ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার (পর্ব: ৬- মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ পাওয়ার উপায়)

ekram

বর্তমানে অনলাইন মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি, ওয়েবডিজাইন এবং গ্রাফিকসটাও নিজের নেশা। লার্নিংএন্ড আর্নিং প্রজেক্টের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগেরপ্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্বরত। জেনেসিসব্লগসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন ।
টিউন করেছেন ekram | October 21, 2015 10:54 | পোস্টটি 3,991 বার দেখা হয়েছে

আমাদের দেশে আপওয়ার্ক (পুর্বের নাম, ওডেস্ক) নিয়ে এত বেশি মাতামাতি হয়েছে যে সবার মধ্যে ধারণা ফ্রিল্যান্সিং মানেই আপওয়ার্কে কাজ করতে হবে। আমি সহ আরো অনেকে যখন বলি আমি ফ্রিল্যান্সিং করি, তখন অনেকেই জানতে চায়, আপওয়ার্কে কত ঘন্টা কাজ করেছি। যদি বলি আপওয়ার্কে আমার কোন প্রোফাইল নাই, তখন সবার কাছেই বিষয়টা আশ্চয লাগে। তাই সবার মধ্যের এ ভুল ধারণাটি (ফ্রিল্যান্সিং মানেই আপওয়ার্ক) দূর করার জন্যই  আজকের এ পর্বটি।

এর আগের পর্বগুলো যারা মিস করেছেন, তাদের জন্য আগের পর্বগুলোর লিংক দিচ্ছি।

১ম পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

২য় পর্ব: ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

৩য় পর্ব:  ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে করনীয়

৪র্থ পর্ব:  চাকুরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং

৫ম পর্ব: বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের পরিচিতি

 earn money

কেন এটি ভুল ধারণা?

আমরা বাংলাদেশের কোন চাকুরী খোজার জন্য সাধারণত বিডিজবস এ যাই। কিন্তু তাই বলে কি কারও কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের সকল চাকুরীর সংবাদ বিডিজবসেই থাকে? প্রচুর প্রতিষ্ঠান আছে তাদের লোক নেওয়ার জন্য কখনওই বিডিজবসে কোন নিউজ প্রকাশ করেনি।  বাংলাদেশের চাকুরীর খোজার ক্ষেত্রে বিডিজবস যেরকম একমাত্র প্লাটফরম নয়, তেমনি সারা বিশ্বের কাজের খোজ নেওয়ার জন্য কিভাবে আপওয়ার্ক একমাত্র জায়গা হতে পারে, সেটি সবাই নিজেকে প্রশ্ন করুন। বাস্তবতা হচ্ছে অনলাইনে সারাবিশ্ব থেকে যত পরিমান কাজ পাওয়া যায় তার মাত্র 23% এ মার্কেটপ্লেসগুলোতে পাওয়া যায়। তাহলে বাকি কাজগুলো কোথায় পাওয়া যায় সেটিও আমি এ পর্বে লেখার চেষ্টা করব।

এ ভুল ধারণাটি ক্ষতি করছে সমাজের, কিভাবে?

আমাদের দেশের শূধু মাত্র নতুনদের নয় , যারা অনেকদিন ধরে কাজ করছেন, কিংবা যারা কাজ শিখাচ্ছেন, তাদের মধ্যেও ধারণার অভাব রয়েছে। অনেকেই জানেনা যে আপওয়ার্ক ছাড়াও আরও কতভাবে আয় করা যায়। এজন্য সবার মাঝে ছড়িয়ে গেছে, অনলাইনে আয় মানেই আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্টস থাকতে হবে। বিষয়টা এমন যে, অনেকেই জানেনা উইন্ডোজ একটি অপারেটিং সিস্টেম। এরকম আরও অনেক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম শব্দটি বললে চিনবেনা কেউ। উইন্ডোজ বললেই চিনে সবাই।

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে আপওয়ার্ককে শুধু চেনার কারনে ক্ষতি হচ্ছে নিচের কয়েকটিভাবেঃ

-   যারা অনেক স্বপ্ন নিয়ে কাজ শিখে আপওয়ার্ক থেকে আয়ের চেষ্টা শুরু করেন, তারা সেখানে কোন কাজ না পেয়ে হতাশ হয় কিংবা আউটসোর্সিং সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম নেয় তাদের মনে।

