কীভাবে ব্লীড, ট্রীম মার্ক এবং ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন সেট করতে হবে

sheuli

আমি শিউলী আক্তার। ডিজাইন করতে আমি অনেক ভালবাসি তাই গ্রাফিকস্ ডিজাইন শিখেছি। যখন সময় পাই তখন বিভিন্ন ডিজাইনের কাজ করি। আর ছবি নিয়ে কাজ করতে আমি খুব পছন্দ করি।
টিউন করেছেন sheuli | November 7, 2014 00:58 | পোস্টটি 734 বার দেখা হয়েছে

আজ আমরা শিখব কীভাবে ব্লীড,  ট্রীম মার্ক এবং ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন সেট করতে হয়। সাধারণত আমরা অনেকেই ব্লীড এবং ট্রীম মাক সেট নিয়ে সমস্যায় পরে যাই। এমন অনেকেই আছেন যারা ব্লীড এবং ট্রীম মার্ক কি তা জানেন না , আবার জানলেও ব্লীড এবং ট্রীম মার্ক ভালমত সেট করতে পারেন না। প্রিন্ট সম্পর্কিত ডিজাইন কাজের ক্ষেত্রে ব্লীড এবং ট্রীম মার্ক জানা জরুরি। আমরা যারা ডিজাইন জানি এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে চাই । কিন্তু ভালভাবে ব্লীড এবং ট্রীম মার্ক সেটআপ করতে না পারার কারণে ফাইণ রিজেক্ট হয়ে যায়। গুগলে অনেক সময় সার্চ করেও সঠিক সাইট অনেকে খুজে পান না অথবা খুঁজে পেলেও অনেকে হয়ত ভাষাগত কারণে বুঝতে পারেন না বা কষ্ট হয়, এতে করে অনেক সময়ও অনেক নষ্ট হয়। যারা ব্লীড, ট্রীম মার্ক এবং ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন সম্পর্কে জানেন না বা ধারনা নাই তাদের জন্য আমার এই টিউটোরিয়াল।

ব্লীড মার্ক:

সাধারণত ব্লীড মার্ক হচ্ছে মূল ডিজাইন হতে অতিরিক্ত কিছু অংশ যা মূলত প্রিন্টের পর কেটে ফেলা হয়। ব্লীড করা থাকলে মূল ডিজাইনের কোন ক্ষতি হয় না। যখন কোন ডিজাইন প্রিন্ট করা হয় তখন মূলত এক পেজে অনেকগুলো ডিজাইন প্রিন্ট করা হয় , যদি ব্লীড করা না থাকে তাহলে একটির সাথে আরেকটি ডিজাইন মিলে যায়। ফলে কাটার সময় মূল ডিজাইন নষ্ট হয়। এর সাইজ হচ্ছে ৩.৭৫ x ২.২৫ ইঞ্চি।

ট্রীম মার্ক:

সাধারণত ট্রীম মার্ককে নিরাপত্তা মার্জিন বলা হয়। মূল ডিজাইন এরিয়া। এর সাইজ হচ্ছে ৩.৫ x ২ ইঞ্চি।

ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন:

সাধারণত  সকল গুরুত্বপূর্ণ লিখা এবং কোম্পানির লোগো এগুলো নিরাপত্তা জোন এর ভিতরে লিখতে হয়। এর সাইজ হচ্ছে ৩.২৫ x ১.৭৫ ইঞ্চি।

Untitled

মূলত একটি প্রিন্ট রেডি বিজনেস কার্ড তৈরি করতে গেলে এইভাবে তার মাপ ঠিক করতে হয়। এখন আমরা দেখব ফটোশপে কীভাবে ব্লীড,  ট্রীম মার্ক এবং ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন সেট করা হয়। ব্লীড, ট্রীম  মার্ক এবং ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা জোন সাইজ .২৫ ইঞ্চি নেয়া হয় ফটোশপে। প্রথমে দেখব ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা স্থান কীভাবে দেয়া হয়।

ধাপ-১:

প্রথমে ফটোশপ ওপেন করব। ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা স্থান নির্ধারণ করার জন্য প্রথমে  মেনুবার থেকে File Menu – New (Ctrl+N) । তারপর একটি ডায়ালগ বক্স আসবে। যদি সমান্তরাল বিজনেস কার্ড তৈরি করতে চান তাহলে প্রস্থ নিবেন ৩.২৫ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য নিবেন ১.৭৫ ইঞ্চি। আর যদি উলম্ব বিজনেস কার্ড হলে প্রস্থ নিবেন ১.৭৫ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য নিবেন ৩.২৫ ইঞ্চি। নিচের ছবির মত সেটিং করবেন।

1

এখন আপনার সুবিধার জন্য চারদিকে গাইডলাইন টেনে নিবেন। গাইডলাইন টানার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে আপনি যাতে বুঝতে পারেন কোনটা ডিজাইন এরিয়া অথবা নিরাপত্তা স্থান জন্য আর কোনটি মূল ডিজাইন এবং কোনটি ব্লীড এরিয়া।

