এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ তারুণ্যের হাত ধরে

টিউন করেছেন Fahim Ashhab | June 10, 2014 11:51 | পোস্টটি 1,029 বার দেখা হয়েছে

এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ তারুণ্যের হাত ধরে


উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিটি ধাপে ধাপে অল্প অল্প করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে দেশের তরুন সমাজ। তাদের চোখে যেমন স্বনির্ভরতার আলো, তেমনি দৃঢ় প্রত্যয় বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর এবং উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আজ নেয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন উন্নত এবং কার্যকরী উদ্যোগ। এসবের মধ্যে কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়ে আমার এ লেখা, আশা করি ভাল লাগবে।

চার্জ দিয়ে চলবে সোলার ফেরি

সম্পূর্ণ পরিবেশ দূষণমুক্ত এবং কম খরচ সহ বিভিন্ন সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত তৈরি হতে যাচ্ছে সোলার ফেরি যা চার্জের মাধ্যমেও চলবে।

index ferry

নদীমাতৃক বাংলাদেশ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের কথা চিন্তা করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সেন্টার ফর অ্যানার্জি রিসার্চ বিভাগের উদ্যোগে তৈরি হবে এই সোলার ফেরি।

প্রায় এক সপ্তাহ জরিপ চালিয়ে এবং মাঝিদের সাথে কথা বলে, তাদের বিভিন্ন সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই সোলার ফেরি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ উদ্ভাবনের উল্লেখযোগ্য দিক হল এতে, ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারিচার্জের জন্য ২৫০ ওয়াটের দু’টি সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। সূর্যের আলোয় একবার চার্জ দিতে সময় লাগবে ৬ঘণ্টা।চলবে দিনের অর্ধেক সময়।একবারে গড়ে ১৩জন মানুষ চলাচল করতে পারবেন। এছারাও দেখতে সাধারণ নৌকার মতোই, রয়েছে যাত্রী পারাপারসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধা।

কম খরচের এই সোলার ফেরি উদ্ভাবন মাঝিদের ব্যায় কমান সহ দেশের অগ্রযাত্রায় বিশাল ভুমিকা পালন করবে।

ওয়েবসাইট, সফটওয়ার বানাচ্ছে দেশীও কোম্পানি

আগে বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, বড় বড় কোম্পানিগুলোকে তাদের ওয়েবসাইট তৈরি করতে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির দ্বারস্থ হতে হত। এছারাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাবহারিত বিভিন্ন সফটওয়ার নিতে হত বাইরের কোম্পানি থেকে। যা ছিল অত্যন্ত ব্যায়বহুল।

index website

কিন্তু সে সময়কে পেছনে ফেলে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে ওয়েবসাইট এবং সফটওয়ার।

সেরকমই একটি প্রতিষ্ঠান রায়ানসফট। এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে বিভিন্ন সফটওয়ার যা বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর দৈনিক চাহিদার। আর যেহেতু তৈরি করছেন দেশিও ডেভেলপাররা সেহেতু খরচও পড়ছে অনেক কম।

তাদের তৈরি করা বিভিন্ন সফটওয়ারের মধ্যে আছে ‘ইনভেন্টরই ম্যানেজমেন্ট’, ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট’, ‘স্কুল ম্যানেজমেন্ট’ ইত্যাদি যেগুলো ব্যাবহার করছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

index software

অতি সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান মোবাইলের ব্যালেন্স রিচারজের সুবিধার্থে বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে একটি সফটওয়ার যার মাধ্যমে সাধারন মানুষ অতি সহজেই এবং কোন ঝামেলা ছাড়াই ব্যালেন্স রিচারজ করতে পারবে।

এছারাও তাদের বিভিন্ন সেবার মধ্যে রয়েছে অনলাইন সাপোর্ট, ফ্রি সার্ভিসিং ইত্যাদি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে তাদের ফেসবুক গ্রুপে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করে।

 

পরিবেশবান্ধব ডিজিটাল রিক্সা

বাংলাদেশে রিক্সা একটি জনপ্রিয় বাহন। ইতিমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মোটর সংযুক্ত হয়ে আধুনিকরূপ নিয়েছে চিরপরিচিত রিক্সা, বাঁচিয়ে দিচ্ছে সময় এবং শ্রম।

images rickshaw

আধুনিক হলেও মোটেই পরিবেশবান্ধব নয় মোটর চালিত রিক্সাগুলো।কেননা ব্যাটারি চালিত হওয়ায় বিপুল পরিমাণ রিক্সা চার্জ করতে চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপর।যার ফলশ্রুতিতে বেড়ে যাচ্ছে লোডশেডিং।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি রিক্সা আরও একটু এগিয়ে নিতে চিন্তা করেছে ইউআইইউ’র একদল গবেষক।

জনপ্রিয় এই বাহনে মোটরযুক্ত হওয়ায় একদিকে রিক্সাচালক, ব্যবসায়ী উপকৃত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও উপকৃত হচ্ছেন একিভাবে।কিন্তু আধুনিক এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় তারা চিন্তা করেন রিক্সা কি ভাবে পরিবেশবান্ধব এবং ডিজিটালাইজড করা যায়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোলার পাওয়ারের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।আর আমাদের দেশেও সূর্যের আলো পাওয়া খুবই সহজ। তাই রিক্সায় সোলার প্যানেল ব্যাবহার করা একেবারেই সহজ। আর এ কথা মাথায় রেখেই তারা রিক্সাটিতে সোলার প্যানেল এবং ব্যাটারিকে সংযুক্ত করেছে একটি মাইক্রো কন্ট্রোলার দিয়ে। যা ব্যাটারি কী পরিমাণ চার্জ হবে এবং কখন হবে তা নিয়ন্ত্রণ করবে।আবাসিক ব্যবহারের জন্য সোলার প্যানেল ২৩ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দক্ষিণমুখী রাখা হয়।রিক্সা সোজা করে রাখায় ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেলটি যাত্রী এবং চালকের মাথায় ছাদ হিসেবেও কাজ করবে।৪৮ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি একবার পুরোপুরি চার্জ করলে টানা ছয় ঘণ্টা চলতে সক্ষম।

চালক রিকশা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে ছয় ঘণ্টা সূর্যের আলোতে থাকলেই ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হয়ে যাবে।

এছারাও রিক্সার দুর্ঘটনা কথা চিন্তা করে এই রিক্সার পেছনের চাকায় হাইড্রোলিক ব্রেক রাখার চিন্তা করা হয়েছে।কেননা ব্রাসলেস ডিসি মোটরের গতির সাপেক্ষে রিকশার সাধারণ ব্রেক অক্ষম।
আর এভাবেই দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে দেশের তরুন সমাজেরা। শুধু দরকার একটু উৎসাহ এবং সরকারি পৃষ্টপোষকতা। তাহলেই এগিয়ে যাওয়ার এ ধারা চলতে থাকবে সেই সাথে উন্নত হবে বাংলাদেশ।