ফটোগ্রাফির বেসিক (একটি রসকষহীন পোস্ট)

Tahin

Hi, I am Tahin, IT professional from Dhaka. Love to watch movies, cycling and traveling is my passion :)
টিউন করেছেন Tahin | April 21, 2014 11:47 | পোস্টটি 2,838 বার দেখা হয়েছে

ফটোগ্রাফির বেসিক (একটি রসকষহীন পোস্ট)


ফটোগ্রাফির ব্যাপারে জানার আগে একটু বুঝে নেই ক্যামেরায় কিভাবে ছবি ওঠে। একদম সাদা চোখে পুরো ব্যাপারটাই আলোর খেলা। কোন বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো এসে ক্যামেরার লেন্সের ভিতর দিয়ে সূক্ষ্ম ছিদ্রের অপরপাশে পর্দার উপর পড়লে সেখানে বস্তুটির একটা উলটা প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। এখন সেই প্রতিবিম্বকে আমরা যদি কোনোভাবে সংরক্ষন করতে পারি তাহলে সেটাই হবে ওই বস্তুর ছবি। নিচের ছবিটা দেখলে পুরো ব্যাপারটা আরো পরিস্কার হবে।

এটা হচ্ছে একটা ক্যামেরার বেসিক ফাংশন। প্রথমদিকের পিনহোল ক্যামেরা থেকে হালের ডি.এস.এল.আর পর্যন্ত কোনোটাই এই ফর্মুলার বাইরে নয়।
এবার একটু দেখি কোন ক্যামেরায় ছবি তোলার কর্মকান্ডটি কিভাবে সম্পাদন হয়। এখানেও বেসিক ব্যাপার একইরকম। প্রথমে আমরা দেখব পুরানো আমলের ফিল্ম ক্যামেরার কার্যপ্রণালী। ক্যামেরায় আলো ঢুকার জন্য একটা ছোট ছিদ্র থাকে, সেটাকে বলে শাটার। ফিল্ম ক্যামেরায় এই শাটার খুব অল্প সময়ের জন্য খুলে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সময়টুকুর মধ্যে ক্যামেরার সামনের বস্তুর একটা উল্টা প্রতিবিম্ব ভিতরে থাকা ফিল্মের উপর পড়ে। অ্যানালগ ক্যামেরার এই ফিল্ম খুব সেনসিটিভ, বেশি সময় ধরে অথবা খুব তীক্ষ্ণ আলো পড়লে ফিল্মের সেই অংশটুকু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কোডাক অথবা ফুজির একটা ফিল্মে সাধারনত ৩৬ থেকে ৪০ টি ছবি তোলা যেতো। তারপর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডার্করুম থেকে প্রিন্ট করে বের করে আনা হতো বহু আরাধ্য সেই ছবি।

এখানে একটি ফিল্ম ক্যামেরার কর্মপদ্ধতি এবং যন্ত্রাংশের নাম দেয়া হলো। ভিউফাইন্ডার দিয়ে সামনে থাকা লক্ষ্যবস্তু দেখার জন্য একটি মিরর থাকে। বাটন চাপ দিলে শাটারটি খুলে যায় এবং লক্ষ্যবস্তু থেকে আসা আলো ফিল্মের উপর পড়ে। খেয়াল করে দেখুন আবার কিন্তু সেই বেসিক প্যাঁচাল :D

এবার আসি ডি.এস.এল.আর অথবা ডিজিটাল ক্যামেরা প্রসঙ্গে।

মূল প্রক্রিয়া সেইম। শুধু এখানে ফিল্মের বদলে থাকে সেন্সর। একে বলে CCD (Charge-Coupled Device) সেন্সর। সিসিডি ডিজিটাল ক্যমেরার একটি সিলিকন চীপ যেখানে ছবি রেকর্ড হয়। CCD বা CMOS সেনসর হচ্ছে ডিজিটাল ক্যমেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দামী ডিভাইস। এটি মিলিয়ন পিক্সেলের সমন্বয়ে গঠিত। আলো যখন লেন্সের মধ্য দিয়ে এসে এই সেনসরের ফটোএকটিভ লেয়ারে আঘাত করে তখন ঐ লেয়ারের নিচের পিক্সেলে একটি বৈদ্যুত্যিক চার্জ উৎপন্ন হয়। আলোর পরিমাণের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পিক্সেলের বৈদ্যুত্যিক চার্জ বিভিন্ন রকমের হয়। মিলিয়ন পিক্সেলের বৈদ্যুত্যিক চার্জগুলোর সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় একটি ডিজিটাল ছবি।

এখন একটু কথা বলি ডি.এস.এল.আর ক্যামেরায় কি কি পার্ট থাকে তা নিয়ে। নিচের ছবিটি দেখলে ব্যাপারটা অনেকটা ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

