“প্রতিবাদী মানে সবসময় গর্জে উঠা নয়, অনেকসময় প্রতিবাদী তারাই যে সব অন্যায় দেখার পরও শান্ত গলায় বলে অন্য একদিন আমি ভুলটা ধরিয়ে দিব, বুঝিয়ে দিব”

 

এই স্ট্যাটাসটি ক্রিয়েটিভ আইটির শ্রদ্ধেয় প্রোজেক্ট ম্যানেজার একরাম ভাইয়ার। আমি এই চিন্তাধারাকে বিশ্লেষণ করার মধ্যদিয়ে আমার আজকের লিখাটি আরাম্ভ করতে চাই।

ক্রিয়েটিভ আইটি সেই প্রতিষ্ঠান যারা এই কথাটিকে মনেপ্রাণে ধারন করে এবং এটি বাস্তবায়ন করে। আমরা যারা ফেসবুকে নিয়মিত তারা প্রায় লক্ষ্য করে ক্রিয়েটিভ আইটিকে নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করে দূর থেকে। কিন্তু সাধারণত কাছে এসে তারা যাচাই না করেই এসব মন্তব্য করে থাকে। ক্রিয়েটিভ আইটি এসব মন্তব্যকে কখনোই প্রতিবাদ না করে, সর্বদা তাদের সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। আর এসব মহৎ কার্যক্রম যখন পূর্ণতা পায় সকলের সফলতার মাধ্যমে এবং তার প্রকাশ ঘটে তখন সমালোচনাকারীরা তাদের সমালোচনার উত্তর পেয়ে যায়।

 

ক্রিয়েটিভ আইটি আমাদের সঠিক পরামর্শদাতা ও পথপ্রদর্শক

mentor12

এখন আসুন ক্রিয়েটিভ আইটিকে আমরা একনজরে সবাই চিনে আসি।

মনির ভাইয়া গ্রাফিক্স ডিজাইন এ এক্সপার্ট থাকায় তিনি সপ্ন দেখেন সবাইকে এই কাজটিতে দক্ষ বানানোর। তারই সুবাদে ২০০৮ সালে প্রতিষ্টিত করেন দেশ সেরা অন্যতম এই আইটিপ্রতিষ্টান“ক্রিয়েটিভ আইটি”। প্রায় ১৩০ জনের মতন জনবলের কর্মসংস্থান হয় এই ক্রিয়েটিভ আইটিতে। তাদের নিয়ে পথচলায় প্রতিবছর হাজার হাজার অনলাইনপ্রোফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তৈরী করে চলছে অনলাইনের এই দুরন্ত পথিক। প্রতি বছরঅনলাইনে কিংবা লোকাল ভাবে এই প্রতিষ্টান বেকার সমস্যার সমাধান করে চলেছে।ক্রিয়েটিভ আইটি এমন একটা প্রতিষ্টান যেটা নামে এবং তার কাজে সম্পূর্ণ এক।

 

“Make a wish

Take a chance

Make a chance”

 উপরের তিনটি বাক্যকে আপনি যদি বাস্তবে পরিণত করতে চান তাহলে সর্বপ্রথম আমার মনে যেই নামটি আসে সেটি হল ক্রিয়েটিভ আইটি। তারা আপনার মনে আশা সঞ্চার করবে, তারপর আপনাকে সুযোগ দিবে সেই আশা পূরণ করার এবং আপনাকে সুযোগ তৈরি করে নেওয়া পর্যন্ত সর্বদা আপনার সাথে একজন সহযোদ্ধা হিসেবে সহযোগিতা করে যাবে।

 

“Difficulties in your life do not come to destroy you, but to help you realize your hidden potential and power.

Let difficulties know that you too is difficult.”

