ইকমার্স উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎকার (অতিথি: ইফাত শারমিন, জামদানী ভিল)

টিউন করেছেন admin | June 20, 2015 00:47 | পোস্টটি 1,321 বার দেখা হয়েছে

ইফাত শারমিন এসইও কোর্স সম্পন্ন সেই এসইও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। দেশীয় বিভিন্ন বিখ্যাত প্রোডাক্ট নিয়ে তার ব্যবসার পরিকল্পনা। বর্তমানে অরিজিনাল জামদানী শাড়িকে সরাসরি কারিগরের কাছ থেকে এনে ভোক্তার কাছে পৌছিয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। আর এ কাজটি করার জন্য অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যার নাম দিয়েছেন জামদানি ভিল ( ফেসবুক: https://www.facebook.com/JamdaniVille, ওয়েবসাইট: http://www.jamdaniville.com/) তার সাথে জেনেসিসব্লগসের টীমের আড্ডাটে উঠে এসেছে অনেক না জানা গল্প।

ifat sharmin

১) আপনার অনলাইন ভিক্তিক ব্যবসাটি কবে শুরু করেছেন? আপনার ব্যবসার ধরনটি সম্পর্কে কিছু বলুন।

ইফাত শারমিন: ব্যবসা বলতে যা বুঝায়, সেটা শুরু করেছি জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে। জামদানি শাড়ি নিয়ে আপাতত কাজ করছি, তবে আমার ভবিষ্যৎ প্লান আছে আরো কিছু করার, অবশ্যই তা দেশীয় পণ্য নিয়ে, যেগুলো আমাদের দেশের মানুষের কাছে কোন মূল্য পাচ্ছে না।

২) বর্তমানের টিম মেম্বারদের (ফেসবুক আইডিসহ) সাথে সবাইকে পরিচয় করে দিবেন।

ইফাত শারমিন:  কোন টিম নেই আমার। আমি একাই চালাচ্ছি এখন সব কাজ। তবে আমাকে সেই শুরু থেকেই নানা রকম ভাবে পরামর্শ দিয়ে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে প্রথমেই আমি উল্লেখ করবো ক্রিয়েটিভ আইটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ইকরাম ভাই , ), e-Commerce Association of Bangladesh (e-CAB) এর প্রেসিডেন্ট রাজিব আহমেদ  ভাইয়া, আসিফ আনোয়ার পথিক , রিফাত  , আশফাক সুমন আমার ছোট ভাই এর স্ত্রী এবং আমার বোনরা। তাঁদের সবার অবদান আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।

৩) শুরুর দিকের কিছু কথা সবার সাথে শেয়ার করার অনুরোধ করছি।

ইফাত শারমিন: আসলে জামদানি ব্যবসা টাকে আমি আমার নিজের জন্য বেছে নেই নি, আমার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছে কিছু খেটে খাওয়া মানুষ, জড়িয়ে আছে জামদানি শিল্প। তাই আমার কাজটা কে প্রথমেই আমি দুই ভাগে ভাগ করে নিয়েছি, এক দিকে থাকবে জামদানি তাঁতিরা, অন্যদিকে আমার ব্যবসা। সরাসরি তাঁতি দের কে আমি আমার সাথে সম্পৃক্ত করার কারণ হলো, যে জামদানি নিয়ে আমি কাজ করবো, তার বেনিফিট যেন পায় জামদানি তাঁতিরাও। ব্যবসা শুরু করার আগে আমি এক বছর শুধু ঘুরেছি জামদানি শিল্পীদের বাড়ি বাড়ী। তাঁদের জীবন দেখেছি, কাজ দেখেছি, চিনেছি জামদানি কে।
এই কাজটিও ছিলো অনেক কঠিন, কিন্তু আমি পিছিয়ে আসিনি। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে জামদানির শিকড় পর্যন্ত যাবার চেষ্টা করেছি। কারণ আমি এই টুকু বুঝেছিলাম, যে জিনিসটি নিয়ে আমি কাজ করবো, আগে সেটার খুব কাছে যেতে হবে আমাকে, জানতে হবে তার সব কিছু, চিনতে হবে তাকে ভালো করে।
আর ব্যবসা শুরু থেকে কখনো ভালো, কখনও বা মারাত্মক কঠিন সময় পার করছি।

৪) কত পূজি নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেছেন?

ইফাত শারমিন: ব্যবসা মানেই পুঁজি, তবে আমি পুঁজির কথা আগেই ভাবিনি। প্রথমে আমি আমার পথ তৈরি করেছি, তারপর চলার কথা ভেবেছি। পথ সৃষ্টি করে আমি যাত্রা শুরু করেছিলাম ৩টা জামদানি দিয়ে। সেগুলো বিক্রী হবার পর আমার মনে হয়েছে আমি ঠিক ভাবেই এগুচ্ছি। তখন পুঁজির কথা ভেবেছি।
আমার মেইন পুঁজি আমার সততা, একনিষ্ঠতা এবং একাগ্রতা।

৫) ব্যবসার সফলতার প্রধান কাজ প্রচার। এ প্রচারের কাজটি কিভাবে করছেন?

ইফাত শারমিন: সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং আমাকে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের নানান দেশে নিয়ে গেছে। ফেসবুক মার্কেটিং আমার সেল হতে সাহায্য করছে। আর টুইটার, পিন্টারেস্ট, লিঙ্কডিন আমার কাজ কে ছড়িয়ে দিচ্ছে দেশ থেকে দেশের বাইরে।
সোশাল মিডিয়া না থাকলে আমার পক্ষে হয়তো সম্ভব হতো না এতো অল্প সময়ের মধ্যে এতো দূর এগিয়ে যাওয়া।

৬) এ ব্যবসাটি পরিচালনা করতে প্রতিদিন কিরকম সময় ব্যয় করতে হয়?

