বিয়ের প্রথম ছয় মাসে যে ৬টি বিষয় গুরুত্ব দেবেন

টিউন করেছেন jahangira69 | March 30, 2014 16:24 | পোস্টটি 555 বার দেখা হয়েছে

বিয়ের প্রথম ছয় মাসে যে ৬টি বিষয় গুরুত্ব দেবেন


সদ্য বিবাহিতাদের কাজে দেবে আরেক সাম্প্রতিক বিবাহিত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। বিয়ের প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতার একটি গড় চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। এই সুখের সময়টি দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে। তবুও সুখের কী আর শেষ আছে। তা ছাড়া ছয় মাস পরও তো রয়েছে গোটা জীবন। তবে এই ছয় মাসের জীবন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন দুজন। এ নিয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন এক বিশেষজ্ঞ।

১. মনের মতো সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গ নিয়ে আলোচনা করুন :

দীর্ঘ ৯ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বিয়ে। আর তার পর হঠাৎ করেই মেয়েটির মনে হলো, সত্যিকার অর্থেই এই অতিপরিচিত মানুষটি শুধুই আমার প্রেমিক নন, তিনি এখন আমার স্বামীও বটে। এই অবস্থায় আমি আমাদের দুজনের জীবন, আমার ক্যারিয়ার, আমাদের বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারসহ যাবতীয় সব মানিয়ে চলতে পারবো তো? অন্যদের দাম্পত্য জীবন দেখে এখন আশঙ্কা হয়, সবকিছু লেনদেনের বিষয় হলে আমি তা পারবো তো?
এসব বিষয় নিয়ে দুজন মিলে আলোচনা করবেন। এ আলাপচারিতায় কঠিন বিষয় সহজ হয়ে যাবে। তাই অনেক কঠিন বিষয় বোধগম্য না হলেও দুজনের অংশগ্রহণে তা অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

২. দুজন দুজনের সবচেয়ে বড় ভক্ত হয়ে উঠুন :
দাম্পত্য জীবনে এক সময় না এক সময় একের প্রতি অন্যের বিতৃষ্ণা চলে আসতে পারে। তবে দুজন যদি দুজনের প্রতি এমন মনোভাব তৈরি করতে পারেন যে, একে অপরের জন্য সব সময় রয়েছেন, তবে তা ভবিষ্যতের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। দুজন যদি দুজনের প্রতি বিমুগ্ধতা তৈরি করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে আপনাদের মধ্যে বিতৃষ্ণার ভাবটি তৈরি হবে না।
যেমন, হানিমুন থেকে ফিরে আসার পর কাজে কর্মে মন নাও বসতে পারে। সে সময় কাজের চাপ একদমই ধাতে সয় না। এ ক্ষেত্রে দুজন দুজনের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন।

৩. ছোটখাট বিষয় ধারণাতীতভাবে বড় কিছু হয়ে উঠতে পারে :

যদি বিবাহিতদের প্রশ্ন করা হয়, দাম্পত্য জীবনটি কেমন? তবে এর জবাব এতো সহজ নয়। হাজারো ছোটখাট বিষয় এক হয়ে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বিশাল বিষয় তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ তার অভিজ্ঞতা তুলে দিয়েছেন এভাবে, একদিন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং তার স্বামী তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটি চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দেন। ‘আমি জেগে ওঠার পর সে জানায়, একটি মশা অনেক জ্বালাতন করছিল আর সে জন্যই তে আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। আমি ভীষণভাবে মোহিত হয়ে যাই। পরে আমাদের প্রথম বিয়ে বার্ষিকীতে যখন সে আমাকে একটি ডায়মন্ডের নেকলেস উপহার দেয়, তখন তো সোনায় সোহাগা। এই উপহারটি যতো ছোটই হোক না কেনো, আমার অনুভূতি একই রকম থাকতো’।
এভাবে ছোট বা বড় বিষয় সবই অনেক বড় কিছু দিতে পারে। বিয়ে মানে এক জনের ফেরার অপেক্ষায় অপর জনের বসে থাকা। বিয়ে মানে রাতে দুজন দুজনকে আদর করার শুরুতে অন্যের কপালে চুম্বন খেয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করা। এই ছোট বিষয়গুলো অনেক গভীর এবং আবেগময়।

৪. আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিবর্তন হতে পারে :
বিয়ের পর আপনার নিজেরই একটি ছোট পরিবার হবে। এই পরিবারটিকে নিয়ে আপনার ওঠা-বসা, চলা-ফেরা, খাওয়া-আড্ডা সবই করতে হবে। তখন আপনার বাবা-মায়ের পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আগের মতো সময় দিতে পারবেন না। এ নিয়ে কিন্তু নিজের মধ্যে মন খারাপের কিছু নেই। কারণ তাদের সঙ্গে আপনার আগের সম্পর্ক ঠিকই বজায় থাকবে, তবে ভিন্ন আঙ্গিকে।
অবশ্য এ সময় অন্য বন্ধুরা বিবাহিত না হয়ে থাকলে তাদের জীবনযাপন আগের মতোই থাকবে। সেক্ষেত্রে তারা আগের মতোই আপনার সঙ্গে দাবি করতে পারেন এবং আপনি সে সময় না দিতে পারলে তারা কিছুটা মন খারাপ করতে পারেন। এতে আসলে প্রাথমিক অবস্থায় আপনার মন খারাপ হলেও তা মানিয়ে নিন।

৫. আরো সততার সঙ্গে বোঝাপড়া করার সামর্থ্য অর্জন করুন :
অনেকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছুই নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দেখা দিবে। নানা বিষয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক দেখা দিবে। সে ক্ষেত্রে দুজনের কাছে নিজের যুক্তি তুলে ধরতে দুজনেরই আরো খোলামেলা ও সৎ হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখবেন, যেকোনো কাজে আপানারা দুজনে মিলে একটি দল। এখানে প্রতিটি পদক্ষেপে যার যার পরিকল্পনা অপরের কাছে তুলে ধরতে হবে যেখানে কোনো রাখঢাক থাকা চলবে না। এতে করে আপনার দুর্বলতা থাকলে অন্যজন তা ধরিয়ে দিতে পারবেন।

৬. বিয়ের দিনটি আপনার অনেক স্বপ্ন পূরণের প্রথম দিনটি :
বিয়ের আগে যখন প্রেম করে সময় কাটে তখন কতো স্বপ্ন উঁকি দেয় মনে। তা ক্যারিয়ার থেকে শুরু করে ফ্যাশনেবল পোশাক কেনা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, বিয়ের আগের সব স্বপ্নই আসলে অধরাই থেকে যায়। আর বিয়ের মাধ্যমেই জীবনের প্রথম স্বপ্নটি পূরণ হয়। এর পর শুরু হয় স্বপ্ন পূরণের পালা। বিয়ের পর আগের অনেক স্বপ্নকেই অর্থহীন মনে হবে।