“অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট”- এ গড়ুন সফল ক্যারিয়ার

মাহমুদুল হাসান সরল

আমার সম্পর্কে বলার মত কিছুই নেই । একদম ছোট একটা মানুষ । শিখতে ভালোবাসি তাই শেখা টাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছি। বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি আর নির্মাণাধীন সাফল্যের রাস্তায় হেটে চলেছি! জানি সফল একদিন হবই ।
টিউন করেছেন মাহমুদুল হাসান সরল | January 12, 2015 02:42 | পোস্টটি 6,151 বার দেখা হয়েছে

সামনের দিনগুলোতে প্রযুক্তি নির্ভর কি কি পণ্য মানুষের চাহিদা পূরন করবে তা মোটামুটি নিশ্চত। তবে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট নাকি মোবাইল তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বড় ধরণের গ্যাজেটগুলো থেকে ব্যবহারকারীরা দিনদিন ট্যাবলেট ও মোবাইলের মুখোমুখি হচ্ছে; জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এর ব্যবহার। আবার, কেবল ট্যাবলেট / মোবাইল ফোন থাকলেই কি চলে? এর উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য চাই বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন, যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলোকে আরও সহজ করে দিবে। আবার ট্যাবলেট-মোবাইল ফোন ভিত্তিক ব্যবহারকারি যেহেতু বাড়ছে তাই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের পণ্য এবং সেবাগুলোকে অ্যাপিকেশনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছে। সর্বত্র বেড়ে চলেছে স্মার্টফোন ক্রেজ, পাল্টে যাচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রাও। বিশ্বব্যাপী তাই অ্যাপ্সের বাজার এখন বেশ বড় এবং চাহিদা মান সম্পন এই বাজার বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। আর বাড়ছেও খুবই দ্রæত গতিতে!

বিশ্বব্যাপি এই যে অ্যাপ্লিকেশন তৈরির বিলিয়ন ডলারের বাজার, এই বাজারে এখন আমাদের দখল কতটুকু? একেবারে নেই বললেই চলে!

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার:

Market-Overview-Mobile-Apps-Why-you-should-join-right-now-1

চলুন বিস্তারিত আলোচনার আগে আমরা একটি পরিসংখ্যান দেখি। মোবাইল গবেষণা প্রতিষ্ঠান “রিসার্চ টু গাইডেন্স”- এর মতে, ২০১৫ সালে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের বাজার গিয়ে দাঁড়াবে ১০০ বিলিয়ন ডলারে! ২০১০ সালে এই বাজারের পরিমাণ ছিল ১০.২ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের এই যে বিশাল বাজার, তার ৬৬ শতাংশ কাজই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে!

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার:

কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতেই যে কেবল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারদের চাহিদা এমনটি নয়। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপেসগুলোতে প্রতিদিনই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রচুর প্রজেক্ট জমা পড়ছে। ইল্যান্স এবং ওডেস্কের জব ট্রেন্ড বিশেষণ করে দেখা যায়, একজন ওয়েব ডিজাইনার কিংবা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার যেখানে গড়ে ১০ থেকে ১২ ডলার মূল্যে প্রতি ঘন্টা কাজ করে সেখানে একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপারের ঘন্টা প্রতি গড় আয় ২৫ থেকে ৫০ ডলারে।

নিচে ইল্যান্স এর জবস্ ট্রেন্ড এর একটি গ্রাফ দিলাম:

Untitled-1

এই গ্রাফটিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রতিটা আইফোন অ্যাপ এর জন্য গড়ে ৩২১২ ডলার পে করা হয়েছে । আর প্রতিটা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এর জন্য গড়ে ৩৩৫০ ডলার পে করা হয়েছে ।

কোথায় আমাদের (বাংলাদেশের) অবস্থান:

GIZ-Banner-Bangladesch-1

এই যে বিলিয়ন ডলারের বাজার, এই বাজারে আসলে আমাদের অবস্থান কোথায়? বাংলাদেশে খুব কম মানুষকেই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। সোজা কথায় বলতে গেলে, এই বিলিয়ন ডলারের মার্কেটে আমাদের আসলে কোন অস্তিত্ব নেই! অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রচুর অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার রয়েছে এবং এ বাজারে তাঁদের অবস্থান প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে আমাদের যে সকল সমস্যা:

hold-back-mobile-application-development-1024x629

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের অবকাঠামোগত অবস্থা এখনও খুবই দুর্বল। প্রথম সমস্যা ইন্টারনেটের গতি। কম গতির কারণে আমরা বড় এসডিকে ফাইলগুলো নামাতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করি, তারপরও সফল হওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। এছাড়াও অনলাইনে এ সংক্রান্ত যেসব রিসোর্স রয়েছে সেগুলোও আমরা ডাউনলোড করে দেখতে পারিনা কম গতির ইন্টারনেটের কারণে। উদাহরণ দেই, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে চার ক্রেডিটের একটি মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টের কোর্স আছে, যার রিসোর্স সাইজ ১৬ গিগাবাইট! এটি ডাউনলোড করতে আমাদের কত সময় প্রয়োজন হবে?

দ্বিতীয় কারণ, মূলধনের অভাব। মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়তে, একজন ডেভেলপারকে ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার কিনতে হয়। আর সেটি যদি অ্যাপল ভিত্তিক অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট হয় তাহলে তাঁর খরচ বেড়ে আকাশচুম্বি হয়ে যায়। বাংলাদেশের বাইরে একজন ছাত্র অ্যাপলের ডিভাইসে ৫০ শতাংশ ছাড় পায় আর আমাদের দেশে অ্যাপলের কোন ডিভাইস ঢুকলে জিনিসটির দাম বেড়ে বরং দ্বিগুন হয়ে যায়!

তৃতীয় কারণ, শিক্ষা ব্যবস্থা। ভার্সিটিগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হতেই হয়। এ শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজন মেটানোর শিক্ষা ব্যবস্থা নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর ৫০০০ আইটি গ্রাজুয়েট বের হলেও ইন্ডাস্ট্রি – স্ট্যাডার্ড শিক্ষার্থী বের হচ্ছে হাতে গোনা কয়েক’শ। এই শিক্ষার্থী নিজ দায়িত্বে সবকিছু শিখেছেন বলেই তারা ইন্ডাস্ট্রি – স্টান্ডার্ড হতে পেরেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে বের হবার পর আবার শুরু হয় বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে দৌড়াদৌড়ি। কিন্তু সেখানেও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেনা তারা। এই কারণে ইন্ডাস্ট্রি থেকে হতাশ হয়ে অন্যান্য পেশায় চলে যাচ্ছে অনেকে।

আমরা কি পারবো?

banner3

হতাশার কথাগুলো তো বলেই ফেললাম, এখন কথা হচ্ছে আমরা কি এ বাজারে প্রবেশ করতে পারবো না? সে প্রশ্নের উত্তর জানার আগে চলুন একটু গল্প বলি। ছেলেটির নাম আনিস, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। খুব আগ্রহী অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের ব্যাপারে। তবে তাঁর কোন ক¤িপউটার ছিল না, বড় বোনের ক¤িপউটার ব্যবহার করত। সেই কম্পিউটারটির কনফিগারেশন ছিল পেন্টিয়াম থ্রি, ৬৪ মেগাবাইট র‌্যাম আর ১০ গিবি হার্ডড্রাইভ! টানা ৯ বছর কম্পিউটারটি চালানোর পরও আনিস তাঁর বাবা-মাকে বলতে পারেনি আমাকে একটা নতুন কম্পিউটার কিনে দাও! পেন্টিয়াম থ্রি-র একটি কম্পিউটার থাকলেও আনিসের ছিল না কোন ইন্টারনেট সংযোগ।বন্ধুদের বাসায় এবং সাইবার ক্যাফেতেই চলত ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের কাজ, সেই সঙ্গে প্রোগ্রামিং নিয়েও ব্যাপক লেখাপড়া চলত। প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়ার সময়ই তিনি জানতে পারেন অনলাইন মার্কেটপ্লেস স¤পর্কে। ছোটখাট অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার কাজ চলতে থাকে, সেই সঙ্গে নতুন নতুন বিষয়গুলোতে লেখাপড়ার কাজও। মাঝখানে সি/সি++, ডটনেট ও জেএসপি’র প্রজেক্টগুলো মার্কেটপ্লেস গুলোকে বেশ গরম করে তুলেছিল। সে সময় এ বিষয়গুলো নিয়েই লেখাপড়া আর কাজ করতে থাকেন আনিস। আর স্মার্টফোনের প্রতাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট নিয়েও লেখাপড়া শুরু করে সে। তবে বিপত্তি বাঁধে আরেক জায়গায়, স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করতে স্মার্টফোন কিনতে হবে। আবার আইফোন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করতে প্রয়োজন হবে অ্যাপল কম্পিউটার! কিন্তু এত ডিভাইস কেনার সামর্থ্য আনিসের ছিলনা। সাইবার ক্যাফের ক¤িপউটারে বসেই অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয় তাঁকে। এর মধ্যে আনিসের জীবনে একটি স্মরনীয় ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি মার্কেটপ্লেসে একটি সফটওয়্যার তৈরির প্রজেক্ট পোস্ট করে। বেশ সোজা একটি সফটওয়্যার হলেও তেমন কেউ সেটি সমাধান করতে পারেনি। উক্ত সফটওয়্যার তৈরির কাজে এগিয়ে আসেন আনিস এবং সফলভাবেই সে প্রজেক্টটি শেষ করে আয় করেন ৫৫০

