মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুরু করে দিন ধ্যান

টিউন করেছেন jahangira69 | December 26, 2013 05:28 | পোস্টটি 3,259 বার দেখা হয়েছে

মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুরু করে দিন ধ্যান


শান্তির আসনে বসে ধ্যান করা যায় ব্যস্ত জীবনের সাথে তাল মেলাতে যাঁরা বড় ক্লান্ত, বড় অবসন্ন, তাঁদের জন্যই  এই  আয়োজন ।শরীরটা হয়তো তাঁদের চলছে জীবনের চাওয়া মেটাতে কিন্তু মন যে অসুস্থ হয়ে আস্তে আস্তে । সুস্থ জীবনের জন্য মনকে আগে বাঁধতে হবে শরীরের সঙ্গে । মনকে শরীরের বশে আনতে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই। দরকার মেডিটেশন বা ধ্যানের। প্রশান্তি ইয়োগা আয়ুর্বেদ এবং নেচারোপ্যাথি সেন্টারের পরিচালক ও প্রশিক্ষক গুরুজি সত্যজি বিশ্বাসও বললেন একই কথা। তিনি জানান, একাগ্র মনে কোনো চিন্তার নাম হলো মেডিটেশন বা ধ্যান। এই মেডিটেশন শুধু মনকেই কেন্দ্রভূত করে জাগিয়ে তোলে না, শরীরের যন্ত্রকেও উন্নতি করে। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী চিকিৎসক মুনিরজ্জামান বললেন, মানুষের শক্তির উৎস হলো মন। আর মন যখন ভালো থাকে, মানুষ তার চিন্তাশক্তিকে  সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। আর মনকে শান্ত বা স্থির করার সফলতম পদ্ধতি হলো মেডিটেশন।

কেমন জায়গায় বা পরিবেশে  ধ্যান  করবেন ?-

  •  সকালে বারান্দার হালকা রোদে করতে পারে মেডিটেশন।
  •  ছাদ কিংবা বড় ঘর মেডিটেশনের জন্য উপযোগী হতে পারে ।
  •  নিরিবিলি বা কোলাহল মুক্ত হতে হবে ধ্যানের স্থান।
  •  মেডিটেশনের জন্য হালকা আলো আছে এমন ঘর বেচে নিতে পারেন।
  •  ঘরে সুগন্ধ ছড়ানো যেতে পারে।
  •  মেডিশনের সময় আপনার পছন্দের কোন গান বা সুর বাজাতে পারেন।
  •  ধ্যা্নে বসার জায়গাটি বেচে নিবেন আপনার সুবিধা মত।

যা যা করতে হবে

ধ্যান বা মেডিটেশন করতে হবে পদ্মাসন, সুখাসন, অর্ধপদ্মাসন, স্বস্তিকা আসনে বসে।

  •  দুই হাত থাকবে ধ্যান মুদ্রায়।
  •  কোমর, কাঁধ, মাথা একটি সরলরেখায় থাকবে।
  •  শিথিল করে রাখতে হবে কাঁধ।
  •  এই ভঙ্গিতে বসে কিছুক্ষণ অন্য সব চিন্তা দূরে সরিয়ে মনকে কেন্দ্রীভূত করুন।
  •  দুর্বল, অসুস্থ শরীর মেডিটেশনের জন্য উপযোগী নয়। তাই সুস্থ হতে হবে আগে।
  •  সৎ চিন্তায় মনকে বাঁধতে হবে।
  •  বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে মেডিটেশনে না বসাই ভালো।
  •  বাদ দিতে হবে অতিরিক্ত ভোজন।
  •  প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম পরিহার করতে হবে।

 কি ধরনের পোশাক পড়বেন?-

সুতির আরামদায়ক যেকোনো পোশাকই মেডিটেশনের জন্য উপযোগী।

  •  পরিষ্কার পাজামা-পাঞ্জাবি পরে করতে পারেন মেডিটেশন।
  •  ট্রাউজার অথবা ট্র্যাকসুটও চলবে।
  •  এ ছাড়া যেকোনো ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করতে পারেন।
  •  শরীরে যেকোনো ধরনের অলংকার না রাখাই ভালো।

ফলাফল

মনের একাগ্রতা বাড়ে।

  •  দেহের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
  •  স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।
  •  অনিদ্রা থেকেও মুক্তি পেতে সক্ষম।
  •  মনের উদ্বিগ্ন, হতাশা, অশান্তি দূর করে।
  •  দীর্ঘায়ু লাভ হয়।
  •  দেহতন্ত্রের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দরভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
  •  মনোকষ্ট দূর করে।
  •  মানসিক চাপ কমায়।
  •  চিন্তাশক্তির প্রখরতা বাড়ে।
  •  হূদেরাগেরও উপশম হয় মেডিটেশনে।
  •  আবেগ, অভিমান, হীনম্মন্যতা দূর করে।
  •  মেডিটেশনে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ে