আমি কি পারব অনলাইনে কাজ করে টাকা আয় করতে?(শেষ পর্ব)

Rumana Zaman Nupur

Hey, I am SEO expert & Graphic designer. Especially I am expert in Keyword research, Article writing, E-mail-marketing & Graphic designining. I am also interested to know & to learn new topics.
টিউন করেছেন Rumana Zaman Nupur | June 5, 2014 08:05 | পোস্টটি 1,840 বার দেখা হয়েছে

আমি কি পারব অনলাইনে কাজ করে টাকা আয় করতে?(শেষ পর্ব)


IT Professional Network
আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন, যাদের অনলাইনের কাজগুলো সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। যখন একটি বিষয় সম্পর্কে না জেনে কেউ কিছু বলেন বা মন্তব্য করেন, তখন অনেকেই এটা মেনে নেয়। কারন আমরা তো যাচাই করিনা।
গত পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিল, কোন কোন কাজের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা যায়। কোন কারনে হয়ত কেউ পড়তে পারেননি, তাদের জন্য গত পর্বের লিঙ্কটি
http://genesisblogs.com/technology/4431

আজকের আলোচ্য বিষয়:
কাজ কি নিজে নিজে শিখতে পারব?
কোথায় কাজ শুরু করব?
কাজ পাওয়ার জন্য কিছু টিপস
কত আয় করা সম্ভব?

কাজ কি নিজে নিজে শিখতে পারব?

অবশ্যই পারবেন, যদি আপনি জানেন কিভাবে শিখতে হয়। কাজ শেখার সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হল গুগলকে প্রশ্ন করা। আপনার প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই গুগলের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। এছাড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে, যেখানে ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়াল দেয়া আছে। এছাড়াও মার্কেটে অনেক বই এবং ডিভিডি পাওয়া যায়। সেখান থেকেই শিখতে পারবেন বা প্রাথমিক ধারণা নেয়া সম্ভব। এরপর প্রয়োজনে যেকোন ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে এডভান্স কোর্স করতে পারেন। যেমন- আমি Creative IT Institute Of Bangladesh থেকে এসইও কোর্স করছি স্কলারশিপে। হয়ত আমার মত অনেকেরই কোর্স ফি নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিং উপযোগী শর্ট কোর্স করতে পারেন। এখন ক্রিয়েটিভ আইটিতেও পাবেন এই অপূর্ব সুযোগটি। কিন্তু প্রথমে অবশ্যই বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিবেন।

কোথায় কাজ শুরু করব?

আমার মতে, সবচেয়ে ভাল হল নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে অনায়াসেই কাজ শুরু করা। সেক্ষেত্রে আপনার বসে থাকতে হবেনা। কিন্তু অনেকেই হয়ত মার্কেটপ্লেসেই কাজ করতে আগ্রহী। অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে, সেখানে একাউন্ট খুলেও কাজের জন্য বিড করতে পারেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে ধৈর্য্যের প্রয়োজন আছে। কারন বিড করার সাথে সাথেই তো কাজ নাও পেতে পারেন। কয়েকটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস হল www.odesk.com, www.elance.com, www.freelance.com প্রভৃতি।

কাজ পাওয়ার জন্য কিছু টিপস:

অনেকেই বলে কাজ পাইনা, আসলে সত্যি কথা কাজ জানলে আপনাকে বসে থাকতে হবেনা। যারা কাজ পাইনা বলছেন, তারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন  কেন কাজ পাচ্ছেন না, কোথায় অসুবিধা বা সেটা সমাধানের উপায়? কাজ পাওয়ার জন্য কিছু করণীয় বিষয়:

নিজের প্রোফাইল তৈরি: প্রথমে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন খুব ভালভাবে, কারণ এখানে আপনি কথা বলে কাউকে বুঝাতে পারছেন না, আপনি কাজ জানেন সেটা আপনার প্রোফাইল বলে দিবে। প্রোফাইলে আপনার হাসি মুখের ছবি দিবেন কেননা এতে সবাই আপনাকে বন্ধুসুলভ মনে করবে। এছাড়া প্রোফাইলে আপনার পোর্টফোলিও যোগ করুন এবং এটি ১০০% কমপ্লিট করুন।

