চা সম্পর্কিত কিছু ইতিহাস

টিউন করেছেন SHAMIMA | November 20, 2014 11:31 | পোস্টটি 3,040 বার দেখা হয়েছে

আমরা সবাই কম বেশি চা পান করি,অনেকের তো চা ছাড়া চলেই না ।সকাল বিকাল   চা তো  চাই-ই, কিন্তু এর উপকারের কথা জানি কি? অথবা এর উৎপত্তি র কথা এর ইতিহাস, চা নিয়ে কিছু কথা আজ শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে……আশা করি ভাল লাগবে।

নামঃ চা (বাংলা) TEA (ইংলিশ)

বৈজ্ঞানিক নামঃ ক্যামেলিয়াসিনেনসিস

 10639429_555035084624145_647603071456933887_n

 

চা মূলত ক্যামেলিয়া সিনেনসিন উদ্ভিদের পাতা, পর্ব ও মুকুলের কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া “চা” …বলতে এক ধরণের সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট পানীয়কেও বোঝানো হয়। চা’র নামকরণ করা হয় গ্রীকদেবী ‘থিয়া’ (Thea) এর নামানুসারে। এর জন্মস্থান চীনদেশে।

চা মৌসুমী অঞ্চলের পার্বত্য ও উচ্চভূমির ফসল। একপ্রকার চিরহরিৎ বৃক্ষের পাতা শুকিয়ে চা প্রস্তুত করা হয়। চীন দেশই চায়ের আদি জন্মভূমি। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য পানীয়রূপে গণ্য করা হয়।

1795564_454225251371796_1944494160_n

১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। আর ভারতবর্ষে এর চাষ শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা সিলেটে সর্বপ্রথম চায়ের গাছ খুঁজে পায়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিলেটেরমালনীছড়ায় শুরু হয় বাণিজ্যিক চা-চাষ।[২] এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র বিশ্বে ৩৮,০০,০০০ টন চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে।

চীনজাতীয় গাছের পাতা স্বাদ ও গন্ধের জন্য সুখ্যাত। কিন্তু আসামজাতীয় গাছের পাতা রঙের জন্য বিখ্যাত। এই দুই ধরণের চা-পাতার উন্নত সংমিশ্রণের উপরই এর গুণাগুন নির্ভর করে। স্বভাবতঃই চা মিশ্রণ একটি নিপুণতা ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই এটি অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদনা করতে হয়। এরূপভাবে চা মিশ্রণে নৈপুণ্যতা লাভের প্রেক্ষাপটে লিপটন, ব্রুকবণ্ড প্রভৃতি চা প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো বিশ্ববাজার দখল ও খ্যাতি লাভ করেছে।

চা গাছ হতে পাতা সংগ্রহ করতে ব্যক্তিকে যথেষ্ট নৈপুণ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। কারণ দু’টি পাতা ও একটি কুঁড়ি একসঙ্গে তুলতে না পারলে চায়ের উৎকর্ষতা ও আমেজ অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে যায়। চীন ও জাপানে বছরে গড়পড়তা তিনবার চা-পাতা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় খুব ঘন ঘন পাতা সংগ্রহ করা যায়। এদেশগুলোতে বছরে গড়ে ষোল থেকে বিশ বার পর্যন্ত চা পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

images

সবুজ চা পাতার আরও কিছু উপকারিতা:

১. কিডনি রোগের জন্য উপকারী।
২. হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।
৩. পোকামাকড় কামড়ালে যদি ওই স্থান
চুলকায় ও ফুলে যায় তাহলে সবুজ চায়ের
পাতা দিয়ে ঢেকে দিলে আরাম বোধ
হয়।
৪. রক্তে কোলেস্টোরেলের
মাত্রা কমায়।
৫. ডায়াবেটিসের জন্যউপকারী।
৬. এর লিকার দাঁতের ক্ষয় রোধ ও
মাড়ি শক্ত করে।
৭. কাটা জায়গায় গ্রিন টির লিকার
লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।

৮। এ ছাড়া চা পাতি চুলের যত্নে ও ব্যবহার করা হয় ।