নয়নাভিরাম বৃক্ষগৃহ হতে পারে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

towhid

“মানুষ কেন মানুষ হতে পারেনি ? একটি প্রশ্ন সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষকে খুব নীরবে দংশন করে আসছে। মানুষ মানুষকে ভালবাসে আবার মানুষই মানুষের রক্তে হলি খেলে। মানুষ মুক্তির পথ খোঁজে মানুষের মধ্যেই। দেবতা, ঈশ্বর আল্লাহ সে নাকি আছে মানুষেরই মাঝে। অধিকার বঞ্চিত গণমানুষের অধিকার আদায়ের দাবিদার মানুষ আবার রক্ষকের ভক্ষক ও এই মানুষ।” এই দুশ্চিন্তা আর বুঝি আমাকে মানুষ হতে দিলনা। আর তাই সংগ্রাম, লড়াই, গণআন্দোলন এই শব্দগুলো আমার কাছে অর্থের ভিন্নতা পায়।
টিউন করেছেন towhid | January 9, 2015 20:49 | পোস্টটি 1,510 বার দেখা হয়েছে

নীল আকাশের মাঝে উড়ে বেড়ানো পাখিরা দিন শেষে তাদের আপন নীড় বৃক্ষগৃহে ফিরে আসে। ছোট্ট সেই বাবুই পাখির কুঁড়ে ঘরটি শিশু মুনিয়ার চিন্তার বিষয়বস্তুতে পরিণত হতে সময় নেয়নি। ভাবে, ‘আমি যদি বাবুই পাখির ঘরটির পাশে নিজের একটা ঘর করে থাকতে পারতাম! তাহলে কত মজানা হতো! আব্বু-আম্মু আর আমাকে বকতে পারবেনা। ঐ উপর থেকে পাখিদের মত করে সবুজ অরণ্যে ঘেরা পৃথিবীটাকে দেখতে কেমন লাগে?’ এই রকমই কত ঝল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে কত মুনিয়ার বেড়ে উঠা। শিশুর এই স্বপ্ন আষাঢ়ে গল্প মনে হলেও আকাশের চাঁদ কিন্তু নয়। মুনিয়ার হৃদয়ে দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসা স্বপ্নের পরিণতি কল্পনাকেও হার মানায়। পাখির ঘরটি মানুষ দখল করে নেয়নি! বরং প্রকৃতির রূপকে এতটুকু ম্লান না করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে বৃক্ষের গায়ে তৈরি ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নান্দনিক নির্মাণ শৈলীর আঁধার অসাধারণ সব রেষ্টুরেন্ট, কফি হাউজ, টি-স্টল কিংবা আবাসিক হোটেল। ভাবা যায়! নিউ গিনিতে তো মানুষ স্থায়ী ভাবেই বৃক্ষের উপর নির্মিত বাড়ীতে বসবাস করে। উদ্দেশ্য ক্ষতিকর জীব-জন্ত্রু ও বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়া। ঠিক একই কারণে বাংলাদেশের পাহাড়ি আদিবাসীরা মাচায় তৈরি ঘরে বসবাস করে। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫.৮৫ কোটি এবং বৃদ্ধির হার ১.২ শতাংশ (সূত্র:বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট ২০১৪)। তাহলে কি বাড়তি এই জনসংখ্যার জন্য মানুষের বৃক্ষ নিধন বেড়েই যাবে? নাকি এর কোন বিকল্প পথ খুঁজে বের করা দরকার। বাড়তি মানুষের জন্য প্রয়োজন বাড়তি বাসগৃহ। আর এর একটি বিকল্প উপায় হতে পারে বৃক্ষগৃহ, একই সাথে বিনিয়োগের একটি সফল ক্ষেত্রও বটে। বাংলাদেশ একটি পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় দেশ। এদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মনমুগ্ধকর বৈচিত্রের টানে প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি অথিতি এদেশকে দুচোখ ভরে একবার দেখতে আসে। এছাড়া দেশীয় পর্যটকরা তো রয়েছেই। ঢাক সিটির খুব কাছাকাছি রয়েছে গাজীপুর। এখানেই রয়েছে ৫,০২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’। এই উদ্যানকে কেন্দ্র করে আশ-পাশের বৃক্ষ কেটে নির্মিত হচ্ছে রেষ্টুরেন্ট, আবাসিক হোটেল ও পিকনিক স্পট।এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বৃক্ষ কাটার পর মাটি সমান করে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় এবং একই সাথে ধ্বংস করা হচ্ছে বন্য প্রাণীর আবাস ভূমি। তার উপর কঠিন দালান আর ধুলো-বালির শহরে কোণঠাসা ক্লান্ত মানুষগুলো একটুকু প্রাকৃতিক ছোঁয়া পেতে ছুটে এসে পায় কৃত্রিম প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রকৃতিকে হরণ করে মানুষের বাসযোগ্য পৃথিবী কি সম্ভব? সম্ভব নয়! তাহলে কেন বৃক্ষ উজাড় করে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয়ে বিনিয়োগ পরিকল্পনা উদ্যোক্তারা মাথা থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন না? বরং প্রকৃতিকে তার মত করে বেড়ে উঠতে দিয়ে পরিবেশ বান্ধব বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বল্প বিনিয়োগে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। আর এরই একটি অন্যতম উপায় হল বৃক্ষগৃহ নির্মাণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা বৃক্ষগৃহ নির্মাণের মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং একই সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রেখে চলেছেন। এই গৃহের নির্মাণ শৈলী অত্যন্ত মনোরম, যা খুব সহজে গ্রাহক ও পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছে। একসময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় বট বৃক্ষ চোখে পড়ত। এগুলোর বেশির ভাগই এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা। অথচ কেবল বাঁশ, কাঠ ও খড় ব্যবহার করেই যদি ওই বটবৃক্ষের উপর একটা রেষ্টেরেন্ট বা টি-স্টল তৈরি করা হত তাহলে এটা যে কল্পনাতীত জনপ্রিয়তা পেত এতে কোন সন্দেহ নেই। কোন এক সময় হয়ত এই বট বৃক্ষের গায়ে স্থান পাওয়া ঘরটি ঐতিহাসিক মর্যাদা পেত। এখন মনে পড়ছে, এই শহরেরই এক ব্যস্ত রাস্তার দ্বারে এক প্রকাণ্ড বৃক্ষ ছিল। সেই বৃক্ষের গায়ে দুটি চওড়া কাঠের তক্তা সংযুক্ত ভাবে স্থূলকোণে হেলানো ছিল। সেই তক্তার গায়ে প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা টুকরো টুকরো কাঠের তক্তা সিঁড়ি হয়ে উপরে একটা ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। ঘরটি ছিল মোটা একটা ডালের উপর কাঠ ও বাঁশের শক্ত পাটাতনের উপর বসে। ছাদ ও বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল চওড়া পলিথিনের টুকরো। এ এক নিশ্চিন্ত মনে দিন শেষে ঘর ফেরা পাখির আবাসন। এই ঘরটির নির্মাতা ছিলেন একজন রিকশাওয়ালা। দরিদ্র রিকশাওয়ালার যে ঘরটি সাধারণ পথচারীদের দৃষ্টি এড়াতো না, সেখানে একজন সাংবাদিক কেবল ওই ঘরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেদন তো তৈরি করবেই। ভাবুন কি কাণ্ড! আপনার কোটি টাকায় নির্মিত বাড়ী নিয়ে কি কখনো কোন প্রতিবেদন হয়েছে? ভাবছেন কি? আপনার কোম্পানির মার্কেটিং তো আপনার গ্রাহকরাই করবে। আমি অনেক অনুসন্ধান চালিয়ে পৃথিবীব্যাপী বেশ কয়েকটি বৃক্ষগৃহের সন্ধান পেয়েছি। একটু দাঁড়ান উত্তেজিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আমি ওই গৃহের ছবিগুলো আপনাদের বিনোদন ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নিচে শেয়ার করেছি। একটু ধৈর্য্য ধরে জেনে নেয়া যাক, এই ধরনের বৃক্ষগৃহ তৈরিতে কি কি উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ, কাঁচ, খড়, সামান্য কিছু ইট, বালি ইত্যাদি। আর লম্বা তালিকা দিতে পারলাম না, কারণ এর চেয়ে বেশি কিছুর ব্যবহার আমার চোখে পড়েনি।

