প্রফেশন হিসাবে ফরেক্স ট্রেডিংঃ পর্ব ২

Sadi Al Mamun

সাদি আল মামুন সাধারণত ব্লগে লেখালেখি করতে পছন্দ করেন। তারা লেখার উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে রয়েছে ফরেক্স ট্রেডিং এবং ঢাকা শেয়ার বাজার। যদি কেউ অগ্রহি থাকেন তাহলে তার ব্লগে ঘুরে আসতে পারেন। http://www.forexing24.com/
টিউন করেছেন Sadi Al Mamun | August 24, 2014 14:15 | পোস্টটি 704 বার দেখা হয়েছে

প্রফেশন হিসাবে ফরেক্স ট্রেডিংঃ পর্ব ২


একটা গল্প বলি, ঠিক গল্প নয় সত্যি ঘটনা,
শেয়ার মার্কেট এ ট্রেডিং শেখায় এমন বহু প্রতিষ্ঠান আগে বাংলাদেশে ছিল, অবশ্য এখন তারা হারিয়ে গেছে, তো একবার এমন এক নাম করা ট্রেনিং সেন্টার এর আমন্ত্রনে সেখানে গেস্ট লেকচারার হিসাবে গল্প করতে গিয়েছিলাম। আমি যখন ক্লাসে প্রবেশ করলাম তখন ঠিক পেছনের সিট থেকে এক মাঝ বয়সি লোক দাড়িয়ে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ভাই! ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কি? আমি ক্লসে ঢুকেই এই জাতীয় প্রশ্ন শুনে একটু অবাক হলাম। পরে বুঝতে পারলাম সারাদিন রেডিও, টেলিভিশনে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার এর নাম শুনতে শুনতে হয়তো তার এই আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং শুধুমাত্র এটা শেখার জন্যই আজকে এসেছেন। প্রশ্নের উত্তরে আমি উনাকে বললাম আপনার প্রশ্নের মধ্যই আপনার উত্তর লুকিয়ে আছে। উনি বুজতে পারলেন না। আমি বললাম, ফান্ডামেন্টাল শব্দটা আস্তে আস্তে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলেন উত্তর পেয়ে জাবেন।
উনি বললেন ফান্ডা-মেন্টাল, আমি বললাম আরও আস্তে বলেন, তারপর বললেন ফান-ডা- মেন্টাল।
হা! এটাই সঠিক উত্তর! তার মানে হল যে শেয়ারে ফান্ড দিয়ে বা ফান্ড ইনভেস্ট করে আপনি মেন্টাল হয়ে জাবেন তাকেই ফান্ডামেন্টাল শেয়ার বলে।

পরবর্তী পোস্টে ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল বিষয় গুলি নিয়ে আলোচনা করবো।

যারা প্রথম পর্ব পরেন নি তারা এই লিঙ্ক থেকে ঘুরে আসুনঃ ফরেক্স কি?

 

Forex

 

ফরেক্স এ যে সকল মুদ্রার আদান-প্রদান করা হয়?

ফরেক্স মার্কেটে প্রত্যেকটি কারন্সি এককভাবে না থেকে জোড়ায় জোড়ায় থাকে তার কারন একটির বিপরীতে আরেকটি এক্সচেঞ্জ করার জন্য এবং প্রত্যেক কারেন্সির মধ্য বিপরীত মুখী সম্পর্ক থাকে। অর্থাৎ একটি বাড়লে আর একটি কমবে বা একটি কমে গেলে অপরটি বেড়ে যাবে।
জোড়ার প্রথম কারেন্সিকে Base কারেন্সি এবং দ্বিতীয় কারেন্সিকে Quote/Counter/Ref/Term কারেন্সি বলা হয়।
কারেন্সির ধরন এর উপর ভিত্তি করে এগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে হয়েছেঃ

Major কারেন্সিঃ

যে সকল কারেন্সি জোড়ার সাথে USD কারেন্সিটি থাকবে। এবং এই সকল কারেন্সিতে সবচেয়ে বেশি পরিমান ট্রেড হয়। মেজর কারেন্সি Base অথবা Quote যেকোন ভাবে থাকতে পারে। যেমনঃ
1. EUR/USD
2. USD/CAD
3. GBP/USD
4. AUD/USD
5. USD/CHF
6. NZD/USD
7. USD/JPY

বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসুনঃ ফরেক্স মুদ্রা 

ফরেক্স কারেন্সি পেয়ারঃ

ফরেক্স মার্কেট এ প্রত্যেকটি কারেন্সি জোড়ায় থাকে। আমাদের বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট এর যেকোন শেয়ার এর মূল্য টাকায় নির্ধারিত হয়, অর্থাৎ যেকোন দেশের শেয়ার এর মূল্য সেদেশের মুদ্রার বিপরীতে নির্ধারিত হয়। কিন্তু ফরেক্স মার্কেটে কোন শেয়ার এর মূল্য সেদেশের মুদ্রার বিপরীত নির্ধারিত হয় না । ফরেক্স মার্কেটে এটা সম্ভব নয়। ফরেক্স মার্কেটে একটি মুদ্রার অনেক গুলো দেশভিত্তিক অনেক রকম হবে,
যেমন 1 USD ক্রয় করতে হলে বাংলাদেশে বর্তমানে ৮০ টাকা লাগবে, ইউরো দিয়ে ক্রয় করলে প্রায় .৮০ ইউরো লাগবে অথবা ১.১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার লাগবে । এখন তাহলে বলুন ডলারের মূল্য আসলে কোনটি ? এই জন্য ফরেক্স মার্কেট কারেন্সি পেয়ার এর মাধ্যমে ট্রেড হয়ে থাকে যাতে করে যেদেশের মানুষ সে দেশের মুদ্রার মূল্য শেয়ার পেতে পারে।
উধহারন সরুপঃ
যদি EUR/USD = 1.3035 থাকে তাহলে বুঝতে হবে, ১ EUR ক্রয় করতে আপনার 1.3035 USD প্রয়োজন হবে। এখানে বিস্তারিত পড়ুনফরেক্স কারেন্সি পেয়ার। 

