জবটি পেয়েই গেলেন, এখন কি করবেন?

Sajib Mannan

ওডেস্কে প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি। জেনেসিসব্লগে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার টিপস নিয়ে লিখে যাব। আশা করি সাথেই থাকবেন।
টিউন করেছেন Sajib Mannan | August 29, 2014 00:47 | পোস্টটি 1,027 বার দেখা হয়েছে

জবটি পেয়েই গেলেন, এখন কি করবেন?


imagebvjhvs

সুন্দর একটি কাভার লেটার লিখে, ক্লায়েন্টের মন জয় করে জবটি আপনি পেয়েই গেলেন। কিন্তু এখন কি করবেন? মানসম্মত কাজ করে ক্লায়েন্টকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়াটাই এখন মূল কাজ। নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কিভাবে কাজ পাবে, কিভাবে সুন্দর একটি কাভার লেটার লেখা যায়, কাভার লেটারে সুন্দর করে লিখে কিভাবে ক্লায়েন্টকে আকৃষ্ট করা যায় সেটা নিয়েই সবসময় ভাবে। কাজ পাবার পরে কি হবে সেটা নিয়ে হয়তোবা খুব কমই ভেবেছে। আপনি হয়তো ভাবছেন, কাজ পাবার পর কাজ করব। সেটা আর কি?

কাজ করবেন ঠিক আছে কিন্তু কিভাবে এগোবেন সেটা নিয়ে হয়তোবা খুব কম ভেবেছেন। কাজ পাবার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি যা আপনার প্রফেশনালিটি ও প্রোডাক্টিভিটি দুইই বাড়াবে ।

 

  • জব ডেসক্রিপশনটি আবার পড়ুন

 আরও একবার আপনার কাজ সম্পর্কে ভালো করে আইডিয়া নিয়ে নিন। জব ডেসক্রিপশনটি দুই-তিনবার পড়ুন। দরকার পড়লে ক্লায়েন্টের সাথে স্কাইপেতে চ্যাটে বসুন। ক্লায়েন্টকে বলুন আপনার তার সাথে জবের ব্যাপারে আলোচনা করা দরকার। এতে ক্লায়েন্ট আপনাকে একজন ফুল প্রফেশনাল হিসেবে নেবে এবং আপনার উপর আস্থা আসবে যে আপনি কাজের প্রতি সিরিয়াস এবং ভালোভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। কিন্তু তাই বলে অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক কথা বলবেন না। যেটা প্রয়োজন সেটা বলুন। যেমন ধরুন আপনাকে কাজ দিল যে অমুককে আপনার মেইল থেকে একটা মেইল পাঠাতে। আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন শুরুতে স্লামালিকুম দিবেন না নমস্কার দেবেন তাহলে তো হবে না। তাই অযৌক্তিক কথা বাদ দিয়ে কাজের কথা বকুন।

জবের কোনো ব্যাপার না বুঝলে সাথে সাথে জিজ্ঞেস করুন কোনো হেসিটেশনে ভুগবেন না। কারন কাজ সম্বন্ধে যদি আপনার আইডিয়াই না থাকে তাহলে কাজ ঠিক ভাবে শেষ করতে পারবেন না। শেষে ক্লায়েন্টেরই বকা খেতে হবে। এখানে দোষ কিন্তু তার হবে না, দোষ হবে আপনার।

 

44a0195bae392e76

  • ক্লায়েন্ট কি চায় সে সম্পর্কে ধারণা নিন

ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলে ভালো করে বুঝে নিন যে সে কি চায়। তার চাহিদা কি, রিকোয়ারমেন্টস কি। প্রোজেক্টটি শেষ হবার পর ক্লায়েন্ট প্রোজেক্ট থেকে কি পেতে চায়। সে কিরকম সার্ভিস পেতে চায়। যদি কোনোকিছু আপনি করতে না পারেন তাহলে তাকে জানিয়ে দিন। মিথ্যা কথা বলে কখনো এগোবেন না। কারণ ফ্রিল্যান্সিং পেশাটাই হচ্ছে আস্থার উপর। ক্লায়েন্টের চাহিদা জানার পর প্ল্যান করুন আপনি কিভাবে কি করবেন। আপনি নিজের প্ল্যান সাজান। তারপর আবার ক্লায়েন্টের কাছে যান এবং বলুন যে আপনি এই এই প্ল্যান ঠিক করেছেন, আপনি এভাবে এভাবে এগোবেন। এতে হবে কিনা বা কোনো কিছু যোগ বা বাদ দিতে হবে কিনা। তার কোনো সাজেশন আছে কিনা এসব জিজ্ঞাসা করুন।

 

  • রিসোর্স খুঁজে বের করুন ও সেই অনুযায়ী ওয়ারকপ্ল্যান সাজান

কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে আপনার আশেপাশে যে রিসোর্সগুলো আছে যেগুলো আপনার কাজে সাহায্য করবে সেগুলোকে আগে অ্যারেঞ্জ করুন। যেমন ধরুন আপনি যদি একজন কনটেন্ট রাইটার হন তাহলে আপনি যে টপিকের উপর লিখবেন যে টপিক সম্বন্ধে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করবেন, আর্টিকেলের ভিতর দেওয়ার জন্য ছবি সংগ্রহ করবেন। কারও উক্তি দিতে চাইলে সেটি খুঁজে বের করবেন এভাবে আগে কাজের উপকরণগুলো নিজের সামনে আনবেন। তারপর প্ল্যান করবেন কোনটার পরে কোনটা করবেন। অগোছালো ভাবে এগোনোর চেয়ে এভাবে গুছিয়ে, প্ল্যান করে করে এগোলে কাজে অনেক এগিয়ে যাওয়া যায় এবং কাজও ভালো হয়।

