উচ্চশিক্ষা হোক অস্ট্রেলিয়ায়

টিউন করেছেন Rownak Jahan | April 9, 2014 00:39 | পোস্টটি 2,121 বার দেখা হয়েছে

উচ্চশিক্ষা হোক অস্ট্রেলিয়ায়


study in australia

উচ্চশিক্ষার জন্য কম বেশি সকলের পছন্দের তালিকায় অস্ট্রেলিয়া এক বিরাট অংশ দখল করে আছে।  প্রতি বছর ই কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় যায় উচ্চশিক্ষার জন্য । বাংলাদেশ থেকেও এর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু যোগ্যতা  থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এই সুযোগ থেকে পিছিয়ে পরে কেবল মাত্র সঠিক তথ্যের অভাবে। এ ক্ষেত্রে কিছু দেশি বিদেশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক  সংস্থার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, যাদের দ্বারা শিক্ষার্থীরা শুধু আর্থিকভাবে প্রতারিতই হন না,বরং জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেন মুল্যবান কিছু সময় ও । এ জন্য দরকার উপযুক্ত তথ্য। ধারাবাহিক ভাবে তাই এই সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। আজ  তথ্য ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

 এ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার উপায়

screen-capture-16অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটগুলোতে। কারণ সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে অস্ট্রেলিয়াতে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখাবিষয়ক বিভিন্ন পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজনগুলো নিয়মিত আপডেট করা হয়। এ ছাড়া ‘আইডিপি অস্ট্রেলিয়া’ (International Development Program-Australia) আন্তর্জাতিকভাবে অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একমাত্র সমন্বিত প্রতিনিধি। বাংলাদেশে এর অফিস ঢাকার গুলশান ২ নম্বর গোলচক্কর থেকে অল্প দূরে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে। ফোনঃ ৯৮৮৩৫৪৫, ই-মেইলঃ info.dhaka@idp.com

এ ছাড়া প্রতিটি অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় বা অন্য যেকোনো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এ জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়।

বিভিন্ন কোর্স সম্পর্কিত তথ্য

এখানে স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে প্রচুর গবেষণা বৃত্তি থাকলেও স্নাতকপূর্ব কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিটি বিষয়ে মোট সিট ও বৃত্তির সংখ্যা নির্দিষ্ট। সাধারণত যেকোনো বিষয়ে বৃত্তিসহ ভর্তির আবেদনকারীকে একই বিষয়ে বৃত্তি ছাড়া ভর্তির আবেদনকারীর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক সবচেয়ে ভালো ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ দেয় এবং এদের মধ্য থেকে শীর্ষস্থানীয় আবেদনকারীদের নির্দিষ্টসংখ্যক বৃত্তি দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কোনও পক্ষপাতিত্ব করা হয় না।

এছাড়াও বৃত্তি না পেলেও এখানে পার্টটাইম কাজের প্রচুর সুযোগ আছে। পার্টটাইম কাজ হিসেবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিং,মার্কিং ছাড়াও বাইরে অন্যান্য কাজ করা যায়। ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি ও বছর শেষের লম্বা ছুটিতে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) পার্টটাইম চাকরি করে সারা বছরের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করে। উল্লেখ্য, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত হিসেবে একজন ছাত্র বা ছাত্রী সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের জন্য কোথাও কোথাও  সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা কাজের সুযোগ রয়েছে।এ  ক্ষেত্রে মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তবে বছর শেষের লম্বা ছুটিতে যে যত খুশি কাজ করতে পারে।

 অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য অনুসরণীয় ধাপ

অস্ট্রেলিয়াতে উচ্চশিক্ষার জন্য আসার রয়েছে ছয়টি মূল ধাপ। এগুলো হলো­ পড়ার পরিকল্পনা, বিষয় নির্বাচন, ভর্তির আবেদন, ভিসার আবেদন, দেশত্যাগের আগে করণীয় এবং অস্ট্রেলিয়াতে পৌঁছার পর করণীয়।

Australia-1_copy

১. পড়ার পরিকল্পনা - সর্বপ্রথম একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে দেখতে হবে  তার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কোন ধরনের কোর্স বা বিষয়ে সে আগ্রহী। সে কোন বিষয়ে পড়ালেখা করতে চায়, তার বর্তমান যোগ্যতা কতটুকু, সে যে বিষয়ে আগ্রহী তা শেষ করতে কত সময় লাগবে এবং সর্বোপরি, সে কোথায় এ বিষয়ে পড়তে আগ্রহী তাও ঠিক করা প্রয়োজন।  এক্ষেত্রে উল্লেখ্য,একজন শিক্ষার্থী  অস্ট্রেলিয়াতে  চার ধরনের পড়ালেখার জন্য আসতে পারে- ­ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি, কারিগরি ডিগ্রি, স্কুল-কলেজ এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষা।

প্রতিটি আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীকে পড়াকালীন খরচের কথা আগেভাগে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা করতে হয়। টিউশন ফি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে বিভিন্ন হয়। থাকা-খাওয়ার খরচও অস্ট্রেলিয়ায় জায়গাভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে । মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসার আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় খরচের সামর্থ্য  দেখাতে ব্যর্থ হলে সাধারণত ভিসার আবেদন গ্রহন করা হয় না। এখানে স্নাতকপূর্ব কোর্সের আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বেশির ভাগ পূর্ণ খরচ দিয়ে পড়ালেখা করে। কারণ স্নাতকপূর্ব কোর্সে আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির সংখ্যা খুবই সীমিত এবং তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও নেই। অনুরূপভাবে ডিপ্লোমা ও অন্য কোর্সগুলোতে বৃত্তি নেই বললেই চলে। তবে স্নাতকোত্তর গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশ কিছু বৃত্তি আছে, যেমন IPRS, AusAid, গ্র্যাজুয়েট বৃত্তি ইত্যাদি।