-   কাজ না পেতে এক সময় অনেক কম রেটে বিড শুরু করে দেয়। কাজের রেট কমালে সবার জন্য ক্ষতির কারণ হয়, যে ক্ষতির সম্মুখীন ইতিমধ্যে সবাই হচ্ছে।

-   কাজ পেতে স্পামিং করছে, ডুপ্লিকেট কভার লেটার ব্যবহার করছে। কাজ না বুঝেই বিড করছে। আর সেটার খারাপ ফল ভোগ করছে অন্য দক্ষ বাংগালীরা। ক্লায়েন্টরা এখন বাংগালীদের দিয়ে কাজ করাতে এখন কম আগ্রহী। সত্যিকারের যারা কাজ পারেন, তাদেরকেও এখন সঠিকভাবে ক্লায়েন্টরা চিনতে পারছেননা।

-   আপওয়ার্ককে কাজ পাওয়ার কথা বলে এখন আলাদা নতুন নতুন প্রতারণার ব্যবসারও তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে অনেকে প্রতারিত হয়ে নিজের অনেক অর্থ নষ্ট করেছে এবং তাদের মনেও অনলাইনে আয় নিয়ে বাজে একটি ধারণা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে।

-   শুধু আপওয়ার্ককেই অনলাইনে আয় মনে করার কারনে, যোগ্যতা তৈরির আগেই আপওয়ার্কে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে বিড করা শুরু করছে। সেকারনে আপওয়ার্কে  দক্ষ্য বাংলাদেশির চাইতে অদক্ষ্য বাংলাদেশির সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। যা বাংলাদেশীদের দক্ষতার ব্যাপারে অন্যদেশের ক্লায়েন্টদেরকে নেগেটিভ মেসেজ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনেক বড় ক্ষতির কারন হবে। যদিও ইতিমধ্যেই সেই ক্ষতিটা সবাই অল্প স্বল্প ভোগ করা শুরু করেছে।

 

বিড করা ছাড়াও আর কিভাবে কাজ পাওয়া যায়?

make money

১) ক্লায়েন্ট এসে সার্ভিস কিনবে

এখানে আমি দুটি বিখ্যাত মার্কেটপ্লেসের নাম বলব, যেখানে  কাজের জন্য বিড করতে হবেনা। এসব মার্কেটপ্লেসে শুধু লিখে রাখতে হয় , কি কাজ করতে চান। বায়ারই খুজে বের করে কাজ দিবে। এরকম দুটি মার্কেটপ্লেসে নাম হচ্ছেঃ

-   Peopleperhour.com

-   Fiverr.com

এসব মার্কেটপ্লেসে শুধুমাত্র গিগ হিসেবে নিজের সার্ভিস লিখে রাখতে হয়। অর্থাৎ এভাবে লিখে রাখবেন, আমি একটি লোগো ডিজাইন করতে চাই, যার জন্য দাম রাখব ৫০ ডলার। যারা এ রেটে আপনাকে কাজ করতে চায়, তারাই খুজে বের করবে আপনাকে। প্রয়োজন নাই, সারাদিন মার্কেটেপ্লেসে বসে থেকে নজর রাখা বায়ার নতুন কোন কাজের জন্য লোক খুজছে কিনা, তারপর সে কাজে গিয়ে বিড করা। এ কষ্টটা এসব মার্কেটপ্লেসগুলোতে বায়ার নিজে করে।

 

২) সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো কাজ পাওয়ার অন্যতম ক্ষেত্রঃ

আমাদের মনে রাখত হবে, আমরা সাধারণ জনগণ যেমন সোশ্যালমিডিয়া সাইটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করি, তেমনি দেশের প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য বড় বড় ব্যক্তিরা কিংবা বড় বড় কোম্পানীর মালিকরাও নিয়মিত এসব সাইটগুলোতে নিয়মিত প্রবেশ করে। এজন্য এসব জায়গাগুলো থেকেও প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বিশেষ করে লিংকডিন (linkdin) থেকে কাজ পাওয়া যায় অনেক বেশি।

