তারুণ্যের আবেগ

টিউন করেছেন mahtabshafi | April 28, 2015 12:59 | পোস্টটি 4,516 বার দেখা হয়েছে

মাহতাব শফি

 

sadness_by_gajotnt
‘আবেগ সম্ভবত নরম। সহজে জল হয়ে বেরিয়ে আসে। জন্ম হলে, ভালবাসা হলে, মৃত্যু হলে এমনকি বিবাহ হলে, তারপরে অ-বিবাহ হলেও আবেগ নানা রকমে দেখা দেয়।’ কল্পনার তীর্থে দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয় মানুষের কাছাকাছি পৌঁছুতে প্রত্যেকেই চায় খুবই সহজভাবে, হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে। আর সেই নিজস্ব ভুবনের গহীনে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সহজতর সত্ত্বা আবেগ। এর বিচ্ছুরণের ধারাটিকে মানুষ সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবেগ বিষয়টি শক্তিশালী ও কঠিন হলেও তার অপর দিক নরম, কোমল বা সহজরতর। এ নরম, কোমল, সহজতরের মধ্যদিয়ে পৃথিবীর মানুষগুলো মাঝে মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়, ভাসিয়ে দেয়। নেমে আসে আঁধার, নেমে আসে প্রচ- বেদনা, ঘটে অঘটন, হারাতে হয় অনেক কিছু। তবুও আবেগের দখলদারিত্ব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। যা থেকে আমাদের উচিত সংবেদনশীল ও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি অর্জন করা।

YouthGroup
আবেগের প্রকাশ
আবেগ সত্ত্বাটি তারুণ্যের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশ পায়। বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা, পারিবারিক সম্পর্কসহ নানানভাবে আবেগের শেকড় ছড়িয়ে পড়ে একে অপরের ভিতরে। আর এই ভিতরে ভিতরে বেড়ে ওঠার মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করে কড়া নাড়ে মস্তিষ্কের দরজায়। এক পর্যায়ে দেখা যায় অসম্ভবভাবে আবেগতাড়িত হয়ে সম্পর্কের জাল বেয়ে কষ্টের জমাট বেঁধে পা বাড়ায় আত্মহত্যার দিকে অর্থাৎ মৃত্যুর দিকে অথবা মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। দৈনন্দিন পত্র-পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে নানান ঘটনার চিত্র যার অধিকাংশ আমাদের মধ্যে নাড়া দেয়। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভুবনের এই বিশাল অধ্যায়টিকে ছাড়া মানুষ মানুষ হতে পারে না সত্য। তবুও মানুষের আবেগতাড়িত সম্পর্কের টানাপোড়েনে বেড়ে উঠে প্রতিরূপ চিত্র অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা, যেখানে একজন তরুণ কিংবা তরুণীর কোন হাত নেই, প্রাকৃতিক নিয়মেই যা আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর ঢুকে পড়ে অনায়াসে। যদিও বেড়ে ওঠার এ সময়ে পৃথিবীর নানান রঙের নানান বৈচিত্র্যের মধ্যে তারুণ্যের দৃষ্টির বিচ্ছুতি হতে পারে যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে এর স্রোত। সেই আবেগের স্রোতকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আর এ না পারার পেছনে যে কারণটি লক্ষণীয় তা হলো মানসিক শক্তির অভাব।

unnamed-1
বেঁচে থাকার তাগিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা নিরন্তর ছুটে চলি নিজেদের গতিতে, একটি নির্দিষ্ট এলাকায়, যেখানে আমাদের ভেতর জন্ম নেয় নানান প্রশ্ন, নানান চাহিদা ও নানান স্তরের, এরই মাঝে আমরা জেনে নিই একে অপর সম্পর্কে, এ জানাজানির মধ্যদিয়ে চেষ্টা করা হয় অন্যকে বোঝার, আর বোঝার ভেতরে জন্ম নেয় ভালোলাগার ক্রমাগত ভালো লাগতে লাগতে পৌছে যায় ভালোবাসায় আর ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় আবেগের উচ্ছ্বাসগুলো, তারপর একে একে প্রতিফলিত হয় আবেগের দৃশ্যগুলি। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে হতে থাকে আনন্দ বেদনা আর তাড়না-যন্ত্রণার ফলিত চিত্রের এক নীলক্যানভাস। যেখানে ফুটে উঠে আবেগতাড়িত হৃদয়ের বেদনামিশ্রিত প্রতিচ্ছবি। আর আমরা তখনই ভেঙে পড়ি। পড়তে পড়তে গলে যায়, গলতে গলতে এক সময় বিলীন হয়ে যায় আমাদের ভেতর জন্ম নেওয়া নতুন নতুন আবেগের রঙগুলি।

