আর কতদিন নিজেকে নিজে ঠকাবেন?

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। লার্নিংএন্ড আর্নিং প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেরপ্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বরত। জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | April 18, 2015 04:53 | পোস্টটি 3,756 বার দেখা হয়েছে

আর কতদিন নিজেকে নিজে ঠকাবেন?


ফেসবুকে অনেকের অভাব দু:খ নিয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত মেসেজ পড়তে হয়। তাদেরকে দক্ষ হতে বলি, সেটাতেও তাদের অনেক রকম আফসোসের গল্প শুনতে হয়। সেগুলো পড়ে বুঝি এসব অজুহাতগুলোই তাদের পিছিয়ে পড়ার কারন। এর আগেও এ বিষয়গুলো নিয়ে একটি  আর্টিকেল লিখেছিলাম।

লিংক: http://genesisblogs.com/featured/16145 আজকে আরও কিছু বিষয়কে উল্লেখ করে লিখছি।

tt

আফসোস-১: ঢাকার বাইরে থেকে আমরা ঠকতেছি। ঢাকাতে না থাকার কারনে আমরা শিখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

উত্তর: কিছুদিন আগে নিশ্চিতভাবে আয় করানোর টার্গেট নিয়ে ৩০ জনকে নিয়ে ৩দিনে বিশেষ ক্লাশ শুরু করি। সেখানে একজন মহিলা ছিল যার নিজের সন্তানও রয়েছে। উনি ক্লাশগুলো করার জন্য ক্লাশের আগের দিন পাবনা থেকে রওনা দিয়ে ঢাকাতে এসে ক্লাশ করত। ক্লাশ শেষে উনি আবার ফেরত চলে যেত। একজন মহিলা যদি পারে, আর আপনি পারেননা। এটার জন্য কে দায়ি। খুজে বের করুন।

তারপরও ধরলাম, আপনি আসতে পারেননা। অনলাইনে এখন যে পরিমান রিসোর্স রয়েছে, তা দিয়ে যে কারও শিখার জন্য যথেষ্ট। যথেষ্টের চাইতেও বেশি আছে। আমার লিখা পড়েই এখন পযন্ত আমার জানামতে কমপক্ষে ৩০০জনের উপর নিজেরা অল্প পরিসরে কাজ করছেন। এরপরও মাঝে মাঝেই আমি অনলাইনেই ফ্রি শিখানোর উদ্যোগ গ্রহন করি। সেগুলো থাকে অনলাইনে থাকা আমার ফ্যানদের, যারা ঢাকার বাইরে আছেন কিংবা অর্থাভাবে কোর্স করতে পারছেননা, তাদের জন্য বিশেষ গিফট। সেগুলো কয়জন কাজে লাগিয়েছেন। এরকম একটি উদ্যোগের লিংক: http://genesisblogs.com/tutorial-2/16914  । এরপরও আফসোসগুলোর ব্যাপারে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করুন। অনলাইনের এ যুগে ঢাকাতে না থাকার কারনে শিখতে পারছেননা, বিষয়টা কোনভাবেই আসলে গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। এ বিষয়ে লিখেছিলাম আগে। http://genesisblogs.com/freelancing-2/10864

আফসোস-২: ভাই আমি গরীব। এজন্য কিছু শিখতে পারছিনা। কিছু ফ্রি শিখতে পারলে নিজের আর্থিক অবস্থাকে পরিবর্তন করতে পারতাম।

উত্তর: গতবছর ক্রিয়েটিভ আইটির পক্ষ হতে ১৩০০জনকে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের মধ্যে ছিল গ্রাজুয়েট বেকার, ঘরের মহিলা, প্রতিবন্ধী। আপনি তখন সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেননি। সেটার জন্য কে দায়ি? এখনও চলছে স্টুডেন্টদের ক্রিয়েটিভ আইটির কোর্স ফির ৫০% ডিসকাউন্টে কোর্স করার অফার। আপনি কি সেই অফার চলে যাওয়ার অপেক্ষাতে রয়েছেন? চলে গেলেই আবার আফসোস শুরু হবে। ভাই, আমি বিশাল কোটিপতি না। এর চাইতে বেশি কিছু করার সাধ্য আমার মনে হয় সত্যি নাই। তাহলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে। এ কাজগুলো করতে যেয়ে আমি নিজেরই এখন আয় নাই। আর কত করব?

