উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি বেকারমুক্ত বাংলাদেশ

towhid

“মানুষ কেন মানুষ হতে পারেনি ? একটি প্রশ্ন সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষকে খুব নীরবে দংশন করে আসছে। মানুষ মানুষকে ভালবাসে আবার মানুষই মানুষের রক্তে হলি খেলে। মানুষ মুক্তির পথ খোঁজে মানুষের মধ্যেই। দেবতা, ঈশ্বর আল্লাহ সে নাকি আছে মানুষেরই মাঝে। অধিকার বঞ্চিত গণমানুষের অধিকার আদায়ের দাবিদার মানুষ আবার রক্ষকের ভক্ষক ও এই মানুষ।” এই দুশ্চিন্তা আর বুঝি আমাকে মানুষ হতে দিলনা। আর তাই সংগ্রাম, লড়াই, গণআন্দোলন এই শব্দগুলো আমার কাছে অর্থের ভিন্নতা পায়।
টিউন করেছেন towhid | December 7, 2014 01:29 | পোস্টটি 1,047 বার দেখা হয়েছে

11

প্রায় ৪০/৪৫ বৎসর পূর্ব্বের ঘটনা-কয়েক ঘর বঙ্গীয় সম্ভ্রান্ত জমীদারের মাতা, মাসী, পিসী, কণ্যা ইত্যাদি একত্রে হজ করিতে যাইতেছিলেন। তাঁহারা সংখ্যায় ২০/২৫ জন ছিলেন। তাঁহারা কলিকাতায় রেলওয়ে ষ্টেশন পৌঁছিলে পর সঙ্গের পুরুষ প্রভুগণ কার্য্যােপলক্ষে অন্যত্র গিয়াছিলেন। বেগম সাহেবাদিগকে একজন বিশ্বস্ত আত্নীয় পুরুষের হেফাজতে রাখা হয়। সে ভদ্রলোকটীকে লোকে হাজী সাহেব বলিত, আমরাও তাহাই বলিব। হাজী সাহেব বেগম সাহেবাদের ওয়েটিং রুমে বসাইতে সাহস পাইলেন না। তাঁহার উপদেশ মতে বিবি সাহেবারা প্রত্যেকে মোটা মোটা কাপড়ের বোরকা পরিয়া ষ্টেশনের প্লাটফরমে উবু হইয়া (Squat) বসিলেন; হাজী সাহেব মস্ত একটা মোটা ভারী শতরঞ্জি তাঁহাদের উপর ঢাকিয়া দিলেন। তদবস্থায় বেচারীগণ এক একটা বোচকা বা বস্তার মত দেখাইতেছিলেন। তাঁহাদিগকে ঐরূপে ঢাকিয়া রাখিয়া হাজী সাহেব এক কোণে দাঁড়াইয়া খাড়া পাহারা দিতেছিলেন। একমাত্র আল্লাহ জানেন, হজযাত্রী বিবিগণ ঐ অবস্থায় কয় ঘন্টা অপেক্ষা করিতেছিলেন-আর ইহা কেবল আল্লাহতালারই মহিমা যে তাঁহারা দম আটকাইয়া মরেন নাই।

ট্রেণ আসিবার সময় জনৈক ইংরাজ কর্ম্মচারীটী ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে হাজী সাহেবকে বলিলেন, “মুন্সি! তোমারা আসবাব হিয়াসে হাটা লো। আভি ট্রেণ আবেগা-প্লাটফরম পর খালি আদামি রহেগা-আসবাব নেহি রহেগা।” হাজী সাহেব যোড়হস্তে বলিলেন, “হুজুর, ঐ সব আসবাব নাহি-আওরত হায়।” কর্ম্মচারিটী পুনরায় একটা “বস্তায়” জুতার ঠোকর মারিয়া বলিলেন, “হা, হা-এই সব আসবাব হাটা লো।” বিবিরা পর্দ্দার অনুরোধে জুতার গুতা খাইয়াও টু শব্দটী করেন নাই।

অবরোধ বাসিনী -৩
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

দীর্ঘকাল হয়েছে অবরোধ বাসিনীগণ অবরোধ হতে মুক্তি পেয়েছেন। এক কারাগার হতে মুক্তি পেয়ে অন্য আরেক কারাগারে বন্দী জীবন অতিবাহিত করছেন এর সময়কালও দীর্ঘ।
এঁদের কেউ কেউ আবার মুক্তি পেয়ে আনন্দ সামলাতে না পেরে পশুসমতুল্য পুরুষের কালো থাবার শিকার হয়েছে এরকম স্ত্রীলোকের সংখ্যা অসংখ্য বললে ভুল হবে। স্ত্রীলোকদের খাঁচামুক্ত করার আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি কিংবা স্ত্রীগণ তাদের নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেননি। তাইতো নারী মুক্তি সংগ্রাম ভিন্ন গতিধারা লাভ করেছে, নারী অধিকারের প্রশ্নে জাতি না হলেও কতিপয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান যে চিন্তা করছে তার দু-একটা বড় বড় উদাহরণ দেখলে বিস্মিত হতে হয়। এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট নারী মুক্তির আবশ্যকীয় সুগম পথ হিসেবে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির কথা চিন্তা করেছে।