2

ধাপ-২:

একটি বিজনেস কার্ডের মূল সাইজ হচ্ছে ৩.৫ x ২ ইঞ্চি। একে ট্রীম মার্ক বলা হয়।  এখন আমরা ডকুমেন্টটি মূল সাইজে কীভাবে বাড়ানো যায় তা দেখব। এরজন্য যা করতে হবে তা হল, প্রথমে মেনুবার থেকে Image Menu – Canvas Size। তারপর একটি ডায়ালগ বক্স আসবে। এখন আমরা ৩.২৫ ইঞ্চির জায়গায় ৩.৫ ইঞ্চি লিখব এবং ১.৭৫ ইঞ্চির জায়গায় ২ ইঞ্চি লিখব। নিচের ছবির মত  ।

3

তারপর ওকে তে ক্লিক করব। তারপর আমরা আবার গাইডলাইন টানব সুবিধার জন্য।

4

ধাপ-৩:

এখন আমরা ব্লীড মার্ক করার জন্য আবার এর সাইজ বাড়াবো। এর জন্য আবার মেনুবার থেকে Image Menu-Canvas Size। তারপর একটি ডায়ালগ বক্স আসবে। এখন আমরা ৩.৫ ইঞ্চির জায়গায় ৩.৭৫ ইঞ্চি লিখব এবং ২ ইঞ্চির জায়গায় ২.২৫ ইঞ্চি লিখব। নিচের ছবির মত  ।

5

আবারও চারপাশে গাইডলাইন টানব ব্লীড মার্ক করার জন্য।

6

এখন তো নিশ্চয়ই বুঝা যাচ্ছে কোনটি নিরাপত্তা জোন, কোনটি ট্রীম মার্ক এবং কোনটি ব্লীড মার্ক।

ইলাস্টেটর এ ব্লীড কীভাবে সেট করা হয়।

ধাপ-১:

সাধারণত ইলাস্টেটর এ ব্লীড একটু অন্যভাবে নিতে হয়। প্রথমে ইলাস্টেটর ওপেন করব। তারপর মেনুবার থেকে File -> New ক্লিক করব। তারপর একটি ডায়ালগ বক্স আসবে। এখানে আমরা প্রস্থ ব্লীড মার্ক সহ ৩.৭৫ ইঞ্চি লিখব এবং দৈর্ঘ্য ২.২৫ ইঞ্চি লিখব। নিচের ছবির মত।

9

তারপর গাইডলাইন টানব।

10

এখন ইলাস্টেটর এ বিজনেস কার্ড বানানোর সময় যখন আপনি বক্স শেপ নিবেন তখন নিরাপত্তা জোন এবং ট্রীর্ম মার্ক এর সাইজের বক্স নিবেন আলাদা আলাদা করে। তারপর গাইডলাইন নিবেন।

নোট:

ব্লীড , ট্রীম মার্ক এবং নিরাপত্তা জোন করার পর বিজনেস কার্ড এর ক্ষেত্রে কিছু ভুল আছে যা আমরা করে থাকি। যেমন- নিচের ছবিটি দেখুন।

7

সাধারণত অনেক সময় দেখা যায় যে ব্লীড সঠিকভাবে করার পরও মূল ডিজাইনটা ব্লীড মার্ক পর্যন্ত নেই না। যার কারণে ব্লীড অংশ টুকু সাদা থেকে যায়। যা কিনা ভুল।  ডিজাইন প্রিন্ট করার পর যখন তা কাটা হয় তখন যদি একপাশে কম বা বেশি কাটে তখন সাদা অংশটুকু দেখা যাবে। তখন ডিজাইনটা দেখতে খারাপ দেখায় । তাই যখন ডিজাইন করবেন তখন ছবি এবং যে শেপগুলো করবেন তা যেন ব্লীড মার্ক পর্যন্ত নেয়া হয়। তবে লিখা এবং লেগো যেন নিরাপত্তা জোন এর মধ্যে থাকে। যেমন -

8

যারা ডিজাইন করতে ভালোবাসেন এবং যারা ডিজাইন শিখতে চান এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেস এ কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এটি অনেক উপকারে আসবে আশা করি। ভাল কিছু শিখতে হলে ভাল প্রতিষ্ঠান অনেক ভাল ভূমিকা রাখে। আমার দৃষ্টিতে ক্রিয়েটিভ আইটি প্রতিষ্ঠানটি অনেক ভাল একটি প্রতিষ্ঠান। এদের শিখানোর পদ্ধতি অনেক ভাল মানের। যারা ভবিষ্যতে ডিজাইন শিখতে চান এবং ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে চান তারা এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। আমি এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রাফিকস্ ডিজাইন শিখেছি। আমি একজন গ্রাফিকস্ ডিজাইনার হিসেবে যতটুকু জানি এবং শিখেছি তা দিয়ে আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করেছি। ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

ধন্যবাদ
শিউলী আক্তার
গ্রাফিকস্ ডিজাইনার
ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউট

  • Bijon

    Great Sis :) jana chilo kintu ajke new way te again janlam :)