স্মার্টফোনঃ ট্যাবলেট এবং পার্সোনাল কম্পিউটার এর নীরব হত্যাকারী

টিউন করেছেন Mahommedan Tooheen | July 3, 2014 13:37 | পোস্টটি 635 বার দেখা হয়েছে

স্মার্টফোনঃ ট্যাবলেট এবং পার্সোনাল কম্পিউটার এর নীরব হত্যাকারী


বর্তমান বিশ্বে পিসির চাহিদা দিন দিন কমছে। ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপের বিক্রয় ক্রমাগত নিম্নগামী হচ্ছে। আর এই ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপের বিক্রয় ক্রমাগত নিম্নগামী হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় একমাত্র ট্যাবলেট এর চাহিদা বৃদ্ধি। যদিও ট্যাবলেট এর অবস্থা ভবিষ্যতে কি হবে সেটা নিয়ে এখনও বিশেষজ্ঞরা চিন্তার ভিতরে আছে কিন্তু তবুও অনেক বড় বড় কোম্পানির মনোযোগ (যেমন- অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ইত্যাদি) এখনও ট্যাবলেট বিশ্বের দিকে তাকিয়ে। কেননা প্রথাগত কম্পিউটার এবং পিসি বাজারে চাহিদা স্থিরভাবে থাকলেও ট্যাবলেট এর চাহিদা সেই তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছে।

অ্যাপল এর আইপ্যাড বিক্রির সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের সর্বশেষ বিক্রি তাদের প্রাথমিক বিক্রির (আইপ্যাড বিক্রির সূচনাকাল) চাইতে এক-চতুর্থাংশ কম। এই পরিসংখ্যান থেকে এতটুকু ধারনা পাওয়া যায় যে, ট্যাবলেট এবং পিসির মধ্যে একটি গভীর স্থানান্তর চলছে। কারণ এই ডিভাইসগুলো মৌলিকভাবে ভবিষ্যতে কতটুকু ব্যবহার করা হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

ট্যাবলেট গত কয়েক বছর ধরে একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারছে যেটা প্রথাগত কম্পিউটার এবং পিসি পারে নাই। যদিও ট্যাবলেট এর গ্রহনযোগ্যতা তরুণদের মধ্যেই বেশি ছিল। কিছু রিসার্চ অনুযায়ী-

১৬% ট্যাবলেট ব্যবহারকারী যাদের বয়স ১৫-২০ বছর
১৮% ট্যাবলেট ব্যবহারকারী যাদের বয়স ২০-২৯ বছর
২৫% ট্যাবলেট ব্যবহারকারী যাদের বয়স ৩০-৫৫ বছর

ইন্টারনেট পরিবর্তন

বর্তমানে ইন্টারনেট বিশ্বে দুই ধরনের ব্যবহারকারী আছে।

পুরনো প্রজন্মঃ পুরনো প্রজন্মরা ইন্টারনেট দ্বারা একটি ওয়েব ব্রাউজার বা ইমেইল ক্লায়েন্ট এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া করে। এই  প্রজন্ম ওয়েবসাইট পরিদর্শন এবং বিষয়বস্তু খুঁজে পেতে এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করতেই মুলত বেশি অভ্যস্ত। আর এই কাজে আরও সহজে করার জন্য তাদের মধ্যে ট্যাবলেট এর চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। কেননা ট্যাবলেট অনেক চমৎকার, এর বড় পর্দা আছে এবং ডেস্কটপ এর মত খুব সহজেই কাজ করে ।

নতুন প্রজন্মঃ এই প্রজন্ম ইন্টারনেট দ্বারা ডেস্কটপ ইমেইল, ইন্টারনেট ফোরাম, সোশ্যাল সাইট, চ্যাট রুম, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, মেসেজ বোর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপস বেশি ব্যবহার করে থাকে। আর এই সমস্ত কাজের জন্য নিঃসন্দেহে পিসি এর চাইতে ট্যাবলেট অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং আরও অনেক বেশি ফিচারযুক্ত।

এখন একটু চিন্তা করেন যদি এই পরিবর্তনগুলো পুরনো ইন্টারনেট ব্যবস্থায় হয়ে থাকে তাহলে নতুন ইন্টারনেট দেখতে কিরকম হবে?