কভার লেটার: আপনার প্রোফাইল তৈরি হয়ে গেলে নিজের কাজের ধরণ অনুযায়ী বিড করা শুরু করবেন। বিড করতে গেলে কভার লেটার তৈরি করতে হয় যা খুবই গুরত্বপূর্ণ। কারণ ক্লায়েন্ট আপনার কভার লেটার পড়ে সিদ্ধান্ত নিবে, কাজটা আপনাকে দিবে কিনা বা আপনার ইন্টারভিউ নিবে কিনা। লেটার লেখার আগে কাজের বর্ণনা ভালভাবে পড়ে নিবেন। কারণ অনেক সময় কভার লেটারের উপরে কিছু শব্দ বা লাইন লিখতে বলে। অনেকে না পড়ে বিড করার কারণে কাজটি হাতছাড়া হয়ে যায়। সেজন্য বর্ণনা পড়ে সে অনুযায়ী কভার লেটার তৈরি করুন।

বিডের সময় লক্ষনীয় বিষয়: অনেকে মনে করেন, যে কম টাকা দিয়ে বিড করলে কাজ পাওয়া সম্ভব। মনে করেন, আপনি একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে গেছেন যার মূল্য ৫০ টাকা। এখন দোকানদার যদি আপনাকে সেই বিস্কুট ২০ টাকায় দেয় তখন সেই বিস্কুটের কোয়ালিটি নিয়ে আপনার সন্দেহ হবে। ঠিক তেমনভাবেই যখন আপনি কম টাকায় বিড করেন, তখন ক্লায়েন্টেরও সন্দেহ হয় আপনি কাজটি জানেন কিনা। সুতরাং বিড করার সময় উচিৎ মূল্যে বিড করবেন।
online

হতাশাকে না বলুন: কাজ শুরু না হতেই হতাশায় ডুবে যাবেন না। বা আপনি বলতে পারেন আপনি অনেক দিন যাবৎ চেষ্টা করছেন, কিন্তু হচ্ছেনা। আসলে এক্ষেত্রেও হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। চেষ্টা করার পরেও না হলে তখন বের করতে হবে, কোথায় ভুল হচ্ছে অথবা সমস্যা আছে। সেটা খুজে বের করে সমাধান করুন, তাহলেই হবে।

সময় এবং প্রচেষ্টা: একটু চেষ্টা এবং ধৈর্য্য ধরে যদি আগাতে পারেন, তবে আপনাকে কাজ খুঁজতে হবেনা, কাজই আপনাকে খুজে নিবে। এখন প্রশ্ন হল এর জন্য কতটুকু সময় দিবেন। এটা নির্ভর করে আপনার ইচ্ছা এবং আপনি কি পরিমান আয় করতে চান তার উপরে। কি পরিমান আয় করতে চান এটা বের করলে আপনি বুঝতে পারবেন এর জন্য কতটুকু সময় আপনাকে বের করতে হবে।

পজিটিভ মনোভাব: আসলে আমরা সবাই ভাল আশা করলেও সবসময় ভাল কিছু হয়না। কিন্তু তাই বলে কি আমরা থেমে থাকি, তা তো না, বরং সেটা থেকে শিক্ষা নিতে চেষ্টা করি। বাস্তবে যেরকম কিছু মানুষ অন্যদেরকে ঠকাতে চেষ্টা করে, অনলাইনেও এরকম মানুষ আছে, যেখানেই যান না কেন আপনাকে এসব বাধা অতিক্রম করতে শিখতে হবেই। অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে আপনি হয়ত ধোঁকাতে পড়েছেন। তাই বলে কি থেমে থাকবেন? এখান থেকেও আপনি শিখে এগিয়ে যেতে পারেন আপনার পজিটিভ মনোভাবের জোরেই। সত্যি এবং মিথ্যা প্রচারণার পার্থক্য বুঝে সমাধান করতে পারলে সবই সহজ। “আমাকে দ্বারা হবেনা” এর বদলে বলুন “আমি অবশ্যই পারব, যদি আমি করতে চাই”। করতে চান কিনা তা তো আপনার উপরেই নির্ভর করে।

