মার্কেটিং কিংবা প্রমোশনের ক্ষেত্রে ১০টি বড় ভুল

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। লার্নিংএন্ড আর্নিং প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেরপ্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বরত। জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | September 28, 2017 10:03 | পোস্টটি 361 বার দেখা হয়েছে

ফেসবুকে গিয়ে পোস্ট করলেই মার্কেটিং হয়ে যায়না। ফেসবুকে প্রোডাক্ট কেনার বিজ্ঞাপন পোস্ট করলেই মার্কেটার হওয়া যায়না। এ সত্যটুকু বেশিরভাগই  স্বীকার করে নেয়না দেখে কোম্পানীর প্রসারে ভাল উপকার পায়না। হুমম, হয়ত স্বাময়িক একটা সময়ে লাভবান হয়। কিন্তু লাভটা দীর্ঘস্থায়ী হয়না। আমি  আমার মার্কেটিং অভিজ্ঞতার আলোকে মার্কেটিংয়ের কিছু ভুল খুব বেশি চোখে পড়ে। সেই ভুলগুলো এ পোস্টে উল্লেখ করেছি। ভুলগুলো শুধরানোর জন্য পরামর্শও দিয়েছি।

পোস্টটি পড়ে আপনার নিজের কোন পয়েন্টে ভুল রয়েছে, সেটি আশা করি, উল্লেখ করবেন কমেন্টে কিংবা ফেসবুকে।