নতুন প্রজন্মের জন্য এই প্রশ্নের উত্তর জানা অনেকটাই সহজ। কেননা তারা চায় আরও অনেক বেশি ফাংশন, উচ্চতর টেকনোলজি এবং ইচ্ছেমত ফিচার কাস্টমাইজ করে সহজে ব্যবহার করা যায় এমন সব ডিভাইস। বর্তমান তরুনেরা জন্মগতভাবে তাদের প্রাথমিক কম্পিউটিং ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে মোবাইল, যে ডিভাইস তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার এর ধারনা অনেকটাই পরিবর্তন করে দেয়। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭৪% টিনএজার তাদের ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে।

তরুন প্রজন্মেরা এখন আর ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করার জন্য ট্যাবলেট এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে না এবং তাদের এই ধারনা সৃষ্টি হয়েছে অ্যাপস ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। তারা মোবাইল ডিভাইস এর মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শিখে। এই প্রজন্মের কাছে সিঙ্গেল ওয়েব ব্যবহার করার জন্য পিসি, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ অনেকটাই ধীরগতি এবং উদ্দেশ্যহীন যেখানে তারা স্মার্টফোন এর মাধ্যমে আরও অনেক বেশি ফিচার, অ্যাপস উপভোগ করে থাকে। আর বড় বড় কোম্পানিরা এই প্রবণতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করছেন যেন তাদের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন এবং পরিষেবার পরিসীমা একটি নতুন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে।

ইন্টারনেট এর এই পরিবর্তনের প্রাথমিক অবস্থায় ফেসবুক উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে কিভাবে একটি অ্যাপস তাদের নিজস্ব সত্ত্বাকে অন্যদের চাইতে আরও বেশি পৃথক করতে পারবে এবং তাদের ব্যাবসা আরও বৃদ্ধি করতে পারবে! আর তাই এখন ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী অ্যাপস যেটা ফেসবুকের মেইন অ্যাপস থেকে পৃথক করা হয়েছে। এবং অন্যান্য কোম্পানি এই ধরনের চিন্তাধারার মধ্যে এখনও আছে। এই ধরনের চিন্তাধারা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে তরুনেরা ভবিষ্যতে যতটুকু ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার এর জন্য সময় দিবে তার চাইতেও মোবাইল এর অ্যাপস ব্যবহার করার জন্য আরও অনেক বেশি সময় দিবে।

বিকেশিত ওয়েব মাধ্যম

আমি কখনও বলি নাই যে ট্যাবলেট ব্যবহারের উপযুক্ত নয় কিন্তু এই ধরনের চিন্তাধারার কারণে স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট এর মধ্যে এক ধরনের অস্পষ্টতা আসছে। যদিও এই ধরনের ডিভাইস অতীতে আসছে এবং গেছে।

একটি স্মার্টফোন এর স্ক্রীনসাইজ সাধারণত ৪.৫” থেকে ৫” হয়ে থাকে। দিনে দিনে স্মার্টফোন এর চাহিদা যতই বাড়ছে ঠিক ততই ট্যাবলেট এর চাহিদা সংকুচিত হচ্ছে। ট্যাবলেট এর চাহিদা আরও কমার কারণ স্মার্টফোন এর স্ক্রীন আর ব্যাটারির আরও ভাল টেকনোলোজির জন্য। সবাই কাজ করছে এখন কিভাবে এই স্মার্ট ডিভাইসগুলোকে আরও বেশি শক্তিশালী করা যায় সেটার উপর। যদিও ট্যাবলেট আর স্মার্টফোন একইরকম অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা পরিচালিত কিন্তু ট্যাবলেট ব্যবহারকারীরা ন্যাটিভ অ্যাপস এর জন্য স্মার্টফোন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ভবিষ্যতে কোন ডিভাইস থাকবে আর কোন ডিভাইস বিলীন হয়ে যাবে সেটা একমাত্র তরুণদের উপরই নির্ভর করবে। যতই দিন যাচ্ছে তরুনেরা ট্যাবলেট এর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছে এবং স্মার্টফোনগুলোর প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তবে আবার এটাও হতে পারে যে হয়ত দুই ধরনের ডিভাইস অবিরতভাবে চলতে থাকবে। তবে আমার মনে হয় স্মার্টফোন এর ব্যাটারি আর স্ক্রীনসাইজ যেভাবে আরও আকর্ষণীয় হচ্ছে তাতে হয়ত এই দুই ধরনের ডিভাইস মিলে একটি ডিভাইস-এ পরিনত হতে পারে যেটা খুব সহজেই পকেটে ঢুকতে পারবে। আর এই ধরনের ডিভাইস এর শুরু হতে যাচ্ছে আইপ্যাড মিনি বিক্রির মাধ্যমে। যেটা অ্যাপল এই বছরের শেষে তাদের সবচাইতে বড় স্মার্টফোন এর বিক্রির মাধ্যমে বড় বড় আইপ্যাডগুলোকে খেয়ে ফেলবে।

একটু অপেক্ষা করেন কারণ এই ধরনের পরিবর্তন শুধু সময়ের ব্যপার মাত্র।।