অর্থনৈতিক মুক্তিই কেবল নারী মুক্তি ও অধিকারের একমাত্র উপায় না হলেও এটা ছাড়া যে নারী মুক্তি চিন্তা করা অসম্ভব তা অনেক বিজ্ঞ সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও আরো অনেক সুশীল ব্যক্তিগণ অকপটে স্বীকার করবেন। তাহলে তারা এটাও অস্বীকার করতে পারবেননা যে একমাত্র তথ্য প্রযুক্তির আশীর্বাদেই প্রতিটি দেশ আজ এক বিশ্বগ্রামে পরিণত হয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন রঙের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ আজ মিলে মিশে একাকার হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় জনমানুষের এই মিলনস্থলে মিলিত হতে অনেক দেশ পিছিয়ে পড়েছে শুধুমাত্র প্রযুক্তির পশ্চাদপদতার কারণে। ‘বাংলাদেশ’ও এই দেশ গুলোর নামের তালিকায় তার নাম লিখিয়ে বসে আছে। তবুও সম্ভাবনা আছে, স্বপ্ন আছে, প্রচেষ্টা আছে।Banner1

আমি অনেক সাহস নিয়ে বলতে পারি বারে বারে ঠোঁকর খাওয়া স্বত্বেও এদেশের মানুষ পরাজয় মেনে নেয়ার নয়। এ সাহসের বীজ পূর্ব পুরুষেরা আমাদের হৃদয় উদ্যানে রোপণ করে দিয়েছেন ১৯৫২, ৬৬, ৬৯, ৭০ ও ৭১ সালের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সে বীজ আজ ধীরে ধীরে শিকড়,পাতা ও কাণ্ড  গজিয়ে এখন এক প্রকাণ্ড বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। তাইতো বিবেক ডঙ্কা বাজিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ আইটি’কে জানিয়ে দিলো ‘অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’

‘ক্রিয়েটিভ আইটি’র সামনে সংকট এখন তিনটি – উন্নত তথ্য প্রযুক্তি, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বেকার সমস্যার সমাধান। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের একজন নিবেদিত প্রাণ সৈনিক হিসেবে অনেক পথ থাকা স্বত্ত্বেও তথ্য প্রযুক্তির এই পথকে বেছে নিল। প্রয়োজন প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও সরঞ্জাম। যা সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাকাল হতে শুরু করে ধীরে ধীরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ‘ক্রিয়েটিভ আইটি’ নিজেকে বাংলাদেশের মধ্যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত করতে পেরেছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নানা সীমাবদ্ধতা ও বাধা স্বপ্নদ্রোষ্টাদের স্বপ্ন কখনো স্বপ্নভঙ্গ করতে পারেনি। সঠিক পরিকল্পনা, দূরদৃষ্টি মনোভাব, অধ্যাবসায় ও দেশপ্রেমই এই প্রতিষ্ঠানের সফলতার পেছনের কথা।

শত শত শিক্ষার্থী এখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে সমাজে আজ প্রতিষ্ঠিত। শুধু তাই নয় এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষিত সৈনিক আজ আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের করা ওয়েভ ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন ও আইটি রিলেটেড নানা রকম সেবার মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা ও বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সকল শত শত শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজনের আবেগতাড়িত  লেখা প্রতিবেদন হতে পাঠকদের সত্যতার প্রমাণ মিলবে।

http://genesisblogs.com/freelancing-2/15190

http://genesisblogs.com/tips-2/14025

http://genesisblogs.com/education/13999

http://genesisblogs.com/education/13956

প্রযুক্তির কল্যাণে, ‘মানুষ এখন অফিসে নয়, অফিস এখন ঘরে।’ এই ধারণার সংক্ষিপ্ত জনপ্রিয় শব্দ ‘ফ্রিল্যান্স’, কিভাবে এবং কাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে এত বেশি জনপ্রিয় ও বিস্তৃত তার তথ্যও মিলবে ঐ সকল শিক্ষার্থীদের লেখায়।

এই প্রতিষ্ঠান জানত তথ্য প্রযুক্তিতে জ্ঞান অর্জন করার এই ব্যয়বহুল কোর্সে ভর্তি হওয়া অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পক্ষে অসম্ভব। তাইতো এই সকল সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের তথ্য প্রযুক্তির সাগরে সাঁতার কাঁটার সুযোগ করে দিতে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করার পিছনে ছিল তাদের বর্ণনাতীত শ্রম। অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির জগতে বিচরণের সুযোগ পেয়ে নানারকম সামাজিক গণমাধ্যমে দেয়া তাদের জয়ধ্বনি নতুন নতুন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করে আসছে। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল ও ঢাকার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ঐ সকল শিক্ষার্থীদের আবেদন এত বেশি যে কেবল বিবেক তাড়িত হয়ে উপশাখার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিস্তৃত করা এখন সময়ের দাবী।

  • Pingback: simpleNewz - Genesis Blogs RSS Feed for 2014-12-07

  • Asaduzzaman Aktel

    আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যদি আইটিতে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে ক্রিয়েটিভ আইটিই হোক আপনার একমাত্র প্ল্যাটফর্ম। কারন সঠিক প্ল্যাটফর্ম আর তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে সফলতা অনিবার্য।