মাস্টারকার্ড এর বিকল্প Qকার্ড ব্যবহার করে এখন যে কেউ ঘরে বসে অনলাইনে শপিং করতে পারবে অ্যামাজন, ইবে, আলিবাবা থেকে।

অপ্রস্তুত আযহার

মীর আযহার আলি। পেশায় একজন ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট। পাশাপাশি অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে ব্লগে লেখালেখি করছেন। সাম্প্রতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ে তিনি আপডেট থাকতে পছন্দ করেন। তার বিভিন্ন লেখাগুলো পড়বে পারবেন জেনেসিসব্লগ, টেকটিউনস এবং সামহোয়ারইন ব্লগ থেকে।
টিউন করেছেন অপ্রস্তুত আযহার | July 23, 2016 07:25 | পোস্টটি 2,962 বার দেখা হয়েছে

আপনারা হয়ত জানেন যে Qকার্ড চলে এসেছে বাংলাদেশে। এখন বাংলাদেশ থেকে Qকার্ড দিয়ে যেকোনো লেনদেন করা যাচ্ছে অনলাইনে। তারমানে কি দাঁড়াচ্ছে? বর্তমান সময়ে আপনি যদি ঘরে বসে প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস শপিং করাকে ‘কল্পনা’ বলেন, তাহলে অনেকেই আপনার দিকে হতবাক দৃষ্টিতে তাকাতে পারে! ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার বদৌলতে অনলাইনে কেনাকাটা এখন আর কল্পনা নয়, নিদারুণ বাস্তব! আপনার আশে পাশেই তাকিয়ে দেখুন এখন অনেকেই আর সশরীরে গিয়ে মার্কেট থেকে কেনাকাটা করছে না! সময় কই বলুন? বরং অনলাইনে কেনাকাটা জীবনকে করে দিচ্ছে অনেক বেশি সহজ!

Qকার্ড

অনলাইনে কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারনে সব কিছু এতটাই সহজ ও স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা এতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে একে আর প্রযুক্তির যুগান্তকারী বিবর্তনের তালিকায় আর রাখতে পারছি না। বরং অপেক্ষা করছি এই জগতে নতুন কোন চমকের। এই যে যেমন কিউকার্ড চলে এসেছে ইতিমধ্যে, সামনে শোনা যাচ্ছে পেপালও আসতে যাচ্ছে! সুতরাং আমাদের আর শপিং এর কোন ঝামেলাই থাকবে না! Qকার্ড দিয়ে কীভাবে অনলাইনে শপিং করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলচনা একটু পরে করব, আগে চলুন দেখে নেই অনলাইনে কেনাকাটার বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতি কি?

বাংলাদেশে অনলাইনে শপিং এর বর্তমান পরিস্থিতি

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে ক্রমশ প্রসার ঘটছে অনলাইনে কেনাকাটার। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে নিজের অর্ডার করা পণ্য ডেলিভারি পেয়ে ক্রেতারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনলাইন কেনাকাটায়। পণ্য বুঝে পেয়ে মূল্য (ক্যাশ অন ডেলিভারি) পরিশোধের সুযোগে অনলাইন কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বেশি। নগরজীবনের ব্যস্ততায় একটু স্বস্তি দিয়েছে এই অনলাইন শপগুলো। ইন্টারনেট সহজ করে দিচ্ছে ক্রেতার জীবনাচরণ। অনলাইন শপগুলোর বিক্রেতারা বলছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তাঁরা। অনলাইন কেনাকাটা আমার জীবনকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে। একটি জিনিস কিনতে আগে পুরো বিপণিবিতান ঘুরতে হতো। এতে অনেক সময় নষ্ট হতো। এখন খুব সহজেই আমার প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে পারছি অনলাইনে।

কেন আমাদের দেশে অনলাইনে শপিং এত বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে?

অনলাইনে অর্ডার করলে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতার দোরগোড়ায়। অর্থ পরিশোধে পাওয়া যাচ্ছে ব্যাংক সহায়তাও। অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিশোধ করে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় অর্থ। ক্যাশ অন ডেলিভারিতে গ্রাহক পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। এ কারণে অনলাইন বাজারে কেনাকাটা করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন ক্রেতারা। জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, কম্পিউটার, মোবাইল থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, জুয়েলারি, শাড়ি, ঘর গোছানোর সামগ্রী সবই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। এমনকি মাছ, মাংস, কাঁচাবাজারও মিলবে অনলাইন অর্ডারে। দোকান বা শপিংমলে গিয়ে যেভাবে পরখ করে পছন্দের পণ্যটি কেনা হয় ঠিক সেভাবে অনলাইন শপে ঢুকে ছবি এবং দাম দেখে অনলাইনেই কেনার অর্ডার দেয়া যায়। ডেলিভারির সময় হাতে অর্ডার দেয়া জিনিস পেয়ে যাচাই করে নেয়ারও সুযোগ রয়েছে। পছন্দসই জিনিস না পেলে অর্ডার বাতিলও করা যায়। অবশ্য তা শুধু ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের শপিং এর বিস্তৃতি বাড়ছে না কিছু কারণে।

বাংলাদেশে অনলাইনে শপিং এর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কি?