mt

মার্কেটিং কিংবা প্রমোশনের ক্ষেত্রে ১০টি বড় ভুলঃ

১) মার্কেটিংটা বাসের সেলসম্যান টাইপভাবে করি। যা ব্রান্ডের ভ্যালুটা নষ্ট করে দেয়। অর্থাৎ পুরো পেজ জুড়েই , কিংবা নিজের ওয়্যালের সব পোস্টই শুধু নিজের সার্ভিসের কিংবা প্রোডাক্টের প্রমোশন।
পরামর্শঃ আপনার মার্কেটিং টেকনিক কারোর বিরক্তির কারণ হয় কিনা, সেই বিষয়ে সব সময় লক্ষ্য রাখুন।
২) মার্কেটে কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস না করেই মার্কেটিং শুরু করে দেয়। সেজন্য পরিকল্পনাহীন মার্কেটিং চোখে পড়ে।
পরামর্শঃ কম্পিটিটরদেরকে অ্যানালাইস করা ছাড়া মার্কেটিং প্লান করলে সেই মার্কেটিংয়ে খরচটা বেড়ে যাবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব ভালো রেজাল্ট বের হবেনা। সেজন্য কম্পিটিটিরদেরকে অ্যানালাইস করে ঠিক করুন, কোন কোন জায়গাতে মার্কেটিং করবেন, কোন কোন অস্ত্র ব্যবহার করবেন।
৩) প্রমোশনাল কনটেন্টের অতিরিক্ত ব্যবহার ব্রান্ডিংয়ের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের কনটেন্টকেই মার্কেটিং মনে করে।
পরামর্শঃ আপনার কনটেন্ট মার্কেটিংয়ে ৩০% হবে প্রমোশনাল কনটেন্ট, বাকি ৭০% হবে অন্যান্য কনটেন্ট। সকলকে এ পরামর্শ দেওয়ার পরও কেউ ১০০% প্রমেশনাল কনটেন্ট পোস্ট করার লোভ সামলাতে পারেনা।
৪) মার্কেটিংয়ের সবচাইতে বড় সম্পদ হচ্ছে কনটেন্ট। এটুকু অনেকেই মানলেও কনটেন্ট তৈরিতে যে পরিকল্পনা করতে হয়, সেটি নিয়ে অনেকেই মাথা ঘামায়না। সেই কারনে প্রচুর কনটেন্ট তৈরি করা হয়, কিন্তু কনটেন্টগুলো হতে খুব বেশি লাভবান হতে পারেনা।
পরামর্শঃ কনটেন্ট তৈরি করার সময় মাথাতে রাখা উচিত কোন ধরনের কনভার্শন আপনি চাচ্ছেন? সেটি মাথাতে রেখেই কনটেন্ট তৈরি করলে দেখবেন অল্প কনটেন্টেই ভাল ফলাফল পাবেন।
৫) আমাদের দেশের অনেক মার্কেটারকে দেখি কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে খুব বেশি নজর দেন গুগলকে খুশি রাখার ব্যাপারে। সেজন্য গুগলেও নিজেদের অবস্থান বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনা। আবার সেল কনভার্সনেও খুব বেশি সফল তারা হতে পারেনা।
পরামর্শঃ যেকোন সার্ভিস প্রমোশনে কনটেন্ট তৈরি করতে হয়, মানুষের মনকে আকর্ষন করার জন্য। মানুষের সাইকোলজি বুঝে কনটেন্ট তৈরির প্লানিং করতে হয়। কনটেন্ট মার্কেটিং প্লানিংয়ের জন্য একটি স্ট্রাকচার সাজেশন করছি। AIDEA এ ফরম্যাটটি অনুসরণ করুন।
A: Attention, I: Interest, D: Desire, E: Engagement, A: Action
উপরের স্ট্রাকচারটি মেইনটেইন করে কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের প্লান করলে যেকোন ধরনের মার্কেটিংয়ে কোন ধরনের ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা। স্ট্রাকচারটি যদি বুঝতে না পারেন, কমেন্ট করবেন।
৬) কনটেন্টের ধরনে বৈচিত্রতা নিয়ে মার্কেটাররা খুব বেশি সচেতননা। কিংবা হয়ত গুরুত্ব কম দিয়ে থাকেন।
কনটেন্টের ধরণ নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করা উচিত। শর্ট কনটেন্ট, আর্টিকেল, ইমেজ কনটেন্ট ভিডিও কনটেন্ট, কুইজ কনটেন্ট, লাইভ ভিডিও কনটেন্ট ইত্যাদি ধরনের হতে পারে।
পরামর্শঃ কনটেন্টের ধরন একইরকম হলে যতই আকর্ষনীয় কনটেন্ট হোক, সেটি মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। একই ধরনের কনটেন্ট যাতে মার্কেটিংয়ে পোস্ট না হয়, সেজন্য আমি সবসময় কনটেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করে মার্কেটিং পরিকল্পনা সাজাই।
৭) কোন একটা ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, কিন্তু মার্কেটিংয়ে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়না। অর্থাৎ হঠাৎ একদিন পোস্ট করলো, আবার যেদিন মনে হলো, আবার কিছু পোস্ট করলো। এ ধরনের মার্কেটিংয়ে কখনও রেজাল্ট আশা না করাই উচিত।
পরামর্শঃ মার্কেটিংয়ের সময় মানুষের মনে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে চিন্তাভাবনা ঢুকিয়ে দিতে হলো, ১ম ৩মাস প্রতিদিন ২-৩ বার করে বিভিন্ন মিডিয়াগুলোতে আপনার উপস্থিতি বুঝিয়ে দিতে হবে। তাহলে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানুষের আস্থা তৈরি হবে।
৮) অনেকে প্রমোশন শুরু করেই অল্পদিনে ফলাফল আশা করে। ফলাফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়ে।
পরামর্শঃ মার্কেটিংয়ের ফলাফলটা খুব দ্রুত আশা করলেই বিপদ হয়ে যায় প্রোডাক্টের জন্য। মানুষের সেল ডিসিশন নিতে সময় লাগে। সেগুলো অনেকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। সেই ফ্যাক্টরগুলো নিয়ে কাজ না করে ফলাফল আশা করা বোকামী।
৯) রিডারদের আগ্রহকে অ্যানালাইস করে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা অনেক মার্কেটাররাই করেনা। যার জন্য অ্যাংগেজমেন্ট অনেক কম হয়।
পরামর্শঃ যেই অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করছেন, তারা কি বিষয়ে চিন্তা করছে, সেটির উপর সলিউশন নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন. দেখবেন দ্রুত ভাল ফলাফল পাবেন। অডিয়েন্সদের চাহিদা বোঝার জন্য কম্পিটিটরদের সোশ্যালমিডিয়া গ্রুপ, ইনফ্লুয়েন্সারদের পোস্ট, কিংবা বিভিন্ন ফোরামগুলোতে একটু নজর দিয়ে কনভার্শনগুলো লক্ষ্য করুন। তারপর কনটেন্ট তৈরি করুন। মাথাতে রাখবেন, মার্কেটিংয়ের ১ম সাফল্য হচ্ছে, আপনার তৈরি কনটেন্টে অডিয়েন্সের অ্যাংগেজমেন্ট।
১০) অনেক মার্কেটারই তার পোস্টে অডিয়েন্সের কনভার্সনগুলো কিংবা রিয়েকশনগুলো অ্যানালাইস করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। যার কারনে একই ধরনের পোষ্ট চলতেই থাকে। একটা পযায়ে বিরক্ত হয়ে মানুষ ব্রান্ড হতে নিজের নজরকে সরিয়ে নিন।
পরামর্শঃ প্রতিটা ক্যাম্পেইনের রিয়েকশনগুলো খুব ভালমতো অ্যানালাইস করে পরবর্তী ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা সাজান। খরচও কমে যাবে, ভাল সেল ও পাবেন। আর এটা করতে না পারলে আসলে মার্কেটার হওয়া যায়না।
মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন মিডিয়াগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেই মার্কেটার হওয়া যায়না। মার্কেটিং আরও বিশাল জিনিস। বেসিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট এখানে তুলে ধরলাম। আশা করি, সবাই বিষয়গুলো মাথাতে রেখেই কাজ করবেন। ফলাফল কল্পনার চাইতে বেশি পাবেন।

আপনি নিজেও যদি কোন কিছুর মার্কেটিং করে থাকেন, তাহলে  এ পোস্টটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ন। আশা করি, গুরুত্বপুর্ণ মনে করলে নিজের ওয়্যালে অবশ্যই শেয়ার করবেন।