উচ্চশিক্ষা হোক অস্ট্রেলিয়ায় (২য় পর্ব )

টিউন করেছেন Rownak Jahan | April 12, 2014 00:42 | পোস্টটি 611 বার দেখা হয়েছে

উচ্চশিক্ষা হোক  অস্ট্রেলিয়ায় (২য় পর্ব )


k

উচ্চশিক্ষার জন্য কম বেশি সকলের পছন্দের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া এক বিরাট অংশ দখল করে আছে।  প্রতি বছর ই কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় যায় উচ্চশিক্ষার জন্য । বাংলাদেশ থেকেও এর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু যোগ্যতা  থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এই সুযোগ থেকে পিছিয়ে পরে কেবল মাত্র সঠিক তথ্যের অভাবে। আগের পর্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছিলাম।
তার ই  ধারাবাহিকতায় আজ আবেদন পত্র ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাগজ পত্র নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছি।

যারা আগের পর্বটি মিস করেছেন , তাদের জন্য আগের পর্বের লিংক দিচ্ছি।

উচ্চশিক্ষা হোক  অস্ট্রেলিয়ায় (১ম পর্ব ) 

প্রাথমিক কাজ

আবেদন পত্র সংগ্রহ ও পূরণ 

যারা মাস্টার্সের (কোর্সওয়ার্ক) জন্য যেতে চান, তাদের ভিসা সাবক্লাস হবে ৫৭৩ আর এখন পর্যন্ত এ্যাসেসমেন্ট লেভেল হবে ৪ । এক্ষেত্রে তারা ভিএফএস (VFS) থেকে আবেদন পত্র সংগ্রহ করে হাতে লিখে পূরণ করতে পারবেন। এ  সংস্থাটি মূলত বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে ভিসা আবেদনপত্র পদ্ধতি পরিচালনা করে থাকে ।

যা যা লাগবে

পাসপোর্ট – এর মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকলেই চলবে। পরে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে নবায়ন করিয়ে নিলেই চলবে। কাগজের পাসপোর্টও গ্রহণযোগ্য হবে যদি সেটির মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকে।

ব্যাংক ড্রাফট - ২৪৯০০ টাকার ভিসা আবেদন চার্জের  ব্যাঙ্ক ড্রাফট VFS এ অবস্থিত ব্র্যাক ব্যাঙ্ক এর কাউন্টার থেকে ক্রয় করা পরিশোধ করতে হবে।
অ্যাপ্লিকেশন কভার শীট ও অ্যাপ্লিকেশন চেকলিস্ট – VFS থেকে পাবেন।

ছবি – দুই কপি মতান্তরে তিন কপি  সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের কাঁধ পর্যন্ত প্রতিটি ছবির পিছনে নিজের নাম লিখে দিতে হবে। এই ছবিগুলো আবেদনপত্রে নির্দেশিত স্থানে স্ট্যাপল করে দিতে হবে।

স্টেটমেন্ট অফ পারপাস -  এটা এক পৃষ্ঠার মধ্যে  সহজ কিন্তু যথাযথ গুরুত্ববহ ভাষায় লিখতে হবে।
আইইএলটিএস ফলাফল – এর মেয়াদ থাকতে হবে দু’ বছরের নিচে।
অফার লেটার -  এটা ভিসা আবেদনের অন্তত দু’মাস আগে এ্যাপ্লাই করলে ঠিক সময়ে পাওয়া যায়। এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেয়, তবে অল্প কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকিদেরকে আপনাকে আবেদন ফি পরিশোধ করতে হতে পারে তাদের নির্দেশিত পন্থায়। যেমন-ব্যাঙ্ক ড্রাফট, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি। এটা যদি আপনাকে ইমেইল করা হয়, তবে তার প্রিন্ট কপি কে মূল কপি হিসেবে ধরা হবে।
পরিবার প্রমাণপত্র –
-পরিবারের সদস্য তথ্য ফর্ম, VFS থেকে পাবেন।
-পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের  বার্থ সার্টিফিকেট লাগবে। এটার জন্য ওয়ার্ড কমিশনারের অনুমতিপত্র নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করতে হবে।

 

a

শিক্ষা সনদ -  এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সকল পাবলিক পরীক্ষার মূল মার্কশিট ও সার্টিফিকেট। এগুলো লেমিনেটেড করা থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে অথবা বোর্ড থেকে নুতনভাবে তুলে আনতে হবে।
আর্থিক প্রমাণপত্র -
-আর্থিক নিশ্চয়তা ফর্ম, যা VFS থেকে পাবেন।  এটা প্রত্যেক স্পন্সর আলাদা আলাদা ভাবে এক কপি করে পূরণ করে সাক্ষর করবেন ও নোটারী পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করাবেন। এটার সাথে প্রত্যেক স্পন্সরের এক কপি সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি অপর পিঠে নাম লিখে সনযুক্ত করতে হবে।
-এক্ষেত্রে কাগজপত্রের পরিমাণ বা প্রযোজ্যতা নির্ভর করে আবেদনকারী কিভাবে বা কার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার জন্য ফান্ড দেখাচ্ছেন।