1. LCD Display
2. Sensor
3. Memory
4. Battery
5. Flash
6. Shutter
7. Lens

1. LCD Display (এল সি ডি ডিসপ্লে)
প্রত্যেকটি ডিজিটাল ক্যামেরার একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। Point and Shoot ক্যামেরায় ভিউফাইন্ডার থাকেনা তাই ডিসপ্লে দেখে ফটো তুলতে হয় কিন্তু ডি.এস.এল.আর-এ এটার কাজ তোলার পর ছবি দেখার জন্য। এখনকার কিছু ক্যামেরায় অবশ্য লাইভ ভিউ নামে একটা অপশন পাওয়া যায় যেটা দিয়ে মিরর বাইপাস করে সরাসরি ডিসপ্লে দেখে ছবি তোলা যায় বাট সেগুলোর ফ্রেমিং-এ একটু ঝামেলা থাকে।
2. Sensor (সেন্সর)
DSLR ক্যামেরায় যেই সেন্সর থাকে সেটা নরমাল Point and Shoot থেকে ১০/২০ গুন বড় হয় ভালো কোয়ালিটি এবং কালার ডেপথ এর জন্য। এই সেন্সরের একটা মজার ব্যাপার হল মাক্সিমাম ক্যমেরার মধ্যেই অপশন থাকে সেন্সরকে ভাইব্রেট করে ডাস্ট রিমুভ করার। সাধারনতঃ লেন্স চেঞ্জ করার সময় ক্যামেরার ভিতর প্রচুর পরিমানে ধুলা ঢুকে।
3. Memory (মেমরি)
এটার ব্যাপারে মনেহয় আর নতুন কিছু বলার নেই। আপনার ক্যামেরায় তোলা সব ছবি জমা হবে যেই স্টোরেজ-এ সেটাই হচ্ছে মেমরি। মেমরির সাইজ যতো বড় হবে তত বেশি ছবি তুলতে পারবেন আর মেগাপিক্সেল বাড়িয়ে ছবি তুললে ছবির সাইজ একটু বড় হয় এটা সবারই জানা।
4. Battery (ব্যাটারি)
DSLR ক্যামেরায় সাধারনতঃ ব্যাটারি লাইফ বেশীক্ষণ থাকেনা কারন এর মধ্যে অনেকরকম মোটর, ফ্ল্যাশ এবং এডভান্স অপশন থাকে যেগুলোতে একটু বেশি ব্যাটারি লাইফ দরকার হয়। ফ্ল্যাশ ছাড়া ফটোগ্রাফি করলে এক ব্যাটারি দিয়ে ৬০০ এর মত ছবি তোলা সম্ভব।
5. Flash (ফ্ল্যাশ)
ক্যামেরার সাথে যেই ফ্ল্যাশ থাকে সেটাকে বলে Pop up Flash. এটা দিয়ে ইনডোর ফটোগ্রাফি এবং কোনরকম কাজ চালানো যায় কিন্তু আপনি যদি আলো নিয়ে ছবিতে খেলাধুলা করতে চান তাহলে আলাদাভাবে ফ্ল্যাশ অ্যাড করতে হবে। DSLR ক্যামেরায় যেখানে এক্সটারনাল ফ্ল্যাশ লাগানো হয় ওই পয়েন্টকে বলে Hot Shoe.
7. Lens (লেন্স)
আপনি যখন DSLR কিনলেন মানে হলো অনেক বড় একটি সিস্টেমের ছোট্ট একটা পার্ট সাথে করে বাসায় নিয়ে আসলেন। দুনিয়ায় যে কত্ত কিসিমের লেন্স আছে সেটা এখন বুঝতে পারবেন। স্ট্রেইট কয়েকটা কথা বললেই বুঝে যাবেন ব্যাপারটা। যদি ওয়াইড এঙ্গেল-এ অথবা পোট্রেট করতে চান তাহলে লাগবে প্রাইম লেন্স, ওয়াইল্ড ফটোগ্রাফি বা ন্যাচারাল ফটোগ্রাফির জন্য টেলি-লেন্স, খুব কাছের ক্ষুদ্র জিনিশের ছবির জন্য মাইক্রো লেন্স। লেন্স নিয়ে আলাপ শুরু করলে আর একটা আর্টিকেল হয়ে যাবে।
এতক্ষণ ধৈর্য ধরে যারা আই বিরক্তিকর লিখা পরেছেন তারা সবাই গালি দেয়া শুরু করেছেন জানি। পরবর্তীতে DSLR এ ছবি তোলার খুঁটিনাটি এবং এর আরো অপশন নিয়ে বিস্তারিত লিখার আশা রাখি।
এখন আমার তোলা কয়েকটা ছবি দিলাম দেখে এতক্ষণের বিরক্তি ভুলেও যেতে পারেন আবার আরো বেশি বিরক্ত-ও হতে পারেন।

এই ছবিটার নাম দিয়েছিলাম “Husband & Wife”


“একাকী বিকেল”


“কালের সাক্ষী”


“পোট্রেট”


“প্রতিবিম্ব”

  • http://banglablog24.com Md Habib

    আপনার পোস্ট টা আমার অনেক ভালো লেগেছে ধন্যবাদ এমন একটি পোস্ট আমাদর উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের নিউজ সাইট prothombarta/

  • http://lerningseo.blogspot.com/ Sajib Rahman

    আপনার এই অসাধারন একটি লেখা পরে অনেক ভালো লাগলো এবং অনেক কিছু জানতে পারলাম এবং বুঝতে পারলাম যে একটি ক্যামেরা কত রকম ভাবে বিভক্ত হয়েছে এবং সময় এর বির্বতনে কি কি পরির্বতন নিয়ে এসেছে আরও জানতে পারলাম কোন কোন পার্ট কি কি কাজ করে। আমি আপনার কাছে আশা করবো যে আপনি এমন শিক্ষা মূলক তথ্য নিয়ে আমাদের কে উপকৃত করবেন ধন্যবাদ

  • Lokman Sikdar

    Vai kon lens best. DSLR camer ki sob lens dia kaj kora jae.

  • Abdul Quayum

    আপনাকে ধন্যবাদ। আমার একটি প্রশ্ন ছিলো ভিডিও ক্যামেরায় শাটার কিভাবে কাজ করে?ইলেকট্রিক শাটারই বা কি?

  • Hemendra nath

    Thank you