Three Story Tree house (British Columbia, Canada)

Three Story Treehouse (British Columbia, Canada)

তিন তলা বিশিষ্ট এই বৃক্ষ গৃহটি বৃটিশ কলাম্বিয়াতে অবস্থিত। (Image credits: imgur.com)

Mirror Tree House (Sweden)

Mirror Tree House (Sweden)

 

রহস্য আবৃত অদৃশ্য প্রায় কাচের তৈরি এই বাড়িটির দেখা মিলবে দক্ষিণ সুইডেনে। (Designed by: Tham & Videgard)

The Bird’s Nest Tree House (Sweden)

The Bird’s Nest Tree House (Sweden)

সুইডেনে আসলে এই হোটেলটিও দেখে যেতে হবে। দেখলে মনে হয় যেন বিরাট এক পাখির বাসা। এক রাত থেকে যেতে পারেন।

(Designed by: inredningsgruppen.se)

The HemLoft Tree house (Whistler, Canada)

The HemLoft Treehouse (Whistler, Canada)

২৬ বছর বয়সে অবসরে যাওয়া সফটওয়্যার ডেবলপার Joel Allen স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য পাকা কাঠ মিস্ত্রি হয়ে গেলেন। তিনি নিজেও কখনো ভাবতে পারেননি তার তৈরি এই বাড়িটি একদিন আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের কাভার পেজে স্থান করে নিবে। (Image credits: Joel Allen)