তারপরও রয়েছে অনলাইনে আমার বিভিন্ন রিসোর্স (http://genesisblogs.com/author/ekram) ।  যা আপনাকে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে। ১নং প্রশ্নে ইতিমধ্যে সেগুলো উল্লেখ করেছিও। আমি নিজে শিখেছি অনলাইনের রিসোর্স পড়ে। কোথাও কোর্স করার টাকা আমারও ছিলনা। যখন শিখেছি, তখন অনলাইনেও এত রিসোর্স ছিলনা। কেউ সাহায্য করার মতও ছিলনা। যা শিখেছি সবই গুগল সার্চ করে। এবং কোন ধরনের গাইডলাইন ছাড়াই শিখেছি। আপনাদের জন্য রয়েছে প্রচুর রিসোর্স, অনলাইনে সহযোগিতা করার মত অনেক ব্যক্তি। এরপরও যদি না পারেন, সেটার জন্য কে দায়ি?

এ গরীব লোকটির জীবনের গল্পটিও পড়ে নিন।

http://genesisblogs.com/education/15666

jackie-freelance

আফসোস-৩: ব্যস্ততার কারনে শিখতে পারছিনা অনেক কিছু। ফ্রি থাকলে করে ফেলতাম অনেক কিছু।

উত্তর: ব্যস্ততার সংগা একেকজনের কাছে একেক রকম। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যস্ততার সংগারও পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানের যুগটাই এমন যে,  আজ থেকে ১০বছর আগেও যে কাজ সম্পন্ন করা হত ৮ঘন্টাতে, এখন তা করা হয় ৪ঘন্টাতে। আগে যেখানে মানুষ দিনে পরিশ্রম করতে ৬-৮ ঘন্টা। এখন যুগটাই এমন মানুষ এখন ১২-১৪ ঘন্টা প্রফেশনাল কাজ করলেও সেটাকে অনেক কম কাজ হিসেবে ধরা হয়। আপনি কি এখনকার যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যস্ত কিনা, সেটা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন। আগে যেখানে মানুষ ১০ঘন্টা ঘুমের পিছনে ব্যয় করত, এখন মানুষ ৬ঘন্টা ঘুমকেও অনেক বেশি মনে করে। এ যুগের সাথে তাল মিলাতে আপনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন কিনা নিজেকে প্রশ্ন করুন।

আমি নিজেকে কখনও ব্যস্ত বলতে পছন্দ করিনা। নিজেকে এভাবে বুঝাই, আমাকে আরও পরিশ্রম করতে হবে। আমি অলসতার কারনে আরও কিছু করতে পারছিনা। এভাবে নিজের ব্যস্ততাকে আমি দেখার চেষ্টা করি। ভাইরে যুগটাই এমন। এভাবে না দেখলে কিভাবে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন।

আমার দেখা অনেকের মধ্যে একজনের গল্প বলছি। কাজল রেখা নামে একজন মেয়ে আছেন। উনি নিজে একটা অফিসে চাকুরি করেন, যেখানে ৬০,০০০টাকা বেতন পান। সুতরাং ব্যস্ততা কিরকম হতে পারে ধারণা করা যেতে পারে। উনি অফিসের পাশাপাশি, এম.বি.এ চালাচ্ছেন। সেই সাথে ৪ বছরে সংগীতের উপর অনার্স করছেন। আবার বিভিন্ন ছোট ছোট কোর্স করছেন ক্রিয়েটিভ আইটিতে। নিজে একটি নিউজ পোর্টাল চালাচ্ছেন। নিজের লিখা ৩টি (সম্ভবত) বই বের করেছেন। ঘরে গেলে দেখা যায় হাতে তৈরি অনেক কিছু। জিজ্ঞাসা করে জেনেছি, সেগুলো উনার নিজের হাতে করা। ঘরের রান্নাবান্নাটাও নিজেই করেন বেশিরভাগ সময়।

আমাকেও এরকমই পরিশ্রম করতে হয়। ক্যারিয়ারে শুরুতে পরিশ্রম করতে করতে একসময় খুব মারাত্নকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এবং ৩মাসের বেড রেস্টে চলে যেতে হয়। সেই পরিশ্রমের ফসল আজকের অবস্থান। জন্মগতভাবে প্রাপ্ত কোন গুনের কারনে এ অবস্থানে আসিনি। আপনিও পরিশ্রম করুন, আপনিও সফলতা পাবেন।

