নতুন যারা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করতে চায় তাদের অনেকে আমার কাছে জানতে চায় কি কি কাজ শিখা যায়, কোন কাজের চাহিদা বেশি, কোন কোন কাজ মার্কেটপ্লেসগুলিতে বেশি পাওয়া যায় ইত্যাদি। আমি তাদের কে বলব ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে অনেক ধরনের কাজ রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় কিছু কাজের চাহিদা কমে যায় আবার কিছু কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে কাজের ধরন /গতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন  কাজ টি শিখতে পারেন। এরপর আপনাকে সেই নির্দিষ্ট কাজটি ভালভাবে শিখতে হবে এবং সেটিকে ভিত্তি করেই ক্যারিয়ার গড়তে হবে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে যে সব কাজ পাওয়া যায় নিচে কয়েকটি কাজ তুলে ধরলাম।

1. SEO
সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), যাকে সংক্ষিপ্ত ভাবে বলা হয় SEO।আমাদের দেশে SEO কাজ করে অনেকে প্রচুর টাকা আয় করছে । প্রতিদিন অসংখ্য এসইও’র কাজ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে জমা হচ্ছে। এসইও’র চাহিদা সবসময়ই থাকবে। কারণ যেকোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক চাইবে তার ওযেবসাইটকে প্রমোট করতে, যেন এটি সার্চ ইন্জিনে উপরের/ Google প্রথম পাতায় থাকে। আর সাইট কে Google প্রথম পাতায় আনতে হলে বা সাইট কে প্রমোট করতে হলে অবশ্যই সাইটের জন্য এসইও করাতে হবে। সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কাজ দীঘ মেয়েদী তাই এই কাজ ধৈর্য সহকারে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তবে এ সেক্টরে সফলতা পাবার জন্য কাজের কোয়ালিটি অবশ্যই ভালো হতে হবে। যারা নতুন তাদের ক্ষেত্রে, একবার একটি কাজ পেয়ে গেলে এবং সেটি প্রফেশনাল লেভেল মেইনটেইন করে ভালভাবে করে দিতে পারলে পরবর্তীতে তার কাজ পেতে সমস্যা হয় না।

SEO 2

2. গ্রাফিক ডিজাইন
অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের একটি অন্যতম আরেক মাধ্যম হল গ্রাফিক ডিজাইন। গ্রাফিক ডিজাইন এমনি একটি ক্ষেত্র, যার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। একজন প্রফেশনাল ডিজাইনার মাসে হাজার ডলারেরও উপরে আয় করে পারেন। Odesk, Elance , Fiverr, Peopleperhou গ্রাফিক ডিজাইন প্রচুর কাজ পাওয়া যায় । যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শিখতে চান তারা গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ শিখতে পারন। বাংলাদেশেও এর চাহিদা অনেক রয়েছে। তবে নারীদের জন্য এটি এক টি ভাল সেক্টর। আমার জানা মতে বাংলাদেশের অনেক নারী অনলাইনে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করে প্রচুর টাকা আয় করছেন। তবে এ কাজ ভালো করে শিখতে হবে।

graphics design

3. ইমেইল মার্কেটিং
অনেকেই আমার কাছে জানতে চাই ইমেইল মার্কেটিং করে মাসে কত টাকা আয় করা যাবে ! আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন তা আপনার উপর ডিপেন্ট করবে । তারপরও যদি বলতে হয় আপনি মাসে ০ থেকে ৩ লাখ বা তার চেয়েও বেশী ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনাকে হবে সেই রকম দক্ষ ও পরিশ্রমী । আপনি যদি সেই রকম ও পরিশ্রমী ও দক্ষ না হতে পারেন তাহলে ৩ লাখ তো দূরে থাক ৩ পয়সা ইনকাম করতে পারবেন কিনা সন্দেহ।
আপনি Odesk, Elance , Fiverr এ বিভিন্ন বিষয়ের এর উপর ইমেইল লিষ্ট তৈরী করে, ইমেইল টেমপ্লেট Designকরে, তা বিক্রি করে দিয়েও ইনকাম করতে পারেন। মার্কেটপ্লেস গুলিতে সবচেয়ে বেশী ইনকাম করতে পারবেন ইমেইল সেন্ডিং এর কাজ করে । Email Campaign সেটআপ, ইমেইল সেন্ড, লিস্ট ক্লিনিং, ইমেইল সার্ভার সেটআপ,ইত্যাদি কাজ করে আয় করতে পারেন ।

