স্বাধীনতা দিবসে উন্মুক্ত হোক স্বাধীন পেশা ফ্রিল্যান্সিং

Md. Mahmudul Hossain Himel

Md. Mahmudul Hossain Himel

আমি মোঃ মাহমুদুল হোসেন হিমেল। নিজে যা জানি সবার মাঝে তা বিলিয়ে দিয়ে অনেক আনন্দ পাই। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান এর উপর অনলাইন মার্কেট প্লেস এ প্রায় ৪ বছর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
Md. Mahmudul Hossain Himel
টিউন করেছেন Md. Mahmudul Hossain Himel | March 25, 2015 13:46 | পোস্টটি 681 বার দেখা হয়েছে

ব্রিটিশ থেকে শুরু করলে দেখা যাবে ১৮৫৭ – ১৯৪৭ ব্রিটিশরা এবং ১৯৪৭ – ১৯৭১ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের শোষন এবং কর্তৃত্ব করেছে। যদিও ইতিহাসে শাসন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু আমি একে শাসন বলতে পারি না-শোষনই বলে থাকি। শাসন শব্দটির আরো কিছু বিষয় গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। যেমন ভালবাসা। কাউকে ভালবাসলে তাকে লুট করা যায় না, তার উপর কর্তৃত্ব করা যায় না। তাই দুটি জাতিই আমাদেরকে শাসন করেনি, করেছে শোষণ।

এই শোষণ এবং পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য বাঙালি যুদ্ধ করে এসেছে অনেক আগে থেকেই। সর্বশেষ একাত্তরে ঝাপিয়ে পড়ে মরণপণ স্বাধীনতা যুদ্ধে। এখন প্রশ্ন আসছে স্বাধীনতা বলতে কি আমরা একখণ্ড ভুমির সার্বভৌমত্বকেই বুঝি ? এতো রক্ত, এতো ত্যাগ কি শুধুই একখণ্ড ভূমির জন্য ? না, আমরা চেয়েছিলাম সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, মানসিক, পেশাগত ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীনতা । অর্থাৎ সমতা, যার যা প্রাপ্য তা সে ভোগ করবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তা কি আমরা ধারণ করতে পেরেছি ?

পেশাগত ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, যে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ করবে। আসলে কি আদৌ সেটা হচ্ছে ? চাকরি কিংবা ব্যবসা যে পেশাই হোক না কেন, সেই চাকরি কিংবা ব্যবসার যে দর্শন তা মেনে কি চাকরি বা ব্যবসা করা যাচ্ছে?

সরকারি, বেসরকারি যাই হোক চাকরিতে একজন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে তার মেধা, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাই হলো যোগ্যতা। বর্তমানে চাকরিততে মেধা ও অভিজ্ঞতা পাশাপাশি যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। তাই এই সমস্যাটিকে ছাপিয়ে উঠার জন্য আধুনিক একটি পেশার আবির্ভাব ঘটেছে- সেটা হলো “ফ্রিল্যান্সিং”। একাত্তরে ত্রিশ হাজার নারী মানুষের নির্মম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন এরকম স্বাধীন পেশার জন্য। ফ্রিল্যান্সিং পেশাটিতে যে কেউ তার নিজ দক্ষতা, মেধা, অভিজ্ঞতা দিয়ে সফলতা অর্জন করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং খুবই জনপ্রিয় একটি শব্দ। যারা স্বাধীন ভাবে আয় করতে চান তাদের জন্য সব থেকে ভাল হল এই ফ্রিল্যান্সিং পেশা। বর্তমানে কম্পিউটার কাজগুলোর মাধ্যমে যেমন- আপনি যদি খুব ভাল আর্টিকেল লিখতে পারেন(ইংরেজিতে অথবা বাংলাতে), যদি ভাল মার্কেটিং করতে পারেন ইন্টারনেট মাধ্যমে, যদি ভাল ডিজাইন করতে পারেন, অথবা প্রোগ্রামিং এ পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে এই কাজগুলো দ্বারা অনলাইন থেকে আয় করে নিতে পারেন। বর্তমান সময়ে এই কাজগুলোকে অনেকে তাদের “ফ্রিল্যান্সিং” পেশা হিসাবে গ্রহন করেছে।

কম্পিউটার কাজগুলোর দ্বারা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য অনেকগুলো ওয়েব সাইট রয়েছে। তবে এর মধ্যে সব থেকে ভাল সাইটগুলো হলঃ oDesk.com. Elance.com, Freelancer.com । এই সাইট গুলোর সবগুলোই আপনাকে অর্থ প্রাপ্তির ব্যাপারটি সুনিশ্চিত করে থাকে। তাই কাজ ঠিক মত করে দিতে পারলে, টাকা পেতে আপনার কোন সমস্যা হবে না। তবে যেকোন সাইটে কাজ শুরু করার পুর্বে সেই সাইটের নিয়ম-কানুন, বাংলাদেশে অর্থ প্রাপ্তির পদ্ধতি সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তার পরে কাজ শুরু করলে ভাল হয়। oDesk.com. Elance.com, Freelancer.comএই তিনটি ওয়েব সাইট বাংলাদেশে পেমেন্ট প্রদান করে খুব সহজে।

ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে বড় সুবিধা হল- আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন এবং সেটাও আপনার পছন্দনীয় সময়ে। আহা কত শান্তি ভাবতেই ভাল লাগে… কারন আমি নিজে একজন ফ্রিল্যান্সিং পেশাজীবী। কেউ আপনার উপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না। অর্থ্যাৎ আপনিই আপনার ইচ্ছা মত সব কিছু সাজিয়ে গুছিয়ে করার পুর্ন স্বাধীনতা পাচ্ছেন ফ্রিল্যান্সিং পেশাতে। চলুন তাহলে জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিং পেশাজীবীদের জন্য কিছু গুরুত্বপুর্ন টিপস। আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে।

১। সময় – ফ্রিল্যান্সিং এর সব থেকে গুরুত্বপুর্ন মুলধনঃ

একজন্ ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনার কাছে সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপুর্ন মূলধন হল “সময়”। ফ্রিল্যান্সারদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আপনি আপনার সময় Client এর জন্য ব্যয় করছেন, অতএব Client কে অবশ্যই এর জন্য সঠিক এবং উপযুক্ত মুল্য প্রদান করতে হবে।

এখানে বলে রাখা ভাল – কাজ পাওয়ার আগে অনেক Client Demo দেখতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার পুর্ববর্তী কাজের Demo তাকে দেখান এবং বলুন যে আপনি এ ধরনের কাজ আগেও করেছেন।

২। নতুন কিছু শিখুন এবং কাজে পরিধিকে বাড়ানঃ

ফ্রিল্যান্সার হিসাবে আপনাকে মনে রাখতে হবে – ” You are an one man army!”. অর্থ্যাৎ আপনাকে সবকিছু সুন্দরভাবে সামলাতে (ম্যানেজ করতে) হবে। প্রজেক্টে বিড করা থেকে শুরু করে, কাজ শেষ করা অবধি সব কিছু আপনাকেই করতে হবে। এর পরে যখন পেমেন্ট হাতে পাবেন- তখন তার পুরোটা আপনি নিজেই পাবেন ।

ফ্রিলেন্সারদের কে সব সময় নতুন নতুন সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়। এটা অবশ্য খারাপ না… কারন আপনি সমস্যার সম্মুক্ষীন না হলে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন না।

ছোট্ট একটি টিপস বলছি – যারা ওয়েব ডিজাইনের কাজ ভাল জানেন তারা প্রথমে যে কোন একটি সাইটে গিয়ে প্রজেক্ট এ বিড করুন। আপনি যদি কিছু মানসম্মত ডিজাইন Client কে দেখাতে পারেন তাহলে কাজ পেতে আপনার বেশী সময় লাগবে না। কয়েকটি কাজ করার পর যখন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন হবে তখন অন্যান্য সাইটে গিয়ে ঢুঁ দিয়ে জেনে আসুন “আপনার কাজের মার্কেট ভ্যালু” কেমন। যদি অন্যান্য সাইটে কাজের মার্কেট ভ্যালু বেশী হয় তাহলে আপনি যে কোন সময় নতুন সাইটে চলে যেতে পারবেন। আর সাথে থাকবে আপনার পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি নতুন কাজ পেয়ে যাবেন।

৩। কাজের কোয়ালিটি(মানের) দিকে লক্ষ্য রাখুনঃ

শুধু টাকার কথা ভেবে যদি কাজের মানের কথা ভুলে যান তাহলে জেনে রাখুন ফ্রিল্যান্সিং এ আপনি খুব বেশী সুবিধা করতে পারবেন না !! হ্যা এটা সত্য যে আমাদের সবারই মুল লক্ষ্য হল টাকা উপার্জন করা, তবে তা হতে হবে Client কে ভাল মানের কাজ প্রদান করার মাধ্যমে। আপনি যদি ভাল মানের কাজ Client প্রদান করতে পারেন তাহলে সে খুশি মনে আপনাকে টাকা প্রদান করবে। অনেক সময় Client খুশি করতে পারলে Bonus পাবার সম্ভাবনাও থাকে।

এছাড়াও Client খুশি হলে আপনাকে বিড করে সময় নষ্ট করতে হবে না। কারন, আপনি একজন Client ম্যানেজ করতে পারলে উনি আপনাকে নিয়মিতভাবে কাজ দিতে থাকবেন। আর কাজ করে দিলেই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার Payment ।

