স্বপ্নের নাম ডুমলং (পর্ব ১)

Tahin

Hi, I am Tahin, IT professional from Dhaka. Love to watch movies, cycling and traveling is my passion :)
টিউন করেছেন Tahin | May 8, 2014 00:41 | পোস্টটি 2,118 বার দেখা হয়েছে

স্বপ্নের নাম ডুমলং (পর্ব ১)


ছুটিতে বান্দারবান যাচ্ছি প্ল্যানটা আগে থেকেই মোটামোটি ঠিক করা ছিলো তবে অফিস থেকে ডেট ফিক্স হওয়ার পরেই সেটা ফাইনাল করা এবং টিম মিটিং শুরু হলো। প্রাথমিকভাবে টিমে সদস্য ৩ জন, আবু বকর, পাভেল এবং আমি। আর একজন হিডেন সদস্য ছিলো রাহুল বিশ্বাস তবে সে কনফার্ম করেছে একদম শেষ মুহূর্তে। আমাদের সবারই বান্দরবান ভ্রমনের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে তবে এবার আমরা যাবো একদম ভিন্ন একটা রুট ধরে এবং কোন গাইড ছাড়া। বন্ধু আবু বকর আমাদের গাইডের কাজ করবে এবং পুরো ট্যুরের রুট প্ল্যান তার-ই করা। ওর সাথে আগেও করা বিভিন্ন ট্যুরের অভিজ্ঞতা থেকে এমন আস্থা হয়েছে যে তার করা প্ল্যানে আমরা নিশ্চিন্ত মনে হ্যাঁ বলে দিলাম। ট্যুরের অফিসিয়াল নাম দেয়া হলো “স্বপ্নের নাম ডুমলং”

এই ফাঁকে ডুমলং সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই। আনফিসিয়ালি ডুমলং হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। সরকারী হিসেবে এখনো কিছু যায়গায় সর্বোচ্চ পিক হিসেবে কেওকারাডং এবং কোথাও কোথাও বলা হচ্ছে তাজিনডং। কিন্তু যারা রেগুলার বান্দারবান যাওয়া আসা করেন এবন এসব ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখেন তাদের তালিকাটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। আপনাদের সুবিধার জন্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আবিষ্কৃত সবগুলো পিক, তাদের উচ্চতা এবং স্যাটেলাইট পজিশন দিয়ে দিচ্ছি।
১. সাকা হাফং, উচ্চতা ১০৫২ মিটার (৩৪৬১ ফুট), পজিশন 21°47′11″N 92°36′36″E
২. ডুমলং, উচ্চতা ১০০৯ মিটার (৩৩১২ ফুট), পজিশন 22°02′02.1″N 92°35′36.3″E
৩. কেওকারাডং, উচ্চতা ৯৭৪ মিটার (৩১৯৬ ফুট), পজিশন 21°57′00″N 92°30′53″E
৪. তাজিনডং, উচ্চতা ৮৭১ মিটার (২৮৫৮ ফুট), পজিশন N 21° 48′ 58.17″-E 92° 31′ 49.87
আমাদের মুল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের আনফিসিয়াল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পিক সামিট করা।

DSC_8592

নির্দিষ্ট দিন এবং সময়ে সবাই আগে ভাগে বাস কাউন্টারে পৌঁছে আবু বকরের জন্য অপেক্ষা। হঠাত দেখি সে উপস্থিত তার উচ্চতার সমান একটা ব্যাকপ্যাক আর বিশাল বড় এক বস্তা সহযোগে। কি নেই তার সাথে। হাড়ি, পাতিল, কড়াই, প্লেট, তেল, লবন, মশলা, স্যুপ, নুডলস, চকোলেট, ম্যাঙ্গোবার, গুঁড়োদুধ, চিনি, চা, কফি, বিস্কিট আরো কত কি! নির্দেশ হলো সব খাবার সমানভাবে সবার ভিতরে ভাগ করে দেয়া হবে এবং যারটা তাকেই বহন করতে হবে, কারো খাবার থেকে কাওকে ভাগ দেয়া হবেনা। দলনেতার আদেশ, কি আর করা, সবাই লেগে গেলাম খাবার বন্টন প্রকল্পে। কিছুক্ষণের মধ্যে বস্তা খালি হয়ে গেল এবং সবার ব্যাগ স্ফীত হয়ে উঠল। তখন আমাদের সবার একটাই টেনশন, পুরো ৫ দিন পাহাড়ি পথে এত্ত ভারি ব্যাগ বহন করব কিভাবে।
আমাদের বহুল প্রতিক্ষিত বাস আসলো টাইমের ১ ঘন্টা পর। ড্রাইভারের রাস্তা ভুলে যাওয়া, রাত ৩টার সময় টায়ার পাংচার, সিট নিয়ে ঝগড়া সবকিছু বাদ দিলেও এই ট্যুরে যতো অনাখাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে তা দিয়ে একটা পুরো উপন্যাস লিখে ফেলা যাবে। যেখানে আমাদের সকাল ৮টার মধ্যে বান্দরবান নামার কথা সেখানে আমরা যখন পৌছালাম তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল ছুঁই ছুঁই। (চলবে)

তথ্যসুত্রঃ Click This Link
সবগুলো ছবির কৃতিত্ব Sirajus Salekin (Pavel)

পরের পর্ব এখানেঃ স্বপ্নের নাম ডুমলং (পর্ব ২)