 

80608385

 

  • ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ রাখুন

যদি অনাকাঙ্খিত কোনো কারণে আপনি নির্দিষ্ট দিনের কাজ করতে না পারেন তাহলে ক্লায়েন্টকে জানান। কাজ চলাকালীন যদি কোনো সমস্যায় পড়েন তাহলে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করুন। ভুলে বুঝে রেখে দিয়ে কোনো কাজে এগোবেন না। কাজ করার সময় হঠাৎ যদি আপনার মাথায় কোনো আইডিয়া আসে যেটা কাজটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে তাহলে ক্লায়েন্টকে জানান যে আমার কাছে এরকম একটি আইডিয়া আছে। এবং এটা করলে এভাবে এভাবে কাজটি আরও সুন্দর হতে পারে। ক্লায়েন্টের সম্মতি থাকলে যোগ করুন। নিজে থেকে কোনো কিছু করতে যাবেন না। আবার ক্লায়েন্টের পছন্দ হবে না ভেবে বসেও থাকবেন না। বলে দেখুন; পছন্দ হলে অ্যাড করবেন, পছন্দ না হলে অ্যাড করবেন না। এতে ক্লায়েন্ট বুঝবে যে আপনি কাজের প্রতি যত্নশীল। ক্লায়েন্টরা এটাই পছন্দ করে যে সে যাকে দিয়ে কাজটা করাচ্ছে সে কোয়ালিটির প্রতি যত্নশীল হোক, টাকার প্রতি নয়।

 

  • রিভিশন

কাজ শেষ হওয়ার পর দুই-তিনবার চেক করুন কাজ ঠিক আছে কিনা। কোথাও কোনো অসংগতি রয়ে গেছে কিনা। একটি পারফেক্ট প্রোজেক্ট জমা দিলেই আপনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার পারদর্শিতা ক্লায়েন্টের সামনে উপস্থিত হবে।

কাজ ঠিক হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করুন। সব ঠিক আছে কিনা, কোনো কিছু যোগ বা বাদ দিতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করুন। ক্লায়েন্টের আপনার কাজ পছন্দ নাও হতে পারে। তাই যেকোনো সমালোচনার জন্য তৈরি থাকুন। কাজ ক্লায়েন্টের মনমত না হলে দুঃখ প্রকাশ করুন এবং তার মনমত করে দেওয়ার জন্য সুযোগ চান। তার থেকে সাজেশন নিন যে কিভাবে করলে কাজটি ভালো হয়। এখানে একটু লক্ষ্য করুন। প্রথমে যখন কাজ শুরু করবেন তখন কাজ সম্পর্কে আইডিয়া নেবেন। সাজেশন চাবেন না। সাজেশন চাবেন কাজ শেষ হবার পর বা ক্লায়েন্টের কাজ পছন্দ না হলে। আপনার কাজ যদি ভালো ভাবে শেষ হয় এবং ক্লায়েন্টের পছন্দও হয় তারপরও তাকে জিজ্ঞেস করুন তার কোনো সাজেশন আছে কিনা যাতে কাজটা আরও সুন্দরভাবে করা যায়। এভাবে প্রমাণ হবে যে আপনি কাজকে কতটা ভালোবাসেন, কতটা যত্ন করেন। কারন আপনি যে সার্ভিসটি দিচ্ছেন সেটি সে ব্যবহার করবে। তাই সার্ভিসটি তার মনমত হওয়া জরুরী। এখানে আরেকটি কথা বলে রাখতে চাই, অনেক ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্টকে খুশি করতে যেয়ে নিজের সাধ্যের বাইরে যেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসেন। শেষে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে না পেরে খারাপ ফিডব্যাক পান যা নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ। আপনি যেটা পারবেন না সেটা জানিয়ে দিন। আপনার সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এমন অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা ফ্রিল্যান্সার খুঁজছে। ফ্রিল্যান্সিং কোনো চাকরি নয়, এটা একটা ব্যবসা। একজন ব্যবসায়ীর মত আপনার কাজ হতে হবে।

ক্লায়েন্টে কে খুশি করতে যেয়ে কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়ে যাবেন না। আপনি যদি মানসম্মত কাজ করে দিতে পারেন তাহলে ক্লায়েন্ট পরবর্তীতে আপনাকেই কাজের জন্য ডাকবে। সাধারণত এটাই হয়ে থাকে। আপনাকে শুধু আপনার দক্ষতা দেখাতে হবে ও আস্থা অর্জন করতে হবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে টিপস দিতে আমি আছি আপনাদেরই সাথে। ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার নিয়ে আরও অনেক পরামর্শ পেতে আমার সাথে সংযুক্ত থাকতে পারেন টুইটারে।

 

  • aalomoni

    sundor likhechen

    • Sajib Mannan

      ধন্যবাদ :)