Banner of article

 

আপনি যতবার আপনার আশা, আপনার সপ্ন থেকে হতাশ হয়ে দূরে সরে যাবেন; ঠিক ততবার ততবার তারা আপনাকে টেনে উপরে তুলার চেষ্টা করবে। আপনার আইটি সম্পর্কিত যত সমস্যা যত বাধা আসবে, সবসময় ক্রিয়েটিভ আইটিকে পাশে পাবেন।

ক্রিয়েটিভ আইটি সাধারণত নিম্নোক্ত কোর্সেগুলো পরিচালনা করে আসছে।

১) গ্রাফিক্স ডিজাইন

২) ওয়েব ডিজাইন

৩) এসইও

৪) থ্রিডি অ্যানিমেশন

৫) অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট

অনলাইনের এ যুগে নিজেকে বেকার হিসেবে পরিচয় দেওয়াটা লজ্জাজনক। ক্রিয়েটিভ আইটি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করলে তারা সাধারণত আপনাকে সবসময় চার ধরনের সার্ভিস দিয়ে থাকেঃ

  1. Job Placement Opportunity.
  2. Outsourcing Facility.
  3. Lifetime Support.
  4. Online Training.

 

এখন আসুন আমরা জেনে নেই ক্রিয়েটিভ আইটির ক্যারিয়ার গঠনের সফলতার কিছু তথ্য। গত ১বছরে ক্রিয়েটিভ আইটির কিছু সাফল্যঃ

১। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৩ দেশের ১৫০ জন নারীকে গ্রাফিক্স এবং ওয়েবডিজাইন সেক্টরে মোট ৩০ লাখ টাঁকার স্কলারশীপ প্রদান করা হয়।

২। ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে ৮০ জন ছেলেকে এবং অগাস্ট মাসে ৬০ জনকে ক্লিপিংপাথ বিষয়ক চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
৩। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের হাইটেক পার্কের সহযোগিতায় সর্বমোট৬০০ জন গ্রাজুয়েটকে ফ্রী গ্রাফিক্স, এসইও, নেটওয়ার্কিং এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যা এখনো চলছে।

৪। এ বছর সর্বমোট ২৩০ জনকে (লোকাল ১২০ জন, আউটসোর্সিং ১১০ জন) কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

৫। ঢাকার বাইরে এবং দেশের বাইরের স্টুডেন্টদের জন্য বাংলাদেশে সর্বপ্রথম অনলাইনে

প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।

৬। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৫ টি ফ্রি আউটসোর্সিং বিষয়ক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ, গ্রাফিক্স, এসইও, ওয়েবডিজাইন, থ্রিডি অ্যানিমেশন এবং নেটওয়ার্কিং এর উপর ৩০ টি ফ্রি সেমিনার আয়জন করা হয়েছে। এ সেমিনারগুলো সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল।

 

“Women Achievement of Outsourcing”

women

আমাদের দেশে নারীরা অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যা রয়েছে।আমাদের দেশে IT সেকশন এ নারীদের তেমন গুরুত্বদেয়া হয়নি। কিন্তু আজ হাই-টেক পার্ক ও ক্রিয়েটিভ আইটি এর আন্তরিক প্রচেষ্টায়নারীদেরকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ আইটি সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্কলারশীপ এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরে ঘরে একেকটি হীরা তৈরি করছে যারা বাংলাদেশের নাম সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে।

ফ্রিল্যান্সিং এখন শুধু ছেলেদের কাজ নয়।সম্ভাবনাময় এ কাজের ক্ষেত্রে নারীরাও এগিয়ে এসেছে। নিজেদের যোগ্যতায় জায়াগাকরে নিচ্ছে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে। দেশের নারীরাও পিছিয়ে নেই। নিজেদেরমতো করে কাজ শিখে আয় উপার্জন করছে তারা। আনছে বৈদেশিক মুদ্রা।বর্তমান বিশ্বে অনলাইন ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে ৫৮ ভাগ নারী ফ্রিল্যান্সার হলেও বাংলাদেশে মাত্র ৯ শতাংশ নারী এ কাজ করছেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে নারীদেরউৎসাহিত করতে ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ ইং তারিখে হাই-টেক পার্ক ও ক্রিয়েটিভ আইটি যৌথভাবে দেশ সেরা১০ নারী ফ্রিলান্সার ও ৫ জন পুরুষ ফ্রিলান্সার নির্বাচিত করে।তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকতাদের হাতে স্বীকৃতি স্মারক তুলে দেন। সেই সাথে আরও ৪০ জন ফ্রিলান্সারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধীরাও এগিয়ে

