মোবাইল ফোনের সকল পণ্যের দাম-দর সম্পর্কে ধারণা

টিউন করেছেন adhora | March 8, 2015 23:57 | পোস্টটি 3,947 বার দেখা হয়েছে

মোবাইল ফোন এখন শুধুমাত্র কথা বলার জন্যই ব্যবহার হয়না।  গান শোনা, ইন্টারনেটসহ আরো অনেক কাজে ব্যবহার করার চিন্তা মাথাতে রেখে সবাই মোবাইল কিনার সময় বাজেট বাড়িয়ে নেয়। আজকে এ মোবাইলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী কেনাকাটি করার জন্য দাম সম্পর্কে ধারণা দিব।

galaxy

হেডফোন:

 বর্তমান বাজারে বিটস, মাইক্রোল্যাব, লজিটেক, সনি, ক্রিয়েটিভ, বেলকিনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইয়ারফোন পাওয়া যাচ্ছে।

 বাংলাদেশে মূলত বেশিরভাগ ব্র্যান্ডেরই ‘এ প্লাস’ রেপ্লিকা পাওয়া যায়।” এক্ষেত্রে ‘বিটস’ ব্র্যান্ডের ইয়ারফোনের দাম পড়বে ৪শ’ থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকা। মাইক্রোল্যাব’য়ের ইয়ারফোন পাওয়া যাবে সাড়ে ৪শ’ থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায়।

একটু কম দামের মধ্যে নিতে চাইলে দেখতে পারেন ‘এওয়াই’য়ের ইয়ারফোনগুলো। সেক্ষেত্রে বাজেট ৫শ’ থেকে ৭শ’ হলেই চলবে। ‘বেলকিন’ ব্র্যান্ডের ইয়ারফোন পাওয়া যাবে ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকায়। এছাড়াও ‘সনি’র ইয়ারফোন ৪শ’ থেকে ৮শ’, ‘স্কালক্যান্ডি’ ইয়ারফোন সাড়ে ৩শ’ থেকে ৬শ এবং ‘লজিটেক’য়ের ইয়ারফোন পাওয়া যাবে সাড়ে ৪শ’ থেকে ১ হাজার ৪শ’ টাকায়।

 ‘লজিটেক’য়ের ইয়ারফোনের ওপর রয়েছে এক বছরের ওয়ারেন্টি।

 f

কভার

মোবাইল ফোন সুন্দর ও সুরক্ষিত করতে অনেকেই নানান রংয়ের কভার ব্যবহার করেন। বিভিন্ন রকমের ব্যাক কাভার বা ফ্লিপ কাভারগুলোর দাম ২শ’ থেকে ৮শ’ টাকা।

বাজারে পাওয়া যায় এমন কাভারগুলোর মধ্যে নীলকিন, স্পাইজেন, এফআইবি এবং হ্যালোকিটি ব্র্যান্ডের প্রাধান্য বেশি। এদের মধ্যে ‘নীলকিন’ এবং ‘স্পাইজেন’য়ের কাভারগুলোর দাম ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। রাজধানীর হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজায় এরকম দাম হলেও মার্কেট ভেদে এসব কভারের দামে পার্থক্য রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের কার্টুনছবি সম্বলিত ‘হ্যালোকিটি’র কাভার দিয়ে মোবাইল ফোন সাজাতে পারেন ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়।

যারা ‘আইফোন’ ব্যবহার করেন তারা ঘুরে আসতে পারেন বসুন্ধরা সিটির ‘অ্যাপল গ্যালারী’ থেকে। ৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে আইফোনের ব্যাক কাভার, ফ্লিপ কাভারসহ সব আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র পাওয়া যাবে এখানে।

স্ক্রিন প্রটেক্টর: 

মোবাইল ফোনের সুরক্ষার জন্য স্ক্রিন প্রটেক্টর কিংবা গ্লাস প্রটেক্টর খুবই জরুরি। ধুলোবালির হাত থেকে রক্ষা পেতে ১শ’ থেকে দেড়শ টাকার মধ্যে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে লাগিয়ে নেওয়া যায় নতুন পর্দা। তবে গ্লাস প্রটেক্টরের জন্য গুনতে হবে ৬শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।

ব্যাটারি: 

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স দোকান কিংবা শোরুমগুলোতে প্রায় সব ধরনের মোবাইল ফোনের ব্যাটারি পাওয়া যায়। নোকিয়া, স্যামস্যাং, সনি, সিমফোনিসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাধারণ ফোনগুলোর ব্যাটারি পাওয়া যাবে ৩শ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর জন্য নতুন ব্যাটারি কিনতে হলে ক্ষেত্র বিশেষে খরচ করতে হবে ১ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা।

চার্জার

যারা একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য রয়েছে ইউনিভার্সাল চার্জার। এসব চার্জার দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া যাবে। এ ধরনের চার্জারের মধ্যে বর্তমানে ‘এলডিনিও’র চাহিদা বেশি। দাম ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা।

 মেমোরি কার্ড: 

মোবাইল ফোনে তথ্য, গান কিংবা ছবি সংরক্ষণ করতে অনেকেই মেমোরি কার্ড ব্যবহার করেন। বর্তমান বাজারে ট্রান্সসেন্ড, স্যানডিস্ক, তোসিবা, অ্যাপাচার, টুইনমসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেমোরি কার্ড পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্যে ‘ট্রান্সসেন্ড’ এবং ‘স্যান্ডডিস্ক’য়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।

ম্যামরি কার্ডের ধারণক্ষমতা ভেদে দাম পড়বে আড়াইশ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে ‘ক্লাস টেন’ মানের মেমোরি কার্ডের দাম আরও বেশি হতে পারে।

বাহুবন্ধনী, কভার এবং ক্লিনার: 

রাজধানীর মোতালেব প্লাজার ‘সারা টেলিকম’য়ে পাওয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাহুবন্ধনী। যারা নিয়মিত স্লাইকিং করেন তাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ বাহুবন্ধনী।

সাইকেল চালনোর সময় এই বাহুবন্ধনী ব্যবহার করলে  যখনই ফোন আসুক না কেন তা টের পাওয়া যায় এবং ইচ্ছে হলে নিরাপদ স্থানে গিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যায়।”

এই বিশেষ বাহুবন্ধনীর পাওয়া যাবে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা।

মোবাইল ফোন নিয়ে চলাফেরা সহজ করতে বাজারে রয়েছে ওয়াটার প্রুফ চামড়ার ব্যাগ। সাড়ে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে এধরনের ব্যাগগুলো।

 এছাড়াও মোবাইলে ফোনের স্ক্রিন পরিষ্কার রাখতে ব্যবহার করা যেতে পারে ‘ওপুলা’ ব্র্যান্ডের ক্লিনার। দাম পড়বে ২শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা।

cleaner

স্টিকার: 

অনেকেই মোবাইল ফোনে বিভিন্ন রকমের স্টিকার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এ ধরনের স্টিকারগুলোর মান এবং আকারভেদে দাম ৫০ থেকে ২শ’ টাকা।

কোথায় পাবেন

আপনার মোবাইল ফোন সুরক্ষিত ও দৃষ্টিনন্দন করতে কিনে নিতে পারেন নতুন কোনো উপকরণ। রাজধানীর মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার, আইডিবি ভবন এবং বসুন্ধরা সিটিসহ দেশের ছোট-বড় ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে এসব আনুষাঙ্গিক পণ্য।