ইফাত শারমিন: অন্যরা কেমন সময় ব্যয় করেন, সেটা জানিনা, কিন্তু যেহেতু আমি একাই করছি সব কাজ, তাই আমার তো মনে হয় আমি ২০ ঘণ্টাই কাজ করি। কোন ছুটি নেই, কোন অবসর নেই আমার।

৭) ব্যবসাটি পরিচালনা করতে সার্বিক কাজের তালিকাটি সবাইকে জানাতে চাচ্ছি।

ইফাত শারমিন:  আমার কাজ কে আমি যেভাবে সাজিয়েছি, তা হলো,
প্লানিং, হার্ড ওয়ার্কিং এন্ড মনিটরিং।

৮) ব্যবসাটি পরিচালনা করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

ইফাত শারমিন: প্রথমেই যে প্রব্লেমটা আমি ফেস করেছি, সেটা হলো কুরিয়ার সার্ভিস নিয়ে। এটা একটা বড় ধরণের সমস্যা। এমনও হয়েছে যে আমার ১০ হাজার টাকার শাড়িও চুরি হয়ে গেছে। তারপর আরো একটা সমস্যা হলো, ঢাকাতে ক্যাশ অন ডেলিভারী সিস্টেম থাক্লেও , ঢাকার বাইরে নেই। কিন্তু গ্রাহকরা বেশী প্রেফার করে ক্যাশ অন ডেলিভারি কে।
আমাদের পাশের দেশ গুলো ই-কমার্স এর ক্ষেত্র গুলোতে অনেক এগিয়ে গেলেও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এই অনলাইনে কেনা কাটা করা যায়, এই ব্যাপারটাই অনেকে জানে না। আরো একটা ব্যাপার আমাদের ক্ষতি করছে, অনেক ফ্রড আছে অনলাইনে। এরা গ্রাহক দের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রডাক্ট দিচ্ছে না, বা দিলেও খুব বাজে প্রডাক্ট বা অন্য কিছু পাঠিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অনলাইন স্টোর গুলোর প্রতি অনেকের অবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। এর ফলে আমরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছি। একবার যে ঠকেছে, সে আর অনলাইন থেকে কিছু কিনতে আসছে না। তাই আমরা ক্রেতা হারাচ্ছি।

jamdani vill

৯) বাজারে গিয়ে না কিনে আপনার কাছ থেকেই কেন কিনবে, সেটি অল্প কথাতে উল্লেখ করুন।

ইফাত শারমিন: আমরা যারা অনলাইন শপ চালাচ্ছি, তাঁরা আগেই মার্কেট যাচাই করছি। কারণ মার্কেট থেকে কম মূল্যে না পেলে আমরা ক্রেতাদের কে আকৃষ্ট করতে পারবো না। রাস্তার অসহ্য জ্যামের মধ্যে না গিয়ে ঘরে বসেই বাজার থেকে কম মূল্যে যখন একটি জিনিস পাওয়ার সুযোগ থাকে, তখন সেই সুযোগটি হাত ছাড়া করবেন কেন ক্রেতা রা?

১০) যাদের সহযোগিতা পাচ্ছেন, তাদেরকে এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে পারেন।

ইফাত শারমিন:  আমি প্রথমেই যাদের নাম উল্লখে করেছি, তাঁদের সবার প্রতি আমার অশেষ ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।

১১) নতুনরা অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা শুরু করতে চাইলে কি কি প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিবেন?

ইফাত শারমিন:  হুজুগে পড়ে যেন কেউ হুট করে এই ব্যবসায় নেমে না যায়। আগে ভালো করে বুঝতে হবে, জানতে হবে, তারপর মাঠে নামতে হবে। যে প্রডাক্টটি নিয়ে ব্যবসা করার প্লান থাকবে, সেটা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে সময় নিয়ে। এই ক্ষেত্রে তাড়া হুড়া করা মানে অনিবার্য পতন। আমার দেখা অনেকেই তাড়াহুড়া করে কাওকে দেখে এই ব্যবসায় নেমে লাখ লাখ টাকার লোক্সান গুনছেন।

১২) ইকমার্স ব্যবসার প্রসারে সরকারের কাছে কি সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন?

ইফাত শারমিন: এখন সব কিছুর আগে এক্টাই প্রত্যাশা, ই-কমার্স এর উপর থেকে ৪% ভ্যাট প্রত্যাখ্যান করা হোক, ভ্যাট মুক্ত রাখা হোক অন্তত ২০২০ সাল পর্যন্ত। তা না হলে এই সেক্টরটি এগিয়ে যেতে পারবে না।

জেনেসিসব্লগসের পক্ষ হতে বাংলাদেশে যারা ইকমার্স ব্যবসা করছেন, তাদেরকে সবার সাথে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য নিয়মিত এ আয়োজনটি শুরু হলো।  আশা করি এ আয়োজনটি নতুন নতুন আরো উদ্যোক্তা তৈরিতে যেমন সাহায্য করবে,  তেমনি যারা  ইকমার্স ব্যবসা করছেন, সেগুলো কে সবার সামনে পরিচিত করতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে ইকমার্স ব্যবসার প্রসারে জেনেসিসব্লগসের এ উদ্যোক্টির পাশে থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।

নতুন কোন উদ্যোক্তা সাক্ষাৎকার দিতে চাইলে এ ফরমটি ডাউনলোড করে নিন, পূরন করে নির্দিষ্ট মেইলে পাঠিয়ে দিন। সাক্ষাৎকার ফরম লিংক