বিশ্বের বেশিরভাগ বায়াররাই মার্কেটপ্লেসে গিয়ে তার কাজের জন্য নতুন কাউকে খুজে বের করাটাকে বিরক্তিকর কাজ মনে করে (ঠিক যেমন যে কাজ খোজে তার জন্য মার্কেটপ্লেসে কাজ খোজাটা বিরক্তিকর মনে করে)। লোকাল যে কোন চাকুরীর ক্ষেত্রে যেমন সবার প্রথম নিজের পরিচিতদের ম মধ্যে যোগ্য কেউ থাকলে তাকেই সবাই নিতে চায়, কারণ পরিচিত একজনের ব্যপারে রিস্ক অবশ্যই কম থাকে। অনলাইনের এ যুগে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যেকোন কারও সাথেইও পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে আর পরিচিত হওয়ার সে সুযোগটি করে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো। এসব সাইটগুলোতে নিজেকে প্রফেশনাললি, নিজেকে কাজের দক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করুন। সোশ্যাল মিডিয়া কাজ খোজার জন্য অনেক শক্তিশালী একটি মাধ্যম। ফেসবুক, লিংকডিন মার্কেটপ্লেস হতেই পেতে পারেন প্রচুর কাজ। তাছাড়া গ্রাফিকসের জন্য কাজ পেতে চাইলে নিচের দুটি মার্কেটপ্লেসে যুক্ত থাকতে পারেন। আমার পরিচিত প্রচুর ডিজাইনার এখান থেকেই কাজ পাচ্ছে।

১)বিহেন্স (https://www.behance.net/)

২) ড্রিবল (https://dribbble.com/)

৩) ব্লগিংয়ের মাধ্যমে কাজ খোজাঃ

ব্লগিং কাজ খোজার অন্যতম একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ব্লগিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষদের কাছে নিজের কাজের দক্ষতা প্রমাণ করা সম্ভব।  যে বিষয়ের উপর কাজ পেতে চাচ্ছেন, সে বিষয়ের উপর নিজেকে দক্ষ হিসেবে প্রকাশ করতে কিংবা নিজেকে ব্রান্ডিং করতে ব্লগিং অনেক বেশি কাযকরী। আপনি যখন নিজেকে দক্ষ হিসেবে সবার কাছে ব্রান্ড করতে পারবেন, তখন কাজ খুজতে হবেনা। বায়ার নিজে এসে আপনাকে কাজ করার জন্য অফার করবে এবং সেটি হবে অবশ্যই যেকোন মার্কেটপ্লেসের চাইতে কমপক্ষে দ্বিগুন রেটে। বিখ্যাত ব্লগিং সাইটগুলোতে গেস্ট হিসেবে ব্লগিং  করে কিংবা নিজের পার্সোনাল ব্লগ তৈরি করে ব্লগিং শুরু করতে পারেন, যার লক্ষ্য থাকবে আপনার দক্ষতাকে ব্রান্ডিং করা।

যত সময় ব্যয় করবেন মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য বিড করে কিংবা কাজ খুজে, ব্লগিংয়ের জন্য তার চাইতে বেশি সময় লাগবেনা। কিন্তু আপনার একেকটি ব্লগপোস্ট আপনাকে বাচিয়ে রাখবে বহুদিন।

৪) ফোরাম পোস্টিংয়ের মাধ্যমেঃ

অনেকে ভাবছেন লেখালেখি আপনার দ্বারা সম্ভব হবেনা। সুতরাং ব্লগিং করে কাজ যোগাড় বুদ্ধিটি আপনার কাজে লাগবেনা। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিভাবে নিজের স্কীল হিসেবে প্রকাশ করব, সেটিও আমার দ্বারা হবেনা মনে করছেন, তারা ফোরাম পোস্টিং করে নিজে দক্ষতা সবার সামনে প্রকাশ করতে পারেন। ব্লগিংয়ে লেখার জন্য টপিকস খুজতে হলেও ফোরামে সেই ঝামেলাতে পড়তে হবেনা। কারণ এখানে বিভিন্ন জনের প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালভাবে আকর্ষণ করার মত করে দিলেই হবে। এরকম নিয়মিত কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর উত্তর দিতে থাকলে সেই বিষয়ের উপর আপনার দক্ষতা সবার কাছেই প্রকাশিত হয় অর্থাৎ সেই দক্ষতা বিষয়ে নিজের ব্রান্ডিংটা হয়ে যায়, নিজের ব্রান্ডিং হলে কি সুবিধা হবে সেটি আগের প্যারাতে আলোচনা করেছি।

