yeh jawani hai deewani মুভি রিভিউ

টিউন করেছেন Atikur Rahman | July 20, 2013 16:17 | পোস্টটি 20,910 বার দেখা হয়েছে

yeh jawani hai deewani মুভি রিভিউ


পুরানো এক হিন্দী গান থেকে মুভির নামকরণ। ১৯৭২ সালের দিকের গান। নাম শুনে মুভিটা সাধারন মানের মনে হলেও দুর্দান্ত নির্দেশনা ও দৃশ্যায়নের কারনে মুভিটা আসলেই অসাধারন মনে হইছে আমার কাছে। পুরাই পয়সা উশুল মুভি। এইবার কাহিনীতে যাওয়া যাক। কাহিনী অবশ্য খুবই সাধারণ। মুভিটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশের কাহিনী হলো “এক তুখোড় ছাত্রীর বন্ধুহীন জীবনে একটি উচ্ছাসের আলো”। দ্বিতীয় অংশ হলো “এক ধামাকা বিয়ের অনুষ্ঠান”।

yeh-jawaani-hai-deewani-0v
প্রথম অংশ থেকেই শুরু করি।
Deepika padukone (Naina Talwar) স্কুলের একজন মেধাবী ছাত্রী। স্কুল লাইফ শেষ হয়ে গেলেও তার এক নম্বর হওয়ার অভ্যাসটি এখনও যায়নি। তার জীবনের চিন্তা ধারাটা এমন যে আমাকে পরালেখা করে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে নতুবা জীবনের কোন ভ্যালু নেই। এভাবেই দুনিয়ার চাপ মাথায় নিয়ে দিপিকা তার লাইফ লিড করছে।  হঠাৎ একদিন পুরানো এক স্কুল মেট Aditi ( Kalki Koechlin) এর সাথে দেখা। স্কুলের সেরা ছাত্রী তাই আলাদা সম্মান। কিন্তু লাভটা কী? অদিতি যাচ্ছে মানালি ঘুরতে আরো স্কুলের বন্ধু Avi ( Aditya Roy Kapoor) এবং Bunny ( Ranbir Kapoor)। আর এদিকে দীপিকা তখন মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়ে পড়ছে তো পড়ছেই। আর সহ্য হয় না। কিছুটা বাসা থেকে পালিয়েই চলে যায় সেই গ্রুপের সাথে মানালি। পরিচয় হয় নায়ক রণবীরের সাথে। রণবীর একটু ফাউল টাইপের পোলা। মা বেঁচে নেই। বাবা ( Farooq Sheikh) দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সৎ মা ( Tanvi Azmi) যথেষ্ট আদর করলেও তিনি রণবীরের চক্ষুশূল। রণবীরের তাই খালি ঘুরাঘুরির শখ। তার স্বপ্ন দুনিয়ার কোণা কোণা দেখা। দিপিকা মানালীতে ঘুরতে আস্লেও কিছুতেই ওদের সাথে মিশ্তে পারলো না। একদিন একটা ট্রাজেডি থেকে দিপিকার বুদ্ধিমত্তার কারনে সবাই উদ্ধার হাওয়ার পরই দিপিকা সবার মনে আলাদা করে জায়গা করে নেন। তারপর তো বুঝতেই পারছেন :D
কাহিনীর দ্বিতীয় অংশে দেখা যায় ৮ বছর পার হয়ে গেছে। রনবির Fox traveller এর চাকুরীজীবী। ঘুরাঘুরি এখন পেশায় পরিণত হয়েছে। হঠাৎ একদিন জানতে পারে যে অদিতির বিয়ে। নিজেকে না থামিয়ে দৌড়ে চলে আসে। পুনরায় দেখা হয় অদিতি, অভি এবং দীপিকার সাথে। দীপিকা এখন অনেক পরিণত। বাচ্চাকালের ভালোবাসা দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবার কিছু নেই। ধুমায় বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান চলছে। এর মধ্যে রণবীর-দীপিকা এক সাধারণ কিন্তু অদ্ভুত এক সফরে যায়। জীবন মানে কি সেটা নিজেদের ভাষ্যে প্রকাশ করে তারা। রণবীরের কাছে জীবন মানে দেশ-বিদেশে ঘুরাঘুরি আর দীপিকার কাছে পরিবারের সাথে নিজের দেশে। দুজনে এত অমিল। দুজনে মিল হওয়াটা বেশ অবাস্তব। তাহলে শেষে হবে কী?
মুভিটিকে দারুন লাগার কারণ অবশ্যই আয়ান মূখার্জীর দুর্দান্ত নির্দেশনা। এক একটি দৃশ্য দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের চলে যাবার পর মুভিকে উচুভাবে তুলে ধরবার দায়িত্ব ভালোভাবে সামলাতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে। শেষের দিকে রণবীর ও তার বাবার দৃশ্যটি চোখে পানি এনে দিয়েছে। এছাড়া মুভিকে উপভোগের জন্য সকল উপাদান সঠিকভাবে মেশানো হয়েছে মুভিটিতে। ক্যামেরার কাজের জন্য V Manikanandan কে ধন্যবাদ দিতেই হয়। এছাড়া Karan Johar এর মুভি হিসেবে মুভিটি সার্থক। অভিনয়ের দিক দিয়ে Ranbir Kapoor আবারও দারুন করেছে। তবে Deepika Padukone কে বেশি ভালো লেগেছে। Ranbir-Deepika এর জুটি নিয়ে আরও মুভি দর্শকরা আশা করবেন। Kalki Koechlin এর অভিনয় বরাবরের মত দারুন তবে Aditya Roy Kapur অভিনয় শব্দের বানানটাও ঠিকমত জানেন না। Farooq Sheikh অল্পসময়ের জন্য থাকলেও অসাধারণ অভিনয় করেছেন।
সংগীত হিসেবে Pritam এর কাজ মুভিটিতে মোটামুটি বলবো। গানগুলি মুভিতেই ভালো লাগে, এমনি খুব একটা আহামরি নয়। তবে “ঘাগড়া” আইটেম সং টিতে Madhuri Dixit কে দুর্দান্ত লেগেছে।
আমার রেটিং ৫