এটা সত্যি যে বাংলাদেশে ক্রমশ প্রসার ঘটছে অনলাইন কেনাকাটার, তবে এই ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশীরা দুর্ভাগ্যের শিকার! বর্তমানে বিকাশ কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দেশীয় ওয়েবসাইট গুলো থেকে পন্য ক্রয় করা যাচ্ছে ঘরে বসে। কিন্তু এখনও বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন শপিং সাইট, যেমনঃ অ্যামাজন, ইবে, আলিবাবা ইত্যাদি থেকে আমরা ঘরে বসে কেনা কাটা করতে পারছি না। এর প্রধান কারনে অনলাইনে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে নানা ধরণের বাঁধা! এটা সত্যি যে, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে (যেমনঃ পে-প্যাল, আমাজন পেমেন্ট, পেইজা, স্ক্রিল, ওয়ার্ল্ডপে ইত্যাদি) সম্পর্কিত কিছু সমস্যা থাকায় বাংলাদেশ থেকে আমরা বিভিন্ন বিখ্যাত অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কেনাকাটা করতে পারছিনা। আমাজন, ই-বে কিংবা আলিবাবা বা জাডোপাডো’র মত বিভিন্ন সাইটের মারাত্নক সব ডিল মিস করছি।

Qকার্ড দিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে শপিং করা যাবে অ্যামাজন, ইবে কিংবা আলিবাবা থেকে!

আমাদের দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা কিন্তু অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রটিতে বসে নেই। আমাদের নিজস্ব প্রচলিত পেমেন্ট সিস্টেমকে ভিত্তি করে বাংলাদেশে আজ দারুন সব অনলাইন মার্কেটিং বা শপিং সাইট গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সার্ভিসগুলো রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক হলেও, ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশব্যাপী। সরকারের পক্ষ থেকে পেমেন্ট গেটওয়ে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পালিত হলে, বাংলাদেশ অনলাইন শপিং এর স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে এটা বলাই বাহুল্য।

তারই ধারাবাহিকতায় গ্লোবাল অনলাইন পেমেন্ট সলিউশন Qcard Asia নিয়ে এসেছে এক বিশাল সুযোগ! ঢাকায় স্থাপিত হয়েছে QCard এর ৭ম গ্লোবাল অফিস। ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিন এশিয়ার সকল দেশ থেকে QCard ব্যবহার করে অনলাইনে শপিং করা যাবে অনায়াসে। অ্যামাজন, ইবে, আলিবাবা সহ বিশ্বের প্রায় এক মিলিয়ুন রিটেইল ওয়েবসাইট QCard সাপোর্ট করে। ফলে বাংলাদেশে বসে এখন অ্যামাজনের প্রডাক্ট কেনাটা কয়েক মুহূর্তের ব্যাপার মাত্র!

কোন কোন গ্লোবাল ই-কমার্স সাইট থেকে কিউকার্ড এর সাহায্যে কেনাকাটা করা যাবে?

প্রযুক্তির সাথে সাথে বাইরের দেশগুলর মতো আমাদের দেশের অনলাইন কেনাকাটার ট্রেন্ডস অনেক বেড়েছে। আমাদের মাঝে এখন অনেকেই অনলাইন এ কেনাকাটাই প্রাধান্য দেই। তবে এখানে আমাদের মাঝে কনফিউশন থাকে কোন সাইট থেকে কেনাকাটা করা যায় কিংবা কোন সাইটগুল ট্রাস্টেড কিংবা প্রোডাক্ট কোয়ালিটিই বা কেমন! তবে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল ই-কমার্স সাইটগুলি এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তারা ক্রেতাদের দিচ্ছে সর্বোচ্চ সাপোর্ট এবং যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে আছে রিফান্ড পলিসি। তাই এই সকল সাইট থেকে যেকোনো কিছু ক্রয় করাটা অনেক বেশি নিরাপদ। আজ আমি প্রথম সারির কিছু ইকমার্স সাইট এর লিস্ট দিচ্ছি যা কিনা আপনাদের অনলাইন কেনাকাটায় সাহায্য করবে।

• অ্যামাজন • ই-বে • রাকুটেন • টার্গেট.কম • আলিবাবা • এটসি • জেট.কম • Newegg • Sears.com • ওভারস্টক • আলি এক্সপ্রেস • ওয়ালমার্ট • QVC

এছাড়াও সমগ্র বিশ্বের প্রায় ১ মিলিয়ন ওয়েবসাইট Qকার্ড গ্রহন করছে।

QCard সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন জেনেসিস ব্লগে আমার এই পোষ্ট থেকেঃ মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ

আরও বিস্তারিত জানুন তাদের ওয়েবসাইট থেকেঃ Online Payment Bangladesh

অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সব শ্রেণীর মানুষের কাছে। খুব সহজে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারা যাবে অনলাইনে, যদি সঙ্গে থাকে কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ। কম্পিউটার, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ঝামেলা ছাড়াই কেনাকাটা করা যায় ঘরে বসে। প্রয়োজনীয় নীতিমালা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন হয়ে যাওয়ায় অনলাইন লেনদেন (ট্রানজেকশন) করা যাচ্ছে এখন। নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের বাইরে টাকা তোলার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে তৈরি হয়েছে এটিএম বুথ। আর টাকা না থাকলে রয়েছে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। ফলে, নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে গেছে। Best Virtual MasterCard  চলে এসেছে বাংলাদেশে, ফলে গ্লোবাল ই-কমার্স সাইটগুলি থেকে কেনাকাটাও এখন বা হাতের ব্যাপার। এখন শুধু অপেক্ষা পেপাল আসার। পেপাল বাংলাদেশে সার্ভিস শুরু করলে আমাদের দেশে অনলাইনে কেনাকাটার আর কোন বাঁধাই থাকবে না!