আরো কিছু গুরুত্বপুর্ন বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার। আর তা হল

- আপনাকে যে কাজটি করে দেওয়ার জন্য বলা হবে, সেটি Delivery দেওয়ার সময় যেন “ত্রুটি মুক্ত” হয়।

- কাজ শেষ হয়ে গেলে-Client কে ভালো Feedback ও Rating দেওয়ার জন্য অনুরোধ করুন। এগুলো আপনাকে পরবর্তী কাজ পেতে সাহায্য করবে।

- হুট করে পেমেন্ট রেট না বাড়িয়ে, আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং Rating এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আস্তে-ধীরে বাড়ান। অন্যান্য অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল দেখুন। তারা কি কি বিষয়ে দক্ষ এবং তাদের কাজের Rate কত সেগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন।

- যে সাইটে কাজ করছেন সেখানে নিয়মিত আপনার প্রোফাইলে আপডেট করুন। নতুন কোন কাজ শিখে গেলে অথবা নতুন কোন প্রজেক্টের কাজ শেষ করতে পারলে সেগুলো প্রোফাইলে যোগ করে দিন।

- নতুন Technology সাথে পরিচিত হোন এবং নিজেক আপডেট রাখুন। এতে নতুন কাজ পেতে সুবিধা হবে।

৪। কাজ বুঝে বিড করুনঃ

আপনি নিজেই আপনার নিজের বিচারক, অর্থ্যাৎ আপনি নিজে খুব ভাল করে জানেন যে – আপনি কোন কাজটি করতে পারবেন, আর কোনটি পারবেন না। অহেতুক পারবেন না, এমন কাজে বিড করে সময় নষ্ট না করাটাই শ্রেয়।

কাজ শুরু করার পুর্বেই Client এর সাথে ভাল মত কথা বলে কাজের ধরন সম্পর্কে বুঝে নিন। এতে করে কাজে ভুল হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। কাজ শুরুর পুর্বে আপনি নিজে নির্ধারন করে নিবেন- কাজটি শেষ করতে কত সময় লাগবে। আপনার কাছে যদি মনে হয় কাজটি শেষ করতে ১০ঘন্টা অথবা ২দিন লাগবে- তবে চেষ্টা করবেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন কাজটি শেষ হয়ে যায়। এর ফলে ক্লায়েন্টকে আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি প্রদান করতে পারবেন।

এজন্য একটি কাজ পাওয়ার পরে চেস্টা করুন আপনার ক্লায়েন্টকে, “ফিক্সড একজন ক্লায়েন্ট” বানানোর জন্য। কখনই ক্লায়েন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলবেন না, কিংবা মিথ্যা বলার চেস্টাও করবেন না। আপনার সমস্যাগুলো তার কাছে সুন্দর করে উপস্থাপন করুন, এবং তাকে বুঝিয়ে বলুন। কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখুন। এতে করে তার কাছে আপনার গ্রহনযোগ্যতা আরও বাড়বে। ক্লায়েন্টকে আপনার ম্যাসেঞ্জারে যেমন – Skype, Yahoo, GTalk এ রাখুন যাতে তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন। এভাবে যদি আপনি ৩/৪ জন “ফিক্সড ক্লায়েন্ট” ম্যানেজ করে ফেলতে পারেন তাহলে আপনাকে কখনই কাজের জন্য বিড করতে হবে না। তারাই নিয়মিত আপনাকে কাজ দেবে। এটাই হল ফ্রিল্যেন্সিং এ সফলতার সবচেয়ে বড় বিষয়।

পরিশেষে:

ধীরগতির ইন্টারনেট কানেকশন আর লোডশেডিংয়ের মতো বড় বাধার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ আজ যে অবস্থানে এসেছে তা নিয়ে ভবিষ্যতের অনেক স্বপ্ন দেখতেই পারি। আর এই বর্তমানে কম্পিউটার কাজগুলোর মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ হিসাবে গড়ে তুলতে অনেকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে বা ব্যাক্তিগত ভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যেMarketing Sheba একটি। Marketing Sheba বেশ কিছু দিন ধরে Win-Win Service Provider এর সাথে কাজ করে যাচ্ছে, এই সকল কম্পিউটারের কাজগুলোর মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ হিসাবে গড়ে তোলার কাজ।

Marketing Sheba

আজ স্বাধীনতা দিবসে Marketing Sheba এবং Win-Win Service Provider পক্ষ থেকে একজন স্বাধীন পেশাজীবী ( ফ্রিল্যান্সিং পেশাজীবী) হিসাবে সকলকে জানাই স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।