মার্কেটিং এর ৫ কৌশল

Mahabub Alom

Mahabub Alom

প্রফেশনালি ওয়েব ডেভেলপার। এসইও এর উপর প্রচণ্ড আগ্রহ, ভবিষ্যতে একজন ভাল মার্কেটার হয়ে অ্যাাফিলিয়েশন এ নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়তে চাই।
Mahabub Alom

Latest posts by Mahabub Alom (see all)

টিউন করেছেন Mahabub Alom | December 15, 2015 04:39 | পোস্টটি 4,439 বার দেখা হয়েছে

আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তা (যে ব্যবসার উন্নতিতে নেতৃত্ব দেয়), এবং বাবসায়ী (যারা কোন রকম টিকে আছে)। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য কি? প্রত্যেক সফল সার পেছনে পরিষ্কার মার্কেটিং কৌশল আছে যার মাধ্যমে ব্যবসাটা করা যায় অনেক কার্যকর ভাবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক ব্যবসায়ীরা কারণ ব্যবসার উন্নতির জন্য কিছু সময় ব্যয় করেনা। তারা জানেনাঃ দৈনন্দিন মার্কেটিং, ওয়েবসাইট বানানো, ই-মেইল পাঠানো,টুইট করা, অ্যাড দেয়া, ল্যান্ডিং পেইজ বানানো, ব্লগিং করা এবং আরও অনেক কিছু। এগুলো করলে ব্যবসার উন্নতি হতো।
কৌশলটা একটা সিদ্ধান্ত যা আপনি করবেন, আর এটা দিয়ে অনেক ভাল ফল পাবেন। কৌশলটা হচ্ছে সচেতনতার মূল ভিত্তি, লভ্যাংশ, বিক্রয় বৃদ্ধি, ক্রেতার সাথে অ্যানগেজ থাকা। মার্কেটিং কৌশলটা কোম্পানীর সংস্কৃতি, পণ্য, সার্ভিস এবং দামের প্রদর্শক। এখানে অনেক কিছু ছাড় দিতে হয় সকল কৌশল প্রদর্শনে। কিন্তু এখানে ৫টি কৌশল যা আমি দেখেছি বছর ধরে প্রায় ১০০ এর মতো ছোট ব্যবসায়িক যারা বিক্রয় বাড়িয়েছে এবং ব্যবসায় তাদের মানসিক সুস্থ্যতা এনেছেঃ

৫টা কৌশল হচ্ছেঃঃ

Customer-Concept

১। টার্গেটেড গ্রাহক।

২। ব্যবসার ধরণ/ক্যাটাগরি।

৩। অন্যান্য সুবিধা।

৪। আসল প্রতিদ্বন্দ্বী কে?

৫। কিভাবে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা।

১। টার্গেটেড গ্রাহকঃ

মার্কেটিং এর প্রধান কৌশল হল টার্গেটেড কাস্টমার নিরধারন করা। আপনি কি পরিবেশন করেন তা সবসময় পরিষ্কার ভাবে উত্তর দিতে হবে। যে কোন কৌশল মানে আপনাকে আপনার সম্ভাব্য ক্রেতাকে “না” বলতে হবে, আপনার নিচু মানের কৌশলের কারণে। এটা করতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু এছাড়া কার্যকর মার্কেটিংও করতে পারবেন না।

একটি ভাল লক্ষ্যের দিকে মননিবেশ করা প্রথম দিকে অস্বস্তিকর মনেহতে পারে। কিন্তু এটাতে লেগে থাকুন, অনুসরণ করুন। আমার এক হিসাব রক্ষক বন্ধু ২ বছর ধরে পরিবর্তন এনেছে, তার ব্যবসাকে ৩গুন করেছে। সার্ভিস কমিয়ে নির্দিষ্ট করে। যদি আপনি মার্কেটিং এ সময় এবং অর্থ ব্যয় করেন কিন্তু ফলাফল মানে, ভাল সেল পান না। তাহলে সমস্যাটা হল আপনি আপনার সার্ভিস কমান নাই। যার ফলে ভাল ফলাফল পাচ্ছেন না। ব্যবসার ধরণটা আপনাকে ছোট করে নির্ধারণ করতে হবে। এভাবে আপানি আপনার সার্ভিসের উপর ভালভাবে ফোকাস করতে পারবেন। এভাবে ভাল ফল পাওয়া যাবে। এমনকি আপনার সকল ব্যবসায়ও এটার ভাল ফল পাবেন।

