অনুপ্রেরণার গল্পঃ লক্ষীপুরের ডিজাইনার দীদারের ইনকামের গল্প

টিউন করেছেন admin | October 3, 2017 09:33 | পোস্টটি 529 বার দেখা হয়েছে

দীদারের গল্পটা শেয়ার করবো বলেছিলাম। লক্ষীপুরের দীদার হোসেন শুধুমাত্র নেশা গ্রাফিক ডিজাইনের ইমেজ ম্যানুপুলেশনের কাজ। আর নেশাটা শুরু হয়ে যাওয়াতে গ্রাফিক ডিজাইনের সফটওয়্যার ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যারটা শিখতে পারেনি।

didar

শিখার পর্বঃ

শুরুটা নিজেই নেশার কারনে ইউটিউব ঘেটেই নিজের চেষ্টাতেই শিখেছেন। পরবর্তীতে লার্নিং এন্ড আর্নিংয়ের লক্ষীপুর হতে ডিজাইনের উপর কোর্স সম্পন্ন করেন। তারপর আরও এক্সক্লুসিভ কাজ করার জন্য নিয়মিত ইউটিউব ঘেটে নিজে নিজে প্রাকটিস করে কাজ শিখেন।

এ পর্ব হতে শিক্ষনীয়ঃ শেখার জন্য ইউটিউব হচ্ছে সবচাইতে বড় শিক্ষক, সবচাইতে বড় বন্ধু। ট্রেইনিং নিতে পারেননি সেজন্য অসহায় অনুভব করার মত কিছুই নাই। ইউটিউবতো আর কাউকে শিখাতে টাকা নিচ্ছেনা, আবার কাউকে শিখতে বাধাও দিচ্ছেনা।

ইনকাম পর্বঃ

রয়েছে ইংরেজী দুর্বলতা এবং ইংরেজি ভীতি। তাই ইন্টারন্যাশনাললি চেষ্টা করাটাই বৃথা। তাই বলে ইনকামের পথতো আর বন্ধ হয়ে যেতে পারেনা। সে ইনকামের রাস্তা খুজে বের করতে বিকল্প রাস্তা খোজা শুরু করলো। সবচাইতে বড় ইনকামের জায়গা হচ্ছে, ফেসবুক। এ কথাটা মাথাতে রেখেই সে চেষ্টা শুরু করে দেয়। তার ১ম ইনকামের গল্পটা শুনলেই বুঝবেন কেমন ছিলো বিকল্প ইনকামের পথ।

didar3 didar4 didar5 didar7

বাংলাদেশের টপ গায়ক ইমরানের একটা গানের মিউজিক ভিডিও রিলিজ হয়েছিলো ইউটিউবে। সেই ভিডিওর থাম্বনেইল দীদারের কাছে পছন্দ হয়নি। তাই সে ইমরানের সহ শিল্পীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুজে বের করে সেখানে ইনবক্সে নক করে। সেই ইনবক্সে সে নিজের করা সেই গানের জন্য নতুন থাম্বনেইল ডিজাইনসহ নক করে। সেই ডিজাইনটা দেখে শিল্পীর কাছে গানের আগের ডিজাইনের চাইতে স্মার্ট এবং সুন্দর লেগে যায়। সেই নারী শিল্পীটি তখন এ ডিজাইন ইমরানের কাছে উপস্থাপন করে। ইমরানেরও পছন্দ হয়ে যায়। আগের ডিজাইনকে পরিবর্তন করে দীদারের করা ডিজাইনটি বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, দীদারে অ্যাপ্লোচটা ছিলো, ভালোবাসা থেকেই করে দিচ্ছে, তাই পেমেন্টের কোন প্রয়োজন নাই। এবং দীদার পেমেন্ট নেয়ও নি। এরপর থেকে ইমরান ও তার সহ শিল্পীর ডিজাইনার হিসেবে সে পছন্দের তালিকাতে চলে আসে। এরপর থেকে  এ শিল্পীর পছন্দের ডিজাইনার হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়ে যায়। এরকম আরও কয়েকজন শিল্পির ডিজাইনার হিসেবেই তার ক্যারিয়ার শুরু। শুধুমাত্র ইমেজ ম্যানুপুলেশন এবং ম্যানুপুলেশন  ব্যবহার করে আকর্ষনীয় পোস্টার ডিজাইনের দক্ষতা নিয়েই তার ক্যারিয়ারের শুরু। এভাবেই বর্তমানে একটা স্বনামধন্য অডিও ইন্ড্রাষ্ট্রির ডিজাইনার হিসেবে তার চাকুরি শুরু হয়ে যায়। এবং  চাকুরিটাও লক্ষীপরে ঘরে বসেই করার সুযোগ পাচ্ছে।

এ পর্ব হতে শিক্ষনীয়ঃ

১) ফেসবুক শুধু সেলফী আপলোডের জায়গা না। এটাই সবচাইতে বড় মার্কেটপ্লেস। প্রচুর বায়ার এখান হতেই পাওয়া যায়।

২)শুধুমাত্র বিদেশীরাই আপনার বায়ার না। আপনার স্কীল দেশী লোকদের কাছেও বিক্রি করতে পারেন। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার যারা তারাও আপনাকে তার কাজের জন্য টীম মেম্বার হিসেবে হায়ার করতে পারে।

৩) ইনকাম শুরুর জন্য খুব বেশি সেক্টরে স্কীল হয়ে তারপর ক্যারিয়ার শুরু করতে হবে। এরকম কোন কথা নাই। যেকোন একটা স্কীল দিয়েই ক্যারিয়ারটা শুরু করে দেওয়া যায়।

৪) ১ম দিকে বায়ার ধরার জন্য কিছু ফ্রি কাজ করে দিতে হয়। শুরুতেই টাকা চিনলে টাকা আপনার সাথে আত্নীয়তা করবেনা।

 

এ লেখাটি পড়ার পরও যদি কোর্স সম্পন্ন করা কাজ না পাওয়া হতাশাগ্রস্ত কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই আমার জন্য হতাশাজনক হবে। সবার সাথে শেয়ার করুন, আপনার শেয়ারে  একজন বেকার হতে মুক্তি পেতে পারে।

  • https://www.fiverr.com/hasanrakib248/create-60-seo-link-building-for-ranking Hasan Rakib

    ফেসবুক শুধু সেলফী আপলোডের জায়গা না। এটাই সবচাইতে বড় মার্কেটপ্লেস। প্রচুর বায়ার এখান হতেই পাওয়া যায়।