শীতের নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। নতুন বছরে নতুন ফ্যাশন। পুরানো বছরের কাপড়গুলো সব পুরানো ফ্যাশন হয়ে গেছে। নতুন ফ্যাশনের কাপড় কিনতে আবার মার্কেটে যাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। কার্ডিগান নাকি সোয়েটার কোনটি পড়লে বেশি স্মার্ট লাগবে, এ নিয়ে ঘুমের পরিমাণও কমে যাবে এ কয়েকদিন। আড্ডাগুলোর বিষয়বস্তু এ ফ্যাশন নিয়েই চলবে কয়েকদিন। পত্র-পত্রিকার পাতাতে চোখ শুধু খুজে বেড়াবে শীতের পোষাকে মডেলদের চেহারা। অবশেষে কিনতে গেলে অনেক সুন্দর সুন্দর ডিজাইন দেখে সুন্দরটি বাছাই করতে গিয়ে আরেক মহাকান্ড বেধে যাবে। কার্ডিগান, সোয়েটার, জ্যাকেট ৩টাই খুব পছন্দ হচ্ছে । অগত্যা কি আর করা? ৩টা কিনতে না পারলেও কমপক্ষে ২টা কিনেই ফিরলেন। সাথে আবার কিনতে হবে প্যান্ট, টুপি। মাফলারটা না হলে ফ্যাশনটা অপূর্ণ থেকেই যায়। কিনে ফেললেন সেটিও। সবশেষ বাসাতে ফেরার সময় দেখবেন, পকেট থেকে চলে গেল ১৫,০০০টাকা। টাকা কম থাকার কারনে শপিংটা অপূর্ণ রয়ে গেল ভেবে মনের ভিতর একটা কষ্ট নিয়েই বাড়িতে ফিরতে হবে।

ভাবুনতো একবার

শীত বস্ত্র বিতরণ

ভাবুন একবার আমাদের পাশের দরিদ্র লোকদের কথা যারা আমাদের মত উচুতলার মানুষনা। যে কষ্ট করে আপনাকে রিকশাতে করে পার করে দিচ্ছে পথের দূরত্বটুকু, সকাল সকাল বাজারে যাওয়ার কষ্টটুকু দূর করে দেওয়া সেই বৃদ্ধ মহিলা যে বাসাতেই নিয়ে আসেছে শীতের সবজি, কিংবা সেই ছোট্ট শিশু যাকে দেখছি হাড় কাপানো ঠান্ডাতে খালি গায়ে রাস্তাতে দাড়িয়ে ময়লা যুক্ত রুটি খাচ্ছে। এরাও আমাদের মত রক্ত মাংসের মানুষ হওয়ার কারনে শীতের তীব্রতা তাদেরকেও আঘাত করে, প্রতিবছর শীতজনিত অসুখগুলোতে তারাই সবচাইতে বেশি মারা যায়।
আপনি জানেন কি, ১৫,০০০টাকা খরচ করেও নিজে একা তৃপ্ত হতে না পারলেও সেটা দিয়ে কমপক্ষে ১৫০জন দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মিটিয়ে পূর্ণ তৃপ্তি দেওয়া সম্ভব ছিল। কথাটা মিথ্যা না। এ টাকা খরচ করে ১৫০ জন দরিদ্র মানুষকে কে পরিতৃপ্ত করলে অন্তুর থেকে চলে আসা অকৃত্রিম দোয়াটা আপনার সারাজীবনের চলা পথের সবচাইতে বড় মূলধন হিসেবে পেয়ে যেতেন।

আমরা কি করতে চাই?

আমরা সবার দোয়া নিয়েই আজকের এ অবস্থানে পৌছেছি। আমরা মানে ক্রিয়েটিভ আইটি পরিবার মানুষের দোয়া নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই আরো অনেক দূর। আর সেজন্য সারা বছর ৯৮৫ জনকে (১৫০জনকে নিজস্ব উদ্যোগে ও ৮৩৫ জনকে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে) ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে সাবলম্বী করেছি, প্রায় ৮০০ জনকে আউটসোর্সিং কিংবা লোকাল চাকুরী প্রদানের মাধ্যমে ৮০০টি পরিবারের অর্থনীতিক অবস্থা পরিবর্তন করেছি এ বছর। এবার চাচ্ছি একদম পথের দরিদ্রদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে।

