বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ঢাকাতে ঘোরার মত ৬টি জায়গা

Shahina

শখের বসে মাঝে মাঝে রান্নাবান্না করি। এ সম্পর্কিত লেখাগুলো নেশার মত পড়ি। এবার সবার জন্য কিছু লেখার জন্য চেষ্টা করছি, এ ব্লগে।
টিউন করেছেন Shahina | April 12, 2014 13:31 | পোস্টটি 724 বার দেখা হয়েছে

বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ঢাকাতে ঘোরার মত ৬টি জায়গা


বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ, সেই সাথে আধুনিক কালে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার দিনও পহেলা বৈশাখ। যদিও পান্তা-ইলিশ পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্যগত কোন বিষয় নয়। কি? অবাক হচ্ছেন? একবার ভাবুনতো, আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ, মূলত সামুদ্রিক মাছ যা বর্ষার সময় নদীতে আসে ডিম পাড়তে। সে হিসেবে ইলিশের মৌসুম আষাঢ়-শ্রাবণ, বৈশাখ কখনোই নয়। রেফ্রিজারেটরের ফলে এখন সারা বছরই হয়তোবা ইলিশ পাওয়া যায়, কিন্তু একবার ভাবুনতো আজ থেকে ৫০ বা ১০০ বছর আগের কথা। তখন কি পহেলা বৈশাখ হতো না? তাই, আগুন ঝরা দামে ইলিশ যারা খেতে পারবেন না তাঁদের মন খারাপ করার কিছু নেই। আসুন দেখি পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ ছাড়াও কিভাবে গ্লানি মুছে দিয়ে জরা কে জয় করা যায়।

10150816_264225160416187_1003747521784352258_n

ভোরে রমনার বটমূলে যাওয়াঃ

এটি মূলত এখন আমাদের অলিখিত সাংবিধানিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। খুব ভোরে সূর্য যখন ডিমের কুসুমের মত, তখন খুব সুন্দর সুন্দর কিছু মানুষ লাল-সাদা সহ বাহারি রঙের পোষাক পরে এক সাথে গান গাইছে, আর তাঁদের কে ঘিরে তাল দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, তাও আবার অসংখ্য গাছপালা বিশিষ্ট একটি জায়গায়- ব্যাপারটা আসলেই উপভোগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হৈচৈ করাঃ

বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় চির-বসন্তের বাগান। আর আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সেই বাগানের মধ্যে বাগান। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলায় জয়লাভ থেকে শুরু করে যে কোন জাতীয় উৎসবে এই প্রাঙ্গণটি হয়ে ওঠে রঙ্গিন। তাই যারা হৈচৈ করতে পছন্দ করেন তারা চলে আসতে পারেন চারুকলার শোভাযাত্রায়, টি এস সি বা কলা ভবনের অনুষ্ঠানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেয়ে যাবেন গ্রাম বাংলার মেলার পরিবেশ। মানুষ চালিত নাগর দোলায় দোল খেতে পারেন আপনার শিশুকে নিয়ে। আর ভাগ্য ভাল থাকলে পেয়ে যাবেন কুলফি আইসক্রিম।

পুরান ঢাকায় পেট পূজাঃ

ঠাটারি বাজারের স্টার এর খাসির লেগ-রোস্ট, ফালুদা
নাজিরা বাজারের গরুর চাপ, হাজির বিরিয়ানি
নাজিরা বাজার থেকে বঙ্গবাজারের দিকে আসতে বিঊটির প্রাণ জুড়ানো লেবুর শরবত, দাম পড়বে ১৫ টাকা
লাল বাগের কেল্লার কাছে নান্নার স্পেশাল মোরগ পোলাও বা রয়েলের পেস্তাবাদামের শরবত।
চকবাজারে নুরানির শরবত, লাচ্ছি। লাচ্ছি পড়বে ১৫ টাকা আর আপনি যদি স্পেশাল লাচ্ছি খেতে চান তাহলে দাম পড়বে ২৫ টাকা
যেহেতু পুরান ঢাকার বেশীরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, তাই, আমাদের পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ড-হালখাতার সাথে আপনার পরিচয় হয়ে যেতে পারে।

রবীন্দ্র সরোবরে সন্ধ্যা কাটানোঃ

যারা ভাবছেন, এত রোদের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার কি দরকার? তারা সারাদিন বাসায় কাটিয়ে চলে আসতে পারেন বিকেলে ধানমন্ডীর লেকের পাশে রবীন্দ্র সরোবরে। সন্ধায় মুক্ত মঞ্চে চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর আপনি সেটা উপভোগ করবেন গরু বা মুরগির চাপ সাথে গরম লুচি, অথবা চটপটী ফুচকা দিয়ে। আর গরুর দুধের এলাচ চা তো আছেই সেই সাথে। সত্যি কথা বলতে আপনার সময়টা খারাপ যাবে না।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

যারা মানুষের ভিড় ছেড়ে একটু খোলা হাওয়ায় যেতে চান তাঁদের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে আপনি প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পারবেন। আর যাদের সময় আছে তাঁরা ইচ্ছা করলে সন্ধ্যায় নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।

সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘরঃ

সত্যি বলতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছে ঢাকার অদূরে সোনারগাঁও এর লোক শিল্প যাদুঘর। সেই সাথে আপনি যেতে পারেন পানাম নগরে যা আপনাকে নিয়ে যাবে আমাদের সোনালী অতীতে। জামদানি শাড়ী কিভাবে হয় তা নিজের চোখে দেখে আসতে পারবেন আর ইচ্ছা করলে কিনতেও পারবেন। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মেলা গুলোর মধ্যে একটিও দেখা হয়ে যাবে আপনার।