২। ব্যবসার ধরণ/ক্যাটাগরিঃ

ক্যাটাগরি হচ্ছে ব্যবসার ধরণ বা বিবরণ যা আপনি কি করেন। কয়েকটি শব্দ বা বাক্য যা আপনার পুরো ব্যবসার বর্ণনা করবে।
অনেক ব্যবসায়িক তার কোম্পানির বর্ণনাটা সহজতর করতে পারে না। যার কারণে আপনি কি করেন মানুষ বুজতে পারে না। এটা মার্কেটিং প্রবৃদ্ধির অন্তরায়। এটা সাধারণ নিয়মঃ যদি কেউ পরিষ্কার ভাবে বুজতে না পারে আপনার ক্যাটাগরি, তাহলে ১ মাস না কক্ষনই পরিষ্কার হতে পারবে না।
ক্যাটাগরির সঠিক বর্ণনা মার্কেটিং এ সাহায্য করবে এবং সেল বৃদ্ধিতে প্রভাব পরবে। চিন্তা করুন কি হতে পারে আপনার ক্যাটাগরি । একটি প্রধান ক্যাটাগরি বাহির করুন। প্রধান ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে পারেন নাই, তাহলে ছোট করে ফেলুন ক্যাটাগরি লিস্ট অথবা টার্গেট মার্কেট ফোকাস করুন প্রধান একটা বাহির করা পর্যন্ত। একটি লেজার নির্দেশ দিয়ে ইস্পাত ভেদ করা যায়। কিন্তু লক্ষ্য স্থির না থাকলে কোন প্রভাবই পরবে না। লেজারটা মনে করেন আপনার ফোকাস।
৩। অন্যান্য সুবিধাঃ
অন্যান্য সুবিধা অবশ্যই হাইলাইট করতে হবে। ১টা অথবা ২টা এর বেশী না। এর মাধ্যমে টার্গেটেড কাস্টমার কি চায় তা বুঝানো। infosoft এ আমরা কাস্টমারদেরকে যারা বিক্রয় বৃদ্ধি এবং সময় বাঁচাতে চায় তাদেরকে শত বেনিফিট অফার না করে মাত্র ৩টা প্রধান বেনিফিট অফার করি। এবং বুঝিয়ে দেই যে এটা দিয়ে আরও অনেক কিছু করা হয়। এটা অনেক ভাল এবং এই মার্কেটিং অনেক কাজের।

৪। আসল প্রতিদ্বন্দ্বীঃ

যখন কেউ কোন সমাধান কিনতে চায় তখন সে খুব সহজেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আপনার পণ্যের তুলনা করে। তবে অনেক উদ্যোক্তাই জানেনা যে তাদের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী কারা এবং তাদের ম্যাসেজ ফোকাস করে না। ক্রেতাকে পরিষ্কার বর্ণনা/পার্থক্য উল্লেখ করে না। আপনার নিজের মনে অবশ্যই পরিষ্কার থাকতে হবে যে কে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী। যদি আপনি একজন অ্যাকাউনটেনট হন তাহলেঃ নিজের শহরে কি অন্য আকাউনটেনট আছে? জাতীয় কর নিরীক্ষক চেইন? DIY tax software? অন্যান্য financial planner? প্রতিটি কাম্পিটিটর ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তুলনা হবে। সুতরাং আপনার লিস্ট আরো ছোট করতে হবে। ১ টা বা ২ টা।

৫। কিভাবে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা?

যখন আপনি কাম্পিটিটর নির্ধারণ করে ফেলবেন তখন একটা লিস্ট করবেন। আপনি যা করেন, অন্যদের থেকে ভাল। তারপর লিস্ট টা রেংক করবেন যা টার্গেটেড কাস্তমারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম থেকে ১ টা অথবা ২ টা নিয়ে homepage এ শো করবেন ।
বেশী কমপ্লিকেটিং করবেন না। ক্রেতা সিদ্ধান্তের জন্য ১ টা অথবা ২ টা ব্যাপার চায়। এটা কি চিপার? আপনার কি দ্রুত ডেলিভারি আছে? ভাল সার্ভিস? আপনি একমাত্র যে একচেটিয়া ভাবে সার্ভিস দিচ্ছেন?

Website-business

আপনার মার্কেটিং কৌশলটা কেমন হয়েছে?

যখন আপনি মার্কেটিং এর ৫টা প্রধান কৌশল দিবেন এটা খালই ফরম পূরনের মতো হবে। প্রথমে কোম্পানির নাম (যা আলাদা বেনিফিট দিবে) থাকবে, টার্গেটেড ক্রেতা কে, কাম্পিটিটর থেকে আলাদা। আমাদের প্রবৃদ্ধি দিগুন হয় যখন তা ফোকাস করি। যা পরিষ্কার মার্কেটিং কৌশল।

আপনার বেলায়ঃ- শূন্য স্থান পূরণ করুন নিজের মার্কেটিং কৌশল, নিজের ব্যবসার জন্য। কর্মচারী, বন্ধু এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা ধারনা নেন। তালিকা করুন এবং সিদ্ধান্ত নিন। আপনি নির্মলতা এবং শক্তি পাবেন। এছাড়াও এটা আরো ফোকাস তৈরি করবে। যদি সঠিক নির্দেশনা ছাড়া একাজগুলা করেন। পোস্ট করা, টুইট করা, ই-মেইল কর, নতুন ওয়েবসাইট বানানো আপনার মার্কেটিং কৌশল সফল হবে না। যদি আপনি এখানে বিনিয়োগও করে থাকেন। এখানেই আসল সিক্রেট লিকিয়ে আছে। সকল কোম্পানি এগুলো চরম শৃঙ্খলার সাথে করে থাকে। বড় কিছু পেতে হলে সঠিক মার্কেটিং কৌশল ছাড়া হয় না। এটা ছোট থেকে বড় হতে এবং প্রথম হতে সাহায্য করে।