স্পন্সর নিয়ে কিছু কথা

স্পন্সর কারা – সাধারণত নিম্নলিখিত ব্যক্তি কে ফান্ড এর স্পন্সর হিসেবে দেখানো যাবে–
-আবেদনকারী নিজে
-আবেদনকারীর স্ত্রী/স্বামী
-আবেদনকারীর মা-বাবা (একক বা যৌথ ভাবে)
-আবেদনকারীর খালা/ফুফু/চাচা/মামা (একক বা যৌথভাবে, তবে এক্ষেত্রে এরূপ স্পন্সরকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া’র স্থায়ী অধিবাসী/নাগরিক বা নিউজিল্যান্ডে’র নাগরিক হতে হবে)

স্পন্সরের প্রমাণপত্র স্বরূপ যেসব কাগজপত্র লাগবে :

p

স্পন্সর যদি চাকুরীজীবী হয় -
-স্পন্সরের ডিক্লারেশন ফর্ম, এটা সাধারণত আবশ্যক নয়, তবে দিলে ভাল। এটা প্রত্যেক স্পন্সরের জন্য (যদি একাধিক হয়) আলাদা আলাদাভাবে টাইপ করিয়ে নোটারী পাবলিকের দ্বারা সত্যায়িত করিয়ে নিতে হবে। এটা নোটারী পাবলিকই সাধারণত তৈরি করেন।
-৩ মাসের পে স্লিপ
-এ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার
-ভিজিটিং কার্ড
-চাকুরী’র সার্টিফিকেট
-এক বছরের বেতনের স্টেটমেন্ট (কোন খাতে কত প্রাপ্ত, বেতনের চেক নং ও তারিখ ইত্যাদি)
-এক বছরের পার্সোনাল এ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট (যেখানে মূলত বেতনের টাকাটা জমা হয়। উল্লেখ্য যে এই এ্যাকাউন্টে এমন পরিমাণ টাকা যেন জমা না থাকে যেটার উৎস সঙ্ক্রান্ত কাগজপত্র দেখানো সম্ভবপর নয় বা যেটা স্পন্সরের আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বা যেটা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন হয় নি। যেমন-সরাসরি ক্যাশ ডিপোজিট, ব্যবসায়ের লাভ (এমন ব্যবসা যেটা চাকুরীজীবি স্পন্সরের আয়ের মূল উৎস নয়), কারো কাছে থেকে ক্যাশে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত পাওনা ইত্যাদি।)
-এক বছরের সর্বশেষ আয়কর সার্টিফিকেট (TIN সহ)
-এক বছরের সর্বশেষ অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত এ্যাসেসমেন্ট ফর্মসমূহ যথাক্রমে আইটি-১১ গ, আইটি ১০বি এবং আইটি ১০বি-বি। এক্ষেত্রে অনেকসময় দেখা যায় যে বিভিন্ন সম্পত্তির হিসেবের ঘরে “পূর্বের ন্যায়” কথাটি লেখা থাকে। সেক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে এ্যাসেসমেন্ট ফর্মসমূহ থেকে হিসেব শুরু হচ্ছে, সেটা জমা দিতে হবে যাতে পূর্বের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভবপর হয়।

স্পন্সর যদি হয় ব্যবসায়ী -

-স্পন্সরের ডিক্লারেশন ফর্ম, এক্ষেত্রেও  এটা সাধারণত আবশ্যক নয়, তবে দিলে ভাল। এটা প্রত্যেক স্পন্সরের জন্য (যদি একাধিক হয়) আলাদা আলাদাভাবে টাইপ করিয়ে নোটারী পাবলিকের দ্বারা সত্যায়িত করিয়ে নিতে হবে। এটা নোটারী পাবলিকই সাধারণত তৈরি করেন।
-ভিজিটিং কার্ড
-দুই বছরের পার্সোনাল/কোম্পানী এ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট (যেখানে মূলত স্পন্সরের আয়ের টাকাটা জমা হয়। উল্লেখ্য যে এই এ্যাকাউন্টে এমন পরিমাণ টাকা যেন জমা না থাকে যেটার উৎস সঙ্ক্রান্ত কাগজপত্র দেখানো সম্ভবপর নয় বা যেটা স্পন্সরের আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বা যেটা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন হয় নি। যেমন-সরাসরি ক্যাশ ডিপোজিট, কারো কাছে থেকে ক্যাশে প্রাপ্ত ব্যক্তিগত পাওনা ইত্যাদি।)
-ব্যবসা সংক্রান্ত সকল নথিপত্র, যেমন-পার্টনারশীপ/মালিকানা ডীড, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি।
-দুই বছরের সর্বশেষ আয়কর সার্টিফিকেট (TIN সহ)
-দুই বছরের সর্বশেষ অর্থ ও সম্পত্তি সংক্রান্ত এ্যাসেসমেন্ট ফর্মসমূহ যথাক্রমে আইটি-১১ গ, আইটি ১০বি এবং আইটি ১০বি-বি। এক্ষেত্রে অনেকসময় দেখা যায় যে বিভিন্ন সম্পত্তির হিসেবের ঘরে “পূর্বের ন্যায়” কথাটি লেখা থাকে। সেক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে এ্যাসেসমেন্ট ফর্মসমূহ থেকে হিসেব শুরু হচ্ছে, সেটা জমা দিতে হবে যাতে পূর্বের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভবপর হয়।