আফসোস- ৪: আমি কাজ শিখেছি। কিন্তু কোন চাকুরি পাচ্ছিনা। আবার কেউ আমাকে কাজও দিচ্ছেনা।

উত্তর: কাজ শিখলেই আপনাকে কাজ দিবে এতবড় রিস্ক কেউ নিবেনা। তারমানে মনে করার দরকার নাই কাজ কম আছে। যত চাকুরি রয়েছে কিংবা আউটসোর্সিংয়ে যত কাজ রয়েছে তার তুলনাতে দক্ষ লোক ৫০% ও নাই। যারা কাজ করান কিংবা যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালান, তারা দক্ষ কর্মীর অভাবে সবসময় আফসোস করেন। বিশ্বাস করুন, এ আফসোসটা আপনার কাজ না পাওয়ার আফসোসের চাইতে অনেকগুন বেশি আফসোস।

আপনি কাজ শিখেছেন। এবার নিজেকে দক্ষ করতে হবে। এ বিষয়টা নিয়েই লিখেছিলাম আগে। লেখাটি পড়লে বিষয়টা পরিস্কার বুঝতে পারবেন।

http://genesisblogs.com/tips-2/3304

আফসোস-৫: ভাইয়া আপনার হাতেতো অনেক কাজ থাকে। আমাদের কিছু কাজ দিয়েন।

উত্তর: এখন পযন্ত যখনই কাউকে কাজ দিয়েছি, সেখানের ৯৫% ক্ষেত্রেই সেগুলোর রেকর্ডগুলো আমাকে অনেক বি্ব্রত করেছে এবং অনেক বিপদে ফেলেছে। কিছুদিন আগের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।

আর্টিকেল রাইটার চেয়ে একটা ঘোষনা ফেসবুকে দিয়েছিলাম। সেটা যে বায়ারের জন্য সেই বায়ার সেই ঘোষনাগুলোতে কমেন্টগুলো দেখে কয়েকজনকে ফেসবুকে ইনবক্সে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ২জন মেসেজের উত্তর দিয়েছিল। তাদেরকে বায়ার টেস্ট হিসেবে একটা কাজ করে দিতে বলছে। নির্দিষ্ট সময়ে ২দিন পরেও তাদের আর কোন খোজ নাই।  আবার পরে আরও কয়েকজনকে নক করেছেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনই বলছে জীবনে আর কখনও ১ম বারের মত সে এ কাজটি করতে যাচ্ছে। ১ম বারের মত কাজ করতে যাচ্ছেন, তাও আবার পেমেন্টের মাধ্যমে। এরকম কারো পিছনে বায়ার কেন অর্থ ব্যয় করবে, সেটা আমার যুক্তিতে আছেনা। আপনি হলে এত বড় রিস্ক নিতেন? আবার কেউ কেউ জীবনে ১ম বারের মত কাজ করতে যাচ্ছে, সেখানেই ৫০০ শব্দের আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছে ১০ ডলার। যেখানে সবাই সাধারণত ৫-৮ ডলারের মধ্যে কাজ করে। বায়ার দিতে চাচ্ছিল ৬ডলার, লিখাবে ১০০টার মত আর্টিকেল। সেখানে এ নতুন ওয়ার্কারদের অনেকে বায়ারকে গালি দিয়ে বিদায় দিয়েছে।

আরও অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যাদেরকেই কাজ দেই, কাজ দেওয়ার আগে তাদের অভাব থাকে। কাজ দেওয়ার পরে তাদেরকে আর খুজে পাওয়া যায়না। বিভিন্ন ব্যস্ততা, নিজের কিংবা পরিবারের অসুখ শুরু হয়ে যায়।

