অপু’র পাঁচালি

টিউন করেছেন Israt Liza | April 26, 2014 09:09 | পোস্টটি 1,686 বার দেখা হয়েছে

অপু’র পাঁচালি


পথের পাঁচালী

পথের পাঁচালি বিখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস । বাংলার গ্রামে দুই ভাইবোন অপু আর দুর্গার বেড়ে ওঠা নিয়েই বিখ্যাত এই উপন্যাস । এই উপন্যাসের ছোটদের জন্য সংস্করনটির নাম আম আঁটির ভেঁপু। পরবর্তী কালে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসটি অবলম্বনে একই নামে একটি পৃথিবী-বিখ্যাত চলচ্চিত্র বানিয়েছিলেন ।

সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’তে অপু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৯ বছর পর সেই শিশুশিল্পীর জীবন অবলম্বনে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় তৈরি করেছেন ‘অপুর পাঁচালি’। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত এ ছবি মুক্তি পাবে ২৫ এপ্রিল। লিখেছেন লতিফুল হক

বেশ কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেছিলেন সিনেমাটোগ্রাফার শীর্ষ রায়। সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় মানে সেই ‘পথের পাঁচালী’র অপু, যিনি জীবনে একটিমাত্র ছবিই করেছিলেন। বড় হওয়ার পর বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়স্বজনের কাছে তিনি অপুই ছিলেন। ভাবতেন আবার বুঝি ডাক আসবে কোনো ছবিতে। কিন্তু কেউ ডাকেনি। শীর্ষ কয়েক দিন পর ঘটনাটি জানান তাঁর বন্ধু পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়কে। তখন থেকেই কৌশিকের ইচ্ছা, ভুলে যাওয়া এই শিশুশিল্পীর জীবন নিয়ে ছবি বানাবেন। ‘ঠিক বায়োপিক নয়। আমার ইচ্ছা ছিল বাস্তব জীবন ও কল্পনাকে পাশাপাশি রেখে ছবিটি বানাব’- বলছেন কৌশিক। এর পর চলতে থাকে চিত্রনাট্য আর শিল্পী নির্বাচনের কাজ। ঠিক হয়, সুবীরের জীবনকে তিন স্তর দেখানো হবে। শিশুশিল্পী, যুবক, আর বয়স্ক। শিশু চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হবে ‘পথের পাঁচালী’র রিল ও রিয়েল ফুটেজ। যুবক ও বয়স্ক সুবীরের চরিত্রে যথাক্রমে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্নো মিত্র, গৌরব চট্টোপাধ্যায় ও ঋতি্বক চক্রবর্তী। ২০১৩ সালের শুরুর দিকে মাত্র ১২ দিনে ২৪ শিফটে শুটিং শেষ হয়। পুরো ছবি তৈরিতে খরচও হাল আমলের কলকাতার ছবির তুলনায় নগণ্য। ৮০ লাখ রুপিরও কম। ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৪৪তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় সেরা ছবির পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ‘অপুর পাঁচালি’ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। তারপর ছবির কলাকুশলীরাও ভীষণ অপেক্ষায় ছবি মুক্তির।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এ ছবি নিয়ে যথেষ্ট এক্সাইটেড, ‘ছবিতে আমি সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের ২৭-৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত অভিনয় করেছি। ২০১৩ সালে আমার অভিনীত সেরা ছবি এটি। অভিনয়ের আগে বাস্তবের সুবীর বাবুর সঙ্গে আমাকে দেখাও করতে দেননি পরিচালক। কারণ, তিনি নেহাতই সাধারণ ছাপোষা মানুষ। তাঁকে দেখলে হয়তো অপুকে নিয়ে ভেতরের রোমান্টিসিজমটি কেটে যেত।’ ছবিতে সুবীরের স্ত্রী অসীমার চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্নো মিত্র। সাধারণ মধ্যবিত্ত মেয়ের চরিত্রে এই প্রথম অভিনয় করছেন তিনি। কেমন লাগল? ‘অসীমাকে আমি দেখিনি। কিন্তু অপুর সংসারের অপর্ণার সঙ্গে অসীমার অসম্ভব মিল। খুব চুপচাপ, স্বামী অন্তঃপ্রাণ। প্রথমে খুব নার্ভাস লাগছিল, পরিচালক খুব সাহায্য করেছেন। আমি সাহায্যের জন্য রাইমাকেও (সেন) ফোন করেছিলাম। ও তো আগে কৌশিকদার সঙ্গে কাজ করেছে। এমন একটি চরিত্র পেয়ে আমি ভীষণ ভাগ্যবান।’ আর গত বছরই ‘শব্দ’ দিয়ে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া কৌশিক এ ছবি নিয়ে বলছেন, ‘ছবিটি বিদেশের বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে এমনকি ভারতেরও বিভিন্ন শহরে দেখানো হয়েছে। সবাই খুব প্রশংসা করেছে। কিন্তু এখানে না দেখানো পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিলাম না। দেখা যাক, এখানকার মানুষ ছবিটি কিভাবে নেয়।’ শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্ম প্রযোজিত ছবিটির দৈর্ঘ্য ৯৭ মিনিট।