সুখী হওয়ার জন্য নিজের চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তণ করুন

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। আইটি প্রতিষ্ঠান, ন্যাশনাল আইটি ইন্সটিটিউট (https://www.facebook.com/nationalinst) এর সিইও । জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | April 16, 2014 03:01 | পোস্টটি 3,200 বার দেখা হয়েছে

সুখী হওয়ার জন্য নিজের চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তণ করুন


আমরা চাইলেই মনের শান্তি বাড়িয়ে নিতে পারি এবং সুখি হতে পারি। কিন্তু পারিনা নিজেদের কিছু ভুল চিন্তাধারার কারনে। এ বিষয়েই আজকের লেখা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পোস্টটি  পড়ার পর নিজের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসার জন্য যদি চেষ্টা শুরু করে দেন, তাহলে অবশ্যই দুনিয়াতে সবচাইতে সুখী এবং সফল একজন হয়ে উঠবেন।

live_life_laugh_love-1024x910

১. অন্যকে বদলানোর দুঃশ্চিন্তা

আমার মধ্যে এ সমস্যাটি অনেক বেশি আছে। সেজন্য মানসিকভাবে খুব কষ্টে থাকি। কখনো কাউকে যেমন আপনি বদলাতে পারবেননা তেমনি কেউ আপনাকে পরিবর্তন করতে পারবেনা। কাজেই অন্যকে নিজের চিন্তাধারার মত বদলানোর মত বৃথা চেষ্টা কিংবা সেটি নিয়ে ‍দুঃশ্চিন্তা ছেড়ে দিন। যে যেমন তাদেরকে তেমনভাবেই গ্রহণ করা উচিত।

২.  আপনাকে নিয়ে সবাই খেলছে ভাবা

এ ধরণের ভাবনাটাও সবার মধ্যেই কমবেশি দেখা যায়। আরা যারা জনদরদী মানে মানুষকে বেশি উপকার করে, তাদের মধ্যেতো আরো বেশি লক্ষ্য করা যায়। সবাইকে এভাবে নেতিবাচকভাবে দেখার অভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার। পৃথিবীকে নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করলে, সেটি আপনার মনের অশান্তি বাড়াবে আর কোন লাভ নাই।

৩. অন্যরা আপনাকে অপছন্দ করে ভাবা

দুনিয়ার সবাইকেই আপনাকে পছন্দ করতেই হবে, এ ধরণের প্রত্যাশা করা ছেড়ে দিন। বরং কি কি কারণে আপনাকে অপছন্দ করে, সেগুলোকে পরিবর্তন করে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। এ পরিবর্তনের পরও অনেকের কাছে অপ্রিয় হবেন। আর সেটি খুবই স্বাভাবিক। মনে রাখবেন, আপনার কাছেও এমন অনেককে অপছন্দ লাগে, যারা হয়ত অনেকেরই প্রিয় একজন মানুষ। সুতরাং মনের শান্তির জন্য এরকম চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

৪. ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা

ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করাটা ভালো। ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং তাতে এগিয়ে যাওয়া চেষ্টা করুন।  কিন্তু অনেকের মাঝে দেখা যায়, এটি একসময় তাদের মধ্যে দুঃশ্চিন্তা এবং হতাশার কারণ হয়ে দাড়ায়। এ বিষয়ে আমি সবসময় বলি, সবার বর্তমানের কাজকর্মই তার ভবিষ্যতের নির্ধারক। বর্তমানে ভালভাবে কাজ করে এগিয়ে যান। এমন হতে পারে, আপনি লক্ষ্যে কখনোই পৌছতে পারবেননা। সেটি নিয়ে দুঃশ্চিন্তা না করে, অন্য বাকিপথগুলো খুজে বের করুন।

৫. অতীতের খারাপ কিছু নিয়ে আফসোস করা

অতীত নিয়ে হায় হতাশ করা অনেকেরই বদ অভ্যাস। আপনার লাইফে খুব বাজে একটি অতীত থাকতেই পারে। সেটি নিয়ে আফসোস করা মানে বাজে একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা। যারা আজকে অনেক সফল পযায়ে আছে, তাদের খুব অল্প কয়েকজনের অতীত মধুর ছিল, বাকি বেশিরভাগেরই খুব বাজে অতীত অভিজ্ঞতা নিয়েই বড় হয়েছে। সুতরাং আপনার অতীত খারাপ ছিল দেখে, ভবিষ্যৎ ভাল হবেনা, এটা মনে করা বোকামী। নিজের ভবিষ্যৎটাকে নিজেই বদলাতে পারেন।

1308514613_jsxgxi13tujfpgf

৬. সুখী হতে বহু অর্থের প্রয়োজন বলে মনে করা

অর্থকে সকল সুখের মূল মনে করার দরকার নেই। হয়ত, অর্থ থাকলে আপনার অনেক চাহিদা পূরণ হত। কিন্তু মনে রাখা দরকার, মানুষের চাহিদা অফুরন্ত। আপনার যত টাকাই থাকুক, চাহিদা শেষ হবেনা। সুতরাং চাহিদাকে বাড়তে সুযোগ না দিয়ে আপনার আর্থিক ক্ষমতা অনুযায়ি চাহিদা নির্ণয় করা উচিত। যারা খুব ধনী তাদের চাইতে যারা গরীব তারাই সবচাইতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে। অর্থ নাই, থাকলে অনেক কিছু কিনতে পারতাম , করতে পারতাম, এ চিন্তা যখন আসবে তখন আপনার চাইতে যারা গরীব তাদের দিকে তাকান। তাদের চাইতে হয়ত আপনি ভাল আছেন, সেটা ভেবে মনে শান্তি আনার চেষ্টা করুন।