 শুধু তাই নয়, প্রতিবন্ধীদের জন্য তারা ফ্রি প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ করে দেন। তারা সবসময় সবাইকে অনুপ্রেরণা যোগায় যেন যে যার অবস্থান থেকে অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা ও সাহস দেখায়। তাছাড়া আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেটি হল ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য বিনামূল্যে ইংরেজি প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৮০ জনকে ফ্রি ক্লাস করানো হচ্ছে।

এগুলোর পাসাপাশি ক্রিয়েটিভ আইটি জনপ্রিয় ব্লগ genesisblogs.com এর মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষক, এক্সপার্ট এবং ছাত্ররা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখে সাধারণ মানুষদের উপকার করে আসছে এবং অনেকেই এখান থেকে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে কাজ শিখে ক্যারিয়ার গড়ছে।

“Sometimes all doors may be closed for you. But remember, they aren’t locked”

creative deviser

http://creativedeviser.com/ ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান ফ্রীল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থান এবং প্রথম বাংলাদেশি অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেটাতে আপনি অন্যান্য সকল মার্কেটপ্লেসের সুবিধাগুলো একসাথে একই জায়গায় পাবেন।

আমরাযারা ফ্রীলান্সিং এ গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করি তারা গ্রাফিকরিভারসম্পর্কে কমবেশি সবাই জানি। এই মার্কেটপ্লেস এ একবার একটি মানসম্মত কাজআপ্রুভ করাতে পারলে যতবার বিক্রি হবে ততবার টাকা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, আমিএকটি কাজ একবার করে বারবার বিক্রি করতে পারছি।

আমরাযারা ফ্রীলান্সিং করছি তারা সবাই চাই নিজেদের কাজের মূল্যায়ন হোক। কিন্তুঅনেকসময় আমরা মানসম্মত কাজ করলেও বিদেশি বায়ারদের থেকে আশা অনুরূপ ফল পাইনাঅথবা কিভাবে কাজ করবো ওই মার্কেটপ্লেসে সেটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাইনা।কিন্তু আমরা যখন আমাদের দেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করবো তখন এতটা সমস্যায়পরবো না আশাকরি। আর যদি তা হয় তাহলে খুব সহজেই তার সমাধানও খুজে পাব।

আমরা সবাই আমাদের কাজগুলোকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি না করে, আমাদের দেশি মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে আমাদের কাজকে ও আমাদের অর্জনকে বিদেশে তুলে ধরি। এতে আমাদের দেশকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারব। আমরা আমাদের দেশি এই মার্কেটপ্লেসকে বিশ্বের সকলের কাছে তুলে ধরতে পারব আমাদের মানসম্মত কাজের মাধ্যমে। আমাদের প্রয়াস থাকবে আমরা যেন আমাদের এই মার্কেটপ্লেসকে এতটাই সমৃদ্ধশালী করতে পারি যেন, বিদেশের ফ্রীলান্সেররাও এখানে তাদের কাজ জমা রাখতে আগ্রহী হয়। আসুন আমরা সকলে মিলে আমাদের দেশকে সাড়া বিশ্বের কাছে তুলে ধরি http://creativedeviser.com/ এর মাধ্যমে।

  • Asaduzzaman Aktel

    ক্রিয়েটিভ আইটির কোর্সের মান সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ ফ্রি ভাবে যেকোন কোর্সের দুটি ফ্রি ক্লাশে জয়েন করুন।

  • http://todayscreature.blogspot.com Mohammad Mamun Hossain

    সত্যিই অসাধারণ হয়েছে। Jhumona Mullick Jhume তুমি এগিয়ে চলো আমরা তোমরা পাশে আছি।

  • মাইনুল হাসান

    এতো দিন কোথায় লুকিয়ে ছিলেন? জনগণ আপনার পাশে আছে, এগিয়ে যান।

  • Niloufer Akhter Dolly

    সত্যিই অসাধরন। তুমি এইভাবে ই আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যেও সবসময়।