freelance-business

আমি ক্যারিয়ারের শুরুতে কি করেছি সেটি শেয়ার করি। শুরুতে কাজ শিখার পর অনেকের কাজ ফ্রি করে দিছি। এখন পযন্ত যত পরিমাণ কাজ ফ্রি করেছি কিংবা করছি, সেগুলোকে হিসেবে করলে দেখা যাবে কমপক্ষে ১কোটি টাকা আরও বেশি ইনকাম করতে পারতাম। কিন্তু ফ্রি করে দিয়ে যা পেয়েছি, সেটি আজকের এ অবস্থানটা। আগে অন্যদের মাঝে নিজের দক্ষতার ব্যপারে আস্থা তৈরি করতে পেরেছি। এতদ্রুত টাকা হাতে পাওয়ার চিন্তা না করে চেষ্টা করেছি নিজের যোগ্যতাকে এমনভাবে প্রমাণ দিতে যাতে টাকা আমার পিছনে দৌড়ায়। আমাকে যাতে টাকার পিছনে ছুটতে না হয়। এ কাজটি কয়জন করতে পারছেন? পারছেন না দেখেই, একবছর আগেও শুনতাম, কাজের জন্য আপনার কান্না। এখনও সেই একই অবস্থা। অবস্থার আর পরিবর্তন হয়নি। এ অবস্থাতে পরিবর্তনের জন্য শুরুতে প্রচুর ফ্রি কাজ করেন। তাহলেই আস্তে আস্তে নিজে কাজ শিখবেন। অন্যরাও জানতে পারবে, আপনি কাজ জানেন। মানুষ সাধারণত দক্ষ, সৎ, পরিশ্রমী এবং কম লোভীদেরকেই কাজ দিতে কিংবা চাকুরিতে নিতে পছন্দ করে। আপনাকেও সেরকম প্রমাণ করুন।

আরও কিছু আফসোস

উপরের এ আফসোসগুলোর পাশাপাশি আরও অনেক আফসোস শুনতে হয় প্রতিনিয়ত চ্যাটিং বক্সে। এ আফসোসগুলো করে আসলে খুব বেশি লাভ নাই। বাস্তব দুনিয়া আবেগ দিয়ে চলেনা। বাস্তবতাগুলো মেনে নেমে যান। জাহিদ যদি দুই পা এবং এক হাত অক্ষম থাকার পরও ফ্রিল্যান্সিং শিখে মাসে ৪০,০০০- ৫০,০০০টাকা আয় করতে পারে, তাহলে আপনি কেন পারবেননা? শুধু তাইনা, এ জাহিদ কিন্তু বসেও থাকতে পারেনা। শুধু এক হাত দিয়েই তাকে কাজ করতে হয়। এ সমস্যাগুলোকে জাহিদ নিজেকে দক্ষ না করার ব্যাপারে উছিলা ধরলে আজকে তাকেও হয়ত মসজিদির পাশে বসে ভিক্ষা করতে হত। তার ইচ্ছা শক্তি, তাকে দক্ষ করে তুলেছে। মানুষের এ শক্তিটা পৃথিবীর সবচাইতে পাওয়ার ফুল শক্তি। এ শক্তিকে কাজে লাগান। পাবেন অনেক কিছু। নিজেকে শুধু প্রশ্ন করুন, জাহিদের চাইতেও কি আপনার অক্ষমতা বেশি?

সবশেষে কিছু পরামর্শ:

নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি আপনার ইচ্ছা শক্তি জাহিদ কিংবা স্বপন ভাইয়ের মতই ছিল? নাকি কোন ধরনের অজুহাত এসে আপনার এ শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে?  সফল হতে হলে অজুহাতগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

সফলতার জন্য কয়েকটি বিষয়কে মনে রাখুন:

পরিশ্রম করুন: প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে সফল হতে হলে।

সময়: দিনে ৫-৭ ঘন্টা করে কমপক্ষে ৬মাস একটি বিষয়ের পিছনে সময় দিন।

সেক্রিফাইস:  ভবিষ্যতের ভাল কিছুর জন্য সেক্রিফাইস করার মত মানুসিকতা রাখুন।

 

  • Imon

    শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লাম। প্রতিটি কথার মধ্য থেকেই আসল বাস্তবতা বের হয়ে আসছে।

    # প্রশ্ন হচ্ছে লিখাটি পড়ে আমার কী লাভ হল?

    উত্তরঃ বাস্তবতা- অনেকটা গভীরভাবে উপলদ্ধি করতে পেরেছি।

    আর্টিকেল টি লিখার জন্য ধন্যবাদ দেব না বরং ঋণী হয়ে থাকব।

  • http://www.easygetinfo.com/ harun rashid

    হা হা
    সবচেয়ে মারাত্বক সমস্যা হচ্ছে , কাজ দিলে শুরু হয়ে নানা ধরনের অসুখ বিশুখ আরা বাহানা, তারচেয়ে নিজে করে ফেলাই ভালো