কত আয় করা সম্ভব:

আমি এখানে কোন হিসাব বা গ্রাফ দেইনি কারন এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার যোগ্যতা এবং প্রচেষ্টার উপরে। এছাড়াও কোন কাজ করছেন, সেটার চাহিদা কেমন প্রভৃতির উপরেও নির্ভর করে। কেউ ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে মাসে লাখের উপরে আয় করছে। কিন্তু যে একেবারেই নতুন কাজ শুরু করছে, শুরুতেই তার পক্ষে এই আয় করা সম্ভব না। এটা কোন জুয়া বা ম্যাজিক নয়, যে ক্লিক করলাম আর লাখ টাকা আয় করলাম। তাই শুরু থেকে শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে প্রচেষ্টার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী আয় করা সম্ভব।
এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত যেকোন প্রশ্ন করতে পারেন Saidur Mamun Khan ভাইয়াকে।

টাকা কোথা থেকে তুলব?

আমাদের দেশ থেকে paypal একাউন্ট করা যায়না দেখে, পরিশ্রম করে টাকা আয় করার পরে সেটা তুলতে গিয়ে অনেকেই অনেক রকম সমস্যাতে পড়ে। এটার সমাধান আছে আপনারই কাছে। যদি আপনার পরিচিত কেউ আমেরিকা বা কানাডাতে থাকে, তাদের মাধ্যমে আপনি paypal একাউন্ট খুলতে পারেন খুব সহজেই।

যারা আমার মত অভাগা, অর্থ্যাৎ যাদের পরিচিত কেউ দেশের বাইরে থাকেনা, তারা কি করবেন? এরও সমাধান আছে, paypal একাউন্ট ছাড়াও অন্য একাউন্টের মাধ্যমেও টাকা তুলা সম্ভব। যেমন- payoneer একাউন্ট। এই একাউন্টের কিছু সুবিধাও আছে।

কারো referral link ব্যবহার করে একাউন্ট খুললে আপনি ২৫ ডলার পাচ্ছেন, যার লিঙ্ক ব্যবহার করছেন, সেও পাচ্ছে, অর্থ্যাৎ দুজনেই লাভবান হচ্ছেন।

Payoneer master card কে একসময় paypal card এ রূপান্তরিত করা সম্ভব।
যদি কারো Payoneer একাউন্ট খুলতে লিঙ্কের প্রয়োজন হয়, তবে আমার এই লিঙ্কটি (http://share.payoneer-affiliates.com/a/clk/1CdnDq) ব্যবহার করতে পারেন।

এডসেন্স ও অন্যান্য কিছু সাইট আছে যারা চেকের মাধ্যমেও টাকা পাঠায়।এছাড়াও এলার্টপ, মানিবুকারস, ইগোল্ড এর মাধ্যমেও টাকা তুলে নেয়া সম্ভব।

উপরের আলোচনায় আমরা বুঝতে পারছি, যে কোন কাজ করতে গেলে প্রথমে নিজের আগ্রহ, কাজের ধরন এবং দক্ষতা সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিৎ। এতে পরবর্তীতে কি করনীয় তা খুব সহজেই বের করা সম্ভব। আপনি সবই পারবেন, যদি আপনার মাঝে আত্মবিশ্বাস,আগ্রহ এবং চেষ্টা থাকে । আর কোন কিছুই আপনাকে রাতারাতি বড়লোক করে দিতে পারবে না,সেজন্য সময় এবং শ্রম দুটোই লাগবে; হয়ত কারো কম, হয়তবা কারো বেশি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগাতে পারলে সাফল্য অনিবার্য।