Tree house in Muskoka (Ontario, Canada)

Treehouse in Muskoka (Ontario, Canada)

চারতলা বিশিষ্ট এই বাড়ীটি চারটি বৃক্ষের গায়ে সংযুক্ত করে নির্মিত হয়েছে। (Image credits: imgur.com)

Minister’s Tree house (Crossville, Tennessee, USA)

Minister’s Treehouse (Crossville, Tennessee, USA)

Horace Burgess কর্তৃক নিমির্ত ১০০ ফুট লম্বা এই বাড়ীটিকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম বৃক্ষ গৃহ। সম্পূর্ণ বাড়িটি তৈরিতে শুধুমাত্র কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।

Yellow Tree house Restaurant (Auckland, New Zealand)

Yellow Treehouse Restaurant

নিউজিল্যাণ্ডের এই রেষ্টুরেন্টটিতে রয়েছে অসাধারণ ডাইনিং স্পেস। এটি একই সাথে ১৮ জন অথিতি ধারণ করতে সক্ষম। (Designed by: Peter Eising & Lucy Gauntlett)

Tree house in Seattle (USA)

Treehouse in Seattle (USA)

এই বৃক্ষ গৃহটি রূপকথার গল্পের মতো কোন গৃহ মনে হলেও বাস্তব। (Image credits: jasfitz)

Free Spirit Sphere Tree houses (Canada)

Free Spirit Sphere Treehouses (Canada)

সৌন্দর্য ও নান্দনিক শিল্পকলার দিকে দৃষ্টি করে সুচতুর প্রকৌশলির তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত। (Image credits:freespiritspheres.com)

Tree house by Takashi Kobayashi (Japan)

Treehouse by Takashi Kobayashi (Japan)

মানুষ এবং প্রকৃতির মাঝে ভেঙ্গে পড়া সম্পর্কের জোড়া পুনরায় করার উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে। (Designed by: Takashi Kobayashi)

Senior Center Turned Tree house (Ghent, Belgium)

Senior Center Turned Treehouse (Ghent, Belgium)

বৃক্ষ গৃহের পেছনে যে ঘরটি রয়েছে তারই একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হল এই বৃক্ষ গৃহেটি (Designed by: Benjamin Verdonck)

O2 Tree house (USA)

O2 Treehouse (USA)

এই ঘরটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে কিভাবে মানুষ কেবল প্রকৃতির আশ্রয়ে বিপদমুক্ত। (Designed by: o2treehouse.com)

Tree house for Birds and People (Andu Momofuku Centre, Japan)

Treehouse for Birds and People (Andu Momofuku Centre, Japan)

আধুনিক চিন্তা ধারায় নির্মিত এই বাড়ীটির মুর্দা কথা হল, ‘কিভাবে উঁকি দিয়ে পাখির নিজস্ব গোপন জীবন ব্যবস্থা দেখা।’ (Designed by: nendo)

Eco-friendly Finca Bellavista Tree house (Costa Rica)

Eco-friendly Finca Bellavista Treehouse (Costa Rica)

এই টি-স্টলটি পরিবেশ রক্ষায় কেস্টারিকার আন্দলনকারী সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। টি-স্টলটিকে ঘিরে প্রায় ৬০০ একরের উপর জায়গা রয়েছে যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অক্ষুণ্য। (Image credits: Anders Birch)

Plane Tree house (Costa Rica)

Plane Treehouse (Costa Rica)

Joanne Ussary $2000 এই বাড়ীটি ক্রয় করেছিলেন।

Teahouse Tetsu (Yamanashi, Japan)

Teahouse Tetsu (Yamanashi, Japan)

এটি স্থপতি Terunobu Fujimori দ্বারা নির্মিত। এই বাড়ীটির ভিতরে নকশা সাধারণ এবং আধুনিক হলেও বাহিরের নকশা দেখে মনে যেন এটি কোন রূপকথার বইয়ের পৃষ্ঠা। (Image credits: Amazon.com)

UFO Tree house (Sweden)

UFO Treehouse (Sweden)

একটি সুইডিশ ট্রি-হোটেল একেবারে ভিন্ন ধরনের একটি বাড়ী তৈরির সিদ্ধান্ত নিল। যেটি দেখতে পাখির বাসার মত মনে হবে। এবং নির্মাণ করা হল উফা ট্রি হাউজ। (Image credits: treehotel.se)

এই প্রতিবেদনটি পূর্বে Blogseveryday.com -এ প্রকাশিত হয়েছিল। এই ধরনের আরো অনেক প্রতিবেদন পাবেন এখানে।

  • http://www.megaupdate24.com/ luthfarrahman

    Nice article.Actually i search a wonderful post like it.At last i get it.