email marketing

4. Web Development & Design
বর্তমানে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের যতগুলি উপায় রয়েছে তার মধ্যে Web design & development নিঃসন্দেহে সেরা। বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজাইন উভয় সেক্টরেই প্রচুর পরিমাণ কাজ পাওয়া যায়। পৃথিবীতে ওয়েবসাইটের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, আর সেই সাথে বেড়ে চলেছে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এর কাজের চাহিদা ও পরিমাণ । ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সাইটের ধরণ অনুযায়ী কোডিং করতে হয়। যেমন ওয়েবসাইটের জন্য html, css ব্যবহার করা হয় । অপরদিকে ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য PHP, ASP, Python, Ruby ইত্যাদি এবং সেই সাথে ডাটাবেজ হিসাবে My SQL, MS SQL, Oracle প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। এ সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ অনেক, তবে সবার আগে প্রয়োজন আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

webdevelopment

5. Word Press

বিশ্বে ওয়েবসাইট তৈরীর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি CMS হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস । বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে ওয়ার্ডপ্রেস এর কাজের পরিমাণ লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো প্রতিনিয়ত এ সেক্টরে কাজের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ডপ্রেস এর কাজের পরিমাণ যেমন বেশি তেমনি এ কাজের পারিশ্রমিকও তুলনামুলক বেশি। ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে কয়েকটি সেক্টরে কাজ করে তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় মধ্যে এ সেক্টটি অন্যতম। এছাড়া এ সব সেক্টরে কাজ পেতেও অন্যান্য সেক্টরের তুলনায় কম প্রতিদ্বন্দিতার সম্মুক্ষীন হতে হয়। তবে অন্যান্য যে কোন কাজের ন্যায় এখানেও আপনাকে সফল হতে হলে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং প্রফেশনাল মানের কাজ করতে হবে ।

wardpress

6. আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশনঃ-
ফ্রিল্যান্সিং জগতে অন্যতম সম্ভাবনাময় সেক্টর হল আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন। দিন দিন বেড়ে চলেছে আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশনের কাজের সংখ্যা। এটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায় অদুর ভবিষ্যতে আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন ডেভেলপারদের চাহিদা হবে অনেক বেশি। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মোবাইল ডিভাইস ও স্মার্টফোনের বাজার। তাই মোবাইল ডিভাইস বা স্মার্টফোনের এপ্লিকেশনের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। ফলে প্রতিনিয়ত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটগুলোতে আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশনের কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর কাজের চাহিদা কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের অনেক আইটি প্রতিস্টান আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন কোর্স চালু করেছে । আপনারা চাইলে এই সব আইটি প্রতিস্টান থেকে ট্রেডিং নিয়ে আ্যন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন কাজ করতে পারেন।

android-application

7. Data entry
Data entry নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য হতে পারে উপযুক্ত কাজ। এ কাজগুলি করতে কম্পিউটার সর্ম্পকে মোটামুটি ধারণা থাকলেই চলে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে বর্তমানে প্রচুর ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যায়। আমাদের দেশে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা ডাটা এন্ট্রির কাজ করে প্রচুর টাকা আয় করছে। তবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে ডাটা এন্ট্রির কাজের প্রতিদ্বন্দিতার একটু বেশি। তবে একটু ধৈর্য ধরলে কাজ পাওয়া যায়।

dataentry_pic
উপরে যে কোন একটি সেক্টরে ভালো করে কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলিতে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে এ সেক্টরে সফল হতে হলে আপনাকে ধৈর্যশীল এবং পরিশ্রমী হতে হবে। তাহলেই সফল্য পাবেন।
ফ্রিল্যান্সিংসম্পর্কিত অন্য আরো কিছু জানার থাকলে আমাকে ফেসবুক এ প্রশ্ন করতে পারেন।

https://www.facebook.com/sumanrana4021

 

  • রাহিমা আক্তার

    সুমন ভাই আপনার লেখাটা ভাল লাগলো ।

  • এনামুল

    ভালো লাগলো

  • jony

    vai ami ki video Tuitorial diya puru freelanching shikteee parboo