৫) ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেঃ

ইমেইল মার্কেটিং সম্পর্কিত বেসিক জ্ঞান থাকলে বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যম খুজে বের করে তাদেরকে অফার জানিয়ে নিয়মিত মেইল করুন। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এভাবে প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বড় আকারে কাজ পেতে চাইলে এ পদ্ধতি অনেক বেশি কাযকরী। সবারই ইচ্ছা থাকে ভবিষ্যতে বড় আইটি প্রতিষ্ঠান তৈরির।  যারা এরকম চান, তাদের জন্য এ পদ্ধতিটি  বেশি কাযকরী। তবে আগে একটি প্রফেশনাল পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করে নিলে বেশি ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

৬) পোর্টফলিও সাইট তৈরি করে এসইও করার মাধ্যমেঃ

নিজের একটি পোর্টফলিও সাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটকে নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চের ফলাফলের প্রথমে নিয়ে আসতে পারলে সেখান থেকে কাজ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটকে আগে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হয়। এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলো র‌্যাংকিং এর পাশাপাশি ট্রাফিক অ্যানগেজমেন্টর উপরই কাজ পাওয়া বেশি নির্ভর করে। আর এভাবে কাজ যোগাড় করলে সারাজীবনই কাজ পেতে থাকবেন।

Social_Media_

৭) ভিডিও মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে :

ইউটিউবে নিজের একটি ভিডিও  চ্যানেল খুলে সেখানে যে সম্পর্কিত কাজ করতে আগ্রহী সে সম্পর্কিত নিজের তৈরি ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত আপলোড করুন। এমন ভিডিও তৈরি করতে হবে, যাতে সেটা দেখে অন্যদের ভিতর সেই কাজের ব্যাপারে আপনাকে অভিজ্ঞ হিসেবে ধারণাটা পাকাপোক্ত হবে। এ ভিডিওকে ইউটিউবের সার্চের প্রথমে নিয়ে আসার কাজটিও করতে হবে। না হলে ভিডিওটি বেশি মানুষের নজরে আসবেনা। বেশি মানুষ আপনার ভিডিও না দেখলে উদ্দেশ্য সফল হবেনা অর্থাৎ কাজ পাবেননা।

৮) ব্লগ কমেন্টিংয়ের মাধ্যমেঃ

ভাল ভাল কিছু ব্লগ রয়েছে যেগুলো প্রচুর মানুষ ভাল কিছু শিখার জন্য যায়। সারা বিশ্বের প্রচুর মানুষ নিয়মিত এসব সাইটগুলোতে ভিজিট করে। আপনি যদি এসব সাইটে ব্লগ লিখতে পারেন, তাহলে টার্গেটেড লোকদের কাছে খুব সহজে নিজের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করতে পারবেন। কিন্তু ধরে নিলাম লেখালেখির অভ্যাস নেই। কোনভাবেই লিখতে পারবেননা। তাহলে কি উপায়? এসব ব্লগে প্রকাশিত পোস্টগুলোতে সবার নজরে আসার মত করে কমেন্ট করুন নিয়মিত। এসব কমেন্টের মাধ্যমেও আপনার নিজেকে ব্রান্ডিং করার সুযোগ আছে। সাধারণ দেখা যায়, ৪-৫টা ভাল কমেন্টের পর সেই কমেন্টকারী ব্যক্তির পরিচয় কিংবা যোগাযোগ করার মাধ্যম অন্যরা খোজার চেষ্টা করে এবং সোশ্যালমিডিয়াতে সেই কমেন্টকারী ব্যক্তির সাথে যুক্ত হয় এবং নজরে পড়ার মত ৮-১০টা কমেন্ট করতে পারলে কাজ পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়।