  • Jahangir Alam Shovon

    ভালো লাগলো, এবং মজা পেলাম।

  • শমি হোসাইন

    এক্সকিউজ্‌মি স্যার! অসম্ভব নিরাবতার মাঝে লিউ টলষ্টয়ের কাছে শব্দটিকে ড্রামের আঘাতের মত মনে হল। মনোযোগের ব্যাঘাট ঘটাতে তিনি মাথা তুলে তাকালেন; সামনে সুঠাম দেহের এক যুবক দাঁড়িয়ে। টলষ্টয় এক মুহুর্ত ভেবে নিলেন, এই গভীর রাতে, নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে, সবাইকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে ছেলেটি রাষ্ট্রিয় লাইব্রেরীর ভিতরে ঢুকল! টলষ্টয় হেঁড়ে গলায় বললেন, কে তুমি? কি চাও? কিভাবে ঢুকেছ এখানে? সিকিউরিটি, সিকিউরিটি…। ছেলেটি মাফ চাইল, অনুনয় করে বলল স্যার আমাকে মাফ করুন, আপনি যদি আমাকে পুলিশে দেন, সারা জীবনেও জেল থেকে বের হতে পারবনা। আপনাকে পেতে বহু কষ্ট করেই এতটুকু এসেছি; আমাকে পুলিশে দেবেন না প্লিজ!

    টলষ্টয় বললেন, ঠিক আছে বল কি তোমার সমস্যা? যুবক বললেন, স্যার আমি বিগত দুই বছর আগে মাষ্টার্স উত্তীর্ণ হয়েছি। অনেক খোঁজার পরও কোথাও চাকুরী পাইনি। ভাবলাম আপনার সাথে সরকারের উঁচু পর্যায়ে যোগাযোগ আছে। আপনি যদি আমার জন্য একটু সুপারিশ করতেন, তাহলে আমি নিশ্চিত একটি চাকুরী পেয়ে যেতাম। তারপর থেকে আপনাকে ধরার জন্য ফন্দি করি, কোন সুযোগ হয়না। জানতাম আপনি রাতজেগে রাষ্ট্রিয় লাইব্রেরীতে লেখাপড়া করেন। এই লাইব্রেরীতে গতকাল ঢুকেই এক কোনায় আত্মগোপন করি, আপনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি, আপনাকে পেলে যাতে সমস্যার কথা বলতে পারি। স্যার দয়া করে বেকার শিক্ষিত যুবকের জন্য কিছু করবেন কি?

