কোম্পানি জবের ক্ষেত্রে আপনার করণীয়

বুলবুল আহমেদ মল্লিক

হ্যালো,আমি বুলবুল আহমেদ। বর্তমানে যশোর সরকারি এম.এম কলেজে ইসলামি ইতিহাস ও সাংস্কৃতি বিভাগের ৩য় বর্ষ অধ্যায়নরত। আমি ব্লগ পড়তে আর ফোরামে আলোচনা করতে ভালবাসি। আর সেই ভালবাসা থেকে লেখালিখির শুরু। আর উৎসাহ যোগাতে থাকেন সব সময় (ইকরাম স্যার) ছোট কিছু কাজ করি তার ভিতরে SEO ও Website Design and Develop. সমস্যা যত সমাধান তত, তবে আমি দেখতে সাধারণ হলে ও অনেক জটিল একটা মানুষ।

Latest posts by বুলবুল আহমেদ মল্লিক (see all)

টিউন করেছেন বুলবুল আহমেদ মল্লিক | May 11, 2014 23:54 | পোস্টটি 757 বার দেখা হয়েছে

কোম্পানি জবের ক্ষেত্রে আপনার করণীয়


সুন্দর একটা ইন্টারভিউ দিয়ে জয়েন করেছেন একটা প্রতিষ্টিত কোম্পানিতে, শুভকামনা রইল আপনার জন্য। কিন্তু এবার কথা হল আপনি যে কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন সেখানে নতুন হবার জন্য আপনার অস্তিত হুমকির ভিতরে পড়ে গেছে, শুধুমাত্র আপনার কথা আর কাজের জন্য। আসলে আপনি এমন কি বলেছেন বা করেছেন যে সেটা আপনাকে আপনার বহু স্বপ্নের জব টা আপনার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে কিংবা আপনাকে বের করে দেওয়া হচ্ছে জব থেকে???

আজ আমরা আলোচনা করব কোন একটা নতুন কোম্পানিতে যোগ দেবার পরে আপনার কোন কোন জিনিস গুলোর উপর যত্ন নেওয়া উচিত। আর এর জন্য ধন্যবাদ দিব আমার বর্তমান বস মিস্টার টম ও আমাদের কোম্পানির হায়ারিং ম্যানেজার স্টেফিনি কে। আমি নতুন হবার জন্য তারা আমাকে শিখিয়ে পড়ি নিচ্ছে কারণ তারা আমাকে তাদের সহযাত্রী হিসাবে নিতে চায়।  শেয়ার না করে পারলাম না আপনাদের সাথে আশা করি এটা আপনাদের অনেক কাজে আসবে।

  

আপনার অনলাইন প্রোফাইল টা ঠিক করুনঃ-

 আপনাকে অব্যশই আপনার অনলাইন প্রোফাইল টা ঠিক করতে হবে সবার আগে। এটা আপনার জব পাবার আগেই করা উচিত, কারণ কোন কোম্পানি ই চাইবে না তাদের কর্মীর প্রোফাইল দেখতে অন্যদের চেয়ে খারাপ লাগে। আর আপনাকে সব সময় আপনার প্রোফাইলের নাম টা ঠিক করতে হবে।

 Make a perfect Online Profile

 

বানান অবশ্যই ঠিক করুনঃ-

আপনাকে অব্যশই আপনার অনলাইন প্রোফাইলের বানান ঠিক করতে হবে, যেটা আপনার অনেক আগেই করা উচিত ছিল। যেমন আমার টা ছিল WordPress and SEO expart কিন্তু প্রকৃত পক্ষে হওয়া উচিত ছিল WordPress and SEO expert. তাই আপনাদের অব্যশই উচিত আপনার প্রোফাইলের বানান গুলো সব সময় ঠিক করার। এমন কি আপনার লেখা কভার লেটার ও, এর জন্য আমি একটা Software ব্যবহার করতে বলব তাহল Ginger. আশা করি এটা আপনাদের বানান ঠিক করার কাজে সাহায্য করবে।