 

ফরেক্স ট্রেডিং-এর ডেমো অ্যাকাউন্ট ওপেনিং

ফরেক্স ট্রেডিং এর জন্য প্রধানতঃ দুই প্রকারের একাউন্ট করা হয়।যথা-ডেমো একাউন্ট ও লাইভ একাউন্ট। ডেমো একাউন্ট দিয়ে ফরেক্স ট্রেডিং অভ্যাস বা চর্চা করা হয়।ডেমো একাউন্ট আর লাইভ একাউন্টের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য সবই এক ধরনের।পার্থ্ক্য শুধু এই যে, ডেমোতে যে ডলার দেখায় তা ব্যাংক থেকে ভাঙানো যায় না বা তা উত্তলোন করা যায় না আর লাইভ একাউন্টে যে ডলার দেখায় তা ব্যাংকের মাধ্যমে ভাঙানো যায় বা যে কোন ভাবে উত্তোলন করা জায়। ডেমো একাউন্ট দেখে চেনার উপায় হল- এই একাউন্টের সবার উপরে স্ট্যাটাস বারে ডেমো কথাটি উল্লেখ থাকে, কিন্তু লাইভ একাউন্টে এই কথাটি লেখা থাকে না। ডেমোতে মার্কেট রিয়েল কিন্তু $ডলার ভার্চুয়াল।
একটি ডেমো একাউন্ট খোলার পদ্ধতি আলোচনা করছি।
প্রথমে ফরেক্স এর যে কোন ব্রোকার এর ওয়েব সাইট থেকে একটি ট্রেডিং এর সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে।

ছবি সহ বিস্তারিত জানতেঃ ফরেক্স ডেমো   

ফরেক্স ট্রেডিং

 

ফরেক্স এ পিপস, পিপেটিস, লেভারেজ

পিপসঃ

আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন মুদ্রার pair এর অনুপাত দশমিকের পরে চার ঘর পর্যন্ত দেওয়া থাকে। কিন্তু শেয়ার মার্কেট এ খুব কম শেয়ারের দামই দশমিকে যায়। ফরেক্স যেহেতু দুই মুদ্রার অনুপাত, তাই সুক্ষ হওয়া প্রয়োজন। কারণ কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেটের হেরফের বেশি লক্ষ করা যায় দশমিকের পরে তৃতীয় ও চতুর্থ ঘরে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তন না হলে দশমিকের পরে প্রথম ঘরের পরিবর্তন সাধারণত দেখা যায় না। ২-৩ দিন বা এক সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনা করলে দশমিকের পরের দ্বিতীয় ঘরে পরিবর্তন দেখা যায়। বিস্তারিতঃ  পিপস

পিপেটিসঃ

কোন কোন ক্ষেত্রে অনুপাতে দশমিকের পড়ে ৫ ঘর/ ডিজিট থাকে। এই পঞ্চম ডিজিট টাই হল পিপেটিস। আগের উদাহরণ ধরেঃ যদি অনুপাত .৬৯৩৫১ থেকে .৬৯৪৫৭ হয়, তবে বুঝতে হবে, মার্কেট ১০ পিপস এবং ৬ পিপেটিস অথবা ১০৬ পিপেটিস পরিবর্তন হয়েছে। বিস্তারিতঃ  পিপেটিস 

লেভারেজঃ

 

ফরেক্সের লেভারেজ আর শেয়ারের লোন প্রায় একই বিষয়। তবে শেয়ারে দ্বিগুণের বেশি লোন দেয়া হয় না। কিন্তু ফরেক্সে আপনার পুঁজির ১০০০ গুণ বেশি পর্যন্ত লোন বা লেভারেজ পাওয়া সম্ভব। লেভারেজ ১:২০০ বলতে বোঝায় মূল পুঁজির ২০০ গুণ লেভারেজ। যদি আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০ ডলার থাকে এবং আপনি ব্রোকার প্রদত্ত ১:১০০ লেভারেজ সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে আপনার পুঁজি ১০০ ডলার, কিন্তু আপনি বিনিয়োগ করলেন ১০০০০ ডলার সমমূল্যের ট্রেড। লেভারেজ ব্যবহার করলে লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ বেশি করা সম্ভব। কম অর্থ বিনিয়োগ করে লেভারেজ প্রয়োগ করে যেমন বেশি টাকা কামানো সম্ভব, তেমনি সব খুইয়ে অ্যাকাউন্ট শূন্য বানানোও সম্ভব। তাই বিজ্ঞদের পরামর্শ, বেশি লোভ না করে ১:১০০ বা ১:২০০ লেভারেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা। আরো ভালো হয় লেভারেজ না নিয়ে কাজ করতে পারলে। বিস্তারিতঃ  লেভারেজ।