এক্লাম্পসিয়া কী তা জানুন এবং সচেতন হোন

Ifat Sharmin

I'm Ifat, Worked as a Graphic designer and SEO consultantat several IT Companies of Bangladesh since last 6 years.
At present working with my own online business, named Jamdani VIlle.
টিউন করেছেন Ifat Sharmin | February 7, 2014 10:19 | পোস্টটি 1,175 বার দেখা হয়েছে

এক্লাম্পসিয়া কী তা জানুন এবং সচেতন হোন


eclampsia

এক্লাম্পসিয়া (Eclampsia) এমন একটি রোগ, যার ব্যাপারে এখনো আমরা অনেকেই সচেতন নই। এর কারণ হলো, ভয়াবহ এই রোগটির ব্যাপারে সচেতনতামূলক লেখা লেখি খুব কমই হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে কোন নারী গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথে সেই নারীর স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্যদেরকে ডক্টররা এই রোগটির ব্যাপারে বলে রাখে এবং সতর্ক থাকতে বলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের দেশে অনেকেই এর নামই শোনেনি, যার ফলে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে অনেক মা। আবার অনেকেই পুরনো ধ্যান ধারণা পোষণ করে এই রোগটি হলে জ্বিন-ভুতের ছায়া পড়েছে ভেবে ঝাড় ফুঁক করা শুরু হয়, কখনও রোগাক্রান্ত মহিলাটি কে ভুতের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে তেল মালিশ করে, পোড়া মরিচ নাকে দিয়ে, দরজা জানলা বন্ধ করে ভারী কাপড়-চাপা দিয়ে নির্মম ভাবে আক্রান্ত মহিলাটিকে শেষ পর্যন্ত মেরেই ফেলা হয়।

এক্লাম্পসিয়া কী?

এক্লাম্পসিয়া এমন একটি রোগ যা গর্ভাবস্থায় বা সন্তান প্রসবের পরেও দেখা দিতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে যাওয়ার কারণে এবং ভুল চিকিৎসার কারণে প্রতি বছর অনেক মা প্রাণ হারাচ্ছে অকালে।

 

এক্লাম্পসিয়া’র কারণ

গর্ভাবস্থায় যদি কারো রক্ত চাপ হঠাত অনেক বেড়ে যায় বা খিঁচুনি দেখা দেয় তখন তাকে  প্রি এক্লাম্পসিয়া বলে। তবে পোস্ট-এক্লাম্পসিয়া’র কারণ হিসেবে অনেকেই সিজারকে দায়ী করছেন। সিজারএর সময় কারো কারো ব্রেইনে কিছু প্রব্লেম দেখা দেয়, সে কারনেই এক্লাম্পসিয়া হতে পারে। আবার যাদের উচ্চ রক্তচাপের প্রবলেম আছে, তাদের অনেকেরই পোস্ট-এক্লাম্পসিয়া হয়ে যেতে পারে।

 

কাদের হতে পারে এক্লাম্পসিয়া?

যাদের হাইপারটেন্সনের প্রব্লেম আছে,

মাথা ব্যাথা’র প্রব্লেম আছে

যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর ভিতরে,

যাদের যমজ সন্তান থাকে গর্ভে,

যারা অপুষ্টিতে ভুগছে,

যাদের ডায়াবেটিস রোগ আছে

 

এক্লাম্পসিয়া’র লক্ষণ

অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যাওয়া,

মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া,

বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া,

প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হওয়া,

চোখে অন্ধকার দেখা

চোখ অস্বাভাবিক বড় হয়ে যাওয়া ও

পেটে ব্যথা হওয়া।
 

 

এক্লাম্পসিয়া থেকে রক্ষা পাবার জন্যে যা করা উচিত

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক আপ করাতে হবে,

রক্তচাপ ঠিক আছে কি না, তা সব সময় পরীক্ষা করাতে হবে,

মা এর ওজন স্বাভাবিক হারে বাড়ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

সন্তান জন্মদানের পর মা-এর মাথাব্যথা, বমি ভাব বা শরীর ফুলে যাচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে।

 

এক্লাম্পসিয়া হলে কী করণীয়

যখনই উপরে উল্লেখিত উপসর্গ গুলো কোন গর্ভবতী নারীর মধ্যে দেখা দিবে, বিন্দু মাত্র সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব, তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন আপনার একটু খামখেয়ালীর জন্যেই হয়তোবা প্রাণ হারাতে পারে একজন মা।

তাই পরিবারের সবাইকে এই রোগের ব্যাপারে সচেতন করুন এবং আপনার পাশের বাড়ীর লোকজনদের কেও আগে ভাগেই জানিয়ে রাখুন এক্লাম্পসিয়া’র ব্যাপারে, যদি সেই পরিবারে কেও গর্ভবতী হয়ে থাকে।

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আমাকে ফেসবুকে পাবেন এখানে,
https://www.facebook.com/IfatSharmin এবং
এই গ্রুপে
https://www.facebook.com/groups/creativeit/

  • Ashfak Shuman

    সালাম নিন আপা, আসলে আমার ও বিষয়টা জানা ছিল না! এটা মেয়েদের এবং তাদের স্বামীদের জানা ফরজ ! ধন্যবাদ

    • Ifat Sharmin

      ওয়ালাইকুম আসসালাম, ভাই সুমন…শুধু মেয়ে বা স্বামীদেরই নয়, আমি মনে করি পরিবারের প্রতিটা সদস্যের জানা থাকা দরকার বিষয়টা…বিশেষ করে পরিবারের প্রধান দের…কারণ তাঁরাই অনেক ক্ষেত্রে মনে করেন উপসর্গ গুলো জ্বিন ভুত ভর করার কারণে হয়েছে…অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। ভালো থেকো।

      • Ashfak Shuman

        আপ নার মতামত সঠিক ! সবারই জানা এবং সচেতন থাকা উচিত !