মুঘল আমলের ছোয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন আহসান মঞ্জিল

টিউন করেছেন Shahnaz Akter Nipa | July 15, 2013 18:16 | পোস্টটি 23,712 বার দেখা হয়েছে

মুঘল আমলের ছোয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন আহসান মঞ্জিল


আহসান মঞ্জিলে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে পুরান ঢাকা। ওয়াইজঘাটের রাস্তা ধরে হাতের বামে বুলবুল ললিতকলা একাডেমী ফেলে সোজা তাকালে চোখে পড়বে একটি লাল রংয়ের প্রাসাদ। ৫ টাকার একটা টিকেট কেটে ঢুকে পড়ুন বিশাল উদ্যানে। প্রাক্রিতিক সৌন্দর্যের যেন এক বিশাল সম্ভার। গাছপালায় ঢাকা অপরুপ এক দৃশ্য। আপনার একটিবারের জন্য মনে হবে না যে আপনি ঢাকাতেই আছেন।
প্রকৃতি ছেড়ে এবার প্রাসাদের দিকে যাওয়া যাক। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে তখনকার জামালপুর পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর-বরিশাল) জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ রংমহল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর জমিদারের ছেলে শেখ মতিউল্লাহ এটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করেন। আহসান মঞ্জিলই ঢাকার প্রথম ইট-পাথরের তৈরি স্থাপত্য। যেখানে প্রথম বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা হয় নবাবদের হাতে। মঞ্জিলের স্থাপত্যশৈলী পশ্চিমাদের সবসময়ই আকৃষ্ট করত। লর্ড কার্জন ঢাকায় এলে এখানেই থাকতেন। বাংলাদেশ সরকার আহসান মনঞ্জিলকে জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণ করে। ১৯৯২ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

post pic 4

জাদুঘরের পরিচিতি
গ্যালারি ১ : এখানে আহসান মঞ্জিলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, আলোকচিত্র ও চিত্রকর্মের সাহায্যে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও আছে ভবনের একটি মডেল।
গ্যালারি ২ :বিভিন্ন সময়ে ভবনের যে বিবর্তণ হয়েছে তা আলোকচিত্রের সাহায্যে প্রদর্শন করা হয়েছে এখানে। এছাড়াও আছে কাটগ্লাস ও ঝাড়বাতির নমুনা।
গ্যালারি ৩ :নবাবদের আনুষ্ঠানিক ভোজন কক্ষ। এখানে প্রদর্শিত হয়েছে আলমারি, আয়না, কাচ ও চিনামাটির তৈজসপত্র। সবই আহসান মঞ্জিল থেকে প্রাপ্ত নির্দশন।
গ্যালারি ৪ : বড় কাঠের সিঁড়ি। হাতির মাথার কঙ্কাল, ঢাল-তলোয়ার। কাঠের বেড়ার মূল নির্দশন।
গ্যালারি ৫ : আসল ঢাল-তলোয়ারের অনুরূপে সাজানো।
গ্যালারি ৬ : আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল হাসপাতালের বেশকিছু ব্যবহৃত সরঞ্জমাদি ও খাতাপত্র এই কক্ষে প্রদর্শিত হয়েছে।
গ্যালারি ৭ : এই বড় কক্ষটি নবাবদের দরবার হল হিসেবে ব্যবহৃত হত। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনের সময় শাহবাগের সম্মেলন আসা সর্বভারতীয় মুসলিম নেতাদের তৈলচিত্র এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও আছে ঢাকার নবাবকে ইতালি থেকে দেওয়া একটি অষ্টকোণ টেবিল।
গ্যালারি ৮ : অ্যাডওয়ার্ড হাউজ থেকে সংগৃহীত জীবজন্তুর শিং। এছাড়া সেই সময়ে ঘরের বাইরে ও ভেতরে খেলার সরঞ্জাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
গ্যালারি ৯ : বড় লোহার সিন্দুকসহ অন্যান্য সিন্দুক ও কাঠের আলমারিগুলো নবাবদের আমলের নিদর্শন।
গ্যালারি ১০ :এখানে আছে বড় বড় আলমারি, তৈজসপত্র যা নবাবের আমলের নিদর্শন।
গ্যালারি ১১, ১২ ও ১৩ : এই গ্যালারিগুলোতে যথাক্রমে বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি, স্যার সলিমুল্লাহ স্মরণে এবং নবাবদের সমসাময়িক মনীষীদের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে।
গ্যালারি ১৪, ১৫, ১৬,১৭ : যথাক্রমে হিন্দুস্থানি কক্ষ, প্রধান সিঁড়িঘর, লাইব্রেরি কক্ষ ও তাসখেলার ঘর।
গ্যালারি ১৮ ও ১৯ :ঢাকায় পানীয় জল সরবরাহবিষয়ক নিদর্শন যেসব আহসান মঞ্জিল ও অ্যাডওয়ার্ডস হাউজে পাওয়া গেছে। ঢাকা ওয়াটার ওয়ার্কের কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ছবি এখানে আছে।
গ্যালারি ২০ ও ২১ :১৯০১ সালের আগে ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না। নবাবের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা করার তথ্য, তৈজসপত্র ও ফুলদানি সবই নবাবের আমলের।
গ্যালারি ২২ :দোতলায় অবস্থিত এই গ্যালারিতে আহসান মঞ্জিলে থেকে পাওয়া অস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছে। উঁচু গম্বুজটি এই ঘরের উপরেই অবস্থিত।
গ্যালারি ২৩ : এটি ছিল নাচঘর। ১৯০৪ সালে তোলা ছবি অনুযায়ি এটি সাজানো হয়েছে।
সবকটি গ্যালারি ঘুরে পাশেই নবাববাড়ির পুকুর দেখে আসা যাবে।
খোলা থাকার সময়
সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার। এছাড়া অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও বন্ধ থাকে।
এপ্রিল-সেপ্টেম্বর: সকাল ১০.৩০মি-বিকেল ৫.৩০মি (শনিবার-বুধবার)। বিকেল ৩টা-রাত ৮টা (শুক্রবার)।
অক্টোবর-মার্চ :সকাল ৯.৩০মি- বিকেল ৪টা (শনিবার-বুধবার)। বিকেল ২.৩০মি-সন্ধ্যা ৭.৩০মি (শুক্রবার)।