৯) প্রেজেন্টেশন স্লাইড আপলোডের মাধ্যমেও কাজ পাবেনঃ

স্লাইডশেয়ার (slideshare.net) নামে একটি সাইট রয়েছে যেখানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন আপলোড করা হয়। এ সাইটের লিংকগুলো গুগলে খুব সহজে র‌্যাংক পায়। গুগলের কাছে যেমন জনপ্রিয় এ সাইটটি। তেমনি প্রচুর মানুষের কাছেও জনপ্রিয়। আর সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর মানুষ এ সাইটে এসে নিয়মিত তাদের চাহিদা অনুযায়ি বিষয় সার্চ করে। সেজন্য এ নিজের একটি প্লানিং ঠিক করেন। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২টি প্রেজেন্টেশন এ সাইটটিতে পোস্ট করবেন। এ প্রেজেন্টেশনটির কন্টেন্ট হবে অবশ্যই  অন্যদের জন্য উপকারী। তবে প্লেজেন্টেশনটির শেষ স্লাইডে আপনি কাজ চেয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এভাবেও অনেককে আমি কাজ পেতে দেখেছি।

১০) অন্য একটি এক্সক্লুসিভ টিপসঃ

আমরা অনেক সময় দেখি ফেসবুকে নিজেদের বন্ধু লিস্টে মধ্য থেকে নিচের মত পোস্ট দেখি।  “একজন লোগো ডিজাইনার লাগবে। কেউ থাকলে আওয়াজ দিন।”

তখন আমরা কাজ জানা থাকলে সেখানে গিয়ে হয়ত অনুরোধ করি কাজটি পাওয়ার জন্য। বন্ধু লিস্ট থেকে হয়ত মাঝে মাঝে ১-২দিন এরকম দেখি। এবার এমন একটি টিপস দিব, যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে যত মানুষ এরকম লোক চেয়ে তাদের নিজেদের প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দিয়েছে, তা একবারে খুজে বের করতে পারবেন। অবশ্য এটি এখনও ফেসবুকে করা সম্ভবনা। কাজটি করার জন্য টুইটারে যেতে হবে।

টুইটারে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে এ লিংকটিতে (https://twitter.com/search-advanced) প্রবেশ করুন। সেখানের সার্চ অপশনটি কাজে লাগিয়ে খুজে বের করুন, কারা কাজ করানোর জন্য লোক খুজছে। সেই সব লোকদের পোস্টে গিয়ে কমেন্টে আপনার অফারটি দিয়ে আসুন। সেই অফার পছন্দ হলে কাজ পেয়ে যেতে পারেন।

যে কোন মাধ্যমেই কাজ খুজতে যান, নিজের কাজের বিষয়ে একটি পোর্টফলিও অবশ্যই তৈরি করে নিতে কেউ ভুলবেননা। কারণ এ পোর্টফলিওতে থাকা কাজগুলো দেখেই বায়ার কাজ দিতে আগ্রহী হবে। বায়ারের সাথে কাজের ব্যাপারে কথা বলার শুরুতে আগের করা কাজ অবশ্যই দেখতে চাইবে।

 

আমার এ লেথাটি  ১ম প্রকাশ হয়েছে দৈনিক যুগান্তরের বৃহস্পতিবারের ”চাকুরির খোজে” পাতাতে।

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক যেকোন সহযোগিতার জন্য আমার পেজে এসে প্রশ্ন করতে পারেন।

পেজ লিংক: https://www.facebook.com/ekram07

  • Jasim Uddin Ayiuby

    boss ja likhesen ta amar sara jiboner chawa silo, thanks a lot guru

  • Kazi Md Khairushafa(Ripon)

    So much thanks for your important article.

    Its very helpful for those who are until now confused about freelancing and market place.Any guy can get complete idea about several market place and freelancing . As per your instruction if proceed any guy he will be success in freelancing market.

  • Syed Mahmud

    বিখ্যাত ব্লগিং সাইটগুলোতে গেস্ট হিসেবে ব্লগিং করে… Would you please mention some name?

  • http://dlsoftfree.blogspot.com/ Azizur Rahman Dulal

    চমৎকার লিখেছেন (y)

  • https://bd.linkedin.com/pub/angel-design/108/65b/632 Angel Design

    Its very helpful post…………Thank you

  • http://howiearn.com/ Ahasan Habib Tuhin

    অসাধারন।