e801e7ac8dd491fa93a00ce77c08c49b
আবেগ জড়িয়ে পড়ে বন্ধুত্ব ও প্রেমে
আবেগতাড়িত হৃদয়ের স্পন্দন নিরেট তাই এর প্রকড়তা এতই গভীর যে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। বিভিন্নভাবে যার প্রতিক্রিয়া ঘটে থাকে মানুষের মধ্যে। জন্ম থেকে যার প্রভাব বেড়ে উঠে ধীরে ধীরে এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকে, গড়তে থাকে তার নিজস্বতা, গভীরতা। পরবর্তী সময়ে এসে তার মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায় এবং তরুণ বয়সে যার অবস্থা হয় আরও শক্ত যা উঠে আসে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার মাঝে। যেখানে উচ্চারিত হয় সেই আবেগের নানা গুন গুন শব্দ। আর তখনই সীমানা ছেড়ে সীমান্তহীন হয়ে ছুটে চলে আমাদের মন। হতে তাকে এক অনাবিল যাত্রার পথিক। যেখানে সমস্ত বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে যায় আবেগের সমস্ত জোয়ার। যেখানে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপ্ত কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্লাবিত করে দীঘল ভালোবাসার হৃদয় বেয়ে। তাই আবেগ জড়িয়ে পড়ে ভালোবাসাতে, বন্ধুত্বে, প্রেমে।

7679451-cms_38950.gif
আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন
যন্ত্রণার বেড়াজালে আক্রান্ত হয়ে আবেগ অনেক সময় মানুষের জন্য নিয়ে আসতে পারে অনেক দুর্ঘটনা, যা প্রায়ই ঘটছে পৃথিবীতে। বিভিন্ন আবেগের বসে মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, ফলে অনেক সময় ঘটে যায় বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। যার শিকার হয় সংখ্যাধিক হারে বেশি তরুণ-তরুণীরা। এমনকি মৃত্যুর জন্যও আবেগের দখলদারিত্ব কাজ করে সবচেয়ে বেশি। যা আমাদের জন্য কাম্য নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ভার নিজেদেরই আর আবেগও তার বাইরে নয়। যদিও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া কাজ করে। তবুও আবেগের মাধ্যমে একজন মানুষ সৃষ্টিশীল ও ঔজ্জ্বল্যতায় অনেক সাফল্যও উঠিয়ে আনতে পারে। সেখানেও আবেগের পরিমাণ থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি। যাপিত জীবনের সর্বক্ষেত্রে মানুষের কর্মপরিধিতে ও ব্যক্তিক জীবনের এক নান্দনিক নির্যাসই বলা যায় আবেগকে। দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে যেটাকে নেওয়া উচিত সহজ সরলভাবে আর তখনই তার সুনিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে আমাদের ভেতর জন্ম নেয় নতুন নতুন অধ্যায়ের সুস্থ ধারা। যেখানে থাকবে না কোন মৃত্যু, কোন অঘটন, কোন আত্মহত্যা, কোন কিছু হারানোর ভয়।

image_45277_0
আবেগের সুনির্দিষ্ট ব্যবহার
আবেগ তারুণ্যের গভীরে জেগে উঠা বৈচিত্র্যময়তা আকৃষ্ট করতে পারে সমস্ত কিছুকে। আকৃষ্টতার সেই আবেগকে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনের সাফল্যতা আনা যায় এবং হতাশাকে দূর করা যায়। পড়াশোনায়ও আবেগের বিরূপ প্রভাব পড়ে। একটি ছেলে অথবা একটি মেয়ে যখন আবেগিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে পড়াশোনায় মন দেয় তখন সে পড়াশোনায় ভালোভাবে স্থির হতে পারে না। বার বার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খায় বিভিন্নভাবে। যার ফলে পড়ালেখায় বেঘাত ঘটে থাকে এবং এক পর্যায়ে দেখা যায়, পড়াশোনায় বিপর্যয় আসে, রেজাল্ট খারাপ হয়। আর এ খারাপের ভেতর জন্ম নেয় আবেগের অন্য রূপ যেটার ধারণ ক্ষমতা খুবই কঠিন ও ভয়ংকর। ফলে সে বেছে নেয় অন্য পথ। যে পথ আমাদের জন্য সুখকর নয়; যা অস্বাস্থ্যকর, অপরিচ্ছন্ন। অন্যদিকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের আবেগের মাত্রা থাকে তীব্র। যে কারণে তারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হয় বেশি। কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক তা নির্ণয় করার আগেই নিজেকে জড়িয়ে ফেলে আবেগের জালে। যেখান থেকে খুব কম সংখ্যকই রয়েছে নিজেকে সুদৃঢ় রাখতে পারে।

images22
আবেগ জীবনকে করে তোলে রঙিন
আবেগিক বিষয়গুলোকে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এনে পৃথিবীর বুকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আবেগকে সুনিয়ন্ত্রণ ও যথাযথভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা যায়। আবেগ সত্ত্বাটি নরম, জল হয়ে বেরিয়ে আসলেও মানুষের জীবনকে করে তোলে রাঙায়িত, করে তোলে বিশ্বস্ত, সুস্থ-সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন। যার ছোঁয়ায় মানুষের ভেতর জন্ম নেয় মানবিকতা ও সুন্দর মানসিকতার সুস্থ নির্যাস।