ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন কিন্তু সফলদের আড্ডা (অতিথিঃ ঝুমনা মল্লিক ঝুমি )

টিউন করেছেন admin | April 20, 2015 02:23 | পোস্টটি 1,223 বার দেখা হয়েছে

ফ্রিল্যান্সিং আজ  কেবল পুরুষদের জন্যই  না, নারীরাও আজকাল অনায়াসে ঝুঁকছেন এই প্রফেশানে। যেমন ঝুমনা মল্লিক ঝুমি। সংসার আর সন্তানকে সময় দেওয়ার পাশা পাশি  ফ্রিল্যান্সিং কেই বেছে নিয়েছেন  কাজের সহজ মাধ্যম হিসেবে।  সবসময় শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল না হয়ে Self-study কে  প্রাধান্য দেওয়া আত্মবিশ্বাসী এই নারী ফ্রিল্যান্সার বর্তমানে  ODesk এবং Elance  এ কাজ করছেন। কাজ করছেন  People Per Hour এও,আর এখানেই তিনি কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন । ঝুমির ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার এর  শুরুটাও ছিল  People Per Hour এর মাধ্যমেই ।

jhumi

 

১। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন?

ঝুমি: চাকুরীজীবি নারী হিসেবে নিজের সংসারে ও সন্তানকে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছিলো না। তাছাড়া আমার বাচ্চা একজন প্রতিবন্ধি শিশু, তাই তাকে সময় দেওয়াটা আমার আবশ্যক ছিলো। তাই অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ফ্রিল্যান্সিংয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়বো।

২। কবে থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন? সাধারণত কি কাজ করেন?

ঝুমি: চাকরীর পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে ওয়েব ডিজাইন কোর্সে ভর্তি হই ২০১৩ তে। চাকরীর পাশাপাশি এই সেক্টরে সময় দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ায় কোর্সটি শেষ করার পরেও কাজে লাগাইনি। ২০১৪ র জুনে আবার ইমেইল মার্কেটিং কোর্স কে বেছে নিলাম যেন অল্প সময় দিয়েও কাজটা ভালোভাবে শিখতে পারি। আগষ্ট মাসে প্রথম কাজ পাই PeoplePerHour এ। এখান থেকেই শুরু হল নতুন ভাবে পথ চলা। তারপর আমি এই কাজের সহায়ক হসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজটিও শিখি। মূলত আমি ইমেইল মার্কেটিং এর কাজটি করে থাকি। তাছাড়া আমি কাজ করার থেকে বেশি সাচ্ছ্যন্দবোধ করি বায়ারদের সাথে কমিউনিকেট করতে। আমি একটি টিম নিয়ে কাজ করি যেখানে কিছু মেম্বার শুধুমাত্র বায়ারদের সাথে কমিউনিকেট করে এবং কিছু মেম্বার সেই কাজটি করে দেয়। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে শুধুমাত্র বায়ার কমিউনিকেসনের অনেক কাজ আছে।

৩। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখেছিলেন কিভাবে?

ঝুমি: আমি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শিখেছি। এবং আমি সবসময় শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল না হয়ে Self-study কে অনেক প্রাধান্য দিতাম। কেননা, একটি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ভালো ও সঠিক গাইডলাইন দিতে পারে। কোন কিছু শিখা নির্ভর করে নিজের চেষ্টা ও অনুশীলনের উপর।

৪। কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন? কেন?

ঝুমি: আমি PeoplePerHour এ কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করি কেননা এটি নতুনদের জন্যে অনেক সহযোগি। তাছাড়া আমি Odesk ও Elance এও টিম নিয়ে কাজ করছি।

৫। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ঝুমি: আমি যখন থেকে এই সেক্টরে আসি তখন থেকেই আমার একটা ইচ্ছা বা স্বপ্ন যাই বলেন সেটা হলো আমি একা কাজ করবো না। আমার একটি টিম থাকবে যাদের সহযোগিতায় আমি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সবচেয়ে ভালো কাজটি দিতে পারবো। আমি অতন্ত আনন্দিত যে, আমার সে স্বপ্নটি আজ পূরণ হয়েছে। আমার একটি টিম আছে যারা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে তাদের নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে। আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা তাদের সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

৬। আপনার আজকের এটুকু অবস্থানের জন্য কাদের অবদানকে স্মরণ করবেন?

ঝুমি: আমার এই এটুকু অবস্থানের জন্য আমি সবার প্রথমে এমন একজন কে স্মরণ করবো যাকে ছাড়া আমার এখানে আসা একেবারেই অসম্ভব ছিলো। তিনি হলেন আমার আম্মু। আমি যখন আমার কাজে সময় দেই তখন আমার আম্মু আমার মেয়ের দেখাশুনা করেন। তিনি যদি আমাকে সহযোগীতা না করতো আমার এই অবস্থানে আশা সম্ভব হত না।
২য়ত আমি সেসব মানুষের কথা স্মরণ করতে চাই যারা আমার এ সেক্টরকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়াতে অনেক ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছেন। সবসময় বলেছেন আমি এখানে কিছুই করতে পারবো না। অনেক কষ্ট হবে আমার ক্যারিয়ার গড়তে এই সেক্টরে। তখন আমি নিজের সাথে নিজে প্রতিজ্ঞা করেছি যে আমি কিছু একটা করে সবাইকে দেখিয়ে দিবো যে, নিষ্ঠা আর কঠোর পরিশ্রম মানুষকে প্রতিটি সেক্টরে সফল করতে পারে।
৩য়ত আমি স্মরণ করতে চাই সেসব ব্যাক্তিকে যারা আমার প্রতিকাজে সহযোগিতা করেছেন এবং আমার শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। আমার সকল বন্ধুদের যারা আমাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