ডলার! আর এই অর্থ দিয়েই আনিসের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের কাজের যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।

আনিস এখন সফল একজন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, যার মাসিক আয় ছয় অংক ছাড়িয়ে! এই ঘটনা এখানে উল্লেখ করার লক্ষ্য একটাই, আনিস পারলে আপনিও পারবেন। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট কোন রকেট সায়েন্স নয় যে এই ক্ষেত্রে কাজ শুরুকরে সফল হওয়া যাবেনা।

 

যা না জানলেই নয়:

 

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক, বলবো কিভাবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট আসা যায় এবং এর চ্যালেঞ্জগুলো। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে আসতে আপনাকে জানতে হবে:

১.    জাভা / সি / সি++

২.    অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং অ্যানালাইসিস।

 

বেছেনিন আপনার প্লাটফর্ম:

Cross-Platform

এই ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি প্লাটফর্ম হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস। এখান থেকে আপনার পছন্দের প্লাটফর্মটি বেছে নিতে হবে। অ্যান্ড্রয়েডের প্রোগ্রামিং ভাষা হল জাভা এবং আইওএস এর অবজেক্টিভ সি। এই দুটি প্রোগ্রামিং ভাষার ক্ষেত্রেই সি এবং সি++ এর প্রাথমিক ধারণা থাকলে ভাল। আপনি যেকোন একটি প্লাটফর্মে কাজ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। আসুন দ্বিতীয় বিষয়টিতে আসি। প্রতিটি স্থাপনা তৈরি করতে যেমন বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের কিছু সার্বজনীন গৃহীত উপায় রয়েছে এখানেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। সবচেয়ে বড় কথা হল আপনার তৈরি করা অ্যাপ্লিকেশনটির নকশা। সফটওয়্যারের নকশা প্যাটার্ন প্রত্যেক প্রোগ্রামারের রপ্ত করা উচিত। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস এ দুটিতেই এমসিভি পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়। ইভেন্ট হ্যান্ডেলিং ছাড়াও অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং, অ্যানালাইসিস, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্টের কৌশল রপ্ত না করলে একজন ভাল ডেভলাপার হতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।

 

কিভাবে শিখবেন?

criticalthinking

কোন প্লাটফর্মের অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান সেটির সিদ্ধান্ত নিন। এরপর গুগল থেকে জেনে নিন এ পাটফর্মে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট করতে আপনাকে কি কি জানতে হবে। এরপর শুরু করুন শেখা। ইন্টারনেট থেকেই অনেক কিছু শেখা সম্ভব। তবে হাতে কলমে এবং দ্রুত শিখতে ভালো মানের পেশাদার প্রতিষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই। শুধুমাত্র ভাল প্রতিষ্ঠানে কোর্স করার ম্যাধ্যমে আপনি ভাল ভাবে শিখতে পারবেন ।

পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পযন্ত পড়ার পরও কি, আরও প্রশ্ন রয়ে গেছে? সমস্যানাই। বাকি কোন প্রশ্ন থাকলে সেগুলো উত্তর জানানোর জন্য আয়োজন করেছি বিশেষফ্রি সেমিনারের (১৬ জানুয়ারি, সকাল ১১ টায়)।কোন প্রকার নিবন্ধন ছাড়া চলেআসুন,  ঠিকানা: মমতাজপ্লাজা (৫মতলা )(ল্যাবএইডহাসপাতালেরবিপরীতপাশে), বাড়ি# ৭, রোড# ৪, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফেসবুক গ্রুপেও যোগাযোগ করতে পারেনঃhttps://www.facebook.com/groups/creativeit/

তথ্য সূএ: ইন্টারনেট এবং ইল্যান্স ।