বড় বাপের পোলা সম্পর্কে জানুন

টিউন করেছেন Atikur Rahman | July 22, 2013 06:31 | পোস্টটি 9,827 বার দেখা হয়েছে

বড় বাপের পোলা সম্পর্কে জানুন


 

রমজান মাস চলছে। পুরান ঢাকার চকবাজার নামটা শুনলেই জিভে পানি আসার কথা যারা চক বাজারের ইফতারি আইটেমের সাথে পরিচিত। রমজান মাসে চকবাজারের একটা কমন স্লোগান হচ্ছে “বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লয়া যায়”। ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির জন্য চকবাজারই বিখ্যাত।

‘বড় বাপের পোলা’ ইফতারিটি চকের প্রধান আকর্ষণ। জনপ্রিয় এই আইটেমটির আবিষ্কারক নিয়ে অনেকের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। কারো মতে এটি শত বছরের পুরানো, আবার কারো মতে বছর সত্তর আগে কামাল মাহমুদ নামের এক ভোজন রসিকই ‘বড় বাপের পোলা’র রেসিপি তৈরি করেন।

ভোজন বিলাসী কামাল মাহমুদের সময়েই থেমে থাকেনি ভিন্ন স্বাদের এ আইটেমটি। বংশানুক্রমে তার ছেলে জানে আলম থেকে সালেকিন মিয়া পেরিয়ে এখন চলছে সেন্টু মিয়ার যুগ। রীতিমত চারপুরুষ ধরে ‘বড় বাপের পোলা’কে উপস্থাপন করছে এই পরিবার।

সেন্টু মিয়া নিজেও এ কাজ করছেন প্রায় বছর তিরিশেক। সেন্টু মিয়া জানান, পাকিস্তান আমলে এই আইটেম ‘সিক চূড়ার ভর্তা’ নামে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলায় এটা ‘বড় বাপের পোলা’ নামে পরিচিতি পায়।

‘বড় বাপের পোলা’ কিনতে আসা ক্রেতা সায়েম বলেন, “প্রতিবার রমজানেই একবার হলেও এই খাবারটি বাড়ি নিয়ে যাই। এর স্বাদেই রয়েছে ভিন্নতা।”

‘বড় বাপের পোলা’ বিখ্যাত হবার পেছনে রয়েছে এর আকার ও স্বাদ। এত সুস্বাদু হবার কারণ হিসেবে জানা যায় এই আইটেমে তৈরি প্রনালীর ভিন্নতা। এতে ব্যবহৃত হয় ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ২৪ ধরনের মসলা। সবকিছু একটি থালায় মাখিয়ে ঠোঙায় করে বিক্রি করা হয়। যদিও প্রথমদিকে কাঁঠাল পাতায় বিক্রি করা হত সুস্বাদু এই ইফতার আইটেম।

উপকরণাদি বেশি হওয়ায় এই আইটেমের দামটাও একটু বেশিই। গত বছর ৩০০ টাকা থাকলেও এ বছর কেজি প্রতি দাম পড়ছে ৩৬০ টাকা।

এদিকে পুরান ঢাকার সীমানা পেরিয়ে ‘বড় বাপের পোলা’ পাঁচতারা হোটেলগুলোর ইফতার মেনুতেও ঢুকে পড়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ওয়েস্টিনসহ বেশকিছু নামী হোটেলের বুফে ইফতার মেনুতে পাওয়া যাচ্ছে পুরান ঢাকার এ ঐতিহ্যবাহী ইফতারটি।