৭। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে আপনি দিনে কত ঘন্টা ব্যয় করেন? কোন সময়টিতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

ঝুমি: আমি যখন কাজ শিখছিলাম তখন আমি অনেক সময় ব্যয় করতাম এসব নিয়ে স্টাডির ক্ষেত্রে। তখন আমাকে প্রায় ১৪-১৬ ঘন্টা ব্যয় করতে হয়েছে। কিন্তু এখন আমি গড়ে ৭/৮ ঘন্টা ব্যয় করি। কিন্তু, যেহেতু আমি বায়ার কমিউনিকেসনের কাজটি করি তাই আমাকে প্রায় ২৪ ঘন্টাই সার্ভিস দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হয়।

৮।  অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের প্রতিবন্ধকতাগুলো নতুনদের জন্য জানাতে পারেন।

ঝুমি: আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিলো যারা এসব সেক্টর সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের সমালোচনা। তারা না জেনে অনেক রকম মন্ত্যব করতো যার আসলে কোন ভিত্তি নাই। তাছাড়া যদি টেকনিক্যাল প্রতিবন্ধকতার কথা বলি তাহলে সবার প্রথমে লোডশেডিং এর কথা বলতে হবে। তাছাড়া নেট স্পিড এবং এর দামও আসলে একটি প্রতিবন্ধকতা।

৯। মেয়েদের জন্য অনলাইনে ক্যারিয়ারকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ঝুমি: আমি যেহেতু একজন নারী তাই আমি বুঝি যে, কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের অনেক প্রতিবন্ধকতা ও বাধার সম্মুখিন হতে হয় পরিবার ও সমাজ থেকে। কিন্তু, এটি এমন একটি সেক্টর যেখানে এসব বাধাকে খুব সহজেই অতিক্রম করা যায়। ঘরে বসে নিজের স্বাধীনতা অনুযায়ী কাজ করে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে পারছে। তাই, মেয়েদের জন্য অনলাইনে ক্যারিয়ার সবচেয়ে উপযোগি।

১০। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে আগ্রহীদের সফল হওয়ার পথে অন্তরায় কি বলে মনে করেন?

ঝুমি: আমি মনে করি, যারা এসব সেক্টর সম্পর্কে না জেনে সমালোচনা করেন তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে এই সেক্টরে যারা সফল তাদের পথ অনুস্মরণ করা উচিত। তাছাড়া, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ্লঃ অন্যজন যা করে আমিও তা করে সফল হবো সেটি একেবারেই ভুল ধারনা। আপনার যেটা ভালোলাগে আপনি সেটাই করুন, তাহলেই সাফল্য পাবেন। সর্বশেষে অবশ্যই একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন যেন আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারে এবং অবশ্যই শুধুমাত্র তাদের উপর নির্ভরশীল না হয়ে Google ও YouTube কে সবচেয়ে বড় সহায়ক ভাবুন।

১১। অনলাইনে আয় করতে হলে কি কি প্রস্তুতি নিতে হবে , নতুনদের জন্য পরামর্শ দিন।

ঝুমি: সবার প্রথম আপনাকে যে প্রস্তুতি নিতে হবে তা হল আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন যে আপনি আসলেই কাজটি করে চাচ্ছেন কিনা এবং মূলত কোন কাজটি করতে চাচ্ছেন। ধৈর্যের চরম সীমায় পৌছাতে হবে আপনাকে। নিজেকে প্রস্তুত করুন এমন ভাবে যেন দিন ও রাতে সে কোন সময়ে আপনি কাজ করতে পারেন। আপনি যদি রাতে না জাগতে পারেন তাহলে এই সেক্টর আপনার জন্যে নয়। তারপর Google ও YouTube এর সহায়তা নিয়ে সেই কাজটির আরো গভীরে যান। দেখুন, আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা। তারপর, একটি ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন যেন আপনাকে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারে। সর্বশেষ, অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় পৌছে দিবে।

জেনেসিসব্লগসের নিয়মিত আয়োজনের উদ্দেশ্য নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের করছেন, তাদেরকে সবার সাথে পরিচয় করে দেওয়া। যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে আগ্রহী, তারা  এ গল্পগুলো পড়ে অনুপ্রাণিত হলেই স্বার্থক হবে আমাদের এ আয়োজন। নতুন কোন ফ্রিল্যান্সার তাদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে চাইলে যোগাযোগ করার জন্য লিংকঃ  আফরোজা সুলতানা