গ্রাফিক্সকে কেবল আয়ের উৎস নয়,শিল্প ভেবেই সেই শিল্প শেখা ও বোঝার উদ্ধেশ্যে ফ্রিল্যান্সিং জগতে পা রাখেন  মনোয়ার হোসেন অভি  ।  ১০৫ ডলার থেকে শুরু করে ৩ বছরে এখন তার মোট আয় প্রায় ৬০০০ ডলার। মার্কেটপ্লেস হিসেবে ওডেস্কে কাজ করতেই বেশী সাচ্ছ্বন্দবোধ করেন এই সফল ফ্রিল্যান্সার ।

অভির ওডেস্ক আইডি -  https://www.odesk.com/users/~014939b0319ae38117

monowarh

১।  ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন?

অভিঃ সত্যি কথা বলতে কি আমি সরাসরি কারো হাত ধরে ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসি নি। বেশ কয়েক জন বড় ভাই ছিল যারা নিজেরা ফ্রিল্যান্সিং করতেন। তাদের কাছেই প্রথম শুনেছিলাম গ্রাফিক্স এর কাজ করলে নাকি ডলার উপার্জন করা যায়। কিন্তু আমি ১ম যখন গ্রাফিক্স শিখতে ভর্তি হয়েছিলাম তখন আমার উদ্দেশ্য টাকা বা ডলার ছিলনা। আমার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাফিক্স যে একটি শিল্প তা শেখা এবং বোঝা । মানে নিজেকে দক্ষ হিসবে গড়ে তোলাটাই ছিল আমার ১ম উদ্দেশ্য।

২।  কবে থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন? সাধারণত কি কাজ করেন?

অভিঃ আমি ফ্রিল্যান্সিং করছি মুলত ২০১২ সাল থেকে। তার আগে থেকেই আমার লোকাল মার্কেটে টুকটাক কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

৩। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ শিখেছিলেন কিভাবে?

অভিঃ  ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখেছিলাম প্রথম আমার জেলা শহর ময়মনসিংহের একটি আইটি ল্যাব এ। সেটি হচ্ছে “ফ্রিল্যান্স আইটি ল্যাবে”

৪। কোন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন? কেন?

অভিঃ আমি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দবোধ করি “odesk” এ কাজ করতে। আর অন্য মার্কেট প্লেসগুলো ও ভাল লাগে কাজ ও করি।

৫। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে প্রথমবার কত পেমেন্ট পেয়েছিলেন? কাজ কি ছিল? সেই টাকা দিয়ে কি করেছিলেন?

অভিঃ আমি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ১ম পেমেন্ট পেয়েছিলাম ১০৫ ডলার । কাজটি ছিল একটি লোগো ডিজাইন এবং ফেসবুক ব্যানার এবং আরো কিছু কাজ ছিল সর্ম্পূন ভাবে মনে নেই। আর ১ম সেই টাকা দিয়ে কি আমি যে কাজটি করেছিলাম তা আমার সারা জীবন মনে থাকবে। তা হচ্ছে আমার বড় ভাইয়ের কোচিং এ ভর্তি হওয়ার টাকা তখন ছিল না। তখন সেই টাকাটা দেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।

৬। ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করা পেমেন্ট কিভাবে উত্তোলন করেন?

অভিঃ এটা নিয়ে আমাকে তেমন কোন ঝামেলা পোহাতে হয়নি । ডাচ বাংলা ডেভিট কার্ড  এর দ্বারা্ প্রথম টাকা উত্তোলন করেছিলাম।

৭। একমাসে আপনার সর্বোচ্চ কতো উপার্জন  ছিল?

অভিঃ মজার প্রশ্ন , আসলে এক মাসে কিনা ঠিক মনে হচ্ছে না তবে হ্যাঁ ১ মাসের কিছু দিন বেশি হবে। আমার সর্বোচ্চ ছিল ১৬০০ ডলার ।

৮। এখন পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিং থেকে আনুমানিক কি পরিমাণ আয় করেছেন?

অভিঃ  মার্কেট প্লেসে কাজ করতে গিয়ে অনেক তিক্ত রিক্ত এবং আনন্দোমূখর অভিজ্ঞতার সম্মূখিন হয়েছি। যেমন ন্যাশনাল আইডি কার্ডের জন্য আমার ওডেস্ক এর একাউন্ট টি প্রায় ১ বছর সাসপেন্ড ছিল। এই বিশাল সময়টি আমি কাজ করতে পারি নাই। তার পর থেকে আমাকে আর তেমন পেছনে তাকাতে হয়নি।

এখন পযর্ন্ত আমার মোট বলতে পারব না তবে আনুমানিক ৬০০০ ডলারের এর মত উর্পাজন করেছি আপনাদের দোয়ায়।

৯। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে আগ্রহীদের সফল হওয়ার পথে অন্তরায় কি বলে মনে করেন?

অভিঃ এখানে আমি যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই সে গুলো হল:

ক/ কাজে ভাল দক্ষ হতে হবে এর কোন বিক্ল্প নেই।

খ/ কমউনিকেশান স্কিল যেমন : ভাল ইংরেজি পারলে আপনার ক্লাইন্টের সাথে আপনি খুব ভাল ভাবে কাজ বুঝে নেয়া এবং কাজ করতে পারবেন। এবং বেশি সময় ইন্টারনেটে থাকতে পারলে এবং আরেকটি বিষয় যে টি আমি ব্যক্তিগত ভাবে সবাইকে বলে থাকি সেটি হল আপনার “ধৈয্য” শক্তি থাকতে হবে।

১০। বাংলাদেশের যারা অনলাইনে আয় করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য আপনার পরামর্শটি জানান ।

অভিঃ হ্যাঁ অবশ্যই! যারা ভবিষ্যত অনলাইনে কাজ করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব যে, আপনারা যে যে সেক্টরেই কাজ করেন না কেন,আগে নিজেকে দক্ষ্ করে তৈরী করুন তাহলে অনলাইনে দীর্ঘ্ দিন আপনি কাজ করতে পারবেন। এবং ইন্টারনেট ঘাটাঘাটির দক্ষতা,এবং আগেই বলেছি ক্লাইন্টের সাথে কমউনিকেশন স্কিল ভাল হতে হবে। এবং যদি হন গ্রাফিক্স ডিজাইনার তাহলে যত সম্ভব বেশি থেকে বেশি ডিজাইন দেখুন। এর কোন বিকল্প নেই এবং রেগুলার অনুশীলন করুন।

জেনেসিসব্লগসের নিয়মিত আয়োজনের উদ্দেশ্য নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের করছেন, তাদেরকে সবার সাথে পরিচয় করে দেওয়া। যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে আগ্রহী, তারা  এ গল্পগুলো পড়ে অনুপ্রাণিত হলেই স্বার্থক হবে আমাদের এ আয়োজন। নতুন কোন ফ্রিল্যান্সার তাদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করতে চাইলে যোগাযোগ করার জন্য লিংকঃ  আফরোজা সুলতানা