এজন্য সেটুকু জ্ঞান নিয়েই কাজ শুরু করে দেয় । এব্যাপারে সবার পরিস্কার ধারণা থাকা দরকার । সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যদি শিখা শুরু করেন, শেষ করতে পারবেন না । যে বিষয়ে মার্কেটিং করবেন সেই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আগে নিজেকে influencer হিসেবে তৈরি করতে হয় । তারপর মার্কেটিং করতে হয় অবশ্যই টেকনিক নিয়ে, সেই মার্কেটিংকে আবার মনিটরিং করার পদ্ধতিও জানা থাকতে হয় । কোয়ালিটি কনটেন্ট লিখার জ্ঞান থাকতে হয়, তাহলেই অন্যকে আকৃষ্ট করতে পারবেন । টার্গেট ক্লায়েন্ট আগে খুজে বের করতে হয়, সেই ক্লায়েন্টদের চিন্তাভাবনা, চাহিদাগুলো নিয়ে আগে গবেষণা করতে হয় । তারপর মার্কেটিং পরিকল্পনা সেট করতে হয় । বিষয়টি এত সহজ বিষয়না । বিষয়গুলো আগে শিখতে হয়, অনেকদিন নিজে চর্চা করতে হয়, তারপরই মাঠে নামতে হয় । তাহলেই শুধুমাত্র সফল হওয়া যায় সহজে ।

সোশ্যাল মিডিয়া তে একই কন্টেন্ট অনেক বেশি শেয়ারিং করা থেকে বিরত থাকুন –

সবসময় মাথায় রাখবেন কোন কিছুই বেশি করা উচিত নয় । লেবু বেশি কচলালে কি হয় জানেন ই তো । সেইম প্রবলেম এখানেও হবে । একই স্ট্যাটাস আপডেট যদি করতেই থাকেন তবে কি তা ভাল লাগবে । ভেবে দেখুন আমি যদি একই লিখা বার বার পোস্ট করি আপনি কি না দেখবেন । অবশ্যই নয় । তাহলে বিষয় টি বুঝলেন । আপনি একই প্রোডাক্ট কে বিভিন্ন আকর্ষণীও কন্টেন্ট দ্বারা পাবলিশ করুন । কোন প্রবলেম নাই । মূল কথা একই জিনিষ বারবার ভাল না, বুঝা গেল । এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন । যদি শেয়ারই না করতে পারলাম তাহলে তো তা কেউ ই পরবে না তেমন । কারণ সবাই তো সবসময় নাও থাকতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট গুলো তে । তাহলে কি করবো ?? হুম আপনি অনেক কিছুই করবেন তবে কিছু তা চালাক হতে শিখুন । আগে প্রোডাক্ট টি নিয়ে গবেষণা করুন । প্রোডাক্ট টি নিয়ে ৫/৬ টি পোস্ট কল্পনা করুন । ৭ দিনের কাজ ভাগ করে নিন । টার্গেট স্থাপন করুন । কখন বেশি ভিজিটর থাকে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট মানে ফেসবুক, টুটার এর মতো সাইট গুলতে । সে অনুযায়ী টাইম ঠিক করুন । আর পোস্ট করুন ।বার বার একটি কথা বলছি যতটা সম্ভব একটি পোস্ট একবার ই শেয়ার করবেন । খুব বেশি হলে ২ বার পোস্ট দিতে পারেন । আমি আপনাকে একটি উদাহরণ দিতে চাই ।কাউকে ছোট করার জন্য এ কথা বলছি না । আমার কাছে বিষয় টি খারপ লেগেছে তাই বলছি । সবাই তো অনেক   আইটি কে চিনেন, তাই না । আপনি একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন তাদের মধ্যে নানা আইটি কে দেখা যায়  একটি স্কলারশিপ দিছে তা দেশের জন্য অনেক ভাল । তবে তাঁদের  বেশির ভাগ এরই  কন্টেন্ট শেয়ারিং এর অবস্থা চরম খারাপ লেগেছে আমার কাছে । একই পোস্ট পুরোমাস জুড়ে শেয়ারিং করছে । একি জিনিষ দেখতে দেখতে আমি পুরোই বিরক্ত হয়ে গেছিলাম । কেননা যিনি পোস্ট দেয় তাঁরা অনেকেই আমার ফ্রেন্ড লিস্ট এ ছিলেন ।যত গ্রুপ আছে তিনি সকল গ্রুপেই একই কন্টেন্ট দিয়ে সারা মাস সারাদিন ৩/৪ বার পোস্ট দিচ্ছে । আর আমরা ফেসবুক আইডি নোটিফিকেশন দিয়ে ভরে যাচ্ছে । বাধ্য হয়ে তাদের  আনফ্রেন্ড করেছিলাম । সুতরাং একই কন্টেন্ট বারবার ব্যাবহার করবেন না যাতে করে পাবলিক আপনার উপর বিরক্ত বোধ করে । প্রোডাক্ট একটাই হলে সেটি নিয়ে অনেক কন্টেন্ট লিখুন যা দ্বারা মানুষ নুতুন কিছু জানতে পারে বিষয় টি পড়ে এবং তাঁদের বিরক্ত বোধটি না থাকে । আরও উদাহরণ দেখতে চাইলে আমার ফেসবুক আইডি দেখতে পারেন । আমি একই প্রোডাক্ট-কে অনেক ভাবে ব্রান্ডিইং করেছি । তা দেখে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন ।