পথের পাশের দরিদ্র শিশুদেরকে নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি।
- ১০০০ শিশুকে শীতের কাপড় বিতরণ
- ১০০০ শিশুকে শীতের পিঠা খাওয়ানো
- ১০০০ শিশুকে চিত্তবিনোদন দেওয়া

প্রতি শিশুকে প্রদান করা হবে ৩রকমের পিঠা।
১) ভাপা পিঠা।
২) পুলি পিঠা।
৩) তেলের পিঠা।

কবে করব এ আয়োজন?

ক্রিয়েটিভ আইটি আগামী ১ জানুয়ারি’২০১৫ ৭ম বর্ষে পদার্পন করতে যাচ্ছে। নতুন বছরের পদার্পনের শুরুর দিনটি আমরা এবার ব্যতিক্রমভাবে আয়োজন করব। সেই আয়োজনটি হবে দরিদ্র পথশিশুদের নিয়ে। শীতের বস্ত্র বিতরনের মাধ্যমে তাদের শীতের কষ্ট দূর করার চেষ্টা করা হবে এবং প্রত্যেক শিশুকে ৩রকমের শীতের গরম পিঠা প্রদান এবং বিনোদনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মুখের হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা হবে। আশা করি এ কাযক্রমের মাধ্যমে নতুন বছরটি দরিদ্র শিশুদের দোয়া নিয়েই শুরু করতে পারব। ১জানুয়ারি ঢাকার ৫টি স্পটে সকাল ৮টা থেকে আমাদের কাযক্রম পরিচালিত হবে।

ক্রিয়েটিভ আইটি পরিবারের যে কেউ শামিল হতে পারেন

bad-habits-bad-breath

ক্রিয়েটিভ আইটি পরিবারের যে কেউ (কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান স্টুডেন্ট ও তাদের পরিবার) চাইলে এ উদ্যোগে শামিল হতে পারবেন।

শামিল হওয়ার সুযোগ রয়েছে পাঁচ ভাবে।
- এ কাযক্রমের জন্য তৈরি বিশেষ ফান্ডে টাকা জমা দিতে পারেন।
- ঘরে থাকা পুরানো কাপড় জমা দিতে পারেন।
- পিঠা বানিয়ে নিয়ে আসতে পারেন
- পিঠা বানানোর সরাঞ্জামাদি দেওয়ারও সুযোগ থাকছে।
- পুরো কাযক্রমে ভলান্টিয়ার হিসেবেও অংশগ্রহন করতে পারবেন।

যাদের ৫টির কোনটি করার সামর্থ্য নেই তারা এ পোস্টটি নিজেদের ওয়্যালে শেয়ার করেও আমাদের কাযক্রমে সহযোগিতা করতে পারেন। তাতে আপনার অন্য বন্ধুরাও জানতে পারবে এ কাযক্রম সম্পর্কে। হতে পারে, আপনার বন্ধুদের মধ্য থেকে কেউ হয়ত এ কাযক্রমে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে।

ফান্ডে টাকা জমা দিতে হলে যা করবেনঃ
- অফিসে বক্স তৈরি করা হয়েছে, সেখানে এসে জমা দিতে পারেন।
- বিকাশেও টাকা জমা দিতে পারেন।

বিকাশ নাম্বারঃ ০১৭১০০১৯৯০৭
যেকোন যোগাযোগের জন্য ফোন করুনঃ রিফাত হোসেন (০১৭১০০১৯৯০৭)

 

যেকোন যোগাযোগের জন্যঃ

ফেসবুক গ্রুপঃ https://www.facebook.com/groups/creativeit/

ফেসবুক পেজঃ https://www.facebook.com/CreativeBangladesh

অফিস লোকেশনঃ মমতাজপ্লাজা (৫মতলা )(ল্যাব এইড হাসপাতালের বিপরীত পাশে),

বাড়ি# ৭, রোড# ৪, ধানমন্ডি, ঢাকা

  • Ifat Sharmin

    আমি এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং একাত্মতা প্রকাশ করছি। আশা করছি সবাই এগিয়ে আসবেন এই উদ্যোগকে সফল করতে।