kf

কাগজ পত্র জমার সময়

উপরোক্ত সকল কাগজ পত্র (স্টেটমেন্ট অফ পারপাস, ব্যাঙ্ক ড্রাফট, অ্যাপ্লিকেশন কভার শীট, স্পন্সরের ডিক্লারেশন ফর্ম, পারিবারিক সনদপত্র,  এ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট বাদে, এগুলোর শুধু মূল কপি লাগবে) ফটোকপি সহকারে মূল সংস্করন VFS এ জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আগেই এ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখা ভালো। কাগজপত্র নির্ধারিত দিনে VFS এ জমা দেওয়ার পরে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীকে ওখানেই নেওয়া তার ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও ডিজিটাল ছবি ও জমা দিতে হবে। এরপরে তাকে দূতাবাসের সাক্ষাৎকারের জন্য তারিখ ও সময় নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হবে, যদি তা প্রয়োজন হয়। কোন কাগজ যদি বাংলায় থাকে তবে তা ইংরেজিতে অনুবাদ করিয়ে নোটারী পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত করিয়ে মূল বাংলা কপির সাথে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। এই কাগজপত্র সাধারণত নিম্নরূপ ক্রমানুযায়ীদু’টি সেট করে জমা দিতে হয়। (এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি কাগজের বাম কোণায় ছোট স্লিপের সাহায্যে ঐ কাগজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা জেমস ক্লিপ দিয়ে আটকে দিলে খুবই ভাল।)

VFS এর যোগাযোগের তথ্যঃ

VFS Bangladesh Pvt. Ltd.
ZN Tower, 1st Floor
Plot # 2, Road # 8
Block SW(1), Gulshan Avenue
Dhaka 1212

Email: info.ausbd@vfshelpline.com

Helpline No: + 88 02 9895894 ( From 09:00 hrs – 13:00 hrs & 14:00 hrs – 16:00 hrs

DIAC Office-Dhaka –

The DIAC Office is located at the Australian High Commission premises in Dhaka at the following address:

184 Gulshan Avenue
Gulshan 2,
Dhaka – 1212
Bangladesh

DIAC Office – Client opening hours and contact-

From 1 August 2012 new client opening hours will be 0830-1100 Wednesday.

Email : immigration.dhaka@dfat.gov.au

For information on lodging a visa application in Bangladesh, please contact VFS in the first instance, at the following address:

Delta Life Tower (4th Floor),
Plot # 37, Road # 90,
North Avenue,Gulshan 2, Dhaka 1212

Email: info.ausbd@vfshelpline.com
Helpline No: + 88 02 9895894 (Sunday to Thursday: 08:30 hrs – 14:00 hrs and 15:00 hrs – 16:00 hrs)

The Department of Immigration and Border Protection is located at the Australian High Commission premises in Dhaka at the following address:

184 Gulshan Avenue
Gulshan 2
Dhaka – 1212
Bangladesh

DIBP Helpline: +8802 8813105 extension 452 (Sunday-Thursday, From 8:00hrs-16:00hrs)

Client opening hours are Wednesday, 0830-1100 hrs by appointment only.

All other times, the DIBP office is open to visa applicants only by appointments scheduled through the VFS-Australian Visa Application Centre (VFS-AVAC).

The Department seeks your assistance in minimising e-mail and telephone enquiries. It requests applicants and their sponsors/ inviters not to make follow-up enquiries within the service standard applicable to the category of visa, or during the time it takes to meet health requirements (if applicable). Unnecessary progress enquiries deflect resources away from processing and delay the processing of all applications.

Email: immigration.dhaka@dfat.gov.au

ভাল লাগলে ফেসবুকে সবার সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন।

চলবে -