Check every spearing  

ব্যক্তিগত কথা এড়িয়ে চলাঃ-

আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে আপনি একটা কোম্পানিতে জব করছেন সেটা অনলাইন বা অন্য যেখানে ই হউক না কেন। আপনি সব সময় এখানে ব্যক্তিগত কথাবার্তা এড়িয়ে চলবেন। আপনি কখন ও কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত কথা জিজ্ঞাসা করতে পারেন না, বা তাদের কে আপনার ব্যক্তিগত কোন কথা বলতে পারেনা বা বলা উচিত হবে না। এটাতে অনেকটা প্রোফেশনাল লুক থাকে না, তাই আপনাকে এটা অব্যশই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

No personal Talk  

ফেসবুক ব্যবহারে সর্তকতাঃ-

আপনাকে অব্যশই ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে!!! এটার অর্থ এটা নয় যে আপনি চিরদিনের জন্য ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিবেন না। আর সবচেয়ে বড় কথা হল যে,আপনি আপনার বস বা আপনার সিনিয়ার কোন ব্যক্তিকে আপনার ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতে বা যোগ দিতে বলতে পারেন না। আর যদি আপনার কোম্পানির অফিসিয়াল কোন পেজ বা গ্রুপ থাকে তাহলে অন্য ব্যাপার। এমন ও দেখে গেছে যে একটি মাত্র ফেসবুক পোষ্টের কারণে অনেকেই জব চলে গেছে।

No Facebook in Office 

বেশী বেশী ইমেলের ব্যবহার করাঃ-

যেহেতু আপনি একটা কোম্পানির অধীনে কাজ করছেন আপনার এই কোম্পানিতে অনেকেই কাজ করে তাই আপনি যদি এই কোম্পানির ম্যানেজারের সাথে স্কাইপিতে বা অন্য কোন মাধ্যমে প্রতিদিন ৩০ মিনিট কথা বলেন বা বলতে চান তাহলে যদি আপনার মতন ৩০ জন কিংবা তার চেয়ে বেশী কর্মী থাকে তাহলে ভেবে দেখুন ম্যানেজারের কি অব্যস্থা হবে। তাই আপনার উচিত বেশী বেশী ইমেলের ব্যবহার করা।

 নিয়মিত ইমেল চেক করাঃ-

আপনাকে অব্যশই প্রতিদিন আপনার ইমেল চেক করা উচিত। কিছুদিন আগে আমি আমার ফেসবুকে একটা পোষ্টে বলেছিলাম যে “আমরা প্রতিদিন সকাল বেলা সবার আগে ফেসবুক চেক করি যে, কয়টা ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট বা নোটিফিকেশন এলো সেটা আগে চেক করি”। কিন্তু আমাদের উচিত ছিল কি আগে আমাদের ইমেল চেক করার। আপনি যেহেতু এই আর্টিকেল পড়ছেন সেহেতু আমি ধরে নিব যে আপনার একটা ইমেল আছে। আর আজ থেকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে ইমেল চেক করবেন আর সব শেষে যাবেন ফেসবুক বা অন্য কোন সোসাল মিডিয়াতে।

email 

বিভিন্ন স্টোর রুম ব্যবহারঃ-

আপনাকে বিভিন্ন ধরণের স্টোর রুম ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হতে হবে, কারণ অনেক সময় আপনাকে বড় আকারের ফাইল দেওয়া হবে কাজের জন্য কিন্তু সেটা যদি আপনাকে ইমেলে দেওয়া হয় তাহলে বিভিন্ন ধরণের ডাউনলোড ঝামেলা আছে কিন্তু বেশীর ভাগ কোম্পানিতে অনেক কর্মী থাকার কারণে সবাইকে আলাদা আলাদা করে না দিয়ে অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। যেমন আমার কোম্পানি আমাকে ফাইল দেয় গুগল ড্রাইভে। অন্যরা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে তাই আপনাকে প্রায় সবগুলো স্টোর ব্যবহারের অভিজ্ঞাতা থাকতে হবে। আর না জানলে তো কোন কথা নেই আজ ই সার্চ করুন গুগল ও YouTube এ।

 google-drive

 

