জেনে নিন ই-মেইল সার্ভার কিভাবে কাজ করে !

ব্লগার রিফাত

খাওয়া, ঘুম আর ফেসবুকে আড্ডা । সারাদিন সব ইজি কাজ নিয়ে বিজি। বর্তমানে সিভিন লি: এর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে আছি। ব্যাবসা বানিজ্য নিয়েটুকটাক সাধনা। লেখাপড়া করছি সাংবাদিকতা বিভাগে।
ফেসবুকে অাড্ডা দিলে এড হতে পারেন আমার সাথে--- https://www.facebook.com/JuniorRefath
টিউন করেছেন ব্লগার রিফাত | January 17, 2014 11:33 | পোস্টটি 596 বার দেখা হয়েছে

জেনে নিন ই-মেইল সার্ভার কিভাবে কাজ করে !


ইমেইল কি?
ইলেকট্রনিক মেইলের সংক্ষিপ্ত রূপ হল ইমেইল যা এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে মানুষ পরস্পর পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে থাকে। যদিও মূলত এটি একটি টেক্সট বেসড কমিউনিকেশান সিষ্টেম কিন্তু প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে আজ এর মাধ্যমে এটাচমেন্ট হিসেবে বিভিন্ন ফরমেটের ফাইল, ছবি কিংবা চলমান ভিডিও পাঠানো সম্ভব।

email-communication-qunatech
1.jpgঅন্য কথায় বলতে গেলে এটি এমন একটি দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে একজন নেটিজেন ইউজার অন্যজন নেটিজেন ইউজারের কাছে নিমিষেই পাঠাতে পারে যে কোন ধরনের ইনফরমেশান।
কেন ইমেইল এত জনপ্রিয়?
একটি নিরীক্ষায় দেখা গেছে যে মানুষ সরাসরি কিংবা ইন্টারএকটিভ কোন ভয়েস সিস্টেমে যে কোন বিষয়কে যতটানা সাজিয়ে উপস্থাপন করতে পারে তার চাইতে ইমেইলে অনেক ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

তাছাড়া অন্যান্য কমিউনিকেশান সিস্টেমগুলোর তুলনায় এটি একবারেই সস্তা কিন্তু মানসম্পন্ন কমিউনিকেশান সিস্টেম। প্রাপকের সাময়িক অনুপস্থিতি কিংবা ব্যস্ততা এই ইমেইল কমিউনিকশান সিস্টেমে কোন বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনা।

ইমেইলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৭০ সালের দিকে রে টমলিনসন নেটেনক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে লোকাল ইমেইল সিস্টেম উদ্ভাবন করেন যা SNDMSG এবং READMAIL হিসেবে নামকরন করা হয়। ১৯৭১ এর দিকে তিনি পুনরায় আরপানেট উপযোগী একটি ইমেইল সিস্টেম উদ্ভাবন করেন। তিনই প্রথম ইমেলের প্রাপপকে চিহিৃত করার জন্য @ সিম্বল ব্যবহার করেন যা বর্তমান ইমেইল সিস্টেমে ব্যবহার হয়ে থাকে।
এর পরবর্তি সময় থেকে ক্রমান্বয়ে MAIL, MLFL, RD, NRD, WRD, MSG, MMDF ও Send Mail সহ বিভিন্ন মেইলিং সিস্টেম ও স্টান্ডার্ড উদ্ভাবিত হয়।

ইমেইল সার্ভার কি?
ইমেইল সার্ভার হল একটি এপ্লিকেশান যা প্রেরক থেকে মেইল রিসিভ, সংরক্ষন ও প্রাপকের নিকট সেই মেইল ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করে থাকে। ইমেইল সার্ভারকে MTA বা মেইল ট্রান্সফার এজেন্ট ও বলা হয়ে থাকে।
ইমেইল সার্ভারে সকল ইমেইল ক্লায়েন্ট সমূহের এড্রেস ও মেইল সংরক্ষিত থাকে। যখন কেউ কোন নির্দিষ্ট ইমেইল এড্রেস এ কোন মেইল পাঠায় তখন সেই মেইল নির্দিষ্ট কোন ইমেইল সার্ভারে এসে জমা হয়। ইমেইল সার্ভার সেই মেইলকে ক্লায়েন্ট এর কাছে প্রেরন করে থাকে।