    লিউ টলষ্টয় রাশিয়ার নামকরা সাহিত্যিকদের অন্যতম, দুনিয়াতে যাঁর রয়েছে যথেষ্ট পরিচিতি। সমাজের ত্রুটি, বিচ্যুতিগুলো নির্ণয় করে সাহিত্যের পাতায় কলমের আঁচড়ে প্রকাশ করার জন্য, তাঁর রয়েছে অসাধারণ খ্যাতি। তিনি যুবকের চেহারার দিকে তাকালেন এবং বললেন। শোন যুবক, তোমাকে চাকুরী দেবার মত এমন ক্ষমতাবান, রাষ্ট্রিয় কোন হোমড়া চোমড়ার সাথে আমার পরিচয় নেই। বরং তার চেয়ে ভাল কিছু বিনিয়োগ খাটিয়ে, ছোটখাট কিছু একটা করে, জীবন চালিয়ে দাও, সেটাই উত্তম হবে। যুবক বলল, স্যার আমার কাছে বিনিয়োগ করার মত কিছু্ই নাই। টলষ্টয়: তাহলে একটা পরামর্শ দিতে পারি, আমার এক বন্ধু শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যবসা করে। তুমি যদি তোমার একটি চোখ বিক্রি করতে রাজি হও তাহলে নির্ঘাত ৩০ হাজার রুবেল পাবে। যুবকটি অতিশয় হতভম্ব হয়ে বলল, মাফ করবেন স্যার। টলষ্টয়: নতুবা একটি হাত বিক্রি করলেও ২০ হাজার রুবেল পেতে পার। যুবক: ইতস্থত করে বললেন, মাফ করবেন স্যার, আমিতো এটা শোনার জন্য আপনার শরনাপন্ন হইনি। টলষ্টয়: দেখ তুমি পূঁজিহীন এক যুবক, তাছাড়া বিকল্পতো নাই, আমি বন্ধুর নিকট লিখে দিলে, এক হাত এক পা বাবদ ৫০ হাজার রুবেল দিবে। যুবকটি হতাশ ও বিব্রত হয়ে আবারো বলল মাফ করুন স্যার, আমি আপনার কাছে চাকুরীর জন্য এসেছিলাম। টলষ্টয়: যুবক, এখন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ব্যবসা ভাল যাচ্ছেনা, তাও আমি লিখে দিতে পারি, তুমিও চিন্তা করে দেখ। এক পা, এক হাত ও এক চোখের বিনিময়ে ১ লাখ রুবেল পাবে। যুবকটি নিজেকে খুবই অপমানিত বোধ করলেন। বললেন স্যার, আপনার মত খুবই উচু মন ও খ্যাতি প্রাপ্ত ব্যক্তি, আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবেন ভাবতে পারিনি। এক কোটি রুবেল পেলেও আমার একটি ক্ষুদ্র অঙ্গও বিক্রি করবনা; বলেই ছেলেটি চলে যাচ্ছিল। দরজা বরাবর পৌঁছলে যুবককে টলষ্টয় পূনরায় ডেকে বললেন। শোন যুবক‍! তোমার হিসাব মতেই তোমার নিকট ১ কোটি রুবেলের বেশী দামী অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রয়েছে। যেগুলো তোমাকে স্রষ্টা নিতান্ত অনুগ্রহ করে দিয়েছেন। তোমার বিনিয়োগের কিছু নাই বলেছ, অথছ তোমার রয়েছে বিনিয়োগ করার মত কোটি কোটি রুবেলের যন্ত্রপাতি। তুমি এগুলো কেন ব্যবহার করছনা তোমার ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে? কাল সকাল থেকে স্রষ্টার দেওয়া হাত, পা, চোখ বিনিয়োগ করে কাজে লেগে যাও। পাথরে কিল মার, সেখান থেকে পানি বেরিয়ে আসবে। তোমার জন্য আসবে সোনালী দিন। যুবক: স্যার আমি ভূল বুঝতে পেরেছি, আমার চোখ খুলেছে। এখন আমি নিজেকে অসহায় ও অভাবগ্রস্থ বোধ করছিনা; দেশের এবং নিজের জন্য করার মত অনেক অনেক কিছুই আমার কাছে আছে। আমার সোনালী দিন বিনির্মানে এসব বিনিয়োগ হবে।

  • Rubel Hossain

    ভাইয়া পোস্টটা পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আমি ওয়েব ডিজাইন এর একটা কোর্স করছি। আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। তবে, এটা বলে রাখি, আপনার এই পোস্ট আমার ইচ্ছা শক্তিকে দ্বিগুন করে দিয়েছে। আগামী পোস্টের অপেক্ষায় থাকলাম।

  • Rezaul Tipu

    Skilled are always honored. Everyone should emphasize to become
    a skilled one. To show one’s skillfulness one should start a work at a low cost
    in beginning. The author Md. Ekram nicely described the above from his
    experiences of unemployed persons and focused the weakness of them why they are
    remaining jobless. The writer also suggested how to remove the situation of without
    a job. Hope inexpert person will be inspired from this article and will try to
    become a successful one following these advices.

  • sakil mahmud

    amadar sob somoi ja pasa thaka google mama.khouv valo laglow and onoprarona palam.

  • Ziaul Hoque Sabuj

    শতভাগ খাঁটি কথা। পরিশ্রমকে দু’হাতে দূরে ঠেলে দিলে কেউ কখনো কোন কাজে সফল হতে পারে না। আর ইনকাম তো আরও দূরের ব্যাপার। তাই হায়-আফসোস না করে সমস্যা চিহ্নিত করে এখন থেকেই নিজেকে গড়ে তুলতে হবে……

  • Jahangir Alam

    অসাধারন আর্টিকেল ,পড়ে ভালো লাগলো……

  • Md Majedul Islam

    ধন্যবাদ দিতে চাইনা,কারন অনেক কিছু শিখতে পেলাম, তার কাছ থেকে আরও কিছু আসা করছি

  • Rayhan Shak

    thank Sir You To Give Me A Right way