ফেসবুক মার্কেটিংয়ের সঠিক পদ্ধতিগুলো জেনে নিন, ভুল মার্কেটিং ক্ষতি করছে আপনাকে

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। লার্নিংএন্ড আর্নিং প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেরপ্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বরত। জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | July 8, 2015 00:21 | পোস্টটি 4,124 বার দেখা হয়েছে

ফেসবুকে অনেককে মার্কেটিং করতে দেখি। দেখলেই বোঝা যায়, না বুঝেই মার্কেটিং করছে। বর্তমান যুগে অনেকের মধ্যেই এ ধারণা তৈরি হয়ে গেছে, ফেসবুকে পোস্ট দিলে, অফিসিয়াল পেজে লাইক বাড়লেই ফেসবুক মার্কেটিং হয়ে গেছে। আবার ফেসবুক পেইড ক্যাম্পেইনযুগ এসে ৫ডলার খরচ করে ৩০ হাজার মানুষের কাছে পোস্টটিকে পৌছাতে পেরেই অনেকে নিজেকে সফল মার্কেটার হিসেবে মনে করার শুরু করছে কেউ কেউ। হয়ত এ টুকু করেই অনেকে সফলও হচ্ছে। তবে ২-১ টা প্রজেক্ট সফল হওয়া মানেই আপনি মার্কেটার হয়ে গেছেন ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুললে মস্ত বড় ভুল করবেন।

Ipad on a desk showing Facebook

কিছু না জেনেই আপনি সফল হয়েছেন সেটার অনেক কারণ থাকতে পারে।

-   প্রোডাক্টটির কম্পিটিটর অনেক দুর্বল

-   অলরেডি ব্রান্ড পপুলার হওয়ার কারনেও হয়ত সফল হয়েছে।

কিংবা আরো অনেক বিষয় থাকতে পারে। আমাদের এসব কাজের আগে সোশ্যালমিডিয়া মার্কেটিং বিষয়ে বিস্তারিত শিখা দরকার। বিস্তারিত জানা দরকার।

ফেসবুক মার্কেটিং করার আগে আমাদের জেনে নেওয়া দরকার, কেন ফেসবুক পেজ তৈরি হয়, কেন পেজে নিয়মিত পোস্ট ফেলতে হয়, সেখান থেকে কিভাবে প্রোডাক্ট সেল হয় (SELL BUY CYCLE) বিষয়টি জানা দরকার।

ব্যবসার জন্য কেন ফেসবুক পেজ তৈরি করা হয়?

মূলত লিড তৈরির উদ্দেশ্যেই ফেসবুক পেজ তৈরি করা হয়। লিড মানে সেল না। লিড মানে সেলের আগের ধাপ। অর্থাৎ সম্ভাব্য ক্রেতা যারা আজ হোক কিংবা পরে হলেও প্রোডাক্টটি কিনবেন।

যদি সম্ভাব্য ক্রেতাকে খুজে বের করতে চান, তাহলে সেটা জোর করে হবেনা। বিভিন্ন মিডিয়া হতে খুজে বের করতে হবে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতাকে (লিড)।

সেজন্য যা করতে হবে?

-   নিজের পেজটিতে মানুষের জন্য কাজে লাগবে এরকম পোস্ট করে সেই পোস্টটির লিংক অন্যগ্রুপে শেয়ার করতে পারেন।

Screenshot_1

-   মানুষের জন্য কাজে লাগে এরকম বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে সেটি ব্লগে এবং বিভিন্ন গেস্টব্লগিং সাইটে পোস্ট করুন। সেই পোস্টের নিচে ফেসবুক পেজের লিংকটি দিয়ে আসুন।

উপরের এ পদ্ধতিতে যেসব মেম্বার পাবেন নিজের পেজের কিংবা গ্রুপের জন্য, এরাই হচ্ছে লিড। অর্থাৎ প্রোডাক্টের সম্ভাব্য ক্রেতা।

আমি শুধুমাত্র ২টি টেকনিক বললেও আরও পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারেন। যেমন: ভিডিও মার্কেটিং, স্লাইড মার্কেটিং কিংবা ইবুক তৈরি করেও সেখানে পেজের লিংক দিয়ে আসতে পারেন।

 

ফেসবুক পেজটিতে কি ধরনের পোস্ট করবেন, কেন করবেন?

facebook-marketing-a

ফেসবুক পেজটিতে লিড তৈরি করলেন ১ম ধাপে। এবার এসব লিডকে নার্সিং করতে হবে। অর্থাৎ আপনার প্রোডাক্টটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহী করতে হবে।

মনে রাখবেন, পেজের পোস্টের ক্ষেত্রে আপনার আচরণ যেন, সেলসম্যানের মত না হয়। ইন্সুরেন্সের লোক কিংবা এমএলএম এর ব্যক্তিদের দেখলে যেরকম আপনি পালাতে চান, একইভাবে আপনিও সেলসম্যানের মত আচরণ করলে অন্যরা আপনার কাছ থেকে পালাবে। পোস্টগুলো হতে হবে সচেতনতামূলক, পরামর্শমুলক। যাতে পেজের লিডগুলো আপনাকে তাদের সমস্যার সমাধানে ভাল গাইড হিসেবে মনে করতে পারে। যদি প্রোডাক্ট বিষয়ক একটি পোস্ট যায়, তাহলে সেখানে সচেতনতামূলক ৩টি পোস্ট যাবে। আর এটাই আধুনিক মার্কেটিং সিস্টেম। পুশ বেসড মার্কেটিং বা সেলসম্যান টাইপ মার্কেটিং এর ব্যাপারে বর্তমান যুগের মার্কেটিং এক্সপার্টরা অনুৎসাহী করে।

 

উদাহরণ: ধরি, আপনার একটা পেজ আছে, যেখানে ওজন কমানোর কোন ঔষধ বিক্রি করবেন। তাহলে সেই পেজে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ১টি পোস্ট করলে সেখানে ৩টি পোস্ট হবে, বেশি ওজন হলে কি কি সমস্যা হতে পারে, ওজন কমানোর টিপস নিয়ে পোস্ট।

 

পেজের পোস্টের জন্য কনটেন্ট  আইডিয়া করার জন্য কয়েকটি সোর্স দিচ্ছি:

১) রিলেটেড ফোরামগুলোতে আলোচনাগুলো দেখুন। সেখান থেকে কনটেন্ট আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

২) পিন্টারেস্ট (pinterest.com) এ গেলে সেখান থেকে যে ইনফোগ্রাফিকগুলো পাবেন সেখান থেকে কনটেন্ট কনসেপ্ট পেয়ে যাবেন।

৩) স্লাইডশেয়ার সাইটে (Slideshare.net) স্লাইডগুলো থেকেও খুজে পেতে পারেন কনটেন্ট আইডিয়া।

৪) রিলেটেড বিভিন্ন সোশ্যালমিডিয়া গ্রুপের আলোচনা হতে কনটেন্ট আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

৫) নিজের পুরানো পোস্টগুলো থেকেও নতুন কনটেন্ট তৈরি হতে পারে।

facebooktips

সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের পণ্যের প্রচারের ক্ষেত্রে মনে রাখবেন:

১) অন্যের মনের ভিতর বিরক্ত সৃষ্টি করে কখনও নিজের পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি করতে পারবেননা।

২) অন্যের পোস্টের ভিতর বিষয়টি রিলেটেড না হওয়া স্বত্ত্বেও নিজের প্রোডাক্টের প্রচার চালিয়ে আসবেননা।

৩) ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে মার্কেটিং করলে সাময়িকভাবে উপকৃত হলেও বড় আকারে চিন্তা করলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

৪) আপনার সার্ভিসটি প্রচার করার জন্য একই রকম অন্য প্রতিষ্ঠানের সোশ্যালমিডিয়া কমিউনিটিতে কৌশলি হয়ে ঢুকতে পারেন। সেখানে গিয়ে কোনভাবেই আপনার সার্ভিসের প্রচার না করে বিভিন্ন টিপস শেয়ার করে, কিংবা বিভিন্ন জনের সমস্যার সমাধান করে সেখানকার লিডদের আপনার নিজের ব্যাপারে আগ্রহী করতে পারেন।

৫) সেলসম্যান টাইপ আচরণ করবেননা। এভাবে পণ্যের মার্কেটিং টেকনিক পুরানো হয়ে গেছে। আধুনিক টেকনিক অনুসরণ করুন।

৬) মানুষের সমস্যাগুলো নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করুন। পণ্য নিয়ে কম কনটেন্ট তৈরি করুন।

৭) সবার কাছের এবং আস্থার জায়গাতে নিজেকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করুন। তাহলেই প্রোডাক্ট সেল হবে বেশি।

৮) নিজের উপস্থিতি নিয়মিত রাখুন। ১দিন পোস্ট করে পরবর্তী পোস্ট যদি হয় ৩দিন পর তাহলে কারও মনের ভিতর ঢুকতে পারবেননা। প্রতিদিন ৩-৪বার পোস্ট করলে খুব দ্রুত অন্যের মনের ভিতর অবস্থান নেওয়া যায়।

আরও অনেক কিছুই পরামর্শ দেওয়ার ছিল। কিন্তু মাথাতে আসছেনা। তবে সোশ্যালমিডিয়া সম্পর্কিত আমার ক্লাশের ভিডিও দেখতে পারেন। অনেক কিছু শিখতে পারবেন অবশ্যই।

 

নিয়মিত টিপস পাওয়ার জন্য,  আমার পেজে লাইক দিয়ে থাকুন: https://www.facebook.com/ekram07

  • Shiplu Hridoy Mominul Islam

    ভালো পোস্ট

  • Arbab Uz Zaman

    you are really great vaia

  • Saad Rahman

    It was helpful.

  • Shafiqul Islam

    great sir.