২. বিষয় নির্বাচন -  অস্ট্রেলিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের তাদের যেসব বিষয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার  সুযোগ দেয, সেগুলো থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে নিজের পড়ার পরিকল্পনা অনুসারে একটিকে বেছে নিতে হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে একটি বিষয় বাছাই করার পর এই বিষয়টি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ আছে, সেগুলোর তালিকা পাওয়া যায়। এখান থেকে এক বা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাই করা যেতে পারে। এর পর দেখতে হবে, এসব বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার জন্য একজন ছাত্র বা ছাত্রীর কী কী যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, খরচ কেমন হবে ইত্যাদি। যোগ্যতার পরিমাপ প্রতিষ্ঠানটির মান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

অনেক বিষয়ে (যেমন এমবিএ) ভর্তির জন্য কাজের অভিজ্ঞতা একটি পূর্বশর্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভর্তিচ্ছু একজন ছাত্র বা ছাত্রীর আগের একাডেমিক রেকর্ড ও ইংরেজি দক্ষতা (যেমন IELTS) অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ন্যুনতম চাহিদার কম হলে সাধারণত ভর্তি, বৃত্তি বা ভিসা কোনোটির আবেদনই বিবেচনা করা হয় না। উল্লেখ্য, বৃত্তির জন্য আবেদন করলে ইংরেজি ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা (IELTS স্কোর) ভর্তির আবেদনপত্রের সাথে পাঠাতে হয়।
৩. ভর্তির আবেদন -  একজন ছাত্র বা ছাত্রী একাধিক বাছাইকৃত প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় যোগাযোগ করলে তারা সাধারণ ‘অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ’ পোস্ট করে পাঠিয়ে দেয়। পূরণকৃত আবেদনপত্রের সাথে আবেদনকারীকে আগের একাডেমিক সনদপত্র সমুহ  (মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট) ,ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা (যেমন IELTS স্কোর) ও অভিজ্ঞতার সনদ সংযুক্ত করতে হয়। এর পর আবেদনকারী তার আবেনদপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট যেমন­ IDP Australia  (Internationlal Development Program-Australia)এর  মাধ্যমে বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি শাখায় পোস্ট করে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদনপত্র পাওয়ার পর আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল জানাবে।

homeSydney
৪. ভিসার জন্য আবেদন -  একজন আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ভিসা আবেদন ফিসহ জমা দিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভিসার জন্য আবেদনের আগে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি পরিশোধ এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকার অনুমোদিত যেকোনো কোম্পানির সাথে ১ বছরের মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তির নিশ্চয়তা সনদ (ECOE-Electronic Conformation of Enrolment) ইস্যু করে, যা ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। তারপর  আবেদনকারীকে পড়ালেখার সময় খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ টাকা ব্যাংকে আছে কি না, এর ব্যাংক হিসাব ভিসার আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রয়োজনীয় খরচের জোগান তাদের বৃত্তি থেকে দেখাতে পারে। প্রাপ্ত বৃত্তি কোন খাতে  এবং বছরে কত দেবে তা স্পষ্টভাবে অফার লেটারে উল্লেখ থাকে।খাত সমুহ-টিউশন ফি, মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স, থাকা, খাওয়া ইত্যাদি। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর জন্য প্রি-ভিসা ((Pre-visa) ইস্যু করে। এ সময় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে একজন অনুমোদিত ডাক্তারের কাছে মেডিক্যাল টেস্ট করাতে হয়। এর পর অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম কাজের অনুমতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এজন্য আবেদন করলে সাধারণত অনুমতি পাওয়া যায়।

৫. দেশত্যাগের আগে -  ভিসা পাওয়ার পর তারিখ নির্ধারণ করে বিমানের টিকিট কিনতে হয়। সাধারণত কোর্স শুরু হওয়ার ১-২ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসে পৌঁছলে চলে। দেশত্যাগ করে নতুন জায়গায় যাওয়ার আগে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে আরো কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া বাঞ্ছনীয় যেমন­ অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়ার উপযুক্ত পোশাক সংগ্রহ করা এবং প্রাথমিকভাবে থাকা-খাওয়ার জন্য অন্য কারো সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (যেমন­ মোনাশ, মেলবোর্ন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে) আন্তর্জাতিক অফিস ছাড়াও বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে কোনো সাহায্যকারী বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে রিসিভ করে নিয়ে আসে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানকে আগেই জানিয়ে রাখতে হয়।

৬. পৌঁছার পর সবশেষে করণীয় -  কাগজে-কলমে ভর্তির শেষ ফরমালিটি সম্পন্ন হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পৌছার পর। । অনেক সময় কোর্স শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করে। সেখানে কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন ছাত্রছাত্রীদের এরকম প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো না হলে প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

চলবে -

 

  • Md Ekram

    খুব ভাল একটি পোস্ট। এরকম পোস্ট নিয়মিত পেলে অনেকের জন্য উপকার হবে।