৭. আপনাকে ত্রুটিহীন হতে হবে বলে ভাবা

আপনার সকল কাজ নিখুতভাবে হবে, এমন চিন্তা দূর করুন। কোন মানুষেরই সকল কাজ নিখুতভাবে হয়না। সুতরাং আপনারও হবেনা। যত ভুল হবে, সেখান থেকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নিতে হবে।  সুতরাং ত্রুটিহীন কিছু না হলে সেজন্য আক্ষেপ করে লাভ নাই, এতে মনের শান্তি নষ্ট হবে। ভুলের মাধ্যমেই মানুষ শিখতে পারে।

৮. নিজের যা নেই তা নিয়ে আফসোস করা

সবার সব কিছু থাকতে হবে, এমন চিন্তা থাকা বোকামী। কারও আফসোস থাকে, যদি আমি সুন্দর হতে পারতাম, কারও থাকে, যদি আমার অনেক টাকা থাকত, কারও আফসোস, যদি আমার ফ্যামিলি মেম্বাররা অন্য বন্ধুর ফ্যামিলি মেম্বারদের মত ভাল হত কিংবা আমার চাকুরী যদি উমুক কোম্পানীতে হত।  আসলে কারওই আফসোসের শেষ নেই। যত কিছুই আপনার থাকুক আফসোস হবেই। এরকম আফসোস নিয়ে মন খারাপ করে বসে থেকে কোন লাভ নাই, বরং অনেক ক্ষতি। মনের অশান্তি বাড়বে, জীবনে যতটুকু সফল হওয়ার কথা ছিল, ততটুকু সফল হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবেনা। বুদ্ধিমানে কাজ হলো, যা নেই সেটি নিয়ে না ভেবে, যা আছে সেটি নিয়ে বেশি বেশি ভাবুন এবং সেটিকেই কাজে লাগান।

৯. যে কোন ধরনের বাধাকে ভয় পাওয়া

অনেকেই আছে চলার পথে বাধা দেখলেই হতাশ হয়ে পড়লে। কারও জীবনই কখনো মসৃন হবে, এরকম আশা করাটাই বড় পাপ। প্রচুর বাধা আসবে। আশেপাশের প্রতিটা মানুষের কাছে খোজ নিন, জানতে পারবেন প্রত্যেকেরই দুঃখের এবং কষ্টের কথা। সুতরাং বুদ্ধিমানের কাজ হবে, মসৃণ পথকে বোরিং লাইফ মনে করতে শিখা, এবং বন্ধুর পথকে জীবনের জন্য থ্রিল অনুভব করা। প্রতিটা বাধা থেকে মুক্তির অবশ্যই একটি উপায় আছে। হায়হুতাশ না করে, সেটি মুক্তির উপায় খোজার দিকে মনোযোগ দিন। লাভ হবে দুটিঃ মনের অশান্তি দুর হবে, এবং মনের উপর স্ট্রেস নেওয়া শিখতে পারবেন।

১০. আরও  কিছু সমস্যাঃ

নিজের পারিবারিক সমস্যাকে বড় মনে করা, অন্যের ভাল কিছু দেখে সেটি নিজের না থাকা নিয়ে আফসোস করা, নিজের অযোগ্যতার জায়গাগুলো নিয়ে আফসোস করা ইত্যাদি। পারিবারিক সমস্যা সবারই অল্প বেশি থাকে, সেটি নিয়ে মাথাতে বেশি না আনাই ভাল। অন্যের অনেক কিছু নিয়ে যেমন, আপনি আফসোস করছেন, তেমনি আপনার অনেক কিছু নিয়েও তারা আফসোস করে, সামনা সামনি না হলেও মনে মনে করে। নিজের অযোগ্যতা নিয়ে আফসোসের বিষয়ে বলব, কেউ যোগ্যতা নিয়ে জন্মায়না, সেটি অর্জন করতে হয়। যোগ্যতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিন। আজকে আপনার যোগ্যতা নেই, ৩মাস পর হয়ত আপনার যোগ্যতা তৈরি হবে।

উপরে যা যা বলা হয়েছে, সবগুলো বিষয় নিয়ে মনে মনে ভালভাবে ভাবুন। নিজের মধ্য থেকে এগুলো দূর করার চেষ্টা করুন। নিজেকে আরো কর্মব্যস্ত রাখুন। দেখবেন, মনে শান্তি ফেরত আসবে, জীবনে সফল হবেন। মনে শান্তি না থাকলে কখনোই কোন কাজে সফল হতে পারবেননা।

 

  • Bulbul Ahmed Jessore

    ভাল্লাগছে ভায়া

  • Ashfak Shuman

    একজন SEO expert-এর কাছ থেকে এটা বেশ ব্যতিক্রম ধরনের লেখা পাওয়া গেল ! পড়লাম এবং কিছু নতুন চিন্তার উপাদান পেলাম !ধন্যবাদ ইকরাম ভাই……।

  • mahabub

    thanks for very good advise sir..