চাদপুরে ভবঘুরে – ১

jony

আমি সরফরাজ হোসেন (জনি) |অনলাইন মার্কেটিং এবং ওয়েব ডিসাইন ও ডেভেলপমেন্ট করি |লেখা লেখি করা এবং পড়া আমার শখ | ভ্রমন পিপাসু |
টিউন করেছেন jony | August 31, 2014 12:22 | পোস্টটি 1,656 বার দেখা হয়েছে

চাদপুরে ভবঘুরে – ১


তিন দিনের ছুটি পেয়ে চাদপুরে ছুটলাম | উদ্দেশ্য চাদপুরের ইলিশ খাওয়া | কিন্তু এই টুরে একটা ভয়াবহ কান্ড ঘটে গেলো | আমাদের একজন ভ্রমন সদস্য ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হয় | মূল কাহিনী তে যাবার আগে চলুন সেই করুন ইতিহাস জেনে আসি |

সদর ঘাট

সদর ঘাট থেকে দেখা রাতের দৃশ্য

ঘটনার নায়ক মাহবুব ভাই চাদপুরী আসলে যাত্রার শুরুতে আমাদের সাথে ছিলেননা | তিনি সুখেই ছিলেন কিন্তু আমরা ভুত এর মত তাকে কিলাতে লাগলাম যার জন্য তাকে প্রথমত একদিনের ব্যবসা মাটি করতে হলো | তিনি তার হস্ত শিল্প দোকেনের তালা আমাদের জালায় লাগিয়ে দিলেন এবং সাধের গিটার নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলেন , তখন কি তিনি জানতেন যে সত্যই আমরা তাকে রাস্তায় নামিয়ে আনব | মাহবুব ভাই ফ্রীলান্স করেন এবং আগেরদিন সারা রাত কাজ করেছেন এই অবস্তায় সারা সন্ধা আমাদের সাথে গান বাজনা করলেন | এর পূর্বে বিকেল পর্যন্ত তিনি আমাদের সাথে নৌকা করে সারা ডাকাতিয়া নদী চষে  বেরিয়েছেন এবং ঘুম এর তাড়নায় ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন | রাতে ফেরার সময় আমরা তাকে আমাদের সাথে আসার জন্য অনুরোধ করলাম এবং ভদ্রলোকরা যেমন অনুরোধ ফেলতে পারেননা তিনিও না , না বলে আমাদের সাথে ভালো মানুষের মোট ঘুম চোখে রওনা দিলেন | শনি তার আশেপাশে ঘোড়া ফেরা করতে লাগলো |

লঞ্চ

গরীব  দেশের ধনী  লঞ্চ

আমাদের গুরু হীরা ভাই কে ঘুম খুব ভয় পায় | হীরা ভাই যেখানে ঘুম নাই সেখানে | এই প্রসঙ্গে আমার বাবার শৈসব এর একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো | বাবা সারাদিন খেলতেন কিন্তু সন্ধা হলে যেই সবাই একে একে বাসায় চলে যেত বাবার খুব দুঃখ লাগতো কারণ তিনি কার সাথে খলবেন |ঠিক এই কারণে হীরা ভাই কাউকে ঘুমাতে দেননা | সারা রাত জাগিয়ে রেখে ভোর হলে তিনি সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে প্রাত ভ্রমণে বের হন | লঞ্চে করে যখন চাদপুর থেকে ফিরছি তখন দুই রাত জেগে সবাই মরার মত ঘুমাচ্ছে কেবল আমি , হিরাভাই এবং মাহবুব ভাই ছাড়া | আমি এবং হিরাভাই বগবগ করে সারা রাত কাটিয়ে দিলাম , মাহবুব ভাই যিনি নিরবতা ছাড়া ঘুমাতে পারেননা তিনি ছট ফট করলেন খাটে শুয়ে | ভোর বেলা আমরা লঞ্চ ছেড়ে বারিয়ে আসলাম সদর ঘটে এবং বাসায় ফিরে ঘুমাতে লাগলাম | শনির প্রবল আকর্ষণ বোধ করায় মাহবুব ভাই লঞ্চে থেকে গেলেন আর বললেন তিনি হাত পা ছেড়ে ঘুমাবেন এবং বেলা বাড়লে তিনি উঠে মার্কেটিং করবেন |

যখন আমরা ঘুম এ বিভোর তখন ফোন আসলো মাহাবুব ভাই এর বস্ত্র ছাড়া আর সকল কিছু হরণ হয়ে গিয়েছে | আমরা কল্পনা করতে লাগলাম কিভাবে কি হলো ? একজন বললো লঞ্চ এর যে কেবিন এ আমরা ছিলাম তার বারাব্দায় গ্রিল ছিলো না , এবং ডাকাত সেখান থেকে ঢুকেছে | কেও বললো তিনি ভোর থাকতেই কেবিন থেকে বেরিয়ে পড়েন এবং ডাকাতির শিকার হন | মূল কথায় আসি |

ডাকাতিয়া নদী

ডাকাতিয়া নদী

সকাল আটটা , চাদপুর থেকে আগত ময়ুর লঞ্চ থেকে একজন যাত্রী নিচে নেমে এলেন উদ্দেশ্য সদরঘাট হয়ে মার্কেটিং এ যাবেন | ইতি মধ্যে সব যাত্রী লঞ্চ থেকে নেমে গেছে এবং চার টার দিকে সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে লঞ্চটি ঘাট এর অপর পাশে চলে গিয়েছিল | মাহবুব নামের যাত্রী দেখলেন হয় রাস্তা দিয়ে ঘুড়ে যেতে হবে নাহলে নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে সদরঘাট যেতে হবে | এর মধ্যে একজন নৌকা আলা হাজির “স্যার চলেন পার করে দেই “ স্যার সহজ পারা পার এর আশায় নৌকাতে উঠে পড়লেন | নৌকা মাঝ নদীতে আসার পর যাত্রীর অলক্ষ্যে একটি ট্রলার নৌকার গায়ে আঘাত দিয়ে হামলে পড়ে | মাহবুব ভাই নৌকা দুলুনির জন্য বসে পড়েন এবং নিজেকে সামাল দেন | এর মধ্যে ট্রলার এ শুয়ে থাকা চারজন লোক নৌকা তে উঠে আসে এবং তিনজন ছুরি ধরে মাহবুব ভাইকে হুমকি দিতে থাকে অপরজন খুঁজে খুঁজে সব কিছু নিয়ে নেয় | (আমার বাক্তিগত ধারণা নৌকার মাঝি জেনে বুঝে মাহবুব ভাইকে বিপদে ফেলেছে , সে ডাকাত দলের কর্মী এছাড়া লঞ্চ এর কর্মীরা ডাকাত দের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারে )

অধিকাংশ ডাকাতি বা ছিনতাই এর কাহিনী এখানেই শেষ হয়ে যায় কিন্তু কাহিনী শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ | মাহবুব ভাই ছিনতাই করিদের একজন কে ধরতে পেরেছিলেন | কিভাবে ? পরবর্তী পর্বে পাবেন ……

আলোক চিত্র : মিলন

  • পাথুরে বিষাদ

    প্রত্যেকটা ছবির মাঝে এমন আলোকবর্ষ দূরত্ব কেন? আর লেখাই বা এত সামান্য কেন!

    • jony

      ফায়ার ফক্স দিয়ে ঠিক দেখা যাচ্ছে

  • http://www.megaupdate24.com/ luthfarrahman

    This is my district i like it so much.