ইমেইল ক্লায়েন্ট কি?
ইমেইল ক্লায়েন্ট হল একটি এপ্লিকেশান যা পার্সোনাল কম্পিউটার বা ওয়ার্কষ্টেশানে এনাবল থেকে মেইল সেন্ড, রিসিভ ও অর্গাইনাইজের কাজ করে থাকে। এটিকে এ কারনে ক্লায়েন্ট বলা হয়ে থাকে যে কেননা এটি ক্লায়েন্ট সার্ভার আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে ডিজাইনকৃত।
খুব জনপ্রিয় কিছু স্ট্যান্ড এলান ইমেইল ক্লায়েন্ট হল মাইক্রোসফট আউটলুক, ইউডোরা বা পেগাসাস। এছাড়া ইয়াহু, জিমেইল কিংবা হটমেইলের মতো ফ্রি মেইল সার্ভিস যারা ব্যবহার করে থাকেন তাদের ইমেইল ক্লায়েন্ট এসব কোম্পানীর ওয়েব পেজেই থাকে।

SMTP কি?
সিম্পল মেইল ট্রান্সপার প্রটোকল বা SMTP হল ইমেইল ট্রান্সপারের জন্য একটি স্টান্ডার্ড। SMTP প্রথম RFC 821 এর ভিত্তিতে ডিফাইন করা হয়েছিল। বর্তমানে SMTP এর লেটেস্ট ভার্সন ESMTP বা এক্সেটন্ডেড এস.এম.টি.পি RFC 5321 ভিত্তিতে ডিফাইনকৃত।
সকল আউটগোয়িং মেসেজসমূহ নিয়ে এই SMTP প্রটোকল কাজ করে থাকে। SMTP এই কাজে 25 পোর্ট ব্যবহার করে থাকে।

POP3 কি?
পোষ্ট অফিস প্রটোকল ভার্সন 3 সংক্ষেপে POP3 নামে পরিচিত। এটি একটি এপ্লিকেশান লেয়ার ইন্টারনেট স্টান্ডার্ড প্রটোকল যা মেইল রিসিভ এর দায়িত্ব পালন করে থাকে। এই কাজের জন্য POP3 110 পোর্ট ব্যবহার করে থাকে। POP3 এর জন্য আরেকটি অল্টারনেটিভ পোর্ট হল 995.

ইমেইলে যে কয়টি অংশ থাকে
একটি ইমেইলের প্রধানত দু’টি অংশ থাকে
১। ইমেইল হেডার: ইমেইল হেডারে প্রেরকের এড্রেস এবং প্রাপকের এড্রেসসহ আরো কিছু প্রয়োজনীয় ইনফরমেশান থাকে।
২। মেইল বডি: ইমেইল বডিতে আপনার লিখিত ইমেইল টেক্সট ও সিগনেচার থাকে।
একটি বাস্তব ইমেইল সিস্টেম যেভাবে কাজ করে থাকে
১। প্রথমে প্রেরকের ইমেইল ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্কষ্টেশন থেকে SMTP প্রটোকলের মাধ্যমে একটি ইমেইল পাঠানো হয়ে থাকে। এই ইমেইলে অবশ্যই প্রাপকের এড্রেস থাকা বাধ্যতামুলক।
২। এই মেইল পাবলিক ইন্টারনেট এরিয়ায় এসে বিভিন্ন রাউটার ক্রস করে প্রেরকের মেইলের জন্য নির্দিষ্ট করা ইমেইল সার্ভার এর এসে জমা হয়।
৩। যদি প্রাপকের ইমেইল এড্রেস একই MTA এর অধিনে হয়ে থাকে তাহলে ইমেইল সার্ভার সেই মেইলটিকে প্রাপকের কাছে সেন্ড করবে আর যদি ডিফারেন্ট MTA হয়ে থাকে তাহলে ইমেইল সার্ভার সেই মেইলকে ভিন্ন ইমেইল সার্ভারের নিকট পাঠাবে।
৪। ইমেইল সার্ভার সেই মেইলকে SMTP প্রটোকল ব্যবহার করে প্রাপকের এড্রেসএ পাঠাবে। মূলত প্রাপকের এড্রেস কিংবা মেইলের জন্য স্পেস সেই মেইল সার্ভারেই থাকে। ইমেইল ক্লায়েন্ট মেইল রিসিভ করার জন্য POP3 প্রটোকলের 25 পোর্টের মাধ্যমে SMTP প্রটোকলের 110 পোর্টের সাথে যোগাযোগ করবে।
৫। তারপর সেই মেইল আনরিড স্ট্যাটাস হিসেবে প্রাপকের ইমেইল ক্লায়েন্ট এর ইনবক্স বক্সে জমা হবে।
৬। পাঠক ইমেইল ক্লায়েন্ট ওপেন করে সেই মেইল পড়লে মেইলটির স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয়ে রিড স্ট্যাটাস হবে। প্রেরক মেইলের সাথে কোন এটাচমেন্ট পাঠালে প্রাপক তা ডাউনলোড করে লোকাল কম্পিউটারে সেভ করতে পারবে।