যা করতে পারেন নতুন বছরে নতুন চাকরি পেতে

টিউন করেছেন jahangira69 | December 27, 2013 19:21 | পোস্টটি 464 বার দেখা হয়েছে

যা করতে পারেন নতুন বছরে নতুন চাকরি পেতে


নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনায় ক্যারিয়ারে একধাপ এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা থাকে অনেকেরই, কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার থাকে যা বলা যতটা সহজ, করা ততটাই কঠিন।

আচ্ছে নতুন বছর। নতুন বছরে নতুন করে শুরু করার অসম্ভব বিষয় গুলোকে সম্ভব করার করার জন্য নিজেকে তৈরি করুন। পেছনে পড়ে না থেকে প্রস্তুতি নিন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সম্প্রতি বিবিসি এক প্রতিবেদনে একুশ শতকের চাকরির বাজারে সময়োপযোগী প্রস্তুতির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরেছে।

কাজের জন্য একটা ডেস্ক নিন

চাকরি খোঁজার সময়টা ঘরে বসে অলস ভাবে নিজেকে কাটিয়ে দেবেন না। বরং মানুষজনের সাথে যোগাযোগ, আলাপচারিতা বাড়িয়ে দিন। আর তা করতে হবে নিয়মিত কোন না কোন নতুন মানুষের সাথে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন-ভিত্তিক ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কিস্টোন পার্টনার্সের অ্যালেইন ভারেলাসের পরামর্শ হলো, আপনি একটা ডেস্ক ভাড়া নিয়ে নিন। আজাকাল অনেকেই এভাবে শুরু করছেন। যৌথ অংশীদারত্বের অফিসে একটা ডেস্ক ভাড়া নিলে কাজ করার অভিজ্ঞতা বৃথা যাবে না। এমন অফিসেও নানা পেশার বহু মানুষের সঙ্গে আপনার পরিচয় ঘটতে পারে এবং এ সম্পর্কগুলোও আপনার জন্য মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আপনি ভেবে দেখতে পারেন নারীদের যোগাযোগ গ্রুপ অ্যা ব্যান্ড ফর উইমেনের ক্রিস্টিন ব্রনস্টাইনের মন্তব্য। অনলাইন বা যোগাযোগ নেটওয়ার্কের পরিচিতির পাশাপাশি মানুষজনের সঙ্গে সামনাসামনি আলাপ পরিচয় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। ব্রনস্টাইন বলছেন, ‘সামনাসামনি যোগাযোগ না রেখে শুধু অনলাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকাটা বড় ধরনের ভুল।’

প্রতিনিয়িত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ান

লিঙ্কডইন বা জিংয়ের মতো পেশাদারদের সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সাইটগুলোতে শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হলেও এশিয়ার কিছু এলাকা এখনো এদিক থেকে পিছিয়ে আছে বলে মনে করেন হফ কনসালটিংয়ের স্টিভেন ইয়ং।

‘প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজের প্রাইভেসি রক্ষা চান’ বলে এখানে সরব নন, কিন্তু এ অনুপস্থিতির কারণে ‘তাঁরা অনেক সম্ভাবনাময় সুযোগ হারাতে পারেন’ বলে মন্তব্য করেন ইয়ং। তিনি জানান, এশিয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন নিজেরা প্রার্থী বাছাই করে এবং এক্ষেত্রে তাদের বড় সহায় লিংকডইনের মতো সাইটগুলো।

ভারতের ক্ষেত্রেও অবস্থাটা অনেকটা এ রকমই বলে মনে করছেন প্রার্থী বাছাই বিশেষজ্ঞ আকাঙ্ক্ষা মালিক। লিংকডইনের মতো সাইটগুলোতে স্থানীয় প্রার্থীদের মনোযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। তাঁর মতে, আগে অনেক চাকরির জন্যই যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং এজন্য তারা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাছাইয়ের দায়িত্ব দিত। এখন চাকরির বাজার উল্টো, তাই প্রার্থীদের এ ধরনের নেটওয়ার্কগুলোতে যুক্ত থাকা এবং নিজেকে দৃশ্যমান রাখায় সচেষ্ট হওয়া উচিত।

হাসুন, আপনি ক্যামেরার সামনে

‘ক্যামেরার সামনে সহজ থাকুন’, বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা-ভিত্তিক বৈশ্বিক নির্বাহী অনুসন্ধানমূলক প্রতিষ্ঠান ওয়েবার কার অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম লয়েড। তিনি জানাচ্ছেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষত বিশ্বজুড়ে অফিস থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের সাক্ষাত্কার প্রক্রিয়ায় ভিডিও প্রযুক্তি সংযুক্ত করছে।’

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবস্থাপক পদের জন্য প্রার্থীদের সাক্ষাত্কার নিতে ভিডিও কনফারেন্স প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে অ্যাডাম লয়েডের প্রতিষ্ঠানের। তিনি বলছেন, এ প্রযুক্তির কারণে সশরীরে সাক্ষাত্কারের গুরুত্ব কমে না গেলেও অনেক প্রতিষ্ঠানই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় এটা যোগ করছে।

সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক নারীদের যোগাযোগ গ্রুপ অ্যা ব্যান্ড ফর উইমেনের ক্রিস্টিন ব্রনস্টাইনের মতে, শুধু ক্যামেরার সামনে অভ্যস্ততাই নয়, আপনার ‘রিজিউমে’ (জীবনবৃত্তান্ত) হওয়া উচিত মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনায়।

গণযোগাযোগ, বিজ্ঞাপনী ও বিপণন সংস্থায় চাকরির জন্য ‘ভিডিও রিজিউমে’ জরুরি হয়ে উঠছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান হফ কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভেন ইয়ং বলছেন, ‘প্রার্থীদের এখন থেকেই অনলাইনের ভিডিও রিজিউমে সাইটগুলো দেখা প্রয়োজন এবং কী করে এক থেকে দুই মিনিটের ভিডিওতে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরা যায়, তার চর্চা করা উচিত।’