প্রোডাক্ট ব্রান্ডিং এ বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয় ভাইরাল প্রমোশনে নজর দিন সঙ্গে পণ্য অথবা সেবা

বিক্রি করুন  -

মানুষ শেয়ার করতে ভালোবাসে, সোস্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরো বেশী সত্য । মানুষ সারাদিন কি করলো, কিভাবে করলো, কোথা থেকে করলো এই ধরনের ঘটনাগুলো সবচেয়ে বেশি শেয়ার করে । এই সুযোগটাই আপনাকে কাজে লাগাতে হবে । একটা উদাহরন দেই, পিজা হাটে এই রোযার মাসে ইফতারের সময় ৮০০ টাকায় একজনের জন্য আনলিমিটেড পিজা এর ব্যাবস্থা রয়েছে । এই খবরটি হয়ত অনেকেই জানতেন না । একটা স্ট্যাটাস দিন, “আজ পিজা হাটে ৮০০ টাকায় ৪ টা পিজা খেয়েছি, হুররে ! ” আর কিছু লাগবে না, আপনার ফ্রেন্ডলিষ্ট থেকে কম করে হলেও ৩০-৪০ জন নতুন মানুষ এই তথ্যটা পেয়ে যাবে, তার মানে কোন খরচ ছাড়াই প্রচারনা । আর এই ৩০-৪০ জন এর থেকে যদি একজনও যায় তাহলে এখানেও খরচ ছাড়াই কাষ্টমার । এখন পিজা হাটের পরিবর্তে আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানকে ভাবুন, আপনিও একই ভাবে সুবিধা পেয়ে যেতেন ।

social-networks

প্রচারনা আর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই নয় আপনি চাইলে ফেসবুকের মাধ্যমেও আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারবেন । Joti Hizab ইতিমধ্যেই ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রি করার সুবিধা । এর পাশাপাশি Master Design BD ও ব্রান্ড পরিচালনার জন্য অভাবনীয় অফার দিয়ে চলেছে । তাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে অনেকগুলো নতুন নতুন ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে । আপনি চাইলে এগুলোও follow  করতে পারেন । তাই একই মিডিয়াতে যদি প্রচারনা, যোগাযোগ এবং বিক্রি করা যায় তাহলে একে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মানে হচ্ছে নিজের ব্যাবসার অনেকগুলো সুযোগ নিজ হাতে বন্ধ করে দেয়া ।

একজন ব্যাবসায়ী হিসেবে আপনার কাজ হচ্ছে আপনার ক্রেতার সব চাওয়া, সব সুবিধা তাদের হাতের কাছেই রাখা, আর তা করতে হলে আপনাকে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং গুরুত্বের সাথে নিতে হবে । আপনাকে সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর কৌশলগুলো জানতে হবে । তাহলেই আপনি এই চ্যানেল থেকে পর্যাপ্ত সুবিধা নিতে পারবেন, আপনার ব্যাবসার প্রসার ঘটাতে পারবেন ।

লিখাটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করবেন । লিখলাম আপনাদের সুবিধা ভেবে । আপনারাই না পড়তে চাইলে লিখে তো কোনই লাভ হবে না তাই না । তাই যদি আমার লিখা ভাল লাগে আরও লিখা চান অবশ্যই শেয়ার ও কমেন্ট করবেন । আপানদের জন্য আমার সাহায্যের দরজা সর্বদা খুলা থাকবে ।তবে আজাইরা কি করি কেমন আছি বাড়ি কই এই সব  এস এম এস দিয়ে বিরক্ত করবেন না । আমার ফেসবুক লিঙ্ক দিলাম । তবে দোয়া করে আজে বাজে এসএমএস দিয়ে আমার কাজের প্রবলেম কইরেন না । শেয়ার কমেন্ট মাস্ট করবেন কিন্তু ।

  • শমি হোসাইন

    ++++