কাজের ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা করাঃ-

আপনি যদি কোন কিছু বুজতে না পারেন তাহলে আপনার উচিত আপনার বসকে জিজ্ঞাসা করা। আর আমার তো মনে হয় আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন তাহলে তিনি বিরক্ত হবেন। কিন্তু তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে বারবার জিজ্ঞাসা করা যাবে না। কিন্তু যদি মনে করেন আপনি যেটা বলতে চাচ্ছেন সেটা আপনার বস বুজতে পারছেন না তাহলে আপনার উচিত তাকে বুজায়ে বলা। যেমন টা আজ হয়েছে আমার ক্ষেত্রে, আমাকে ওয়েব সাইট ডিজাইন করার জন্য ডোমেন দেওয়া হয়েছে ১ দিন আগে কিন্তু কোন রকম হোস্টিং ছাড়া। আমি আজ স্কাইপিতে কল করে জানালাম সমস্যার কথা, তারা আর ও বেশী খুশি হয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা খুব শিগ্রহ আমাকে এটা প্রদান করবে।

 সময়ের প্রতি যত্নবান হওয়াঃ-

আপনি যেহেতু একটা কোম্পানিতে জব করছেন তাই আপনার উচিত সময়ের ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়া উচিত। সাধারণত চাকুরির ক্ষেত্রে যেমন টা হয় ঠিক তেমন টা নিয়ম মেনে চলতে বলছিনা। কিন্তু এটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে আপনি যদি এখন আপনার বসকে ফোন দেন তাহলে সে কখন ফোনটা রিসিভ করবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে, আপনি বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ আপনার বসকে ফোন দিলেন আর যদি তিনি USA এর LA থাকে তাহলে তো তার সময় তখন রাত ১২ টা প্রায়। এবার আপনি কি ফোন দিবেন একবার ভেবে দেখুন। আর তার জন্য আপনার কম্পউটারে দুইটা আলাদা ঘড়ি দেওয়া আছে যেখানে আপনি আলাদা দুইটা ঘড়ি যোগ করতে পারবেন। আর এখানে আপনি আপনার বসের সময় যোগ করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা একটা আছে আর সেটা হল বসেরা যেকোন সময় আপনাকে কল করতে পারে সেটা আপনার সময় রাত ৩ হউক না কেন। আর সেই কারণে তারা বস আর আমরা কর্মী।

 

world Time clock

দৈনিক রিপোর্ট প্রদানঃ-

যেহেতু আপনি একটি কোম্পানির অধিনে কাজ করছেন তাই আপনার উচিত হবে দিন শেষে বা কাজ শেষে তার একটা রিপোর্ট কোম্পানি কে প্রদান করা। যেহেতু আপনি একটা কোম্পানিতে কাজ করছেন একটা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তারা অব্যশই তার একটা হিসাব রাখছে আপনার প্রোফাইলে তারপর ও আপনার উচিত হবে দৈনিক একটা রিপোর্ট দেওয়া। উদাহরণ হিসাবে এখানে বলতে পারি- একটা কোম্পানিতে অনেকে কাজ করে কিন্তু বসের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকে মাত্র কয়েক জনের। আর সবাই সব ধরণের সুবিধা পায় না। তাই আপনার উচিত হবে, বসের খাস্ ব্যক্তি হওয়া। তাহলে সব ধরণের সুবিধা পাবেন।

মাত্র কয়েক দিন জয়েন করেছি এই কাজে আর তার অভিজ্ঞাতা থেকে লিখলাম আপনাদের জন্য,দুয়া রেখেন আমার জন্য;আশা করি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আর ও কিছু উপহার দিব আপনাদের জন্য। শেষ করব এস ই ও যারা শেখেন তাদের জন্য একটা খবর দিয়ে,খুব শিগ্রহ ৬ টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আচ্ছে গুগল সার্চে আশা করি খুব শিগ্রহ একটা আর্টিকেল আচ্ছে বাংলাতে।  আর তার ও আগে আচ্ছে গুগলের নির্বাহী মার্ট কুটের একটা ইন্টারভিউয়ের আধারে রচিত একটি আর্টিকেল। আশা করি আগামি আয়োজনে ও আপনাদের সাথে পাব সেই প্রতাশা রেখে আজকের মতন শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ।