১০টি অত্যাবশ্যক বিষয় যা একজন ভালো আর্টিকেল রাইটারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে( পরিপুর্ণ গাইড)

টিউন করেছেন shahjahan | April 13, 2015 08:26 | পোস্টটি 1,343 বার দেখা হয়েছে

১০টি অত্যাবশ্যক বিষয় যা একজন ভালো আর্টিকেল রাইটারকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে( পরিপুর্ণ গাইড)


…সংক্ষেপভাবে প্রফেশনাল মানের আর্টিকেল রাইটার হওয়ার বুলেট পয়েন্টগুলো এখানে বর্ণনা করবো… আর একজন রাইটার তখনি নিজেকে প্রফেশনাল বলে দাবি করতে পারবে যখন পাঠক তার লেখা থেকে কিছু জানতে পারবে, শিখতে পারবে, বুঝতে পারবে…

article writing.jpg

√√ রিলাক্স! আর্টিকেল রাইটিং ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না আপনি পরিশ্রমি এবং সৃিষ্টশীল হবেন। প্রকৃতপক্ষে আর্টিকেল রাইটারের অনেক চাহিদা রয়েছে এর মাধ্যমে সম্মানজনক আয়ও ভালোভাবে সম্ভব।

√√√ চলুন ১০ মিনেটে জেনে নিই কিভাবে একজন প্রফেশনাল মানের আর্টিকেল রাইটার হওয়া যায়…

√ ১ নং বিষয়ঃ আকর্ষনীয় টাইটেল

পাঠকের হৃদয় আকর্ষণ বা পাঠককে আপনার পুরো লেখা পড়তে বাধ্য করে আপনার লেখার টাইটেল। অথ্যাৎ টাইটেল দেখে যদি পাঠক বুঝতে পারে যে আপনার লেখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তবেই তারা আপনার পুরো লেখা পরতে সিদ্ধান্ত নিবে অন্যথা আন-লাইক দিয়ে চলে যেবে।
তার মানে টাইটেল নির্বাচনে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। লাভ ইন ফার্স্ট সাইট। আর টাইটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিম্নর বিষয়গুরো খেয়াল রাখতে হবে-

• টাইটেলটি পুরো আর্টিকেলটির ছোট এক বাক্যের সারাংশ হবে।

• খুবই মনোমুগ্ধকর হবে আর পুরো আর্টিলকেলটি সম্পর্কে একটি পূর্বাবাস দিবে।

• নিম্নের শব্দগুলো দিয়ে শুরু হবে-

- secrets of…
- top…
- 5/10/15… steps/ ways/tips of…
- How to…
-Best…
- mistakes…
- causes of…
- why…
- complete ( guide/ tips)…
-everything about…

√ ২নং বিষয়ঃ আর্টিকেলের প্রথম বাক্য ও প্রথম শব্দ যেমন হবে

একটা ভালো মানের আর্টিকেল অবশ্যই আকর্শনীয় ও তথ্যপূর্ণ বাক্য এবং শব্দ দিয়ে শুরু হবে। পাঠকের মনোযোগ লেখার শুরু থেকেই কেরে নিতে হবে। পাঠক সাধারণত কোন লেখার প্রথম বাক্য পড়েই সিদ্ধান্ত নেন বাকিটা পড়বে কি পড়বেনা।
কোন আর্টিকেলের প্রথম বাক্য ও শব্দের ক্ষেত্রে যা বিবেচনা করা দরকার-
• খুবই সহজবোধ্য ও ছোট সিম্পল বাক্য হবে।
• টাইটেল কিংবা হেডিং-এর মতই গুরুত্ব দিতে হবে।
• তথ্যবহুল ও ইমপ্রেসিব হবে।
• পাঠককে আর্টিকেরের ভেতর টেনে নেওয়ার মত কারিশমা থাকতে হবে।
ফেয়্যার পেহেলে নজরমে!

√ ৩নং বিষয়ঃ শব্দ, বাক্য এবং প্যারাগ্রাফ নির্বাচনে করণীয়

একজন ভালো মানের লেখক অবশ্যই শব্দ, বাক্য এবং অনুচ্ছেদ চয়েজের ক্ষত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখবে যেমন-

• ডিজিটেল কন্টেন্ট আর প্রিন্টেড কন্টেনট এক না; কাজেই ইন্টারনেটের জন্য লেখা সহজ ও সংক্ষিপ্ত হবে।

• এমন শব্দ ব্যবহার করবে না যার মিনিং সম্পর্কে তিনি পূর্ণ অবগত নহে।

• ভালো মানের লেখা কমই যথেষ্ট।

√ ৪নং বিষয়ঃ পাঠকের চাহিদা এবং আকাঙ্খা বুঝা

• লেখকের লেখা তখনি সার্থক হয় যখন তিনি মানুষকে কিছু দিতে পারেন, মানুষ তার লেখা দ্বারা উপকৃত হয়।
• পাঠকের মন, চাওয়া-পাওয়া, চিন্তা-ভাবনা অথ্যাৎ ফিলোসোপি বুঝতে হবে।
• যে বিষয়ে লিখবে সে বিষয়ে একটা সচ্ছ ও পরিপূর্ণ ধারণা দিতে হবে যেন পাঠক অন্য কোথাও যেতে না হয়।
• টার্গেট অডিয়েন্স বুঝে এবং তাদের বিভিন্ন ব্রাউজারের কথা ভেবে আর্টিকেল লিখতি হবে।

√ ৫নং বিষয়ঃ আর্টিকেলের বিভিন্ন সেকশান যুক্তিক ও অর্থবহভাবে সাজানো

• গুরুত্ব অনুযায়ী আর্টিকেলের বিভিন্ন অংশ দ্বারাবাহিকভাবে সাজাতে হবে। অথ্যাৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আগে লিখতে হবে।

√ ৬নং বিষয়ঃ নিজেকে আপডেটেড এবং তথ্যবহ করা

• একজন রাইটারকে সর্বশেষ টেকনোলোজি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে, ভালো মানের বই যেমন ‘ডাইজেস্ট ফাস্ট মার্কেটিং ফিলোসপি’ সংগ্রেহে রাখতে হবি।

• কীভাবে আরো ভালো কিছু পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা যায় সে ব্যাপারে মনোনিবেশ হতে হবে।

• ভালো লেখকের লেখার ধরণ ফলো করতে হবে।

√√ থামুন! কাজকে প্রার্থনা হিসেবে নিয়ে আন্তরিকতার সহিত করতে পারলেই যেকোনো ক্ষেত্রে সফলতা আসবেই। সুতারাং আন্তরিকতার সহিত লিখতে হবে।

√ ৭নং বিষয়ঃ পাঠকের মনে কোনো প্রশ্ন না থাকা

• আর্টিকেলের প্রথম অংশের মাধ্যমে পাঠকের মনে কিছু প্রশ্নের উদয় ঘটাতে পারা আর বাকি অংশে সমাধান রাখা।

• কিছু কমন প্রশ্নের (FAQ) উত্তর আর্টিকেলে থাকা বাঞ্চনীয়।

√ ৮নং বিষয়ঃ সরাসরি মার্কেটিং এপ্রোস না প্রয়োগ করা

• লেখক যদি কোনো পণ্যের মার্কেটিং বা মানুষকে কোনো পণ্য সম্পর্কে জানাতে চায় অবশ্যই সেটা টেকনিক্যালি করতে হবে গল্পের ছলে।

 

√৯নং বিষয়ঃ লেখা পাঠকের কাছে প্রকাশ করার পূর্বে

• আর্টিকেল প্রকাশ করার আগে নিজেকে পাঠকের আসনে বসিয়ে অন্তত একবার পড়ে দেখা অথবা বন্ধু-বান্ধব কাউকে দেখানো। প্রয়োজনে এডিট করা।

• গ্রামার, বানান, দাড়ি-কমা ইত্যাদি যাচাই করে দেখা।
• লেখা যেন ইউনিক অথ্যাৎ অন্য কারো সাথে না মিলে খেয়াল রাখতে হবে।

• আর্টিকেলের কাঠামো, বিন্যাস বা উপস্থাপনা যেন দর্শনীয় হয় খেয়াল রাখা দরকার।

√ ১০নং বিষয়ঃ লেখকের কিছু পার্সোনাল বৈশিষ্ট

• পরিশ্রমি হওয়া এবং সৃষ্টিশীল হওয়া।

• বুঝতে পারা কোন গ্রাফ বা ছবি কোন লেখার সাথে যায়।

• যে কোনো ঘটনাকে গল্পে বা কৌতকে পরিনত করতে পারা।

• সবসময় রিসার্স মোডে থাকা অথ্যাৎ চোখ-কান খোলা রেখে বিভিন্ন ঘটনা, পরিপেক্ষি উপলদ্ধি করা এবং কিছু শিখা।

• অডিয়েন্সকে বুঝতে পারা, বুঝতে পারা তাদের চাওয়া।
• কন্টেন্টের মাধ্যমে রিডারদের সাথে কথা বলতে পারা তাদের মনে ডুকতে পারা।

√√ বোনাস টিপস

আপনি যে বিষয়ে লেখছেন কৌশলে সে বিষয়ে অবিজ্ঞ হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থত হতে চেষ্ঠা করুন।

★ সবসময় ভাবুন কীভাবে লেখার মান বাড়ানো যায়।

★ আপনি যে বিষয়ে লিখছেন অথ্যাৎ আপনার টপিককে বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে, বিভিন্ন দৃষ্টকোন থেকে দেখুন, ভাবুন।

★ প্রয়োজনে গুগোল মামাকে পাশে রাখুন বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করুন যেমন-

” The best way to write content?”
” How to write a great content?”
” secret of writing?”
etc.

★ প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাফ,স্ক্রিন সর্ট, ছবি, কার্টুন, মিমি,বা চার্ট ব্যবহার করুন। কারণ একটা গ্রাফ ১০০০ টা শব্দের চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করতে পারে, পাঠককে আকর্ষণ করতে পারে।

★প্র্যাক্টিস, প্র্যাক্টিস, প্র্যাক্টস। প্রথমভারে কোনো কিছুই ভালোভাবে হয় না আস্তে সব ঠিক হয়ে যায়; যেমন প্রথম যখন কম্পিউটারের সুইস দেওয়া হয় পুরো নিউইয়র্ক শহরের বিদ্যুৎ চলে যায় আর সে বিশাল কম্পিউটার আমরা আজ হাতে নিয়ে গুরাগুরি করি।

সতর্কতাঃ কখোনো কপি-পেস্ট করবেন না; নিজের সৃজনশীলতা, মেধা, আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করুন।

~~~~ আগামী পর্বে থাকছে আর্টিকেল রাইটিং-এর ক্ষেত্র সেসব মারাত্নক ভুল অনেকই করেন~~ তারপর আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে কীভাবে যথাযথ ক্যারিয়ার গড়া যায়।

  • শমি হোসাইন

    চমৎকার উপস্থাপন