ক্রিয়েটিভ স্বপ্নকে হৃদয়ে লালন এবং বাস্তবে প্রকাশ

টিউন করেছেন abida | December 12, 2014 10:31 | পোস্টটি 626 বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের নারীরা সর্বক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে সবার সাথে যুদ্ধ করে যেতে হয়। সেটা ঘরে হোক আর বাইরে। নিজেকে সেই যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য তাঁরা কখনও পিছপা হয়না। তাই নারীদের ঘরের বাহিরের কর্মজীবন কতোটা প্রতিযোগিতার এবং নিরাপদ সেটা যারা কর্মজীবনে আছে তাঁরা-ই জানে। স্কুল জীবনে পরেছিলামঃ

চিরসুখীগণ ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে
কি যাতনা বিষে, কভু আশী বিষে থংসেনি যারে ।

সবসময় নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য, ঘরে বসে কিছু করার জন্য, সন্তানকে সময় দেয়ার জন্য ভাবতাম কি করলে সব কিছু সম্ভব। বসে বসে ভাবলে হবেনা বলে, কর্মজীবন শুরু করলাম। সংসার এবং কর্মজীবন দুটোকে একসাথে সামাল দেয়া কতোটা কষ্টকর সেটা যখন টের পেলাম এবং আউটসোরসিং সম্পর্কে জানলাম সেদিন থেকে স্বপ্নের শুরু। শুরু হল পথ চলা। বিভিন্ন আউটসোরসিং ওয়েব সাইট ভিজিট করতে করতে বুজলাম যে, প্রফেশনাল কাজ জানা না থাকলে কিছু করা যাবে না। গ্রাফিক্স ডিজাইন এর প্রতি আমার আগ্রহটা বরাবরই ছিল। তাই আমার এক বন্ধু-কে বললাম যে, গ্রাফিক্স ডিজাইন কথা থেকে শেখা যায়? আমার বন্ধু ক্রিয়েটিভ আইটি এর কথা বলল। ক্রিয়েটিভ আইটির ওয়েব সাইট ভিজিট করলাম, ওখানে গেলাম।

খবর নিয়ে দেখলাম অনেক টাকা লাগবে। বিভিন্ন সমস্যার জন্য টাকা জোগাড় করতে পারছিলাম না। আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছে যাদের সখ আছে কিন্তু শেখার মত সাধ্য নেই। আমিও তার মধ্যে একজন। ছোটবেলা থেকেই ডিজাইনার হবার সখটাও কমছিলনা। হটাত করে একদিন ফেসবুক এ ক্রিয়েটিভ আইটিতেমেয়েদের স্কলারশিপ এর বিজ্ঞাপন।

রেজিস্ট্রেশন করলাম। ডাক পড়ল, পরীক্ষা হল।  রেজাল্ট ঘোষণা হল।  আমার নামও ঘোষণা হল, তখন আমি আমার স্বপ্নকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার আরেক থাপ এগিয়ে গেলাম এবং স্বপ্ন পাখির ডানার মত উড়তে লাগলো।

ডানাটাকে আরও শক্ত করলো আমার অফিস এবং আমার পরিবার। আর আমার এই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে High-tech Park আর Creative IT এরসহযোগীতা। Creative IT-এর মনির ভাই, একরামভাই, আজাত ভাই আমাদেরকে এত সুন্দর করে ডিজাইন শিখিয়েছেন যে তা মনের ভিতর এমন করে বিঁধে যেত বাসায় এসে ডিজাইন করতে বসে যেতাম। সারাদিন অফিস করে বনশ্রী থেকে ধানমণ্ডি গিয়ে ক্লাস করে, আবার বনশ্রী আসতে রাত ১০-১১ টা বেজে যেত তার পরও কোন ক্লান্তি হত না। তার সব প্রশংসার দাবীদার Creative IT-এর শিক্ষকগণ। Creative IT-এর শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যান্য আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক ভাল তার প্রমাণ আজকের আমি। Creative IT-এর প্রতিটা মানুষ বন্ধুর মত পাশে থেকেছে, যখন যা চেয়েছি, যেভাবে চেয়েছি, সে ভাবে সাহায্য করেছে। Creative IT-কে আমি এখন মনে করি আমার প্রতিষ্ঠান। আর কোন প্রতিষ্ঠান যদি এই বোধকে কোন ছাত্রের মনের মধ্যে লালন করাতে পারে তবে যে কোন ছাত্র এমন কোন কঠিন বিষয় নাই যে, সে সেটা আয়ত্ত করতে পারবে না।
Creative IT-তে গ্রাফিক্স ডিজাইন করেই বুজলাম সমাজের বা দেশের উন্নয়নের জন্য নারীর ভূমিকা কতটুকু। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান ভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক জাতিকেই নারীশিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। আর সেই নারীরা যে কতোটা শক্তি রাখে সমাজকে এগিয়ে নিতে, সেটা আগেও দেখেছি, আবারও দেখলাম Creative IT মাধমে। Creative IT-নারিকে নারী হিসাবে নয়, একজন মানুষ হিসাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করে থাকেন। নারীকে সমাজের উন্নয়নের হাতিয়ার করে তৈরি করে থাকেন।High-tech Park এবং Creative IT-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ছেলেদের পাশাপাশি নারীদেরকেও সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাইতো Creative IT-তে এখন অনেক নারীরাই সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্কলারশীপ-এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই যথেষ্ট পরিমান আয় করছে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখছে। এদিক থেকে Creative IT এর প্রতিটা লোক অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। আর আমি আমার স্বপ্নকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করেছি। এখন আমাকে কে আটকায়। ইনশাল্লাহ সফল হবই হব।High-tech Parkএবং Creative ITকে ধন্যবাদ। এদের কাছে ঋণী হয়ে থাকলাম।

আবিদা সুলতানা
গ্রাফিক্স ডিজাইনার
আইডি নং- এসজিবি-১৪০১০২

  • Asaduzzaman Aktel

    “জীবন বদলে দিতে পারে ‘ক্রিয়েটিভ আইটির একটি ট্রেনিং”

  • রফিক

    আপনার লেখার প্রয়াশকে সাধুবাদ জানাই। প্রত্যাশা আর প্রচেষ্টার কথা ভালই লিখেছেন। আপনার শব্দচয়ন নিয়ে কোন মন্তব্য নেই । তবে দুটি পর্যবেক্ষন আমার একজন পাঠক হিসেবে- ১। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতার যে পংক্তিটুকু quote করেছেন তা শুদ্ধ ও সঠিক হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল । ২। আপনার স্বপ্নের ও সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে পক্ষান্তরে Creative IT’র একটি citation তৈরী হয়েছে । স্বপ্নে কথা দিয়ে শুরু হলেও আপনার সাফল্যকেও তুলে ধরতে পারলে আরও ভাল হত। আপনার প্রচেষ্টা স্বর্ণ সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক। শুভেচ্ছা ।